বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিনি ছিলেন গরীব,গায়ের রঙ কালো।

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X কেউ তাঁর কাছে নিজের মেয়েওবিয়ে দিতে চাইতো না।সাদ (রা) একদিন আল্লাহর রাসূল(সা) এর কাছে দুঃখকরে বলেছিলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ!আমিও কি জান্নাতে যাবো?’‘আমি তো নীচু মাপের ঈমানদারহিসেবে বিবেচিত হই’‘কেউ আমাকে নিজেরমেয়ে দিতে রাজি হয় না’রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবীদের দুঃখবুঝতেন নিজের আপন ভাইয়ের মতকরে, নিজের সন্তানের মত করে।তিনি তাদেরকে অনুভব করতেনঅন্তরের অন্তঃস্থল থেকে।তিনি এই সাদকে পাঠিয়েছিলেনইবন আল-ওয়াহহাবের কাছে।সাধারণ কোন ব্যক্তি ছিলেননা ইবন ওয়াহহাব। তিনি হলেনমদীনার নেতাদের একজন; কিছুদিনযাবৎ মুসলিম হয়েছেন। তাঁরমেয়ে অপরূপা সুন্দরী রমণী, রূপেরজন্য বিখ্যাত। সেই ইবন ওয়াহহাবেরমেয়েকে বিয়ে করার জন্যরাসূলুল্লাহ (সা)সাদকে পাঠালেন।নেতার মেয়ে বিয়ে করবে সাদেরমতো একজনকে? যে তারসৌন্দর্য্যের জন্য এতো প্রসিদ্ধ,সে হবে সাদের বউ??স্বাভাবিকভাবেই ইবন ওয়াহহাবেরপ্রতিক্রিয়া ছিল ‘আকাশ-কুসুমকল্পনা ছেড়ে বাড়ি যাও’… কিন্তুতাঁরমেয়ে ততক্ষণে শুনে ফেলেছে।সে বলে উঠলো, ‘বাবা! আল্লাহররাসূল (সা) অনুরোধকরেছে তাকে বিয়ে করার জন্যে,তুমিকিভাবেউনাকেফিরিয়েদিতেপারো??রাসূলের উৎকণ্ঠা থেকে আমরা মুখফিরিয়ে নিলে আমাদেরঅবস্থানটা কি হবে?’ এরপর সাদেরদিকে ফিরে বললো, ‘রাসূলুল্লাহ(সা) কে যেয়ে বলে দিন,আমি আপনাকে বিবাহ করার জন্যপ্রস্তুত’সাদের মন সেদিন আনন্দে পুলকিত…সে যেন খুশিতে টগবগ করে ফুটছে…রাসূলুল্লাহ (সা) ৪০০ দিনারমোহরানায়তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দিলেন।আলহামদুলিল্লাহ! সুবহান আল্লাহ!সাদ বললেন, হে রাসূল,আমি তো জীবনে কোনদিন চারশদিনার দেখিই নি! আমি এইটাকা কীভাবে শোধ করবো?নবীজি (সা) তাকে বললেন,আলী আল-নুমান ইবন আউফ আর উসমান(রা) এর কাছ থেকে দুইশ দুইশকরে মোট চারশ দিনারনিয়ে নিতে। দুজনেই উনাকে দুইশরবেশি করে দিনার দিলেন।আলহামদুলিল্লাহ! টাকার জোগাড়ও হয়ে গেলো। এখন নতুন বউ এরকাছে যাবেন সাদ (রা)…মার্কেটে যেয়ে সুন্দরী বউ এরজন্যে টুকিটাকি কিছু উপহারকেনার কথা চিন্তা করলেন তিনি।মার্কেটে পৌঁছে গেছেন, হঠাৎতাঁর কানে আসলো জিহাদেরডাক। ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও’ …সাদ যেখানে ছিলেন সেখানেইদাঁড়িয়ে গেলেন। আকাশেরদিকে তাকালেন একবার, বললেন-‘হে আল্লাহ! আমি এইটাকা দিয়ে এমনকিছুকিনবো যা তোমাকে খুশি করবে।’নতুন বউ এর জন্য গিফট কেনারবদলে তিনি কিনলেনএকটি তরবারি আর একটি ঘোড়া।