বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সুপ্ত ভিসুভিয়াসঃ- তানিয়া ভট্টাচার্য্য

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সেদিন দুপুরের একটা কথা হঠাৎ করেই নাড়িয়ে দিয়ে গেল ওকে। এভাবে তো কখনও ভেবে দেখা হয়নি! পাশে বসা বান্ধবীটি তখনও বলে চলেছিল,"অধিকার কেউ কারও হাতে তুলে দেয় না,ওটা কেড়ে নিতে হয়।নাহলে,জীবনের শেষে অঙ্ক-টার উত্তর 'শূন্য'-ই থেকে যায়"। হাল্কাভাবে বলা কথা। কিন্তু সেই কথাটা অনভিপ্রেতভাবেই ঘা দিয়ে গেল জোর করে ভুলে যেতে চাওয়া দীঘিটার জলে! আইস-ক্রীমে কামড় বসিয়ে ও ভাবল,তবে কি এই কারনেই টেকেন ফর গ্র্যান্টেড থেকে গেল ও? কখনও তো বাবা-কে জিজ্ঞাসা করা হয়নি,"কেন পিসির মেয়ের জামা পরে থাকতে হয়েছে ছোটবেলায়? কেন স্কুল-কলেজে ভর্তির চিন্তায় জেগে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ কালো রাতগুলো? কেন রাতের পর রাত ট্রমাটাইজড হয়ে থাকতে হত তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে? কেন কানে বালিশ চাপা দিয়ে অপেক্ষা করত সকাল হওয়ার? কী দোষ ছিল ওর? নাহ্-এসব কিছুই জিজ্ঞাসা করা হয়নি বাবা,থুড়ি, ওই লোকটাকে। এটাই এখন ওর কাছে ওর বাবার পরিচয়। বাবা বলতে যে ঘেন্না হয়। তীব্র,ঝাঁঝালো ঘেন্না-ছোটবেলায় পাওয়া ওই গন্ধটার মতই ঝাঁঝালো। আর মনে পড়ছিল 'তার' কথা। ওকেও তো কত কিছু বলতে চেয়েও বলা হল না!! যদিও এই না বলার পিছনে অনেক যুক্তি দেখাতে পারে ও। কিন্তু কাকে দেখাবে? দুনিয়াকে না নিজেকে? দিনের পর দিন যখন বন্ধ দুপুরগুলো কাটিয়েছে তার সাথে,তখন কি ও বোঝেনি এক বিশালাকার শূন্যতা অপেক্ষা করে আছে ওর জন্য? খুব বুঝেছিল! দেখতেও পেয়েছিল ওই শূন্যতার ক্রূর হাতছানি। তবুও তার চোখের দিকে তাকিয়ে সব ভুলেছিল মেয়েটা। সমাজ, প্রিয় বন্ধু, এমনকি নিজের ছ-বছরের প্রেমিককেও। উজ্জ্বল ছিল শুধু তার উপস্থিতি,তার গায়ের পাগল করা গন্ধ,তার ফিঙ্গার মুভমেন্ট আর....আর.…আর.…খুব দ্রুত কেটে যাওয়া কিছুটা সময়। হয়তো বা ও দ্বিচারিনী,হয়তো বা মায়াবিনী,হয়তো বা সফেস্টিকেটেড প্রষ্টিটিউট বা হয়ত নির্ভেজাল বোকা- অ্যান আটার ফুল! কিন্তু সমস্ত দায়ভার কি সত্যিই ওর একার?! তার চোখে কি কোন প্রতিশ্রুতি ছিলনা? সবই ওর ইলিউস্যন? তবে কিসের জোরে নিজের আদরের মানুষটাকে সেদিন অন্যের আলিঙ্গনে দেখেছিল ও? কীসের ভরসায় রক্তাক্ত মনটাকে লুকিয়ে ওদের ভাঙন আটকেছিল? ওই মানুষটাই তো ওর বুকে মাথা রেখে আর্তি জানিয়েছিল,"ডোনট্ গো!" বলেছিল,"পারবো না থাকতে তোকে ছেড়ে! তোর উপর খুব ডিপেন্ড করি!" বলেছিল,"তুই-ই আমার ফার্ষ্ট প্রায়োরিটি!"। ,সেই প্রায়োরিটি-র খাতা-টা আজ ফাঁকা।যেসব পাতায় লেখা ছিল সেগুলো ছিঁড়ে উড়ে গেছে হাওয়ায়,অজানা দেশে। আর একদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক যেটার ভবিষ্যৎ জানা নেই ওর।পারবে কি ও এই পালটা তুলে ধরে রাখতে? জানে না ও!!কিচ্ছু জানেনা! আজও প্রেমিকের কাছে আদর খেতে খেতে মনে পড়ে 'তার' কথা। মন ভেসে যেতে চায় তার কাছে। সপাটে চাবুক মেরে ফিরিয়ে আনে মনটাকে, সমর্পন করার চেষ্টা করে আপ্রাণ! কিন্তু সবশেষে পিছন ফিরে চোখের জল মুছে নেওয়াটাও ইনএভিটেবল হয়ে গেছে। না! এসব কিছুই বলা হয়নি তাকে।থাক,না বলাই থাক। ভিসুভিয়াস সক্রিয় হলে অগ্ন্যুৎপাতটা কোনদিকে হবে কেউ জানেনা। সে নিজেও না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সুপ্ত ভিসুভিয়াসঃ- তানিয়া ভট্টাচার্য্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now