বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[রাতে নীলাদ্র আবার রুমে এলো। কাঁদতে কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। কেউ যেন আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছে। চোখ খুলতেই দেখি, নীলাদ্র আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছে ।মাথাটাকে অন্যদিকে গুরিয়ে শুলাম।]
.
.
-- বিন্তি, তুমি খেয়েছ?
-:- না, খাই নি। খাবোও না।
-- কেন? কি হয়েছে?
-:- কিছু হয় নি। এমনি খাবো না।
-- তোমার চোখ গুলো ফোলা ফোলা লাগছে কেন?
-:- অনেক সুখে রেখেছো তো, তাই চোখে চর্বি জমে গেছে।
.
[ নীলাদ্র হা হা করে হাসি দিলো। তাতেই আমার রাগ আরো চূড়ায় পৌঁছে গেলো। রাগে আমার শরীর রীতিমত কাঁপছে। ইচ্ছে করছে ওকে...ঊফ অসহ্য...]
.
-- সুখে থাকলে মানুষের চর্বি হয় তাও আবার চোখে...?
.
[ নীলাদ্র চলে গেল। কিছুক্ষন পর খাবার নিয়ে রুমে এলো।]
.
-- এই নাও। খেয়ে নাও।
-:- আমি খাবো না।
-- আমি খাইয়ে দিলে না?
-:- তুমি “আনিতা” কে খাওয়াও গে যাও। আমার সাথে এত আদিখ্যেতা দেখাতে হবে না ।
.
[ হঠাৎ নীলাদ্র আমাকে অবাক করে দিয়ে একটা শয়তানি হাসি দিলো। অথচ আমি যেই কথা বলেছি তাতে নীলাদ্রের রেগে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ও রাগলো না। অন্য কেউ হলে চড় দিয়ে বসতো। নীলাদ্রের এই গুন টা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। ও সহজে রাগে না। আর আমি রাগ করলে ও সারা পৃথিবী এক করে হলেও আমার রাগ ভাঙ্গাবে। নীলাদ্রের জন্য বেশীক্ষণ রাগ করেও থাকতে পারি না। এতকিছুর পরও নীলাদ্র আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে।]
.
-- ও এই জন্য আমার মহারাণী এত রেগে আছেন। নিশ্চয়ই আনিতা ফাজিলটা তোমাকে রাগানোর জন্য কিছু বাড়িয়ে বলেছে। মেয়েটা এমনি। অন্যকে রাগিয়ে সে পৈচাশিক আনন্দ পায়। তুমি যা ভাবছ সত্যিটা সেই রকম না। আমি আর আনিতা ভাই বোন + ভালো বন্ধু। ঘনিষ্ঠ বন্ধুও বলতে পারো। কিন্তু আমাদের মধ্যে আন্য কোন সম্পর্ক হবে তা আমরা দুজনের কেউই ভাবতে পারি না। আমি আমার সব কথা ওকে শেয়ার করি তেমনি ওর সব কথাও ও আমার সাথে শেয়ার করে। তোমার মনে আছে আমি সাতদিন তোমার সাথে দেখা করি নি। ঐ সময় আমি আনিতাকে নিয়ে পালিয়েছিলাম।
-:- কি…!!! ( চোখের ছানা বড় করে)
-- তুমি তো আমার পুরো কথাটাই শুনলে না ।তার আগেই রি-একশন দিয়ে দিলা। আমি ওকে নিয়ে পালিয়ে “নিশাতের সাথে বিয়ে দিলাম। “নিশাত” আর “আনিতা” দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতো। “নিশাত”অনেকটা চন্ডী দাসের মত ছিল। আনিতার জন্য রোজ টং দোকানে বসে থাকতো, দু’জনের কেউই কাউকে বলতে পারছে না ‘ভালোবাসি’। আবার ফ্যামিলি তেও বলতে পারে নি। পরে আমি দু’জনকে নিয়ে পালিয়েছিলাম। আর এর জন্য আমাদের সাথে আমার মামাদের ফ্যামিলির অনেক মনমালিন্ন হয়। আর এই জন্যই মামাদের ফ্যামিলির কেউই আমাদের বিয়েতে আসে নি। যাই হোক ওদের ভালোবাসার গল্প না হয় অন্যদিন করবো। যা বলতে চেয়েছি শোন ,আমাদের বিয়ের কিছুদিন আগে “নিশাত” স্ট্রোক করে। পরবর্তীতে আনিতার সাদা কাপড় হয়ে সারা অঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। মানে নিশাত আর নেই দুনিয়া তে। আমাদের পরিবার আমার আর আনিতার সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলেও আমি আর আনিতা কখনোই নিজেদের এমন কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাই নি। কিন্তু তুমি আমদের সম্পর্কে এতদুর নিয়ে যাবে আমি ভাবী নি। আমি ভেবেছিলাম পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী যে নীলাদ্রকে বুঝবে সে বিন্তি। কিন্তু......।
.
