বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মন খারাপ হলেই গোসল করে তন্বী। অনেকক্ষন ধরে ঠান্ডা পানির নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। আজকেও দাঁড়িয়ে আছে। ঝর্ণার অবিরাম জলধারা ভিজিয়ে দিচ্ছে ওকে। চোখ থেকেও অবিরাম ধারায় গড়াচ্ছে অশ্রু।
ঝর্ণার পানি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে অশ্রুগুলোকে। মিশে গিয়ে এক হয়ে যাচ্ছে। আলাদা করে কারো কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার কাউকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। হারিয়ে যাচ্ছে অশ্রুগুলো। যেমন করে তন্বী হারিয়ে গিয়েছিলো শান্তর মাঝে।
নিজের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলো। অথচ সেই শান্ত আজ তন্বীর চোখে জল মুছে দেয়ার জন্য কাছে নেই। কত কাছে অথচ কত দূরে। ও এখানে দাঁড়িয়ে ভিজছে , শান্ত হয়তো ল্যাবে বসে নোট নিচ্ছে।
অথচ এই শান্তই একসময় বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে ভিজেছে ওকে নিয়ে। একবার। বারবার। অনেকবার। অসংখ্যবার। মনে হতে তন্বীর কেমন যেন আবার কান্না পাচ্ছে। ভেজা চোখদুটো ভিজে যাচ্ছে আবার।
.
.
শাওয়ার শেষ করে আবার কিচেনে এসে ঢুকলো ও। আধভেজা চুল বেয়ে তখনো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে পানি। অনেকপক্ষণ কাঁদার সুফল হিসেবে লাল হয়ে আছে চোখ দুটো। পানি গরম হতে দিয়ে চা পাতার কৌটার দিকে হাত বাড়ালো।
জায়গামতো নেই। যাবে কোথায়? বাসায় তো কেউ নেই। শান্ত তো চা খায় না। আর কোনোবভাবে যদি খেতে ইচ্ছে হয়ও, শান্ত কিচেনে এসে চা বানিয়ে নেবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। দুপুরে কোথায় রেখেছিলো মনে করার চেষ্টা করলো।
জায়গামতোই তো রেঝেছিলো।
শেষমেষ পেলো কোটাটা। চুলার দিকে তাকিয়েই একহাতে। চামিচ দিয়ে পাতা নিতে গিয়ে কেমন যেনো ঠেকলো।
তাকিয়ে দেখে ভেতরে একটা কাগজ। দলা পাকানো। এটা এখানে কোত্থেকে এলো? মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ লাগছে। দেখে মনে হচ্ছে শান্তর ল্যাব নোটের একটা ছেঁড়া অংশ। দলা পাকিয়ে চা পাতার কোটার ভেতর ঢুকানো। শান্তর সেই বিশ্রী প্যাঁচানো হাতের লেখা দেখা যাচ্ছে।
ফেলে দিতে গিয়েও কি মনে করে খুলে দেখলো।
শান্তর লেখাই। পরিষ্কার করে বোঝার কোনো উপায় নেই। আবার দলা পাকাতে গিয়ে একটা শব্দে চোখ আটকে গেলো। “পাগলী”। শান্ত আদর করে তন্বীকে মাঝে মাঝে পাগলী বলে ডাকতো। অনেকদিন এই নামে ডাকেনা।
খুলে পড়তে শুরু করলো। পড়তে রীতিমতো কষ্ট হয়। তারপরও বিশ্রী লেখাগুলো পড়তে শুরু করলো।
“”হইছে পাগলী। এখন রাত দুপুরে আর একা একা চা খাওয়া লাগবে না। দুই কাপ কফি বানিয়ে ল্যাবে নিয়ে এসো। একসাথে খাবো।
.
.
.
পুনশ্চ ১ : গিফট আনতে মনে নেই।
পুনশচ ২ : ছবিটা একদম ভালো হয়নি। আমার চোখের নিচে মোটেও আলকাতরা গোলানো রঙ না।
পুনশ্চ ৩ : একটা নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে আসতে পারবে? অনেকদিন তো সাজতে দেখিনা। আজকে একটু সাজো প্লিজ
পুনশ্চ ৪ : হাতের লেখা দিনদিন আরো খারাপ হচ্ছে। কি করা যায় বলো তো?
পুনশচ ৫ : একেবারে ভূলে যাবো ভাবলে কি করে? ভালোবাসি তো।“”
..
.
এক হাতে চিঠিটা ধরে রেখেই কাঁপা কাঁপা আরেক হাতে কফির পটটা খুঁজতে শুরু করলো তন্বী। চোখ দুটো ভিজে আসছে আবার।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now