বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সুকন্য

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X এমন মায়াবী চেহারার মেয়ে সাত গ্রামেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা.....?? যেমন রুপবতী ঠিক তেমনি তার গুণ। সবসময় সাদাসিদে থাকে মেয়েটা। আজ পর্যন্ত একদিনও ঠোঁটে লিপস্টিক পড়তে দেখিনি ওকে। কিন্তু তারপরও তার ঠোঁটজোড়া অসম্ভব লাল হয়ে থাকে। চোখে মাঝেমধ্যে কাজল দিতে দেখা যায়। মাথা সবসময় ওড়না দিয়ে ঢাকা থাকে যার ফলে ঐ সুন্দর চুলের গোচ্ছগুলি লুকিয়ে থাকে। গ্রামের অতি সাধারন পরিবারের একটি মেয়ে সুকন্যা। বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। বাবার অসুস্থতার কারনে পারিবারিক আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। মামার আর্থিক সহায়তায় সুকন্যার লেখাপড়া চলছে......!! . অন্যদিকে সুজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অভাব অনটনের মধ্যে না থাকলেও খুব সচ্ছলভাবে চলতে পারেনা তার পরিবার। সুজন শিক্ষিত বেকার যুবক। মোটা অংকের ঘুষ আর মামার জোর না থাকায় চাকরির আশা ছেড়ে দিয়েছে। সুকন্যা আর সুজনের মধ্যে প্রেম ভালবাসার সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই। উচ্চ বিলাসীতায় না থাকলেও তাদের ভালবাসার কোন কমতি নেই। একে অপরের সুখ দুঃখে পাশে থেকে একে অপরকে জীবনের থেকেও বেশি ভালবাসে তারা। . সুকন্যা কলেজে যাওয়া-আসার সময় প্রতিদনই সুজনের সাথে দেখা করে ঐ পুকুরপাড়ে। এই পুকুর পাড়টা তাদের গভীর ভালবাসার সাক্ষী। -আইজক্যা আসতে দেরি করলা ক্যান....?? তুমি জানো, কতক্ষণ ধরে এইহানে অপেক্ষা করতাছি....?? (সুকন্যা) -আচ্ছা, মাপ করে দেও....!! একটা কাজ ছিল...তাই আইতে দেরি হইছে। (সুজন) -কই গেছিলা.....?? -এইতো একটু শহরে গেছিলাম...!! -ক্যান...ঐহানে কে.....?? -(পিছন থেকে জামার ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে) তোমার জন্য একটা জামা কিনতে...!! এই নাও......!! -আমার জন্য জামা আনতে কে কইছে তোমারে.....?? -কেও কয়নায়....আমার মন চাইছে আমি আনছি। এহন তুমি এইডা নিবা....!! প্রতিদিন একি জামা পড়ে কলেজে যাও....আমার ভালো লাগেনা....!! -(অন্যদিকে তাকিয়ে) তুমি আমার জন্য আর কত করবা.....?? তোমারও তো একটা পরিবার আছে।। -আরে, তুমি কানতাছ ক্যান.....?? -(হাত দিয়ে চোখের পানিটা মুছল) -তোমার কান্না আমার ভাল্লাগেনা....দয়া করে তুমি কান্না বন্ধ কর.....!! -সুজন, তুমি আমারে সত্যিই ভালবাস....?? -তোমার কি বিশ্বাস হয়না....?? -বিশ্বাস হয় কিন্তু ভয় করে। -তুমি এহন কান্না বন্ধ করবা.....নাকি আমি চলে যাইতাম?? -(আবারও চোখের পানিটা ওড়না দিয়ে মুছে) জানিনা আমাদের ভালবাসা কতদিন থাকবে....!! -তুমি এমন কথা বলতাছ ক্যান.....?? আচ্ছা, তুমি এহন বাড়িতে যাও....!! কলেজ থেকে আইছ তো তাই শরীরটা খারাপ লাগতাছে....!! যাও বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-খাওয়া করে একটু বিশ্রাম করবা। আর শোন, আজ রাতে আইতে পারবনা....একটা কাজ আছে। তুমি ঘুমায়া পইড়......!! তারপর চোখের পানি মুছতে মুছতে সুকন্যা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে। সুজন মনযোগ সহকারে সুকন্যার চলে যাওয়াটা উপভোগ করছে। সুকন্যা যতবারই পিছন ফিরে সুজনের দিকে তাকাচ্ছে ঠিক ততবারই চোখে জল চলে আসছে। কি জানি... এমন কিসের হয়?? সুজনের ইচ্ছে করছে দৌঁড়ে সুকন্যার হাতটা ধরে একসাথে হাটতে। কিন্তু এ গ্রামের লোকজন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদি আর কখনো দেখা না হয় সেই ভয়ে মন না চাইলেও দাড়িয়ে থাকতে হল। . সুকন্যার মামা