[ বিন্তি আমাকে জড়িয়ে ধরলো]
.
-:- সরি আমার মহারাজা আর কখনোই এমন হবে না।
-- আজই আনিতাকে সরি বলবে।
-:- যাহা হুকুম জাহাপনা, আপনার আদেশই আমার জন্য চিরোদাহ্য। তো আমার মহারাজা কি, খেয়েছে? নাকি তার বউয়ের জন্য নিজের খাওয়া উৎসর্গ করেছে?
-:- না, খাই নি।
[ এরপর দু’জন দু’জনকে খাইয়ে দিলাম]
.
.
সব ভালোবাসার শেষটা হয়তো ভালো হয় না। কারন পৃথিবীতে যে, সুখের চেয়ে দূঃখের স্থায়িত্বটাই বেশী থাকে। দুঃখ যদি না থাকতো মানুষ সৃষ্টিকর্তাকেই ভুলে যেত। মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকতো না। বড়লোকরা অকাতরে গরীবদের নির্যাতন করতো। দুঃখ আছে বলেই মানুষে মানুষে বন্ধন তৈরী হয়েছে।
.
দেখতে দেখতে আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসার সময় ঘনিয়ে এসেছে। যারা পৃথিবীর আলো দেখে নি তাদের কাছে হয়তো পৃথিবীর রঙ্গ মঞ্চ গুলো অনেক আকর্ষনীয় মনে হবে। আর যারা পৃথিবীতে এসেছে তাদের কাছে পৃথিবীটাকে একটা অভিশাপ মনে হয়। তা না হলে কি কেউ এইভাবে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে চায়। এক সময় আমারও এই পৃথিবীকে খুব অসহ্য লাগতো। কিন্তু এখন এই পৃথিবীর প্রতি অনেক মায়া বসে গেছে। কিছুতেই যেতে ইচ্ছে করে না। আর নীলাদ্রকে ছেড়েতো না’ই।
.
-:- আচ্ছা, নীলাদ্র আমি যদি হঠাৎ করে চলে যাই তোমাকে ছেড়ে তুমি কি করবে?
-- তুমি যেতে চাইলেও তো পারবে না। কারন তোমার হাতে যে আমার ভালোবাসার শক্ত সুতো রয়েছে।যেটা ছিড়ে তুমি যেতে পারবে না।
-:- আর যদি সৃষ্টিকর্তা আমাকে তার কাছে নিয়ে যায়?
-- তাহলে সৃষ্টিকর্তাকে বলবো যেন আমার বিন্তির সাথে আমার নামটাও কবুল করে। তাহলে কবরে গিয়েও আমি আমার বিন্তিকে জ্বালাবো।
-:- এই কথা বলো না। আমার যদি কিছু হয়, তুমি যেভাবে আমার খেয়াল রাখতে ঠিক তেমনি আমার মেয়ের খেয়ালও রাখবে ।
-- তোমায় কে বললো আমাদের মেয়ে হবে? আমাদের ত ছেলে হবে।
-:- না, মেয়ে।
-- না ছেলে।
-:- আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, মেয়ে হোক আর ছেলে হোক সবই আল্লাহর নেয়ামত।
.
