বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লিখেছেন:সুমন সময়টা ২০০৪...আজকের তাহসান-মিথিলা তখনকার
সময়ে ঢাবির মেধাবী স্টুডেন্ট...বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়া অবস্থায় বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ক্যাম্পাসের
বিভিন্ন প্রোগামে গান গেয়ে ইতিমধ্য ক্যাম্পাসে
কন্ঠশিল্পী খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে তাহসানের...সে
সময়ই তাহসান গঠন করে তার মিউজিক ব্যান্ড-"ব্ল্যা
ক"
তো,একদিন এক বান্ধবীর ছোটভাইয়ের জন্য
অটোগ্রাফ নিতে যান মিথিলা...মূলত তার
বান্ধবীকে সঙ্গ দিতেই তার সঙ্গে যাওয়া
মিথিলার...কেননা তাহসান কিংবা ব্ল্যাক নিয়ে
তার কোন ইন্টারেস্ট ছিল না...বরং তার গাওয়া গান
নিয়ে তিনি বরাবরি সমালোচনা করতেন।
এভাবেই তাদের প্রথম দেখা হওয়া...একজন
সমালোচক এবং একজন কন্ঠশিল্পী।
তারপর একদিন হুট করে কলাভবনের প্রথম গেটে
অপেক্ষা করেন তাহসান...মিথিলা আসামাত্র
তাকে হাঁটার জন্য আমন্ত্রন জানান...মিথিলাও
রাজি হয়,বেশ কথা হয় সেদিন ওদের...যাওয়ার
বেলায় তাহসান মিথালার হাতে ১টা চিরকুট ধরিয়ে
দেয়...যাতে লেখা ছিল-
Some people call it love at first sight,some call
inflation...i just ignore it!
ততক্ষণে মিথিলাও তাহসানের মিষ্টি কথার
বেড়াজালে বন্দি...বাড়িতে এসেই তাহসানকে ফোন
করে-
কি লিখেছো এসব?
তারপর থেকেই লম্বা ফোনালাপ,রিক্সা নিয়ে
উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোড়াফেরা...একটু খুনসুটি,প্রেম-
ভালোবাসা অতঃপর ২০০৬সালের ৩আগষ্ট এই জুটি
বিয়ের পিড়িতে বসেন...যখন কি না তাহসানের বয়স
মাত্র ২৬ এবং মিথিলার ২৩...তারপর থেকে সুদীর্ঘ
১১বছরের টানা যাত্রা...এর ভেতর জন্ম নেয় পরীর মত
ফুটফুটে একটি মেয়ে...তাহসান চায়তো মেয়ে বড়
হয়ে পিয়োনো বাজাবে,মিথিলা চায়তো মেয়েকে
হার্ভাড ইউনিভার্সিটিতে পড়াবে।
এই চাওয়া পাওয়ার বেড়াজালে একসঙ্গে পর্দা ও
পর্দার বাহিরে গান,মডেল এবং নাটকে দেখা গেছে
এ সফল জুটিকে...এ জুটিকে ব্যাড পিটার এবং
জোলি দম্পতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল...সবচেয়ে
সুখী দম্পতি হিসেবে আমরা তাদেরকেই
জানতাম...সবাইকে অবাক করে দিয়ে তারা যখন
বিবাহবিচ্ছেদের সংবাদ জানালো তখন কে কতটুকু
অবাক হয়েছেন জানি না,তবে আমি একটুও অবাক হয়
নি...সবাই যখন ষড়যন্ত্র মনে করে শাহবাহের ইভেন্টে
গোয়িং দিচ্ছেন,ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছেন,সেয়ার
করছেন আমি তখন ছোট্ট করে হেসে দিচ্ছি।
কারন তারা আমার কাছে আইকোনিক মডেল হতে
পারে কিন্তু আইকোনিক কাপল কোনদিনি ছিল
না...আইকোনিক কাপল তো আমার আপনার আব্বা-
আম্মা...যারা টানাপোড়ন আর শত অভাব
অভিযোগের পরেও তাদের হাত ছাড়ে না...যারা
Sacrifice কথাটির অর্থ না জেনেই সংসারের পেছনে
নিজেকে নিঃস্বার্থভাবে উৎসর্গ করে...আমাদের
আব্বারা তাহসানের মত গান গেয়ে প্রেম করে না
কিন্তু বেলাশেষে বাজার থেকে আম্মার জন্য
সন্দেশ,আচার কিংবা লাল শাড়ি কিনা
দেয়...আমাদের আম্মারাও বেলা ওবেলা সেল্ফি
আপলোড করে প্রেম জানায় না,আব্বার খাওয়া
মাছের মুড়ো চিবিয়ে কিংবা আব্বার গোসল করা
ভেজা তোয়ালে জড়িয়ে চুপটি করে বসে
থাকে...এরাই তো আসল আইকোনিক কাপল!
এই দেশের গ্রাম বাংলার কৃষক,রিক্সাচালক
,দিনমুজুর,জেলে,কামার,কুমার,মুচি,চামার সবাই
একেকটি করে আইকোনিক কাপল হতে পারে কিন্তু
তাহসান-মিথিলা অবশ্যই না...হে প্রজন্ম মিডিয়ার
জুটিদের দেখে প্রভাবিত হয়ো না বরং প্রভাবিত হও
তোমার নানা-নানি,দাদা-দাদিদের দেখে...যারা
৬০বছরের সংসার জীবনে অন্তত ১ডজন বাবা,চাচা
আর ফুফুদের জন্ম দিয়েছেন...তারপরেও তাদের
ভালোবাসা থেমে থাকে নি,বুড়ো বয়সেও সুযোগ
পেলেই দাদির সাদা চুলে বিলি কেটে জানান
দেয়-
আমরাই আইকোনিক,আমরাই রোমান্টিক
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now