বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শব্দটার মানেটা কি কে জানে। মনে হয় ডাক্তারই হবে। রাত্রি বেলা ঘুমানোর আগে খালেদ আমাদের ঘরে এসে মাকে বলল, চাচী, আনার বাবা আমাকে কয়েকটা ব্যাঙ্ক ড্রাফট আর ট্রাভেলার্স চেক দিয়েছে, সেগুলো আপনাকে দিই?
আমাকে?
হ্যাঁ।
আমার মা খুব ভালো ইংরেজি জানেন। ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন, কেন বাবা?
ওগুলো মনে হয় ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে ভাঙাতে হবে। আমি সেগুলো ভাঙিয়ে দেব?
হ্যাঁ। খালেদ জানে না আমাদের বাসায় মেয়েমানুষদের বলতে গেলে মানুষ বলেই বিবেচনা করা হয় না। টাকা পয়সার ব্যাপারে, বিশেষ করে ব্যাঙ্ক ড্রাফট কিংবা ট্র্যাভেলার্স চেক তো কখনোই কোন মেয়ের হাতে দেয়া হবে না। তার ওপর আমার মা, যিনি গত দশ বছরে কোনদিন বাসা থেকে বের হননি, সবাই মনে করে যার একটু মাথা খারাপের লক্ষণ আছে— তাকে দেয়ার তো কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমি খালেদকে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। তার আগেই মা বেশ শান্ত গলায় বললেন, ঠিক আছে বাবা, রেখে যাও। কাল ভোরে তোমাকে নিয়ে যাব।
দরজার বাইরে কয়েকজন উকিঝুঁকি দিচ্ছিল। মুহূর্তে সারা বাসায় খবর ছড়িয়ে গেল যে, খালেদ তার সমস্ত টাকাপয়স। আমার মা'র হাতে দিয়েছে, আর মা সেগুলো নিয়ে কাল ব্যাঙ্কে ভাঙাতে যাবেন। শুনে উত্তেজনায় জয়নাল চাচা দু দুবার ঘোৎ ঘোঁৎ শব্দ করে এক টান দিয়ে নাকের কয়েকট। লোম ছিড়ে ফেললেন। বড় চাচার প্রায় হার্টফেল করার মত অবস্থা হল, নিজের বুক চেপে ধরে একটা কয়ারে বসে পড়ে বললেন, শাহানা ব্যাঙ্কে যাবে? টাকা ভাঙাতে? ডাক শাহানাকে।
শাহানা আমার মায়ের নাম। কেউ আমার মা'কে ডাকার সাহস পেল না। মা কখনো রাগারাগি করেন না, তবু সবাই মা'কে খুব ভয় পায়, ছোট ফুফু দিন রাত রেগেমেগে চিৎকার করেন তবু মনে হয় মাকে তার থেকে অনেক বেশি ভয় পায়। বড় চাচী মিনমিন করে কি একটা বলার চেষ্টা করছিলেনবড় চাচা তাঁকে ধমক দিয়ে থামিয়ে বললেন, সাংসারিক কোন জ্ঞান নেই, কিচ্ছু জানে না, কাউকে চেনে না,
কোথায় গিয়ে কি করবে শাহানা? গুণ্ডা বদমাইস গিজগিজ করছে চারদিক। সুন্দর চাচা বললেন, আমাকে বললেই হত, গ্রিন্ডলেজ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার আমার বোজম ফ্রেণ্ড। একটা ফোন করে দিলেই
ছোট চাচাও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছেন তবু নিজেকে শান্ত রেখে বললেন, এই বাসায় সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ ভাবী। চিন্তার কোন ব্যাপার নেই, ভাবী ঠিক সবকিছু সামলে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now