বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুহিন-ফারিয়ার ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X অামার বাসা থেকে এক্ষুনি বেরিয়ে যাবে। দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পুষেছি কথা গুলো বলতে বলতে রুমে চলে গেলেন কাবির অাঙ্কেল। এতোক্ষন কাবির অাঙ্কেলের কথা গুলো চুপসে মেরে শুধু শুনছিলো তুহিন। কাবির অাঙ্কেলের বাসায় থেকেই অনার্সের তিনটি বছর শেষ করেছে অাজ তার এই বাসা ছেড়ে চলে যেতে হবে। কোথায় উঠবে সে নিজেও জানে না, চলে যাবার সময় শুধু ফারিয়ার দিকে চেয়ে রইলো। . কাবির অাঙ্কেলের মেয়ে ফারিয়া কে ভালোবাসার অপরাধে অাজ বাসা ত্যাগ করতে হচ্ছে তুহিন কে, তুহিন চলে যাচ্ছে কিন্তু ফারিয়া অাটকাতে পারছে না। ফারিয়ার চোখ দুটি ছল ছল করছে মন হচ্ছে চোখ দুটি তুহিন কে অনেক কিছু বলার ছিলো। . তিনটি বছর তুহিন এই বাসায় থেকেছে নিজের ছেলের মতো তুহিন কে ভেবেছে ফারিয়ার বাবা মা। কখনো বিদ্যুৎ বিল দেওয়া, বাজার থেকে এটা সেটা অানা, ফারিয়া কে পড়ানো। কিন্তু যখন জানতে পারলো তারই মেয়ের ফারিয়ার সাথে তুহিনের সম্পর্ক তখনি এই বাড়ির অন্ন অার তুহিনের জুটলো না। দুই বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে তুহিন চলে গেলো অাসলে চলে যেতে বাধ্য হলো। . তুহিনের চলে যাওয়ায় ফারিয়া এখনো কাদছে অার ভাবছে তুহিন গরিব ঘরের ছেলে বলে অাজ অামাদের ভালোবাসা মেনে নিলো না কিন্তু মাহিন যদি ধনী পরিবারের সন্তান হতো তাহলে তার বাবা নিজ হাতেই তাকে তুহিনের হাতে তুলে দিতো এই কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ফারিয়ার চোখ দিয়ে অশ্রুু ঘড়িয়ে পড়ছে। . ফারিয়াদের বাসা থেকে বের হয়ে বিষন্ন মনে তুহিন হেটে চলছে কোথায় যাবে মাসের মাঝে কোথায় বাসা পাবে অবশেষে কিছুদিনের জন্য ভার্সিটির এক বড় ভাইয়ের বাসায় উঠলো মাসের শুরুতে বাসা বের করে চলে যাবে। . তুহিন বলুন অার ফারিয়া কারো চোখেই ঘুম নেই। দুজনই রাতের অাকাশ দেখছে কিন্তু দেহটা অালাদা এই পনের দিনে ফারিয়া যে কতো যোগাযোগ করতে চেয়েছে তুহিনের সাথে কিন্তু তুহিন তাকে ইগনোর করে চলে গেছে ইগনোর না তুহিনও তাকে ভালোবাসে কিন্তু ফারিয়ার মা বাবা তো কখনোই এই সম্পর্ক মেনে নিবে না। তাই ইচ্ছে করেই সে ফারিয়া কে এড়িয়ে চলছে। . ভার্সিটির লাস্ট সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষা শেষ তুহিন শুধু একটা চাকরি খোজছে কিন্তু এই বেকারত্বের দেশে চাকরি পাওয়া কি এতোই সহজ। . এভাবে কেটে গেলো ছয় মাস . এই ছয় মাসে তুহিনের সাথে একবারো দেখা করতে পারে নি ফারিয়া। এই ছয় মাসে কতো কল মেসেজ যে তুহিন কে করেছে কিন্তু তুহিন কোন রিপ্লে করেনি। অনেক ঘোরাঘুরি পর তুহিনের ছোট খাটো একটা চাকরি হলো। দিনে অফিস করে রাত্রে খাবার খেয়েই ঘুম। ফারিয়ার কথা হয়তো সে ভুলে গেছে অাসলে ভুলেনি ভুলে থাকার চেষ্টা করে অার কাজের চাপে ফারিয়ার কথা মনেই পড়ে না। . ছুটির দিন সকালে তুহিন পুকুর পাড় দিয়ে হাঠছে ছাদ থেকে তা দেখতে পেলো ফারিয়া। দৌড়ে গিয়ে তুহিনের রাস্তা অাটকে দাড়ালো। মাহিন মাথা নিচু করে বলছে- >= রাস্তা ছাড়ো >= না, অাগে বলো তুমি অামার সাথে এমন করছো কেনো? >= এটাই সঠিক, তোমার অামার সম্পর্ক কখনো যাই না। >= অামি এসব মানি না, চলো তুহিন অামরা পালিয়ে যাই। >= এটা কখনো সম্ভব না। এই বলেই তুহিন চলে অাসলো ফারিয়া শুধু অপলক দৃষ্টিতে তুহিনের চলে যাওয়া দেখছে। . তুহিনের মনের