বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তার ছেড়া গিটার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arfin Shuvo (০ পয়েন্ট)

X এই যে তোমার মোবাইল নাম্বরাটা দেয়া যাবে ?" মেয়েলী কন্ঠ শুনে ফিরে তাকালো পিয়াস। গিটারের নাট ঠিক করছিল ও। থার্ড স্ট্রিং এর সাউন্ডটাতে ঘাপলা আছে। কাজটায় বিঘ্ন ঘটাতে সে খুব বিরক্ত বোধ করলো। --"নাম্বার দিয়ে কি করবেন ?" দায়সারা একটা জবাব দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলো সে। --"আশ্চর্য! এক ক্লাসে পড়ি , নাম্বারের দরকার থাকতে পারেনা? তুমি মিউজিক নিয়ে ব্যস্ত থাকো , অনেক গানই শুনো মনে হয়। ভাবলাম তোমার থেকে মাঝে মাঝে অ্যালবাম নিয়ে শুনবো। এজন্য তো যোগাযোগের দরকার আছে। তাছাড়া তোমাকে তো কারো সাথে কথা বলতে দেখিনা। তাই এলাম নিজেই কথা বলতে। " এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললো মেয়েটা৷ --"আমি কাউকে নাম্বার দেইনা। " বলে নিজের কাজ করতে লাগলো পিয়াস। --"আশ্চর্য তো ! তুমি এত অভদ্র কেন? কি মনে করো নিজেকে? ভালো গিটার বাজাও বলে দেমাগ দেখাও নাকি? একটা মেয়ে নাম্বার চাইতে আসছে , মানা কিভাবে করতে হয় সেটার শিক্ষাও তোমার নেই। যত্তসব!" ঝাঁঝালো জবাব দিয়ে মেয়েটা গটগট করে হেঁটে চলে গেলো। মুখে তুলে তাকালো পিয়াস। ওর চুল একটু লালচে আর কিছুটা লম্বা। চোখে এসে পড়ে। চুলের ফাঁক দিয়ে মেয়েটাকে চলে যেতে দেখলো। মেয়েটার নাম তিশা। খুব ভালো ছাত্রী ওদের ক্লাসের। পিয়াস ওর প্রতি একটা আকর্ষণ বোধ করে , কিন্তু একটা পিছুটানও কাজ করে। অজানা সেটা পরে জানা যাবে। বিকেলের সময়। কয়েকজন বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসের এক কোনায় গিটার বাজাচ্ছে পিয়াস। স্প্যানিশ গিটারের সুরে ঝংকার তুলছে আশপাশটা। হঠাৎ বাজানো বন্ধ করে গিটারটা এক ফ্রেন্ডের হাতে দিয়ে দৌড় দিলো পিয়াস। একটা মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তিশা! "এক্সকিউজ মি। " পিছন থেকে তিশা একটা ডাক শুনলো। চোখ গরম করে পিয়াসের দিকে তাকিয়ে থাকলো সে। "জিরো ওয়ান সিক্স সেভেন......... এটা আমার নাম্বার।" মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো পিয়াস। --"তখন দিলেনা কেন? এখন কি জন্য আসছো?" আগুন গলায় বললো তিশা। --"আপনার কথা তখন মনোযোগ দিয়ে শুনিনি। গিটারটা ঠিক করছিলাম। স্যরি। " চোখের উপর থেকে চুল সরিয়ে একটা বোকা বোকা হাসি দিলো পিয়াস। "ইটস ওকে!" বলে হঠাৎ একটা হাসি দিলো তিশা। পিয়াসকে সেও খুব পছন্দ করে। অপেক্ষা করতে করতে সে ক্লান্ত। তাই নিজ থেকেই আজ নাম্বার চাইতে গিয়েছিল। দূরালাপনে একটু বলতে চাওয়ার ইচ্ছায় মনের কথাগুলা। এভাবেই একটা গল্পের শুরু হয়। গল্প এগিয়ে যায়। পিয়াস আর তিশার। পিয়াসের গিটারের সুরে তিশার স্বপ্নগুলো ডানা মেলতে থাকে৷ ধানমন্ডি লেইক। পিয়াসের গিটার শুনছে তিশা। -আমাকে গিটার শিখাবা? শুনতে শুনতে বললো তিশা। -গিটার শেখা এত সোজা না। পিয়াসের উত্তর -চেষ্টা করতে দোষ কি? -অনেক দিন লাগবে। আর প্রচুর প্র্যাকটিস। -এত কথা বলো কেন? শিখাতে বলছি , শিখাও। -আচ্ছা , এখন একটু শেখানো যায়। এই যে গিটারের ছয়টা তার , এগুলা হচ্ছে E,A,D,G,B,E। একেকটার সুর একেক রকম । -E,A,D এরপর কি? -আরে E,A,D,G,B,E। এগুলা মনে রাখতে একটা বাক্য আছে ইংলিশে , Every Adult Dog Growls,Barks,Eats। প্রত্যেকটা শব্দের ১ম অক্ষর একেকটা স্ট্রিং এর নাম। -বাহ! ভালো তো। আচ্ছা , তোমার হাতটা ধরি? -কেন? -এমনি। দেখোনা কত কত কাপল এখানে হাত ধরাধরি করে বসে আছে? -তুমি কি হাত ধরতে আসছো নাকি তুমি আসছো গিটার শুনতে? -আচ্ছা , তুমি এত ম্যানারলেস কেন? মুখের উপর একটা মেয়েকে কিভাবে