অনেকদিন ধরেই তার বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। কিভাবে যেন সুজনের সাথে সম্পর্কটা জেনে গেছে তারা। সুকন্যার মা-বাবা মামার কথা উঠে আর বসে.....!! আজ বাবা অসুস্থ বলে মামার কথামত চলতে হচ্ছে সুকন্যাকে।। পাশের গ্রামের জামিল সর্দারের ছেলে জামালের সাথে সুকন্যার বিয়ে দিতে চান তিনি। সুকন্যার সাথে জামালের বিয়েটা দিতে পারলে গঞ্জের দু'টো দোকান পাবে সুকন্যার মামা। সুখে-শান্তিতে সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে সুকন্যার বাবা-মাকে রাজী করিয়েছে তার মামা। আর রাজি না হয়ে যাবে কোথায়....?? পথে বসতে না চাইলে সুকন্যার বাবা-মায়ের এটাই করনীয়। কিন্তু সুকন্যাকেই তারা রাজি করাতে পারছেনা অনেকদিন যাবত। . -কি হইছে...এত জরুরী তলফ। কি জরুরী কথা কইবা কও.....!! (সুজন) -(সুকন্যা পুকুরের অপরিস্কার পানির দিকে টলমলে তাকিয়ে আছে, চোখ দিয়ে যেন অকারনেই পানির ঢল নেমেছে) মামা আমার বিয়া দিবার লাইগ্গ্যা উঠ্যা পইরা লাগছে। এইবার মনে হয় বিয়া দিয়াই দিব। তুমি কিছু কর। তোমার বাবা-মারে আমার মামার কাছে পাঠাও কথা কইয়া দেখুখ কি বলে.....!! (সুজন) -তোমারে না কইছি আমার সাথে থাকলে কানতে পারবা না...?? তোমার কান্না আমার ভাল লাগেনা। আর তোমার মামার সাথে আব্বাজান কথা বলছিল। তোমার মামা আসলেই একটা খাটাস....!! আব্বাজানরে ইচ্ছামত অপমান করছে......!! এই কথাটা শুনার পড় সুকন্যার যেন মায়াকান্না শুরু হয়ে গেল। এই মেয়েটা সবসময় কাঁদে। সুখ যেন বিধাতা ওর কপালে লিখেনি। সুজনের ভালবাসায় কিছুটা সুখ দেখলেও তা যেন ধীরে ধীরে কল্পনায় পরিণত হচ্ছে। -দয়া করে তুমি কিছু একটা কর.....আমি তোমারে ছাড়া বাঁচব না....!! এক মূহুর্তও তোমারে ছাড়া থাকতে পারবনা। (কান্নার আওয়াজটা আরো বেড়ে গেল) --সুকন্যা দয়া করে কান্না বন্ধ কর.....!! আমি দেখতাছি কি করবার পারি...!! দরকার হইলে তোমার বাবা-মায়ের সাথে আমি নিজে কথা বলব।। সুকন্যা হঠাৎ ই চলে গেল। তাকে ফেরানোর ইচ্ছাটা এখন আর নেই। সুকন্যার কান্না দেখে কখন যে সুজনেরই চোখের কোনায় জল এসে গেল টেরও পেল না সে। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পেল সে নিজেও কান্না করছে। পুকুড়ের পাড়েই বসে রইল সুজন। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছে কি করা যায়। . পরেরদিন, সুকন্যার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলল সুজন। কিন্তু কোন লাভ হলনা। সুকন্যার বাবা-মা তার মামার কথার অবাধ্য হতে পারবেন না কখনো....!! নিরুপরায় সুজন দুঃখভরা-ক্লান্ত মন নিয়ে চরে আসলো.....!! . -মা, আমি এই বিয়া করতে পারব না...!! (সুকন্যা) -ক্যান....?? ঐ সুজনরে বিয়া করতে চাস....?? (সুকন্যার মা) -মা, আমি সুজনরে ভালবাসি....!! মামাকে কইয়া দেখনা বিয়াটা বন্ধ করা যায় কিনা.....?? -তুই কি ভূইল্ল্যা গেছস...?? তর বাবা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তর মামাই আমাদের সংসার চালাইতাছে। তোর লেখাপড়ার খরচ দিতাছে। তুই কি এইত্যা ভূইল্ল্যা গেছস.....?? -মা, তবুও এই বিয়া করতাম না আমি......!! -দেখ মা, আমাদের মুখের দিকে তাকায়া তুই এই বিয়াতে রাজি হইয়া যা। অনেক বড় সম্বন্ধ। তোরে রাজ-রানীর মত রাখব। তুই সুজনরে ভূইল্ল্যা যা.....!! তারপর কাঁদতে কাঁদতে সুকন্যা তার ঘরে চলে গেল......!! . রাতে সুকন্যাদের বাড়ির পিছনে.......... অন্ধকার রাত, চারিদিকে ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ, ব্যাঙের ডাক, থেকে থেকে শিয়ালে হাঁক শোনা যাচ্ছে। আকাশের তারাগুলো জলজল করছে। ---আমার বিয়া ঠিক হইয়া গেছে...!! আগামী ২২ তারিখ ঐ জামিল সর্দারের