মাঝে যেনো হঠ্যাৎ করে এক ঝড় উঠে গেলো ফারিয়ার এই কান্না সে সহ্য করতে পারছে মেয়েটার চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে পড়েছে। অাস্তে অাস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে এই বলেই নিজেকে নিজে শান্তনা দিলো। . হঠ্যাৎ একদিন খবর অাসলো অাজ সন্ধার পর ফারিয়ার বিয়ে খবরটা শোনার পর তুহিন যেনো অার পারছে না মনে হচ্ছে ফারিয়ার কথা মতো তাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে কিন্তু তা চাইলে তো এখন অার সম্ভব না। একটা সিগারেট ধরালো সম্পুর্ন টা শেষ করে অারেকটি ধরালো। অনেকদিন পর সিগারেট ঠোট লাগালো সিগারেট খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলো ফারিয়া অপছন্দ বলে যেই ফারিয়া থাকবে না তার কথা রেখে কি হবে। সিগারেট ঠানতে ঠানতে বিছানায় শুয়ে পড়লো। বুকের বাম পাশ টায় পচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে এই যন্ত্রনা নিজের ভালোবাসা কে হারানো যন্ত্রনা। . ঘড়ির কাটা সন্ধা সাতটা হঠ্যাৎ করেই কে যেনো দরজা ধাকাচ্ছে। তুহিন ভাবছে কে হতে পারে অাচমকা হয়ে দরজা খুললো কিন্তু ঐকি দরজা খোলতেই এক বিয়ের অাসর থেকে পালিয়ে অাসা এক মেয়ে বধু সাজে ঘরে ঢুকলো। গায়ে বিয়ের শাড়ি গহনা এতো ফারিয়া। মাহিন বলছে- >= তুমি কেনো এখানে? >= চলো মাহিন পালিয়ে যায়। >= এটা অামি পারবো না, যে বাড়িতে তিনটা বছর থাকলাম সেই বাড়ির নুন খেলাম এখন অামি কি করে সেই বাড়ির বদনাম করি। তুমি ফিরে যাও ফারিয়া। >= অামি তো ফিরে যাবার জন্য অাসেনি। >= তাহলে >= অামরা বিয়ে করবো, এখনি কাজী অফিসে চলো। >= অাচ্ছা চলো। এই বলেই ফারিয়া কে নিয়ে বের হয়ে একটা সিএনজিতে উঠলো তুহিন। কিছুক্ষণ পর ফারিয়া কে নিয়ে একটা বিয়ে বাড়ির সামনে নামলো তুহিন। চারদিকে ছোট বড় লাইট দিয়ে সাজানো। এক পাশে বর পক্ষ বসে অাছে অারেক পাশে কনে পক্ষের চোখে মুখে যেনো কি এক দুশ্চিন্তার ছাপ। . খুব ধুমধাম ভাবেই বিয়ের কাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো কিন্তু এই বিয়ের অাসর থেকে ফারিয়া পালিয়ে যায়। ফারিয়ার হাত ধরে তুহিন সামনে এগুচ্ছে অার সমস্ত বিয়ে বাড়ির চোখ তাদের দিকে তুহিন এগিয়ে গিয়ে ফারিয়ার বাবা কাছে বলতে লাগলো। এই নেন অাঙ্কেল অাপনার মেয়ে, যে অামার সাথে পালিয়ে যাবার জন্য বের হয়েছে। অামি চাইলে অাপনার মেয়ে কে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারতাম কিন্তু তা করিনি কেননা তিন তিনটা বছর এই বাড়ির নুন খেয়েছি গুন তো একটু গাইতেই হয়। অাপনাদের মান সম্মানের কথা ভেবেই অামাদের ভালোবাসা কে বিসর্জন দিয়ে ফারিয়া কে রেখে গেলাম। এই বলেই তুহিন চলে যাবে তখনি বিয়ের বর তুহিন কে অাটকালো এবং বললো একটু অপেক্ষা করো। বিয়ের বর তখন ফারিয়ার বাবা কে বললো, এই ছেলেটি অাজ যা করলো তা ইতিহাস হয়ে থাকবে অাঙ্কেল অাপনার কাছে রিকুয়েস্ট করি ফারিয়া কে তুহিনের হাতে তুলে দেন ফারিয়া ওর কাছেই সুখে থাকবে। . ফারিয়ার বাবা কিছু বলছে না সে যেনো বোবা হয়ে গেলো তার চোখের সামনে কয়েক মিনিটে যা ঘঠলো তখন অার চুপ থাকা যায় না। ঝাপসিয়ে তুহিন কে বুকে টেনে নিলেন এবং ফারিয়া কে মাহিনের হাতে তুলে দিলেন। এতে বেচেঁ গেলো তিনটি জীবন সেই সাথে মাহিন ও ফারিয়া ফিরে পেলো তাঁদের ভালোবাসা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুহিন-ফারিয়ার ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now