বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-অনি. এই অনি. গলা চেঁচিয়ে ডাকতে লাগলাম. .
অনি এলোপাথাড়ি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। তার ডান হাত ছিলো শুখনো ময়দায় মাখা।
-এই ময়দা সুন্দরী হাতে ময়দা ক্যান ? মুখে মাখবে না- কি?
-না তোমার মুখে মাখাবো। ভালো লাগবে দেই মাখিয়ে ?
একটু মুখ ভেঙচিয়ে হাত দুটি আমার দিকে দিয়ে বললো (অনি)
.
তার হাত দুটি ধরে টেনে কাছে নিতে চাইলাম।
-এই কি হচ্ছে এইসব? ..... (অনি)
-যা হচ্ছে সব অধীকারের বলেই হচ্ছে।
-অহ্ আচ্ছা তাই বুঝি! (অনি)
-হ্যাঁ তাই।
-আচ্ছা ডাকছো কেন বলো? (অনি)
-একটু বসনা। কিছু সময় দেখি তোমায়. কিছু সুখের গল্প শুনাই! একটু চোখ মেরেই বললাম।
-নাস্তা তৈরী করতে হবে মিষ্টার আপনার ইয়ার্কিতে পেট ভরবেনা গেলাম আমি।( অনি)
-তাহলে যাও! আর আমিও অফিসে চলে যাচ্ছি. আজ রাতে আর বাসায়ও ফিরবোনা! একটু অভিমানী স্বরে বললাম
.
-আচ্ছা একটা জিনিস বুঝলাম না! আজ হঠাৎ আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা উতলে পরছে কেন? তাও এই সাঁজ সকাল ব্যাপার কি বলো দেখি ? (অনি)
-ভালোবাসতে দিনক্ষণ লাগেনারে পাগলি। ভালোবাসাতে হলে অল্প একটু সময় লাগে। মাঝে মধ্যে ভালোবাসার মানুষগুলার মুখে অল্প হলেও হাসি ফুঁটাতে হয়! তাদের সুখ দুঃখের খবর নিতে হয়। না চাইলেও তাদের কিছু দিতে হয়। তবে একটু ব্যস্ত থাকি বলে হয় তো তোমায় সময় দিতে পারিনা। তবে তুমি আমার স্ত্রী, ,শরীরের অর্ধেক ছাড়া যেমন শরীর অসম্পূর্ণ, তুমি ছাড়া তেমনি আমি।
.
কথা গুলা শেষ হওয়ার আগেই অনি আমায় জরিয়ে ধরে হু হু করে কান্না করতে লাগলো।
-এই কাঁদছো ক্যান? প্লিজ কান্না করোনা আমারও কষ্ট হচ্ছে।
-না কই কাঁদছিনা তো,, বলে তার নাক ভর্তি সর্দি ও সুখে ঝরানো চোখের জ্বল আমার শার্টে মুছে দিয়ে চলে গেলো । অনির পাগলামি দেখে তখন আমার অনেক হাসি পাচ্ছিলো
.
অনিরা কিন্তু জন্ম ত্যাগী।
.
বাস্তবতা হয়তো দিনে দিনে আমাদের ভালোবাসার মানুষ গুলার থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু ভালোবাসার মানুষ আছে যারা সবসময় দিয়ে যায়। আপনার জন্য সবসময় তারা কিছু করে যাবে। বিনিময়ে হয়তো তাকে ভালোবাসার জন্য কিছুটা সময় চাইবে। কিন্তু আমরা কত জন সেই সময়টুকু দেই তাদের ?
.
একটা মেয়ে সেই শিশুকাল থেকে যাদের আপনজন বলে জেনে এসেছিলো, বিয়ের পর সেই মেয়েই তার তার সেই আপনজনদের পর করে দিয়ে আপনার তরে বসতি গড়ে । মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজন সব ছেড়ে দিতে হয় তাদের। প্রথম দিকে তাদের একটু কষ্ট হলেও ধীরেধীরে তা সহে নেয়। ঘরে উঠে পালকী চরে লাল বেনারসি পরে, আর বের হয় সাদা কাপড় পরে লাশের খাটিয়া চরে।
.
আপনার পছন্দের খাবার গুলা যে রান্না করে, কখনও জানতে চেয়েছেন সে কি খেতে পছন্দ করে ? যেই মানুষটা আপনার অগোছালো জীবনকে গুছিয়ে দিচ্ছে, কখন জানতে চেয়েছেন তার অপূর্ণ ইচ্ছেটার কথা ?
.
একজন স্বামী যখন রাতে ঘরে ফিরতে দেরী করে, তখন ঘরে বসে থাকা স্ত্রী - স্বামী যেনো ভালোভাবে ঘরে ফিরতে পারে সেই প্রার্থনা করতে থাকে।
.
রাতের খাবার আপনার সাথে খাবে বলে পেটের ক্ষুধা নিয়ে যেই মানুষটা প্রতি রাতে আপনার অপেক্ষায় বসে থাকে। কোনোএক রাতে সে খাওয়ার টেবিলে আসতে দেরি করলে আপনি ঠিকই খেয়ে নিবেন। অপেক্ষা করতে হবেনা তার জন্য। হয় তো স্বামীদের জন্য অপেক্ষা করাটা স্ত্রীদের জন্য নিয়ম করে দেয়া হয়েছে।
.
আপনার অফিসে যাওয়ার সময়ে ঘুম থেকে ডেকে দেওয়া, আপনার অগোছালো জিনিষ পত্র গুছিয়ে দেওয়া, কাপড় ধুয়ে দেওয়া, পছন্দের রান্না করা সবই তাদের দায়িত্ব । কিন্তু সে স্ত্রীদের তেমন একটা কেয়ার করা হয়না।
.
একজন স্ত্রী যখন আপনার ভালোবাসার ফসল তার পেটে ধরবে, দশ মাস দশ দিন সে ব্যাথাটাও তারা সহে নিবে। তাতে প্রাণ হাড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও তারা তাতে দ্বিমত করে না। স্বামীরা অনেক সময় তাদের সেই ব্যাথাটাও বুঝেনা। আমি নিজেও একজন পুরুষ, তাই হয় তো তাদের সেই ব্যাথার সঠিক সংজ্ঞা দিতে পারলাম না । তবে নারীরা বুঝতে ভুল করবেনা।
.
এতো কিছুর পরেও কি স্বামীরা সুখি নয় ?
একজন স্ত্রী পেতে হলে স্বামীদের কিছুই ত্যাগ করতে হয়না । কিন্তু স্বামীর জন্য স্ত্রীরা সব ত্যাগ করে । তাই তাদের একটু বুঝে নিবেন। তাদের মুখে এক চিলতে হাসি ফুঁটানোর চেষ্টা করবেন. দেখবেন সংসার জীবন আরো সুন্দর হবে।
.
ভালো থাকুক প্রতিটি দাম্পত্য জীবন। সুখী হোক তাদের সংসার জীবন। ভালো থাকুক সেই ভাগ্যবান পুরুষজাতিরা ভালোবাসুক তাদের জন্ম ত্যাগী সেই অর্ধাঙ্গিনীকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now