বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ আমার বিয়ে।
বউ সেজে বসে আছি সরাজের জন্য। ওর সাথেই বিয়েটা হচ্ছে আমার।
সেই পিচ্ছি থেকে ওর বউ হতে চেয়েছি আমি। সরাজ আমার থেকে বয়সে ৪ বছরের বড়। তাই ও আমাকে ছোট থেকেই তুই করে বলে, আর আমি বলি তুমি করে।
ছোট বেলায় আমরা সব পিচ্চিরা মিলে যখন বর বউ খেলতাম, তখন সরাজ সাজত বর আর আমি বউ। আমাদের পিচ্চিদের দলে আরো অনেক মেয়ে ছিল, তাই সবসময় আমার বউ সাজাটা সহজ ছিল না। কিন্তু আমি কান্নাকাটি করে হলেও সরাজের বউ সাজতাম। সেই ছোট থেকেই সরাজকে নিজের ভেবে এসেছি। অন্য কোনো মেয়ে ওর সাথে কথা বললেই আমার খুব রাগ হত। কতবার যে রাগ করে সরাজকে কামড়ে দিয়েছি তার কোনো হিসাব নেই।
প্রাইমারী স্কুলে আমরা একসাথেই পড়েছি। কিন্তু সরাজ যখন একটু বড় হল, তখন ওকে শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হল পড়াশোনার জন্য। সেই প্রথম আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর সরাজ যখন মাঝে মাঝে এখানে আসত, তখন আমাদের দেখা হত।
আস্তে আস্তে আমরা বড় হলাম। বুঝতে পারলাম সরাজকে ভালবেসে ফেলেছি। এই বোধ হওয়ার পর ওর সামনে যেতে আমার লজ্জা লাগত খুব। বলব বলব করেও আর ভালোবাসি বলা হয়ে উঠে নি..
হঠাৎ "সবার বর এসেছে, বর এসেছে " চিৎকার! আমার ঘোর কেটে গেল.. আমার একটু একটু লজ্জা লাগছে। এতক্ষন বসে বসে আমি পিছনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভাবছিলাম। আমাদের এত তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু সরাজের বাবা খুব অসুস্থ হওয়ায় এখনই বিয়েটা হচ্ছে। বিয়ের আগে সরাজের সাথে কথা বলার সুযোগ হয় নি আমার, কারন আম্মু বারন করেছিল বিয়ের আগে ঘর থেকে বাইরে বেরোতে।
*
একটু আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে। হুম, আমি এখন সরাজকে সারাজীবনের জন্য নিজের করে পেয়ে গেছি। এখন আমি চলে এসেছি শ্বশুরবাড়িতে। বাসর ঘরে বসে আছি অনেকক্ষন হয়ে গেছে। ভাবছি আজকে সরাজকে ভালোবাসার কথাটা বলে দেব।
এখন এ ঘরে শুধু আমি আর ও আছি। এটাই উপযুক্ত সময় ওকে ভালবাসি বলার।
:-- শোন, তোকে আমার কিছু বলার আছে (সরাজ)
--আমিও তোমাকে কিছু বলতে চাই (আমি)
:-- আচ্ছা, তাহলে তুইই বল আগে
-- নাহ, আগে তুৃমি বল
:-- তোর শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে, কিন্তু আমি শুধু বাবার কথা ভেবেই তোকে বিয়ে করেছি। আমি অন্য কাউকে ভালবাসি। তোকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। বাবা একটু সুস্থ হলেই তোকে ডিভোর্স দিয়ে দিব। তুই আগে যেভাবে ছিলি তেমনই থাকবি। এবার বল তুই কি বলতে চেয়েছিলি? (সরাজ)
-- থাক অন্য একদিন বলব।
আমি অনেক কষ্টে কান্না আটকে রেখেছি। খুব রাগ হল আমার, তবে রাগটা কার উপর সেটা জানি না। সরাজের কথায় আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
সেদিন আমাদের মধ্যে আর কোনো কথা হয় নি, অথচ আমার কত কিছু বলার ছিল!
*
দিন কেটে যাচ্ছে আমাদের। আগের সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে নি। সরাজ আছে ওর মতো, আমি আছি আমার মতো।
সরাজের জীবনেই শুধু আমি আছি, কিন্তু ওর মনে আমার কোনো জায়গা হয় নি।
আমি সবসময় চেষ্টা করি ওর কাছাকাছি থাকতে, যদিও সরাজ বারন করে কিন্তু আমি শুনি না সেসব। ও ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে কি কথা বলে, কি করে সব আমার সাথে শেয়ার করে, আমাকে এখনো আগের মতোই বন্ধুই ভাবছে। কিন্তু আমার যে ওসব শুনে কতটা কষ্ট হয় সেটা আমি নিজেই জানি। সরাজ এখনো জানতেই পারল না আরো একজন ওর জন্য অপেক্ষা করছে। এতটা কাছে থেকেও আজ আমাদের মধ্য এত দূরত্ব! আমি শুধু কাগজে কলমেই ওকে নিজের করে পেয়েছি, মনে মনে তো পেলাম না।
*
বিয়ের পর এই প্রথম আমি সরাজের সামনে কেঁদেছি। এতদিন এত কষ্ট পেয়েও নিজের কান্না আটকে রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমার সহ্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।
আজকে সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির পানিতে হাত ভেজাচ্ছিলাম আমি। হঠাৎ সরাজ এসে আমাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল। এই প্রথম ওর স্পর্শ পেয়ে স্বাভাবিক চিন্তাশক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলাম। ঘোরের মধ্যেই কেটে গিয়েছিল অনেকটা সময়। সরল মনে নিজেকে সমর্পন করে দিয়েছিলাম ওর কাছে । যখন আমার ঘোর কাটল তখনো আমি সুখে আচ্ছন্ন ছিলাম। কিন্তু সরাজ যখন অপরাধীর মতো মুখ করে বলল ও নাকি ভুল করে এটা করেছে, তখন এক ধাক্কায় আমার সুখগুলো কষ্টে পরিণত হল। ও আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে, কিন্তু এতে তো আমি আবার আগের মতো হয়ে যাব না।
*
ইদানীং দেখছি সরাজ কিছুটা চিন্তিত। আমিও নিজেও খুব চিন্তা আর ভয়ের মধ্যে আছি। আমি বুঝতে পারছি, আমার মধ্য অন্য একজন বড় হচ্ছে। কি করবে সরাজ এটা জানার পর?!
একটু আগেই সরাজ বাসায় এসেছে। তবে একা নয়, নিজের বিয়ে করা নতুন বউকে সাথে নিয়ে।
:--ওর বাবা হঠাৎ করেই ওর বিয়ে ঠিক করায় আজকেই আমাকে বিয়েটা করতে হল। তুই চিন্তা করিস না, তোকে আমি কিছুদিনের মধ্যেই ডিভোর্স দিয়ে দিব। তারপর তুই অন্য কাউকে বিয়ে করে নিস। দেখিস তুই সুখী হবি (সরাজ)
-- কিন্তু তোমার সন্তানকে কি করব?? (আমি)
সরাজ আমার কথা শুনে ভয়ানক চমকে গেছে। আমি দেখতে পাচ্ছি সরাজের চোখ ছলছল করছে।ও হয়তো অনুশোচনায় কাঁদছে।
কিন্তু আমার কেন জানি এখন একটুও কান্না পাচ্ছে না!
আমি আলতো করে আমার পেটে হাত রেখে বললাম, "তুই আমায় ভালোবাসবি তো??
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now