বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গুহাতে আশ্রয়গ্রহণকারী তিন ব্যক্তির
ঘটনা
পূর্বের যুগে তিন ব্যক্তির একটি দল কোথাও
যাত্রা করেছিল, যাত্রাপথে রাত যাপনের জন্য
একটি গুহাতে তারা আগমন করে এবং তাতে প্রবেশ
করে। অকস্মাৎ পাহাড় থেকে একটি পাথর খসে পড়ে
এবং বন্ধ করে দেয় তাদের উপর গুহামুখ। এমন
অসহায় অবস্থায় তারা বলাবলি করছিল,
তোমাদেরকে এ পাথর হতে মুক্ত করতে পারে এমন
কিছুই হয়ত নেই। তবে যদি তোমরা নিজ নিজ নেক
আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া
কর তবে নাজাত পেতে পার।
তাদের একজন বলল : হে আল্লাহ ! আমার
বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন, আমি তাদেরকে
দেওয়ার পূর্বে আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্য
স্ত্রী-সন্তান ও গোলাম-পরিচারকদের কাউকে
রাতের খাবার দুগ্ধ্তপেশ করতাম না। একদিনের
ঘটনা : ঘাসাচ্ছাদিত চারণভূমির অনুসন্ধানে বের
হয়ে বহু দূরে চলে গেলাম। আমার ফেরার পূর্বেই
তারা ঘুমিয়ে পরেছিলেন। আমি তাদের জন্য রাতের
খাবার দুগ্ধ দোহন করলাম। কিন্তু দেখতে পেলাম
তারা ঘুমাচ্ছেন। তাদের আগে পরিবারের কাউকে-
স্ত্রী-সন্তান বা মালিকানাধীন গোলাম-
পরিচারকদের দুধ দেয়াকে অপছন্দ করলাম। আমি
পেয়ালা হাতে তাদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষা
করছিলাম, এতেই সকাল হয়ে গেল। অতঃপর তারা
জাগ্রত হলেন এবং তাদের রাতের খাবার দুধ পান
করলেন। হে আল্লাহ ! আমি এ খেদমত যদি আপনার
সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে থাকি, তাহলে এ
পাথরের মুসিবত হতে আমাদের মুক্তি দিন। তার এই
দোয়ার ফলে পাথর সামান্য সরে গেল, কিন্তু তাদের
বের হওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
অপর ব্যক্তি বলল : হে আল্লাহ ! আমার একজন
চাচাতো বোন ছিল, সে ছিল আমার নিকট সমস্ত
মানুষের চেয়ে প্রিয়। আমি তাকে পাওয়ার ইচ্ছা
ব্যক্ত করলাম। সে আমাকে প্রত্যাখ্যান করল
এবং আমার থেকে দূরে সরে থাকল। পরে কোন এক
সময় দুর্ভিক্ষ তাড়িত, অভাবগ্রস্ত হয়ে আমার
কাছে ঋণের জন্য আসে, আমি তাকে একশত বিশ
দিরহাম দেই, এ শর্তে য্তেআমার এবং তার
মাঝখানের বাধা দূর করে দেবে। সে তাতেও রাজি
হল। আমি যখন তার উপর সক্ষম হলাম, সে বলল :
অবৈধ ভাবে সতীচ্ছেদ করার অনুমতি দিচ্ছি
না্ততবে বৈধভাবে হলে ভিন্ন কথা। আমি তার কাছ
থেকে ফিরে আসলাম। অথচ তখনও সে আমার নিকট
সবার চেয়ে প্রিয় ছিল। যে স্বর্ণ-মুদ্রা আমি তাকে
দিয়েছিলাম, তা পরিত্যাগ করলাম। হে আল্লাহ !
আমি যদি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য
করে থাকি, তাহলে আমরা যে মুসিবতে আছি, তা হতে
মুক্তি দাও। পাথর সরে গেল তবে এখনও তাদের বের
হওয়ার জন্য তা যথেষ্ট হল না।
তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ ! আমি কয়েকজন
মজুর নিয়োগ করেছিলাম, অতঃপর তাদের পাওনা
তাদের দিয়ে দেই। তবে এক ব্যক্তি ব্যতীত্তসে
নিজের মজুরি পরিত্যাগ করে চলে যায়। আমি তার
মজুরি বার বার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছি। যার
ফলে সম্পদ অনেক বৃদ্ধি পায়। অনেক দিন পরে সে
আমার কাছে এসে বলে, হে আব্দুল্লাহ, আমার মজুরি
পরিশোধ কর। আমি তাকে বললাম, তুমি যা কিছু
দেখছ্তউট-গরু-বকরি-গোলাম্তসব তোমার মজুরি।
সে বলল : হে আব্দুল্লাহ ! তুমি আমার সাথে
উপহাস করো না। আমি বললাম, উপহাস করছি না।
অতঃপর সে সবগুলো গ্রহণ করল এবং তা হাঁকিয়ে
নিয়ে গেল। কিছুই রেখে যায়নি। হে আল্লাহ ! আমি
যদি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে
থাকি, তাহলে আমরা যে মুসিবতে আছি তা হতে
মুক্তি দাও। পাথর সরে গেল। তারা সকলে নিরাপদে
হেঁটে বের হয়ে আসল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now