বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-বাড়ি কবে যাচ্ছ?
সজিব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল
-কালকে যাব।
-টিকিট কেটেছ?
নিপার কথায় সজিব একটু নড়েচড়ে বসল। কি বলবে ভাবছে। মিথ্যা কথা বলবে নাকি সত্য কথা বলবে? সত্য কথা বললে নিপা অনেক কথা শুনাবে। নিপা সবসময় সজিবকে শাষনের উপর রাখে। সজিবের বেখেয়ালি আচরণের জন্য নিয়মিত বকা খায়।
সজিব আমতা আমতা করে বলল
-না। মানে..
-তারমানে টিকিট কাটোনি! বাড়ি যাবে কিভাবে!
-সমস্যা নেই। কালকে টিকিট কেটে ফেলব।
-দেখ। সমস্যা যেন নাহয়।
-না, সমস্যা হবে না।
-শপিং করেছ?
.
সজিব এবারে চিন্তায় পরে গেল। সজিব শপিং এর জন্য টাকা জমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু কেনা হয়নি।
সজিবদের মেসে হাবিব নামের একটা ছেলে থাকে। খুব সাদাসিধে এবং সাধারণ একটা ছেলে। কম্পিউটারের দোকানে টাইপিং এর কাজ করে। বেতনের কিছু টাকা রেখে বাকিটা বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
মা এবং ছোটবোনের জন্য নিজে কষ্ট করে। মাঝে মাঝে সে না খেয়ে থাকে! ছেলেটার সাথে সজিবের ভাল সম্পর্ক।
.
সজিব গত পরশু সেহরি খেয়ে হাটাহাটি করছিল। হঠাৎ কি ভেবে হাবিবের রুমে উকি দিল। তার রুমমেট দুজন আগেই চলে গিয়েছে। চাকরির জন্য তার যাওয়া হয়নি।
.
-ভেতরে আসব?
সজিবের কথা শুনে হাবিব মুখ তুলে দরজায় তাকাল। সজিবকে দেখে মুচকি হেসে বলল
-আসেন ভাই।
সজিব ভেতরে ঢুকে চেয়ার টেনে বসল। হাবিব সেহরি খাওয়ার ব্যাবস্থা করছিল। প্লেটে ভাতের সাথে মুড়িও রেখেছে। অল্প ভাতে পেট ভর্তি হবে না। সজিব এমন অবস্থা দেখে বলল
-ব্যাপার কি! তুমি ভাত খাওয়ার বদলে মুড়ি খাচ্ছ যে!
-এমনিই।
-কেন?
হাবিব বলতে না চাইলেও শেষে বলল
-ছোট বোন ঈদে জামা চেয়েছে। জানেন তো বেতনের টাকা দিয়ে সংসার চালাই। আমাকেও চলতে হয়। তাই এখন কম কম খেয়ে টাকা বাঁচিয়ে বোনের জন্য জামা কিনব।
সজিব কোন কথা বলল না। রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে ঢুকল। মানিব্যাগ থেকে পনেরোশো টাকা বের করল।
হাবিবের রুমে ঢুকে হাবিবের দিকে টায়া এগিয়ে দিয়ে বলল
-বোনের জন্য জামা কিনবা।
-না ভাই লাগবে না।
-নিতে বলছি, নাও।
-আপনার দরকার হবে এই টাকা। আমি নিতে পারব না।
-আমি তোমার ভাই হলে নিতে না?
হাবিব টাকাটা নিল। চোখে পানি ছলছল করছে। সজিবকে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ কিছু বলতে চাইল। তার আগেই সজিব বেড়িয়ে এল।
.
সজিব চুপচাপ বিছানায় শুয়ে আছে। সজিবের কাছে যেটা ভাল মনেহয় সেটাই করেছে। নিজের জন্য শপিং এর চেয়ে হাবিবকে টাকা দেওয়া ভাল মনে হয়েছে। তাই সেটাই করেছ।
আজ ছোটবোনটার কথা খুব মনে পরছে। তার ছোট বোন এভাবেই ঈদের আগে অপেক্ষা করত। দুই বছর আগে মারা না গেলে এবারেও ঈদে অপেক্ষা করত।
নিজের জন্য কিছু কেনার চেয়ে হাবিবকে টাকা দেওয়া জরুরি মনে হয়েছে।
.
-কি ভাবছ এতক্ষণ ধরে!
সজিব মুচকি হেসে বলল
-না।
নিপা ক্ষিণ রেগে বলল
-কেন!
-শপিং মলে এত ভিড়! এর মধ্যে শপিং করা যায়!
-ও!
-তুমি কেনাকাটা করেছ?
-হ্যা।
-বাসায় যাবেনা?
-হ্যা। বাসায় যেতে হবে।
সজিব উঠল। নিপাও তার সাথে উঠল। রোজার সময় ঠিক দেখা করা হয় না। সময় হয়ে ওঠেনা। আজ বিকেলে সজিব একটু সময় পেয়েছে। তাই দেখা করতে পারছে।
.
মেসে ঢুকে হাহাকার লাগে। পুরো মেসে মাত্র কয়েকজন লোক আছে। বাকি সবাই চলে গিয়েছে। সজিব'ও চলে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তার টিউশানির কারনে যাওয়া হয়নি।
ইচ্ছা করে এই টিউশানি ছেড়ে দিবে। কিন্তু টিউশানি ছাড়লে বাবার উপর বেশি জুলুম করা হবে। মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা কষ্ট হলেও সেটা প্রকাশ করবে না।
.
সজিব ইফতার তৈরি করছে। ব্যাচেলরের ইফতার বলতে ছোলামুড়ি। বেশি মানুষ থাকলে কয়েকজন মিলে ইফতারি কিনে আনা যায়। কিন্তু একা একা কিনতে গেলে বেশি টাকা লাগে!