[ অন্যসব ছেলেদের মত নীলাদ্রর মেয়ে পছন্দ না। একেবারেই যে অপছন্দ তা না। নীলাদ্র চায় তার প্রথম সন্তান ছেলে হোক কিন্তু আমি চাই মেয়ে। যে আমার অনুপস্থিতিতে নীলাদ্রের খেয়াল রাখবে। কিন্তু আমার এমন মনে হচ্ছে কেন? আমি যে আরো কিছু দিন বেঁচে থাকতে চাই। নীলাদ্রের ভালোবাসায় আরো কিছুদিন বেঁচে থাকতে। জানি না আমার ভাগ্যে সৃষ্টিকর্তা কি রেখেছেন। ]
.
-:- চল নীলাদ্র, আমরা ছাদে গিয়ে জ্যোৎস্না বিলাস দেখবো। কতদিন আমাদের জ্যোৎস্না বিলাস দেখা হয় না।
-- কিন্তু এই সময় এতরাতে কি ছাদে যাওয়া ঠিক হবে? তার চেয়ে বরং আমরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি।
-:- তুমি বললে তাই না বললে নাই।
-- বাহ। অনেক ভালোই কথা বলতে শিখেছে আমার পাগলীটা।
-:- আমাদের বাবুর নাম কি হবে?
-- আমার ছেলের নাম হবে ‘বর্ন’। বিন্তির ছেলে বর্ন।
-:- আর যদি মেয়ে হয়? তাহলে কিন্তু ‘হিমাদ্রী’ রাখবে।
-- আচ্ছা আমার মহা রাণী।
-:- আচ্ছা নীলাদ্র তুমি আমায় এত ভালোবাসো কেন? এত ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা কি আমার আছে?
-- দেখ বিন্তি এইভাবে আর কখনোই বলবে না।
-:- নীলাদ্র আমি চলে গেলে তুমি কি অন্য কাউকে ঠিক আমার মত করে ভালবাসবে?
-- দেখ বিন্তি, তুমিই আমার প্রথম তুমিই আমার শেষ। আমার ভালোবাসা শুধু তোমাকে ঘিরেই।
-:- একটা কথা রাখবে আমার নীলাদ্র?
-- হুম। তোমার কোন কথা আমি রাখি নি?
-:- আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তুমি প্লিজ আনিতা আপুকে বিয়ে করো। আমার পরে যদি তোমাকে কেউ সবচেয়ে বেশী বুঝে সে আনিতা আপু। আমি জানি তাকে হয়তো আমার মত করে ভালোবাসতে পারবে না ।কিন্ত আমার সন্তানের জন্য হলেও তাকে বিয়ে করো।
-- না করব না।
-:- কেন?
-- কারন তোমাকে যে আমি চলে যেতেই দেব না।
.
.
দেখতে দেখতে আমাদেরর সন্তান আসার সময় হয়েছে। আমাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হয়েছে। এরপর প্রচন্ড ব্যাথার সাথে আমার আর কিছুই মনে নেই। একজন মা যে তার সন্তানের জন্য কত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারে তা কেবল মা জাতিরাই বুঝবে। যেখানে একটা হাড় ভাঙ্গার কষ্ট মানুষ সহ্য করতে পারে না। সেখানে ৪০ টা হাড় ভাঙ্গার সম পরিমান কষ্ট একজন মা’ই সহ্য করতে পারে। শুধুমাত্র তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য। আসলে মা জাতিকে কতটুকু ধর্য ধারন করার ক্ষমতা দিয়েছেন, তা একমাত্র আল্লাহ’ই ভালো জানেন।
.
.