মানা করো? পিয়াস কিছু বলেনা , চুপ করে থাকে। -কথা বলোনা কেন? -মাথাটা খুব ব্যাথা করছে তিশা -কেন কি হয়েছে? -কিজানি। রাতে ভালো ঘুম হয়নি , এজন্য হয়তো। -আচ্ছা , তাহলে এখন উঠো। তোমাকে মেসে দিয়ে আসি। -আমি যেতে পারব একা একা। গিটারটা ব্যাগে ভরে উঠে দাঁড়ালো পিয়াস। এক পা এক পা করে হেঁটে যেতে লাগলো। তিশার দিকে ফিরে তাকালোনা একবারো । পরের দিন থেকে পিয়াসের আর কোন খোঁজ পায়না তিশা। তার নাম্বার ও অফ। মেসে গেলো তিশা, মেস নাকি ছেড়ে দিয়েছে পিয়াস , মেসের মালিক জানালো। ক্লাসেও আর তাকে দেখেনি তিশা। একটা চাপা কান্না বুকের ভিতরে পুষে দিন কাটতে থাকে তিশার। পিয়াসের জন্য ভালোবাসাটা বুকের ভিতরেই ছিঁড়ে কুঁড়ে খেতে থাকে তাকে। পিয়াসের স্মৃতি ধীরে ধীরে ম্লান হয় এক সময়। সেই লালচে বড় চুল , কানে ব্লুটুথ হেডসেট , বোকা বোকা হাসি একসময় ঝাপসা হতে থাকে তিশার কাছে। এর মাঝে বিয়ে ঠিক হয় তিশার। গায়ে হলুদ হয়ে যায় তার। তিশার বাড়িতে আজ বিয়ের সাজ। বধূ সেজে সে বসে আছে নিজ ঘরে। এমন সময় একটা ফোন । -তিশা? তিশা-কে বলছেন? -আমি পিয়াস। একটা মূহুর্ত কথা ফোঁটেনা পিয়াসের মুখে। তিশা-কোন সাহসে আমাকে ফোন দিয়েছো তুমি? জানো কতদিন ধরে খুঁজেছি তোমাকে? দুই মাস। আজ কেন ফোন করেছ আমাকে? আজ আমার বিয়ে দেখোনা তুমি ? আগুনের গলায় কথা গুলো বলে গেল তিশা। পিয়াস-আমি হসপিটালে ছিলাম। আমার চিকিৎসা চলছিল। কাউকে দিয়ে তোমাকে খবর পাঠাতে পারিনি। সরি। -সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়না পিয়াস। -তোমাকে একটা গান শোনাতে এসেছি তিশা। জানালা দিয়ে তাকাও। তিশা জানালা দিয়ে তাকালো। দূরে একটা ছেলে গিটার নিয়ে বসে আছে। কথা বলছে ব্লুটুথ হেডসেট দিয়ে। তিশার কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গান শুরু করলো পিয়াস। "প্রতিদিন এ গলি , ও গলিতে ঘুরোঘুরি , কেটে যায় সময় আসে রাত। মেয়েটা বাঁকা করে চুল বাঁধে , প্রেম করে , দেখো ছেলেটাও পড়ে ফুল হাতা শার্ট। এই দেখে হাসাহাসি , গানটাকে ভালোবাসি , এই ভালো আছি এই স্বপ্ন আমার। কখনো বুঝিনি যে এটা ছিলো সূচনা আছে বাকি স্বপ্নের উপসংহার...." গান গাইতে গাইতে কাঁদতে থাকে পিয়াস। ফোনের লাইনে তিশা স্তব্ধ হয়ে রয়। পিয়াস-তোমাকে ভালোবাসি তিশা। কখনো বলতে পারিনি আমার পিছুটানের জন্য। আমি ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন। আমার কেমোথেরাপী চলছিল এতদিন। আমার জীবনটা তোমার সাথে অন্যরকম ছিল এতদিন। স্বপ্নের মত। কিন্তু বাস্তবতায় আমি হেরে গেছি তিশা। আমাকে মাফ করে দিও। মোবাইলটা কানে চেপে ধরে রাখে তিশা। দূরের ছেলেটাকে দেখছে সে। ঝাপসা স্মৃতিগুলো ছাড়খার. করে রাখা ভালোবাসাটাকে হঠাৎ জাগিয়ে দেয়। দৌড়ে নিজের রূম থেকে বেরিয়ে গেল তিশা। পিয়াসের কাছে যেভাবেই হোক তাকে যেতে হবে। জানালা থেকে তিশাকে চলে যেতে দেখলো পিয়াস। লাইন কাটেনি । হেডসেটে শুনতে পেলো তিশা আর তার বাড়ীর লোকজনের চিৎকার, চেঁচামেচি। সে বলছে,"আমি পিয়াসকে ভালোবাসি। আমাকে বাইরে যেতে দাও। যেতে দাও..." উঠে দাঁড়ায় পিয়াস। ব্লুটুথ হেডসেটে লাইনটা কেটে দেয়। এক পা এক পা করে ক্যান্সারে আক্রান্ত শরীরটা নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে হেঁটে যেতে থাকে। ক্ষীন এ জীবনটায় তিশা আর না আসুক। মৃত্যু তাকে অনুসরণ করছে পিয়াস। সে কেন তিশার জীবনকে অনুসরণ করাতে যাবে? তার জীবনের সুর যে কেটে গেছে , গিটারের তার ছিড়ে গেছে... কোনো মতে-ই জোড়া লাগানো যাবেনা। পিয়াসরা এভাবেই হারিয়ে যায় একদিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তার ছেড়া গিটার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now