টাইম টেবিল "রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)
X
ইরার ঘাড়ে ব্যাথা।
তাই চলাফেরা করতে হচ্ছে অনেকটা জম্বি স্টাইলে। বা দিকে থেকে ডানে মুখ ফেরাতে পারছে না। কারও সাথে কথা বলতে হলে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে কথা বলতে হচ্ছে।
অারও সমস্যা হলো, তার সদ্য হাঁটতে শেখা, পেট মোটা যমজ ছেলে দুটো নিয়ে। ছেলে দুটোর পেছনে সব সময় তাকে উসাইন বোল্টের বেগে ছুটতে হয়। কিন্তু অাজ সে অসহায়ের মত ঘাড় তেছড়া করে শুধু তাদের দেখছে। ছেলে দুটো এলোপাথাড়ি হাঁটছে, কখনও দরজা, কখন অালমারি বা খাটের কোনায় টকাশ করে বাড়ি খাচ্ছে। দুটোর মধ্যে বড়টার অাবার স্বভাব, ঘরের কোনায় কোনায় খাবার লুকিয়ে রাখা, যেমন বিস্কিটের টুকরা বা মুড়ি ইত্যাদি। সে তার জমানো খাবার খাটের নিচ থেকে, দরজার কোনা থেকে টেনে এনে ছোটটার সাথে ভাগাভাগি করে খাওয়ার চেষ্টা করে। তার অাগেই ইরাকে চিল হয়ে ছোঁ মারতে হয়। কিন্তু অাজ তাও হচ্ছেনা!
কোথা থেকে যেন একটা অাধ খাওয়া বিস্কিট টেনে অানলো বড়টা। শেয়ারিং করে মুখে দেওয়ার অাগে মায়ের মুখের দিকে তাকালো! মা অাজ চিল হচ্ছে না কেন, ভাবছে বোধহয়!
ইরা দুর্বল কন্ঠে নিষেধ করার সাথে সাথে ওরা মুখে চালান করে দিলো বিস্কিট!
অার এ দৃশ্য দেখে ওর সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়লো সাদিকের ওপর। ছেলেদের দিকে নজর না দিয়ে উনি খবর দেখছেন বসে। বিরক্ত হয়ে ড্রইং রুমে পা চালালো ইরা। শুক্রবার অাজ, এত বেলা হয়ে গিয়েও ময়নার মা অাসছে না বলে অারও মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে ওর।
ড্রইং রুমে গিয়ে দেখে সাদিক হা করে টিভির দিকে তাকিয়ে অাছে। টিভিতে ক্যাটরিনা লাফঝাঁপ করে গাইছে,"ম্যানু কালা চাশমা যাচতাহে. ."! এবার ইরার ধৈর্য্যের বাঁধ নড়বড়ে হয়ে উঠলো, যে কোন সময় হুড়মুড় করে ভাঙ্গবে।
"তোমার ছেলেরা কি করতেছে গিয়ে দেখো! অামি পারবো না। ঘাড়ের ব্যাথায় মরে যাই অামি, অার উনি এখানে জলসা সাজায় হুরের নাচ দেখতেছে!"
