বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তাতান আর একটা ময়না পাখি II মেঘ

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X তাতানের মন খারাপ। কদিন ধরেই মন খারাপ। মা, বাবাই কেউ ওর মন ভালো করতে পারছে না। কী হয়েছে তাতান সোনার? কী হবে আবার, তাতানের খেলার সাথী কেউ নেই যে। সেই জন্যই তো ওর মন খুব খারাপ । স্কুল ছুটি হয়েছে সেই কবে। মা বলেছে, এটা অনেকদিনের ছুটি। এখন ঘরে বসে কার্টুন দেখবে আর ইনডোর গেমস নিয়ে থাকবে। কার্টুন দেখতে তাতানের খুব ভালো লাগে কিন্তু একা একা কত আর কার্টুন দেখা যায়, বাবাই আর মা অফিসে চলে গেলে, শুধু বাড়িতে ও আর টুকু মাসি। তাও মাসি সারাক্ষণ বলবে, এই করবে না ওই করবে না। তাতান জল ঘাঁটবে না, দৌড় দেবে না, বারান্দায় যাবে না, লাফ দেবে না, চিৎকার করবে না। না, না, না , না ……….এতগুলো না শুনতে শুনতে তাতানের কান্না পেয়ে যায় কেবল। দুপুর বেলা টুকুমাসি মেঝেতে শুয়ে টিভিতে সিনেমা দেখে আর চোখ রাঙিয়ে তাতানকে বলে- এথনও ঘুমোচ্ছো না! এইবারে তোমাকে একা বাড়িতে রেখে দরজায় তালা দিয়ে আমিও চলে যাব। বুঝবে তখন। সবগুলো ভূত এসে তোমাকে কামড়ে দেবে। মাসির বকা খেয়ে তাতানের তখন সত্যি ভয় ভয় করে। মাসি ফেলে গেলে কী হবে এই ভয়ে ও চোখ বন্ধ করে ওর ডাইনোকে সাথে করে নিয়ে শুয়ে থাকে চুপচাপ তারপর ঘুমিয়ে পড়ে। সন্ধ্যেবেলা ঘুম ভেঙে গেলে দেখে বাবাই আর মা এসে গেছে। কিন্তু তবুও ঘুম ভেঙে মনটা ওর আরও খারাপ হয়ে যায়। মনে হয় বাবাই আর মা তো আবার কাল সকালেই অফিস চলে যাবে, আবার তাতান একা হয়ে যাবে। ২. আজকে সব্বার ছু্টি।সকালেই বৃষ্টি হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টি নেই কিন্তু আকাশটা এখনো মন খারাপ করে আছে তাতানের মত। তাতান জানলার কাছে একা একা বসে আছে। ডাইনোকে কোলে নিয়ে জানলা দিয়ে ও রাস্তায় জল জমে যাওয়া দেখছে। দুটো ছোট ছোট ছেলে বল খেলছে ওখানে। তাতানের ইচ্ছে করছে ওদের সাথে খেলতে। কিন্তু মা তো যেতেই দেবে না। একবার মনে হলো যে মা কে ফাঁকি দিয়ে চুপি চুপি নীচে নেমে গেলে কেমন হয়! কিন্তু তারপরই মনে হলো যখন মা দেথবে ও ঘরে নেই তখন তো মা ঠিক নেমে গিয়ে ধরে নিয়ে আসবে তাতানকে। আর তারপর কী হবে! মা রেগে গেলে তাতানের ভয় করে খুব।