বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুভর ফোনটা বাজছে.........
পাশের রুম থেকে আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসলো ফোনটা রিসিভ করতে। হাতে নিয়ে দেখলো সাথীর ফোন। রিসিভ করে,
-হ্যাঁ বলো। (শুভ)
-কোথায় তুমি?(সাথী)
-এই তো বাড়িতে, কেন?
-তুমি কি এখন ব্যস্ত?
-হালকা।
-বিকালে আমার সাথে দেখা করতে পারবে?
- কেন বলোতো?
-দেখা হলেই বলবো।
-কোথায় আসতে হবে?
-সুরভী উদ্যানে আসো।
-আচ্ছা, আমি সঠিক সময়ে পৌঁছে যাবো।
-আচ্ছা।
শুভ আর সাথী একে অপরকে ভালোবাসে । তাদের ভালোবাসার সূচনা Inter 1st year থেকে। এখন দুজনই অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে।
.........
বিকেল বেলা।
সুরভী উদ্যানে বসে আছে সাথী। আর মাঝে মাঝে হাতের ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে শুভ এসে পাশে বসলো।
- কি হয়েছে বলো?(শুভ)
- আচ্ছা শুভ বলোতো আমাদের প্রেমের সম্পর্ক কত দিনের?
- তা তো অনেক দিনই হবে।
- তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে না???
- ভালোবেসেছি কি বিয়ে না করার জন্য?
- তা কবে?
- একটু তো সময় লাগবে। তাছাড়া আমার লেখাপড়া শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত আমি বেকার।
- কালকে কে যেন দেখতে আসবে।
- আসুক।
- তুমি এটা কি বলছো?
- আরে পাগল দেখতে আসলেই কি বিয়ে হয় নাকি।
- যদি পছন্দ হয় তাহলে কালকেই দিন তারিখ ঠিক করে যাবে।
- চিন্তা কর না, উপায় একটা ঠিকই বের হবে।
- তুমি কি চিন্তা কর তা আমি জানতে চাই না। শুধু তোমাকে এতটুকু বলতে চাই, তুমি আমার জীবনের প্রথম পুরুষ এবং তুমি শেষ।
- তাহলে তো তোমাকে সবকিছু ছেড়ে আসতে হবে।
- হুম, তবে একটা সময় সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
- ঠিক হলেই ভালো।
এভাবে আরো কিছু কথা যোগ হয় তাদের মাঝে। অতঃপর দুজন-দুজনার বাড়ি ফিরে যায়।
.............
এদিকে সাথীকে আজ দেখতে এসেছিলো এবং
ছেলে পক্ষ তাকে পছন্দ ও করেছে, দিন-তারিখও ঠিক হয়েছে। বিয়ের দুদিন আগে সাথী শুভকে ফোন দিলো।
- কি খবর? (শুভ)
- কিছু কি হইছে? দেখ কাল আমার গায়ে হলুদ।
- মাকে রাজি করিয়েছি। আর মা রাজি তো কিয়া করে কাজি।
- এটা কিন্তু তামাসা করার সময় নয় শুভ। আমি কিন্তু তুমি ছাড়া অন্য কারো ঘরে বউ হয়ে যাবো না।
- তুমি চিন্তা করো না কালই তোমার আমার বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তুমি সুস্থ মতো গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করো। আর আমাদের কথা তো কিছুক্ষণ পর পর চলতেই থাকবে।
- আচ্ছা।
............
গায়ে হলুদের দিন,
এদিকে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছে। সাথী এর কিছুক্ষণ আগ মুহুর্তে কিছু প্রয়োজনীয় কাপড় গুছিয়ে রেখেছে।
এখন শুধু তার টেনশন। কি হবে?
কিছুক্ষণ আগে হায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। ফোনটা বের করে শুভকে ফোন দিলো।
- কই তুমি?(সাথী)
- এইতো এসে গেছি।সব ঠিক আছে তো?
- হুম, তবে আমার কিন্তু ভয় লাগছে এখন।
- ভয় করলে তো এখন আর আমায় পাবে না। আচ্ছা আমি তোমাদের চার মাথা মোড়ে এসে গেছি তুমি এখন আসো।
হঠাৎ ফোনটা কেটে গেল। সাথে শুভর বিকট আওয়াজও।
- হ্যালো, হ্যালো।
অতঃপর কয়েকবার ট্রাই করলো কিন্তু নাম্বারটা বন্ধ পেল। কিছুই বুঝতে পারলো না সাথী। ঘরের পিছন দিয়ে ছোট একটা ব্যাগ নিচে ফেলে দিল এবং পাশের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলো।
দ্রুত হাঁটতে লাগলো সে।
কেন জানি তার বুকের ভিতরটা ধুকধুক করছে আর সারা শরীরের মধ্যে অনেকটা ঘাম জমেছে। এভাবেই সে চার মাথার মোড়ে সে চলে আসলো। যেখানে শুভ তাকে ডেকেছে। কিন্তু আসেপাশে তেমন কাউকে সে দেখতে পাচ্ছে না। হঠাৎ সে দেখতে পেল কিছুটা দূরে ছোটখাটো একটা ভিড়। দ্রুত সে সেখানে গেল। একি এটা কি?
একজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রক্তে মাঠি ভিজে গেছে। মনে হয় লোকটি আর বেঁচে নেই।
যখন লোকটির মুখটা সোজা করে দেয়া হলো তখন সাথী এই দৃশ্য দেখে জোড়ে চিৎকার দিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল।
অশ্রু সিক্ত নয়নে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো লাশটির দিকে। কেননা লাশটি আর কেউ নয়, সাথীর শুভ।
.
লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
ফেইসবুক পেজ " ভালোবাসায় জয়ী" থেকে কপি করা ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now