পোলা জামালের সাথেই হবে। (কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলল সুকন্যা) -(সুজনের চোখ আকাশে ওঠলেও স্বাভাবিকভাবেই বলে) তোমার কি মত.....?? ---একদিকে আমার অসুন্থ বাবা আর অহসায় মা আর অন্যদিকে তুমি....!! আমি নিরুপরায় সুজন। তুমি আমারে ভূইল্ল্যা যাও.....!! -(সুজন আজ একবারও বললনা সুকন্যার কান্না থামাতে বরং আজ তার নিজের চোখও টলমল করছে) এটাই কি তোমার শেষ কথা.....?? ---সুজন, আমি অসুস্থ বাবা আর মায়ের সাথে বেইমানি করতে পারব না....!! -তুমি পারবা আমারে ছাড়া থাকতে....?? -পারতে হইব আমাকে....!! -এটাই কি তোমার মনের কথা......?? -(কোন কথা নেই) -এটাই যদি তোমার মনের কথা হয় তাহলে কানতাছ ক্যান.....?? তোমার তো খুশি হওয়ার কথা, বিয়া বইল্লা কথা তোমার......!! -পারলে আমারে মাপ কইরা দিও......!! -তুমি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে এই কথাগুলো বলতে পারবা.....?? -আমি আর থাকতে পারব না সুজন, আমার হাতে সময় কম.....!! আমি যাই.....!! -সুকন্যা শোন........সুকন্যা.....সুকন্যা দাড়াও!! দাড়াও সুকন্যা। চোখের জল মুছতে মুছতে অনিচ্ছাস্বত্বেও সুকন্যা দ্রুত চলে গেল। আবারও নিরুপায় সুজন......!! . আজ ২২ তারিখ.....!! সুকন্যার বিয়ে। সুজন সেই পুকুরপাড়ে একা একা বসে আছে। আর চোখে ভেসে উঠছে সুকন্যার সাথে দিন কাটানো সময়ের কথা। কিভাবে তারা একসাথে বসে গল্প করত। আর আজ তার বিয়ে। ভাবতেই অবাক লাগছে কিছুক্ষণ পরে সুকন্যা অন্য একজনের বিয়ে করা বউ হতে যাচ্ছে.....!! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস.....!! আজ যদি সুজনেরও ধনসম্পদ থাকত, গঞ্জের দু'টো দোকান সুকন্যার মামাকে দিতে পারতো তাহলে কি ঠিকই সুকন্যার সাথে তার বিয়ে হত.......?? . আজ সারাদিন কিছু খায়নি সুজন। বেলা গড়িয়ে রাত এখন আটটা। সুজন বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে আছে.....!! হঠাৎ একটা পিচ্চি ছেলে এসে বলল.... -সুজন মামা...সুজন মামা তোমারে একটা বউ ডাকতাছে ঐ পুকুরপাড়ে.....! ! সুজনের মনে একটা ভাবনা চলে আসে.... এ সুকন্যা নাতো!! দৌঁড়ে পুকুরপাড়ে আসে। দেখে ঠিকই বাসররাতের বউ চলে এসেছে তার কাছে। আস্তে আস্তে সুকন্যার দিকে এগিয়ে যায় সুজন। সুকন্যা সুজনকে দেখেই এক দৌঁড়ে সুজনকে জড়িয়ে ধরে এবং বলে..... -আমি বাসরঘর থেকে পালায়া আইছি সুজন। তুমি আমারে এক্ষুণি নিয়ে যাও.......!! দূরে কোথাও।। ঐ জামাল মিয়া দেখে ফেলার আগেই তুমি আমারে নিয়ে যাও সুজন......!! আমি তোমারে ছাড়া বাঁচতে পারবনা সুজন.....!! তাড়াতাড়ি নিয়া যাও সুজন.......!! (কাঁদতে কাঁদতেই কথাগুলো বলল) সুকন্যার জড়িয়ে ধরা, ফুঁফিয়ে কান্নার আওয়াজ আর বুকের ধকধকানি সুজনকে হতবাক করে তুলে.....!! কোনকিছু না ভেবেই সুকন্যাকে নিয়ে রাতের অন্ধকারেই পালাল সুজন। পাশের গ্রামে একটা স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নেয় তারা। . সকালে.... সুকন্যা জড়ো হয়ে সুজনের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। সুজনের ঘুম ভেঙে যায় পাখির কলকলানিতে। সূর্যের আলো সুকন্যার মলিন মুখে পড়তেই ঢেকে ফেলল সুজন। এই মলিন মায়াবী মুখটার দিকে তাকিয়ে সুজন আবারও প্রেমে পড়ল সুকন্যার। হঠাৎ খেয়াল হল গ্রাম থেকে তারা বেশি দূরে নয়। মামা ও জামালের হাত থেকে বাঁচতে হলে তাদের চলে যেতে হবে অনেক দূরে। বহুদূরে যেখানে তাদের কেউ চিনবে না......!! অনিচ্ছাসত্ত্বে মায়াবী মুখটাকে জাগাতে হবে সুজনের। সুকন্যাকে ডেকে রওনা দিল দূরের পথে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সুকন্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now