জ্ঞান ফিরতেই দেখি নীলাদ্র আমার মাথায় হাত ভুলাচ্ছে। যেভাবে রাগ করলে আমার মাথা বিলি করে দিতো। খোঁচা খোঁচা দাড়িতে নীলাদ্রকে আরো সুন্দর লাগছে।আমি নাকি ১১ দিন অজ্ঞান ছিলাম।নীলাদ্রের কপালে নামাজের দাগও পরেছে। নিশ্চয় নীলাদ্র আমার জন্য দোয়া করতেই রাতদিন নামাজ পরেছে। আমার মেয়েটা ঠিক নীলাদ্রের মতই হয়েছে।
.
.
-- বাবা, স্কুলে যাবে না?
-- হুম আসছি মামনি।
-- আচ্ছা বাবা আমার মায়ের নামতো আনিতা। কিন্তু আমার নিবন্ধনে বিন্তি রহমান কেন?
-- তোমার মায়ের পুরো নাম বিন্তি রহমান আনিতা ।
-- কিন্তু মা যে তার নামের সাথে আনিতা চৌধুরী লিখেন?
-- মামনি , তোমার মা আমার নামের সাথে মিল রেখে চৌধুরী লিখে। কারন বিয়ের পর মেয়েরা তার স্বামীর নামের শেষের অংশ নিজের নামের সাথে যুক্ত করে।
-- ও, সরি বাবা। আর কখনোই এমন প্রশ্ন করবো না।
-- ঠিক আছে , মামনি।
.
.
হীমাদ্রিকে মিথ্যে বলতে চাই নি। কিন্তু বাধ্য হয়েছি। আমি চাই না আমার মেয়ে তার মাকে অবহেলা করুক। বিন্তি সুস্থ হয়েছিলো ঠিকই কিন্তু বেশীদিনের জন্য নয়। হয়তো সৃষ্টিকর্তা বিন্তিকে কয়েকদিন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তার মেয়েকে আনিতার হাতে তুলে দিতে। আর আনিতা কখনোই হিমাদ্রীকে নিজের মেয়ে ছাড়া অন্য কিছু মনে করে নি। হিমাদ্রীর অবহেলা হবে তাই আর সন্তান নিতেও রাজি হয় নি। হিমাদ্রী আনিতার প্রাণ। ও আচ্ছা আনিতার কথা ত বলাই হয় নি। মা-বাবার অনুরোধে আনিতাকে বিয়ে করি। তার চেয়ে বড় কথা হলো বিন্তির শেষ ইচ্ছে ছিলো আমি আনিতাকে বিয়ে করি। তার উপর হিমাদ্রীর জন্য একটা মায়েরও প্রয়োজন ছিলো। সামাজিকতা রক্ষা এবং পরিবারের আদেশ মানার জন্য আনিতা কে বিয়ে করলেও আমি এখনো বিন্তির ভালোবাসা ভুলতে পারি নি । আনিতা যদি অন্য কাউকে এইভাবে ভালোবাসা দিতো হয়তো তার জীবন ভালোবাসায় ভরে যেত। কিন্তু আমার সর্বাঙ্গে যে বিন্তির ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে।
.
.
আমি হিমাদ্রীকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছি। গাড়ির চাকা ঘুরছে সাথে আমাদের গন্তব্যটাও। জানি না বিন্তির স্থান কখনো আনিতা নিতে পারবে কিনা। কিংবা আমি কখনো আনিতাকে ভালোবাসতে পারবো কিনা...? কিন্তু কিছু সত্য অসত্যই থেকে যায়। যার শেষ কেউ বলতে পারে না। শেষ করেও শেষ করা জায় না। জীবনটা অসংজ্ঞায়িত থেকে যায়। হয়তো আমার জীবনটাও তেমনি একটা আশ্চার্য বোধক চিহ্ন দিয়েই শেষ হবে। নতুবা কেউ আমার জীবনটা কে ইকুয়েশন সাইন দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করবে। যার ফলাফল কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
.
.
(সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ গল্পটি পড়ার জন্য। আপনাদের অনুপ্রেরনায় লিখার উৎসাহ পাই।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now