এইসব ভাবতে ভাবতে তাতান আনমনা হয়ে গেল তারপর মনে হলো ওর ঘাড়ের কাছে কে যেন হাত রেখেছে। তাতান ঘুরে তাকিয়ে দেখে বাবাই। বাবাইও জানলা দিয়ে ওদের খেলা দেখছে। বাবাইয়ের মুখটাও হঠাৎ কেমন তাতানের মত হয়ে গেলো। তাতানকে কোলে তুলে বলল - কীরে খেলবি? চ’ তবে ছাতে যাই। ওখানেও জল জমেছে অনেক। -ছাতে? হুমম্ বাবাই চলো চলো এখুনি। বল নেবো বাবাই? - নে, চল খুব খেলব এখন। ছাতে উঠে তাতানের মন খুব ভালো হয়ে গেল। ছাদের এদিকে সেদিকে জল আছে একটু একটু জমে। আকাশটা কী সুন্দর ছাই ছাই রঙা। বাবাই কোল থেকে তাতানকে নামিয়ে দিয়ে বললো, –খুব দৌড়ে খেল তো বাবাই। তাতানও দুদ্দার কোল থেকে নেমে জমে থাকা জলের মধ্যে লাফানো শুরু করে দিল। বাবাই বলটা ছুঁড়ে দিয়েছে ওর দিকে। লাফালাফি করে বল খেলতে খেলতেই তাতান দেখলো ছাতের এক কোণে একটা জলে ভেজা পাখি জবুথবু হয়ে বসে। ঈশ্ ওর পালকগুলো ভিজে কেমন হয়ে গেছে! বাবাইকে দেখাতেই বাবাইও পাখিটার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। আশ্চর্য পাখিটা ওদের দেখে একটুও উড়ে যাবার চেষ্টা করলো না। -সত্যিই তো! এ তো একেবারে চুপসে গেছে রে। কিন্তু এই পাখিটা এলো কী করে এখানে! - কী পাখি এটা বাবা? - ময়না রে ময়না। এতো পোষা পাখি। কে জানে কার বাড়ির খাঁচা থেকে উড়ে এসেছে। চল ওকে ঘরে নিয়ে যাই। বাবাই পাখিটাকে ঘরে নিতে চাইছে শুনেই তাতান লাফিয়ে উঠলো। বাবাই পাখিটাকে আলতো করে তুলে নিতে গেল যেই, অমনি পাখিটা উড়ে গেল। -ঈশশ্.. বাবাই ও বাবাই কী হলো, পাখিটা যে উড়ে গেল। কোথায় গেল ও? বাবাই বললো, চল রে তাতান অন্যের পাখি ধরে কাজ নেই, তোকে একটা পাখি কিনে দেব আজকেই। এখন ঘরে চল, নইলে মা ভীষণ বকবে। বিকেলে তোকে আজ পাখি কিনে দেব। বিকেল বেলা বাবাই মা আর তাতান বেরোলো গাড়ি করে পাখি কিনবে বলে। পাখির দোকানের সামনে গাড়ি রাখতেই তাতান দেখে নানারকম খাঁচার মধ্যে কততো সুন্দর সুন্দর সব পাখি। তাতানের মন ভালো হয়ে যায়। হাততালি দিয়ে ওঠে ও খুশিতে। মা’র হাত ধরে টানতে টানতে ঢুকে পড়ে দোকানে। বাবাই একটা ময়না কিনে দেয় তাতানকে। তাতান সোনা শোন্, ময়না কিন্তু কথা বলতে পারে। ঠিক করে ওর যত্ন্ নিবি আর ওকে কথা শেখাবি। পাখিটা এখন থেকে তোর দায়িত্বে রইল কিন্তু। ৩. তাতান পাখি পেয়ে খুব খুশি। এখন আর তাতানের মন খারাপ হয় না। বরং পাখিকে কথা শেখানোর জন্য ও উঠে পড়ে লেগেছে। টুকু মাসির বকাতেও এখন আর মন খারাপ করে না তাতান। বাবাই ফিরলেই রোজ জিজ্ঞেস করে - ও বাবাই ময়না কবে কথা বলবে? বাবা হেসে বলে - বলবে রে বলবে। কী কী শেখাচ্ছিস শুনি? - বাবাই, এখন কেবল শেখাচ্ছি তাতান সোনা। তাও তো পারছে না ও। -হবে হবে ধৈর্য্য ধরবি তো একটু। ও ঠিক শিখে নেবে। স্কুলের লম্বা ছুটি এখন শেষের দিকে। আর দিন সাতেক পরেই তাতান আবার স্কুলে যাবে।কিন্তু তখন ময়নাটা খুব একা হয়ে যাবে। এমা..