বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ টিকেট
_____ হৃদয় মাহমুদ ।
:
:
:
টিকেটের লম্বা লম্বা বেশ কয়েকটা লাইন। প্রতি লাইনে না'হলেও একশত থেকে দেড় শত লোক দাঁড়িয়ে আছে। সকলে টিকেট টিকেট গুঞ্জনে মেতে আছে।
.
সময়টা শেষ রাত যাস্ট সেহরির শেষ সময়টা। রবিন একটু খেয়েই চলে এসেছে রেল স্টেশনে। তাড়াতাড়ি এসেছে সবার আগে টিকেট নিবে বলে। রমজানের ঈদ বলে কথা। সারা বছরে এই একবারই বাড়ি যাওয়ার হিড়িক চলে। তাছাড়া প্রত্যেক বারের চেয়ে এবারের ছুটিও বেশি নয়-নয়টা দিন। অনেক মজা হবে। কিন্তু স্টেশনে এসে দেখে তার আগেও আরো বহু লোক এসে হাজির। চারিদিকে বাড়ি যাবে বাড়ি যাবে আনন্দে মোহিত।
.
রবিন লম্বা লাইন দেখে আর দাঁড়ায়নি নামাজ পড়বে বলে। নামাজ আদায় করে প্রায় দেড় শত জনের লাইনের পিছনে দাঁড়ালো। তার টিকেট দরকার পাঁচটা। মা-বাবা, দুই বোন আর সে।
.
সকাল হয়ে গেলো। নির্ধারিত সময়ে টিকেট কাউন্টার খুলে টিকেট দেওয়া শুরু করলো। দু-চারজন টিকেট পাওয়ার পর আর যেন লাইন কমছেই না। কিন্তু পিছনে আরও একগুণ এসে ভিঁড় জমালো। মাঝে মধ্যে কিছু ভদ্রলোক প্রাইভেট গাড়ি থেকে নেমে সোজা অফিসে গিয়ে ঢুকছে আর কিছুক্ষণের মধ্যে বেরিয়ে এসছে। এভাবে হতেই চললো। পরে শুনতে পাওয়া গেলো এরাই হচ্ছে সেই রুই-কাতল। যারা কিনা লাইনে দাঁড়ানো লাগে না। প্রাইভেট গাড়ি করে প্রাইভেট টিকেট নিয়ে চলে যায়। তাইতো বাহিরে লাইনগুলো দিন বাড়ার সাথে বাড়তে থাকলো। বিষয়টা বুঝতে পেরে সকলে হৈচৈ শুরু করে দিলো। তখন দেখলো সাথে সাথে পুলিশের গাড়ি এসে হাজির।
.
রোদ পড়ছে কড়া। গরমটাও সহ্য করার মত নয়। রোজা রেখে সবাই ক্লান্ত হয়ে গেছে। অনেকে বসে পড়েছে। কিছু বৃদ্ধ নারী-পুরুষ আছে যাদের মুখে কোন শব্দ নেই। তাদের খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু কি করা এখানে সাধারন লোদের সকলের জন্য আইন যেমন সমান, তেমনি সবাই টিকেট নিতে এসছে তাই কারো জন্য কেউ নেই। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।
.
হঠাৎ অনেকে লাইন ছেড়ে পিছনের দিকে দৌঁড়াতে লাগলো। ওখানে নাকি টিকেট পাওয়া যাচ্ছে দামটা একটু বেশি। টিকেট ব্ল্যাক হচ্ছে খবরটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সেখানে লাঠি চার্জ শুরু করলো। এক পর্যায়ে পুরো পরিবেশে উত্তেজনাকর অবস্থা তৈরি হয়ে গেলে কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দিলো। এতে উপস্থিত জনতা আরো উত্তেজিত হতে লাগলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলো। টিকেট আবার দেওয়া শুরু করলো। এবং ঘোষনা দেয়া হলো যে আজ সারা রাত টিকেট বিক্রি করা হবে। আপনারা কেউ বিশৃঙ্খলা করবেন না।
.
