বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সুন্দর ব্যবহার।

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X অনিক গাজীপুর থেকে বাসে উঠলো উত্তরা যাবার উদ্দেশ্যে। বাস ছেড়ে কিছু দূর এসে একটা স্টপে থামলো কয়েকজন যাত্রী নিবে। সেই সময় দশ- এগারো বছর বয়সের একটা বাচ্চা ছেলে বাসে উঠলো আমড়া বিক্রি করতে, কয়েকটা আমড়া বিক্রি করে বাস থেকে নেমে যাবে সে সময় বাসটা ছেড়ে দিল। ছেলেটা কন্ট্রাক্টারকে একাধিক বার বলার পরও সে ড্রাইভারকে বাস থামাতে বলল না, বরং তার আমড়ার ঝুড়ি থেকে একটা আমড়া নিয়ে নিল এবং বলল, 'আমার বাসে উঠে বিক্রি করেছিস তাই এটা আমার টেক্স!' মুখ ভরে একখানা হাসি দিল যেন সে জাতিকে উজ্জ্বল করার মত একটা কাজ করেছে, আর ওদিকে ছেলেটা বাস থামানোর এবং তার আমড়াটা ফেরত দেওয়ার আকুতি জানিয়ে গেল, কিন্তু কন্ট্রাক্টার কিছুই করলো না। সেটা দেখে ড্রাইভারসহ বাসের সামনে বসা কয়েকজন ভদ্র ঘরের যাত্রী হাসছেন। একদম পিছনের সীটে বসে অনিক দৃশ্য গুলো দেখছে, যদিও কানে হেড ফোন দেওয়া কিন্তু মিউজিক প্লেয়ার অফ করা। কিছু দূর যাওয়ার পর একজন যাত্রী সিগনাল দিলে বাসটা থামলো, আর সে সুযোগে পিচ্চি ছেলেটা নেমে যায়, নামার সময় বাসের কন্ট্রাক্টার তাকে বলে, 'যা, এখান থেকে হেঁটে হেঁটে বাড়ি যা!' তার এই কথা শুনে সেই ভদ্র ঘরের সু-সন্তান গুলো হেসে হেসে উপভোগ করছেন। ছেলেটা নেমে কন্ট্রাক্টারকে খুবই ভদ্র ভাষায় তার মা- বাবা নিয়ে কয়েকখানি সু- বাক্য ছাড়ে। কথা গুলো শুনে কন্ট্রাক্টার সাথে সাথে বাস থেকে নেমে গিয়ে ছেলেটাকে জোরে একটা চড় মারে। সামনের সীটে বসে থাকা ভদ্র লোক গুলো সেটা দেখে বলে উঠেন 'দে, আরেকটা দে! এতখানি ছেলে আর জেদ দেখ?' অনিক আর সহ্য করতে পারলো না, তাড়াহুড়ো করে বাস থেকে নেমে গেল। বাস থেকে নেমে সোজা গিয়ে কন্ট্রাক্টারের শার্টের কলারে ধরে কষে একখানা চড় দিল এবং বাচ্চাটাকে জিজ্ঞেস করল, 'এই তোমার একটা আমড়ার দাম কত?' বাচ্চাটা উত্তর দিল, 'পাঁচ টাকা, স্যার!', সাথে সাথে শার্টের কলারটা গলার কাছে নিয়ে কন্ট্রাক্টারকে বলল, 'ছেলেটার আমড়ার দাম দে!'। কন্ট্রাক্টার তো রেগে আগুন, অনিকের সাথে খারাপ ভাষায় কথা বলতে শুরু করল, সে সময় বাসের পিছনে অনিকের পাশের সীটে বসে থাকা একজন বৃদ্ধ লোক বাস থেকে নেমে গিয়ে কন্ট্রাক্টারের গালে আরেকখানা চড় দিলেন। পিছন থেকে আরো কয়েকজন বলে উঠলেন, 'দেন চাচা মিঞা, আরো কয়েকটা দেন!'। কন্ট্রাক্টারের তখন বেহাল অবস্থা, মতিগতি ভালো না দেখে পকেট থেকে পাঁচ টাকার একটা নোট বের করে অনিকের হাতে দিল। অনিক টাকাটা ছেলেটার হাতে ধরিয়ে দিতেই ছেলেটার মুখ ফুটে একখানা নিষ্পাপ হাসি বেরিয়ে এল, অনিকও ছেলেটার মাথা হাত বুলিয়ে দিল। অনিক ফিরে আসবে, সে সময় তার হাতে একটা আমড়া ধরিয়ে দিয়ে ছেলেটা, 'স্যার এটা আপনার জন্য, দাম দিতে হবে না!' অনিক একটা মুচকি হেসে, 'ওয়াও, থেংক ইউ বাবু! কিন্তু আমি যে টক খাই না, দাতে সমস্যা আছে, এটা তুমি খেয়ে নিও, ঠিক আছে!' এই বলে সে আমড়াটা ছেলেটার হাতে ফেরত দিয়ে ছেলেটার মাথায় আরেকবার হাত বুলিয়ে বাসে উঠাতে গেল... বাসের সিড়িতে দাঁড়িয়ে পিছনে ছেলেটার দিকে ফিরে থাকালো, 'আর শুনো, পরের বার কেউ তোমার সাথে এরকম করলে তাকে গালি দিও না, কেমন?' বাসটা ছেড়ে দিয়েছে... ছেলেটা পিছন থেকে একটা হাত উপরে তুলে একটু জোর আওয়াজে, 'ঠিক আছে স্যার, মনে থাকবে!' অনিকও একটা হাত নাড়িয়ে তাকে বিদায় জানালো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সুন্দর ব্যবহার।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now