বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হচ্ছে।
তিনি আবার এগিয়ে এসে কেশে গলা পরিষ্কার করে বইয়ের ভাষায় ইংরেজিতে বললেন, গুড ইভনিং খালেদ। খালেদ তার দিকে তাকাতেই তিনি তাঁর পা দুটো বাড়িয়ে দিয়ে আবার বললেন, আমি তোমার বড় চাচা। গ্রেট আঙ্কেল।
খালেদ হাত বাড়িয়ে ইংরেজিতে বলল, আপনার সাথে পরিচিত হয়ে সুখী হলাম। বড় চাচাকে খুব সুখী দেখা গেল না। মুখ কালো করে হাত মিলিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে নিচু গলায় বললেন, আদব লেহাজ কিছু শেখায় নি। বেজন্মা ছেলে। খালেদ আবার আমাদের দিকে এগিয়ে এল। ফিসফিস করে ইংরেজিতে বলল, এই বুড়ো মনে হচ্ছে মহা বদমেজাজি
এয়ারপোর্টে খালেদকে যেমন হাসিখুশি এবং সবকিছুতে তার উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, বাসায় এসে সেটা উবে গেল। তাকে দোষ দেয়া যায় না। আমাদের বাসায় এলে যে কোন মানুষের মন খারাপ হয়ে যায়। অন্ধকার বাসা, ছোট ছোট রুম, ময়লা আসবাবপত্র, তেলতেলে রং ওঠা দেয়াল, মন ভাল হওয়ার কিছু নেই এই বাসায়। খালেদ খানিকক্ষণ বাইরের ঘরে বসে থেকে একবার বাথরুমে ঢুকে ফ্যাকাসে মুখে প্রায় ছিটকে বের হয়ে এল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে? খালেদ কোন উত্তর দিল না। কেমন জানি ভয় পাওয়া চোখে মাথা নাড়ল।
আমারও সেরকম সন্দেহ ছিল, আমাদের স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ময়লা বাথরুমে গিয়ে সে
একটা বড় ধাক্কা খাবে। বাথরুমে একটা বিশাল মাদী মাকড়সা মাঝে মাঝে পেটে ডিম
নিয়ে বসে থাকে। কে জানে আজকেও বসে ছিল কি না!
রাতে খালেদের আসা উপলক্ষে ভাল খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পোলাও, মুরগির কোরমা, কাবাব, ইলিশ মাছের ভাজা সালাদ আর বোরহানি। আমরা খুব শখ করে খেলাম। খালেদ অবশ্যি কিছুই খেতে পারল না। প্লেটে খানিকটা পোলাও আর একটা মুরগির রান নিয়ে বসে রইল। আমেরিকায় নিশ্চয়ই কেউ কাউকে খাবার তুলে দেয় না। কারণ খালেদ খাচ্ছে না দেখে বড় চাচী এক সময় তার প্লেটে এক গাদা খাবার তুলে দিলেন। খালেদ তাই দেখে মনে হল আকাশ থেকে পড়ল। হাত উপরে তুলে অবাক হয়ে বলল, কিন্তু আমি তো চাই নি। কেন আমাকে দিচ্ছ? কেন? খালেদ কথাটা বলল ইংরেজিতে, সেটা বড় চাচীকে অনুবাদ করে শোনাতে হল।
আর সেটা শুনে বড় চাচী হঠাৎ কেমন জানি খুব লজ্জা পেয়ে গেলেন। খালেদ বলতে গেলে কিছুই খেল না। যেটাই মুখে দেয়, সেটাই তার ঝাল লাগে। অনেকক্ষণ চেষ্টা করে সে খেল একটু পোলাও, অল্প একটু মুরগির গোশত আর বেশ অনেকখানি আলু। পানি খাবার আগে সে কয়েকবার জিজ্ঞেস করল তার পানিটা ফোটানো কি না ওর ‘পিডিয়াট্রিশান' নাকি বলে দিয়েছে পানিটা ফুটিয়ে খেতে। কঠিন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now