বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সামনের ক্যানভাসটার দিকে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছে তন্বী। মুখে কিছুটা বিরক্তির ছাপ। চোখের নিচের রংটা কিছুতেই ঠিক মতো দিতে পারছে না। বারবার কেমন কালো কালো হয়ে যাচ্ছে।
শান্ত যখন কাজ করতে করতে ঘুমাতে ভুলে যায়, তখন ওর চোখের নিচে এমন কালি পড়ে। ছেলেমানুষী মুখটাতে কেমন একটা বয়ষ্ক ভাব এসে যায়। তন্বীর ইচ্ছে করে বকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কোনোভাবেই শান্তর উপর রাগ করতে পারে না। চোখের দিকে তাকালেই আর রাগ ধরে রাখা যায় না।
.
.
অনেকগুলো পেইন্টিং ছড়ানো চারপাশে। বেশিরভাগ তেল রঙের। কিছু জল রঙ। সারাদিন বাসায় একা একা থেকে পেইন্টিং করে তন্বী। বেশিরভাগ সময় কাটে বাসার ভেতর এই ছোট্ট স্টুডিওটাতেই।
মানুষের ছবি কখনোই ভালো আঁকতে পারে না। তারপরও ভেবেছিলো শান্তকে আজকে ছবিটা উপহার দিবে। কিন্তু চোখের নিচের রংটা কোনোভাবেই ঠিক করতে পারছে না। মুখ দিয়ে বিরক্তির একটা শব্দ করে উঠে দাড়ালো। এক কাপ চা বানিয়ে আনবে। চা খেয়ে শুরু করলো আবার।
.
.
সারাদিন চেষ্টা করেও ছবিটা কোনোভাবেই ঠিক করতে পারলো না। শান্তকে বলেছিলো আজ একটু তাড়াতাড়ি আসতে। কিন্তু শান্ত এলো রাত নয়টায়। ক্যানভাসটাকে খালি ক্যানভাসগুলোর আড়ালে লুকিয়ে রেখে দরজা খুলে দিলো।
ও চায় না ছবিটা শেষ করার আগে শান্ত দেখুক। এমনিতে শান্ত অবশ্য তন্বীর স্টুডিওতে ঢোকেনা। কিংবা বলা যায় ঢোকার সময় পায়না। তবুও ছবিটা কোনোভাবেই শান্তকে দেখতে দিতে চায় না ও।
.
দরজা খুলে হাতে কিছু একটা দেখবে ভেবেছিলো। কিন্তু শান্ত এসেছে খালি হাতে। তন্বীর দিকে তাকিয়ে দায়সারা একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করলো। কাপড় চেঞ্জ না করেই হাতের কাগজগুলো নিয়ে আবার বাসার ল্যাবে ঢুকে গেলো।
তন্বীর মাথার ভেতরটা ফাকা লাগতে শুরু করলো হঠাৎ । মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে যায়। এই শান্তকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো সে। অথচ আজ তাদের প্রথম এনিভার্সারীটাও শান্তর মনে নেই। প্রচন্ড অভিমানে চোখে পানি চলে আসে ওর।
আটকানোর চেষ্টাও করছে না। ভেতরের সমস্ত কষ্টগুলো বাষ্পের মতো চোখে এসে জমা হচ্ছে। অঝোর ধারায় ঝরে পড়ছে গাল বেয়ে। আবার স্টুডিওতে ঢুকলো। সাদা ক্যানভাসগুলোর আড়াল থেকে টেনে বের করলো শান্তর ছবিটা।
ছেলেমানুষ
ী মুখটার দিকে তাকিয়ে আরো খারাপ লাগছে। ক্যানভাসটা স্ট্যান্ডে বসিয়ে আবার রঙ গুলে নিলো। কিন্তু তুলি দিয়ে কিছুতেই কিছু করতে পারছে না। চোখ দুটো বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে। ক্যানভাসটা একটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে উঠে গেলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now