এটা প্রায়ই হয়! মানে ছেলেরা অকাজ করলে কেন যেন বাপ বা মায়ের ইনডিভিজুয়াল প্রোপার্টি হয়ে যায়! এমনিতে অন্য সময়ে যদিও ওরা উভয়েরই সম্পত্তি।
একটা পলিথিনের পোটলা হাতে একটুপর ময়নার মা এলো। দেরি হলো কেন জানতে চাইলে সে বলে,"অার কইয়েন না! হেই বাড়ির বাই এত্তগুলান হিং মাছ অানছে!" হাত দিয়ে পরিমাণটা দেখালো,"কয়, কুইট্টা দিয়া যাইতে! তাই কাটবার গিয়া দেরি! এই দেহেন অামারেও চাইরটা বড় বড় মাছ দিছে।" খুশি খুশি মনে পোটলাটা তুলে দেখালো ও।
তারপর হঠাৎই ইরার মাথার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,"কি হইছে অাপনের অাফা? ঘেডিত ব্যাতা নি?" হ্যাঁ বলে তাকে কাজের তাগাদা দিলো ইরা।
সাদিক এখনও ওঠে নি সোফা থেকে। নাস্তার পর বাজারে যাবার কথা। ইরা অাবার ও ঘরে গিয়ে দেখলো, সাদিক ক্রিকেট দেখছে। ইরা বলল, "কি তুমি যাবা না বাজার করতে? ঘরে রান্নার কিচ্ছু নাই!" সাদিক বলে ,"অারে দাড়াও না! ইমপর্টেন্ট ম্যাচ চলতেছে!" ইরা টিভির দিকে ঘুরে অাবার ১৮০ ডিগ্রী। দেখে সাদিকের জন্মের অাগের কোন টেস্ট ম্যাচ চলছে! মেজাজ অারও বিগড়ে গেল ওর। ছেলে দুটো কাঁদছে। ময়নার মা এসে বলে,"এই দেহেন অাফা, জারু নিবার চায় হ্যারা। দেই না দেইক্কা চিক্কুর পাড়ে!" ইরা সাদিককে ওয়ার্নিং দেয়ার মত করে অাঙুল নাচিয়ে বলে,"পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি না উঠছো, অাই সয়্যার তোমার খবর অাছে!" বলে ঘর ছাড়লো।
ঘাড় ব্যাথায় মরে যাচ্ছে ও। অনেক কষ্টে ঘুম পাড়ালো ছেলে দুটোকে। ঘড়িতে বেলা সাড়ে এগারোটা। সাদিকের নড়ার বালাই নাই। একটু পরেই নামাজে যাবে। ময়নার মা সব কিছু কেটে ধুয়ে রেডি করে দেয়। অাজ কোন তরকারি কাটানোর নেই দেখে পেঁয়াজ মরিচ কাটছে শুধু। কাল রাতে সাদিক বেশ খারাপ ব্যবহার করেছে ইরার সাথে। ক্ষুধা সহ্য করতে পারে না লোকটা। খাবার দিতে একটু দেরি হলেই শোনায়,"কি করো সারাদিন? পায়ের ওপর ঠ্যাং তুলে খাও অার টিভি দেখো শুধু! ইত্যাদি ইত্যাদি!" খাওয়া শেষে পেট ঠান্ডা হলে বলে,"রাগ করলা? রাগ কইরো না বেবি! ক্ষুধা লাগলে তো কত কিছুই বলি। দোজ অার জাস্ট মাই বেলি টক!"
ইরা এবার উঠে গিয়ে সাদিকের সামনে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো। সাদিক হেসে বললো,"বাজার করছি তো! বুয়ার শিং মাছ গুলা একশ টাকা দিয়ে কিনে নিছি! স্মার্ট না?!" বলে নিজের বুক চাপড়ালো গর্বে! "অার বাকি বাজার?" ইরার প্রশ্ন। "যা অাছে ঘরে তাই রাঁধো প্লিজ! উঠতে ইচ্ছে করতেছে না। রেস্ট নিচ্ছি।"
"যা অাছে তাই রাঁধবো, সিওর?" ইরা রাগ চেপে প্রশ্ন করে। মাথা নাড়ে সাদিক।
দুপুর দুটোর দিকে টেবিলে খেতে অাসে সাদিক। চেয়ার টেনে বসতে যাবে , দেখে ইরা ব্যাগট্যাগ নিয়ে ছেলেদের সাথে করে বের হচ্ছে। সাদিক হাঁ মুখ নিয়ে তাকিয়ে থাকলো। দারোয়ানকে ডেকে ব্যাগপত্র ধরিয়ে রিকশা অানতে বললো ইরা। সাদিকের দিকে তাকিয়ে বলল,"কই খেয়ে নাও! দেখো কি রেঁধেছি! অামি মায়ের বাসায় চললাম। দুই সপ্তাহ পর অাসবো।" সাদিক বলে,"এ্যাঁ! কেনো?"
ইরার উত্তর,"ঘেডি ইনজুরি ভালো হওয়া লাগবে। না হলে তোমার মত সেলফিস, অাইলসা, অানগ্রেটফুল মানুষের সাথে টেস্ট ম্যাচ খেলবো ক্যামনে?"
সাদিক বলে,"কি কও এগুলা বেবি! !"
ইরা চলে যাওয়ার অাগে শেষবারের মত বলে ,"ইটস অল মাই ঘেডি টকিং বেইবিইই!"
সাদিক খাবারের ঢাকনা গুলো খুলে টাশকিত হয়ে বসে অাছে। ওর সামনে শিং মাছের দোপেঁয়াজা, ডাল, অার পোলাও! মনে পড়লো দুদিন ধরে ইরা বলে অাসছিলো চাল অানবার কথা!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now