ইফতারের বিশ মিনিট বাকি আছে।
সজিবের ফোন বাজছে। নিপা ফোন করেছে। সজিব ফোন রিসিভ করে বলল
-হুম বল।
-তুমি একটু বাইরে আসতে পারবে?
-বাইরে কোথায়?
-আমাদের বাসার সামনে এস।
-বাসার সামনে! কেন?
-এস।
-আসছি।
.
সজিব মেস থেকে বের হল। নিপার বাসা সজিবের মেসের কাছাকাছি। হেটে গেলে চার-পাঁচ মিনিট লাগে।
সজিব হাটতে হাটতে নিপার বাসার নিচে এসে দাঁড়াল। নিপা একটা টিফিন বাটি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সজিব নিপার কাছাকাছি আসতেই হাত বাড়িয়ে টিফিন বাটি এগিয়ে দিয়ে বলল
-এর মধ্যে ইফতারি আছে। সব তুমি খাবে। একটাও যেন নষ্ট নাহয়। আমি নিজ হাতে এগুলো তৈরি করেছি।
-নিপা...
-এখন যাও। ইফতারির পরে আমি ফোন দিব।
.
সজিব মাত্র ইফতার শেষ করল। সজিবের মা ফোন দিয়েছে। ফোন ধরে বলল
-মা কেমন আছ?
-ভাল আছি। ইফতার করেছিস?
-হ্যা।
-তুই বাড়ি আসবি কবে?
-কাল পরশু চলে আসব।
-টিকিট কিনেছিস?
-হ্যা।
-আচ্ছা আমি রাখি।
.
সজিব মাকে মিথ্যে কথা বলল! অবশ্য না বলেও উপায় নেই। মা আশায় বুক বেধে আছে। টিকিট কাটেনি শুনলে কষ্ট পাবে।
ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাকি। এখন টিকিট পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য। আগে আগে টিকিট কাটার ইচ্ছা ছিল এবারে। টিউশানির টাকা দিতে দেরি করল।
.
রাত দশটা বাজে। সজিব ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে। কালকে সে বাড়ি যাবে। টিকিট না পেলেও সে কালকে রওনা দিবে। লাগলে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। তবুও বাড়ি যেতেই হবে।
নিপা সজিবকে ফোন দিয়ে চলেছে। ব্যাগ গুছানো বন্ধ করে ফোন রিসিভ করল। নিপা ওপাশ থেকে অভিমানের সুরে বলল
-ফোন দেওয়ার কথা ছিল। ফোন দাওনি কেন!
সজিব মুচকি হাসল। সবার অভিমান করা সাজে না। নিপার অভিমান করা সাজে বলে অভিমান করে। সজিব আস্তে করে বলল
-সরি।
-ঠিকাছে। সমস্যা নেই। কি করছিলে?
-ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছি।
-কাল কয়টায় যাচ্ছ?
-দশটার দিকে।
-একটু পরে গেলে হয়না?
-এগারোটার দিকে যাও। সাড়ে দশটায় আমার সাথে দেখা করবে। কাজ আছে।
-আচ্ছা।
-তুমি কাজ কর। আমি রাখছি।
.
নিপা ফোন রেখে দিল। সজিব নিপার কথায় রাজি হয়ে গেল। নিপার সব কথাতেই সে রাজি হয়ে যায়। বলা চলে বাধ্যগত একজন প্রেমিক। এই কারনেই নিপা তাকে বেশি ভালবাসে।
সব প্রেমিকাই চায়, তার প্রেমিক সব কথা মেনে চলুক।
.
বেলা সারে দশটা। সজিব নিপার জন্য অপেক্ষা করছে। নিপার আসার কোন নাম নেই। তাড়াতাড়ি যেত্ব হবে। দেরি করে গেলে ভিড়ে অপেক্ষা করতে হবে।
নিপাকে আবার ফোন দেওয়ার জন্য ফোন বের করতেই পিছন থেকে নিপা বলল
-ফোন দেওয়ার দরকার নেই। চলে এসেছি।
-কোথায় যেতে হবে বল।
-কোথাও না। যাওয়ার আগে দেখা করতে চাইলাম।
-ওহ।
-এখন যেতে পার।
-আচ্ছা। আমি বাসে উঠে ফোন দিব তোমাকে।
-দাড়াও।
সজিব দাঁড়াল। নিপা ব্যাগ থেকে একটা টিকিট বের করল। সজিব টিকিট দেখে বলল
-তুমিও যাবে নাকি?
-আরে না।
-তবে টিকিট দিয়ে কি করবে?
-আরে পাগল। এটা তোমার টিকিট।
-আমার!
-হ্যা। আমি জানতাম। তুমি টিকিট কাটতে পার নি। লাইনে গিয়ে তুমি অপেক্ষা করবে! তারচেয়ে আমি আগেই কেটে রেখেছি।
.
সজিব কিছু বলল না। চুপচাপ নিপার হাত থেকে টিকিট নিল। হেটে এগোতে গিয়ে আবার দাঁড়াল। তার এখন তাড়া নেই। টিকিট কাটতে গেলে যে সময় ব্যায় হত। সেটুকু নিপার সাথে ব্যায় করলেও হবে।
সজিব নিপার দিকে তাকিয়ে বলল
-চল ওদিকটায় বসি।
-তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে না!
-বাস ছাড়তে অনেক দেরি।
নিপা হাসল। সজিব সাথে তাল মিলিয়ে হাসল। নিপার হাতটা ধরে একটা বেঞ্চিতে বসল। এখন তাড়া নেই। টিকিট পেয়েছে! ভালবাসার মানুষটার সাথে আরেকটু সময় থাকলে ক্ষতি কি!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now