তাতানের মত একা একা থাকতে ওরও মন খারাপ হবে যে! কী হবে! বাবাইকে বলতে হবে তাতান স্কুলে গেলে পাখিটার কি হবে। তাতান বাবাইকে গেলো জিজ্ঞেস করতে। বাবাই আর মা তখন টিভিতে এ্যানিমেল প্লানেট দেখছিলো, তাতান গিয়ে দাঁড়াতেই দেখে টিভিতে দেখাচ্ছে একটা বনের মধ্যে এত এত পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। বাবাইকে ময়নার কথা জিজ্ঞেস করতেই বাবাই বললো - তাতান সোনা,এই যে এত পাখি দেখছ, এরা কিন্তু বনের পাখি। তোমার ময়নাটাও একসময় বনেই ছিল। -তাহলে এ খাঁচায় এল কী করে? -মানুষগুলো বন থেকে পাখিগুলো ধরে ধরে খাঁচায় পুরে বিক্রী করে দেয় যে। সেজন্য ওরা খাঁচায় থাকে। -ওদের মন খারাপ হয়না বাবাই? -হয় তো রে। বনের খোলা জায়গা থেকে ধরে এনে ছোট খাঁচায় বন্দী করলে কার মন খারাপ হবে না বল তো? -তাহলে ওকে আমরা খাঁচায় কেন বন্দী করেছি বাবাই? -হুমম, লোকগুলো যখন বিক্রী করার জন্য দোকানে এনেইছে, আমিও ভাবলাম তোর মন খারাপ কেটে যাবে পাখিটাকে পেয়ে।সেজন্যই তো কিনলাম। আর কিনে যখন এনেছি তখন তো তাকে খাঁচাতেই রাখতে হবে রে। নইলে ও ঘরের মধ্যে উড়তে গিয়ে ফ্যানে ধাক্কা খেয়ে ডানা কাটবে, আয়নাতে ধাক্কা খাবে। সেসব তো আরও সমস্যা। তাতান কী বুঝল ঠিক বোঝা গেল না। শুধু বড়দের মত একবার হুমম্ বলে ওর নিজের ঘরে চলে গেলো। ময়নার একা হয়ে যাবার প্রশ্নটা বাবাইকে সে আর করলো না। ৪. আজ স্কুল শুরু। তাতান উঠে পড়েছে সকাল বেলাতেই। ইউনিফর্ম পড়ে তৈরী একেবারে। আরেকটু পর বাস এসে যাবে। মা ওর টিফিন আর খাবার জল ব্যাগে পুরছে। তাতানের মনটা খুব খুব ভালো এখন। তাতান এক দৌড়ে বাবাই-এর কাছে গেল।বাবাই তখনও ঘুমোচ্ছে। বাবাইকে ঘুম থেকে টেনে তুলে বলল, -বাবাই এসো না, এক্ষুনি এসো। -কেন রে..কী হলো কী? -দেখবে এসো বারান্দাতে বাবাই আর তাতান বারান্দাতে এসে দাঁড়াল। -এ কীরে পাখি কই? খাঁচার দরজা খুললো কে? -মা আর আমি। -যাঃ..ময়না উড়ে গেছে যে! -বাবাই, ওর এতদিন খুব কষ্ট হয়েছে যে।আমার যেমন বাড়িতে একা একা থাকতে অনেক কষ্ট হত, ওরও তো সেরকম কষ্ট হচ্ছিলো। সেজন্যই তো মা আর আমি ভোরে উঠেই পাখিটাকে ছেড়ে দিলাম বাবাই। এখন ও আনন্দে আকাশে বনে উড়ে বেড়াবে। ভালো করেছি না বাবাই বলো! তাতানের মাও পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। বাবাই তাতানের ছোট কাঁধ দুটো জড়িয়ে ধরে বললো- -ঠিক করেছিস। একদম ঠিক কাজটি করেছিস তাতান। বনের পাখিকে কখনো খাঁচায় আটকাতে নেই। সারাজীবন তুই এরকমটি থাকিস তাতান। তুইও আমার একটা ময়না পাখি তো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তাতান আর একটা ময়না পাখি II মেঘ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now