বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিনি প্রশ্নের উত্তর দিলেন না

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X হল অন্ধকার হয়ে এলো। ট্রেলার আর বিজ্ঞাপনগুলো সাম্বুকে আগ্রহী করলো না। শেষপর্যন্ত ওর বাবাকে পর্দায় দেখা গেল। বাসায় যেমন ধুতি আর শার্ট পরতেন তেমনই পরে ছিলেন ছবিতেও, বাসায় নিজের টেবিলে যেভাবে বসে থাকতেন, সেভাবেই বসে ছিলেন। এমন সময় ছোট একটা মেয়ে এলো, তিনি ওর মাখায় হাত দিয়ে ঠিক সেভাবেই কথা বলতে লাগলেন যেভাবে সাম্বুর সাথে কথা বলতেন। তারপর তিনি মেয়েটিকে পাটিগণিত করাতে লাগলেন। মেয়েটা হাঁটুর উপর স্লেট রেখে বসলো আর তিনি বলতে লাগলেন, “একজন গাড়োয়ান প্রতি মাইলের জন্য দুই আনা চায়। রামের কাছে তিন আনা আছে। গাড়োয়ান তাকে কতদূর নিয়ে যাবে?” মেয়েটা মিটমিট করে তাকিয়ে পেন্সিল কামড়াতে লাগলো। “কিছু একটা বলো, কুমারী,” সাম্বু বিড়বিড় করতে লাগলো। “নাহলে এক্ষুণি একটা চাটি খেতে হবে। আমি ওকে তোমার চাইতে ভালোভাবে চিনি।” কুমারী অবশ্য অঙ্কে সাম্বুর চাইতে ভালো ছিল। ও সঠিক উত্তরটাই দিলো। বাবা তাতে খুব খুশি হয়ে উঠলেন। সাম্বু যখন কোনো অঙ্ক ঠিকমত করতো, তিনি কেমন খুশিতে লাফিয়ে উঠতেন! সাম্বুর মনে পড়লো কিভাবে একবার সে ভুল করে ফুটো চৌবাচ্চা আর কলের অঙ্কের ঠিক উত্তরটা বের করে ফেলেছিল। বাবা প্রায় লাফ দিয়ে উঠেছিলেন চেয়ার থেকে, চৌবাচ্চা ভরতে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে শুনে। ছবি শেষ হবার পর যখন আলো জ্বলে উঠলো, সাম্বু মাথা ঘুরিয়ে প্রজেকশন রুমের ফুটোর দিকে এমনভাবে তাকিয়ে রইলো যেন ওর বাবা ওটার ভেতর মিলিয়ে গেছে। বাবা ছাড়া জগতটাকে আরো বিবর্ণ মনে হতে লাগলো। সে দৌড়ে বাড়ি ফিরলো। মা দরজায় ওর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। “নয়টা বাজে। অনেক দেরি করে ফেলেছিস।” “ছবিটা আরো পরে শেষ হলে আমি বেশি খুশি হতাম। তুমি জেদী, মা। কেন তুমি ছবিটা দেখতে চাও না?” রাতে খাবার সময় সারাক্ষণ সে বলতে লাগলো, “ঠিক যেভাবে বাবা গান গাইতো, ঠিক যেভাবে বাবা হাঁটতো, ঠিক যেভাবে…” ওর মা নিস্তব্ধ বসে শুনতে থাকলেন। “তুমি কিছু বলছ না কেন, মা?” “আমার কিছু বলার নেই।” “তোমার কাছে কি ছবিটা ভালো মনে হচ্ছে না?” তিনি প্রশ্নের উত্তর দিলেন না, জিজ্ঞেস করলেন, “তুই কি কালকে আবার ছবিটা দেখতে যেতে চাস?” “হ্যা, মা, পারলে রোজই, যদ্দিন ওটা চলে। তুমি কি রোজ আমাকে চার আনা করে দেবে?” “দেবো।” “তুমি আমাকে রোজ দুইটা শো-ই দেখতে দেবে?” “না, তা কী করে হয়, তোর পড়ালেখার কী হবে?” “তুমি ছবিটা দেখতে যাবে না, মা?” “না, সেটা সম্ভব না।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিনি প্রশ্নের উত্তর দিলেন না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now