এভাবে প্রায় দিনটা শেষ হয়ে গেলো। অনেকের স্বজনরা বাসা থেকে ইফতারি ও কেউ কেউ রাতের খাবার পর্যন্ত এনে হাজির। সিদ্ধান্ত যদি সারা রাতও লাগে টিকেট না'নিয়ে বাসায় ফিরবে না। রবিনের বাবাও তার জন্য রাতের খাবার নিয়ে হাজির।
.
রাত প্রায় দশটা বেজে গেলো। যে টিকেট হাতে পাচ্ছে, চিৎকার দিয়ে উঠছে। গনমাধ্যম কর্মীরা তার নিকট দৌঁড়ে যাচ্ছে। অনুভূতি জানতে চাচ্ছে। টিকেট হাতে লোকটি আনন্দভরা চোখে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এখন টিকেটটি হাতে পাওয়ার আনন্দ বর্ননা করছে। রিপোটাররা মাঝেমাঝে পুলিশকে তাদের নিরাপত্তার কথা জিজ্ঞেস করছে। পুলিশ বলছে "আপাতত কোন বিশৃঙ্খলা হচ্ছেনা। অবৈধভাবে কোন টিকেটের খবর পাওয়া যাচ্ছেনা। অত্যন্ত সুন্দরভাবে যাত্রীরা টিকেট নিচ্ছে "।
.
রাত তখন বারটা ছুঁই ছুঁই। অনেকে ক্লান্ত হয়ে লাইন ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেকে মাথায় হাত রেখে বসে আছে। বুঝা যাচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে। রবিনের সামনে তখন আটর মাত্র পাঁচজন। তাদের পরেই রকিনের টিকেট। এত্ত প্রতীক্ষার পর প্রত্যাশিত টাকেট পাবে ভাবতেই অন্য রকম লাগছে। যে টিকেট হাতে নিচ্ছে তাকে সবাই দেখছে। মনে মনে যপছে সবাই "আর মাত্র এতজন, তারপরে আমি"।
.
পাশের লাইনে এক লোক খুবই অসুস্থ বুঝা যাচ্ছে। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। সবাই চেয়ে আছে কিছু করার নেই। মানবতা ভ্যানিস্ড। শুধু টিকেট চাই টিকেট। কেন সেক্রিফাইস নাই। কেউ কেউ বলতে শুনা গেলো "না পারলে বসে আছে কেনো, চলে যেতে পারছে না "?
.
তখন রবিনের সামনে তিনজন মাত্র। হঠাৎ লোকটি ঢলে পড়ে গেলো। সবাই হৈচৈ করছে, আফসোস করছে, এটা সেটা বলাবলি করছে কিন্তু লাইন হারানো আর টিকেট না'পাওয়ার ভয়ে কেউ ধরছে না। লোকটি ফ্লোরে খুব গড়াগড়ি দিচ্ছিলো। পরিস্থিতি দেখে একজন পুলিশ ভাই এসে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করছে কিন্তু ধরছে না। মত বিনিময় করকে করতে লোকটা মারাই যাবে।
.
রবিন বিষয়টা আর সইতে পারলোনা। এত সাধের টিকেট নেওয়া বাদ দিয়ে লোকটিকে গিয়ে ধরলো। মনে মনে ভাবলো "টিকেটের চেয়ে একটা মানুষের জীবনের মূল্য অনেক "। রবিন আর বিশটি মিনিট দাঁড়ালে টিকেট নিশ্চিত কিন্তু ততক্ষনে লোকটির কি অবস্থা হবে ভেবে একটা সিএনজি ডেকে সোজা হাসপাতালে। লোকটার আত্মীয়রা এসে হাসপাতালে ভরপুর।
.
তখন প্রায় সেহরির সময় হয়ে গেছে। রবিন লোকটির এক আত্মীয়কে বাসায় চলে যাবে বলে বিদায় নিলো। হাসপাতালের গেইট পার হতেই কাঁন্নার চিৎকার কানে আসলো। রবিন দৌঁড়ে গিয়ে দেখে লোকটি আর নেই। চির দিনের জন্য টিকেট পেয়ে গেছে। ভোর হয়ে গেলে রবিন চোখ মুছতে মুছতে টিকেট ছাড়াই বাসায় ফিরে গেলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now