এরপর ঘোড়া ছুটিয়ে চললেনজিহাদের ময়দানে, নিজেরচেহারাটা কাপড়দিয়ে মুড়ে নিলেন, যেন আল্লাহররাসূল (সা)তাকেদেখেচিনেফেলতেনাপারে।কারণ রাসূলুল্লাহ (সা)তাকে দেখলেইতো বাড়িতে পাঠিয়ে দিবেন!সে যে সদ্য-বিবাহিত!সাহাবারা (রা)বলাবলি করছিলেন, যুদ্ধকরতে আসা এই মুখ-ঢাকা লোকটি কে? আলী (রা)বললেন, ‘বাদ দাও, সে যুদ্ধকরতে এসেছে।’ ক্ষিপ্ততারসাথে সাদ যুদ্ধ করতে থাকলেন,কিন্তু তাঁর ঘোড়ায় আঘাতহানা হলো, ঘোড়া পড়ে গেলো।সাদ উঠে দাঁড়ালেন। ঐ সময়নবীজি (সা) তারকালো চামড়া দেখে ফেললেন,‘ইয়া সাদ এ কি তুমি?!’ রাসূল (সা) এরপ্রশ্নের জবাবে তিনি (রা) বললেন‘আমার মা-বাবা আপনার উপরউৎসর্গিত হোক ইয়া আল্লাহর রাসূল!হ্যাঁ, আমি সাদ’মুহাম্মাদ (সা) বললেন, ‘হে সাদ,জান্নাত ছাড়া তোমার জন্য আরকোন আবাস নেই।’ সাদ (রা)আবারোজিহাদেঝাঁপিয়েপড়লেন।কিছু সময় পর কয়েকজন বললো সাদ আহতহয়েছে। রাসূল (সা) ছুটে গেলেনময়দানে। সাদকে খুঁজতে লাগলেন।সাদের মাথা খানা নিজেরকোলের উপর রেখে কাঁদতে শুরুকরলেন।তাঁর অশ্রুগড়িয়ে গড়িয়ে সাদের মুখের উপরএসে পড়ছিলো। তাঁর (সা) চোখবেয়ে নেমে আসছিলো অঝোরধারা। একটু পর রাসূলুল্লাহ (সা)হাসতে শুরু করলেন, আর তারপর মুখফিরিয়ে নিলেন।আবু লুবাবা (রা) নামের একজনসাহাবাউনাকেদেখেবিস্ময়েবললেন,‘হে রাসূলুল্লাহ (সা)আমিআপনাকেএমনটিকখনোকরতেদেখিনি’…আল্লাহর রাসূল (সা) বললেন,‘আমি কাঁদছিলাম কারণ আমার প্রিয়সঙ্গী আজ চলে গেলো!আমি দেখেছি সে আমার জন্যকী ত্যাগ করলো আরসে আমাকে কতো ভালোবাসতো…কিন্তু এরপর আমি দেখতে পেলামতার কী ভাগ্য, আল্লাহর কসম,সেইতিমধ্যেহাউদেপৌঁছেগেছে।’আবু লুবাবা জিজ্ঞেস করলেন ‘হাউদকি?’ রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন,‘এটি হলো এমন একঝর্ণা যা থেকে কেউ একবার পানকরলে জীবনে আর কোনদিনপিপাসার্ত হবে না, এর স্বাদ মধুরচেয়েও মিষ্টি, এর রঙ দুধের চেয়েওসাদা! আর যখন আমি তাঁর এইরূপমর্যাদা দেখলাম, আল্লাহর কসম,আমি হাসতে শুরু করলাম।’ ‘তারপরআমি দেখতে পেলামসাদের দিকে তাঁরজান্নাতের স্ত্রীগণএমন উৎফুল্ল ভাবে ছুটে আসছে,যে তাদের পা গুলো বেরহয়ে পড়ছে, তাই আমি চোখফিরিয়ে নিলাম।’নবীজি অতঃপর সাহাবাদেরকাছে এসে বললেন সাদেরঘোড়া আর তরবারি নিয়ে আসতে,সেগুলো যেন সাদের স্ত্রীরকাছে নিয়ে যাওয়া হয়,তাকে যেন বলা হয় এগুলো তারবংশধর। তিনি (সা) বললেন,তাকে জানিয়ে দিও আল্লাহতাআলাসাদকেজান্নাতেস্ত্রীদানকরেছেন, তারা তার চাইতেওঅনেক সুন্দর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৬৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিনি ছিলেন গরীব,গায়ের রঙ কালো।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now