বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শ্রাবণীর সাথে আরিয়ানের বিয়ে হয়েছে অল্প কয়েকদিন হলো। বাবা মার পছন্দেই শ্রাবণীকে বিয়ে করেছে সে। এখন আরিয়ান দেখছে তার মা শ্রাবণীর প্রতি তেমন সন্তুষ্ট না। মাঝে মাঝে শ্রাবণীকে অনেক শক্ত শক্ত কথা বলে ফেলে আর শ্রাবণী মুচকি হেসে এই শক্ত কথাগুলো খুব সহজেই হজম করে নেয়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় আরিয়ানের শ্রাবণীর হয়ে কথার উত্তর দিতে কিন্তু পারে না কারণ গর্ভধারিণী মা বলে কথা।
আরিয়ানের চাকরির প্রমোশন হলো। বাসায় মিষ্টি নিয়ে আসলো সবার জন্য। শ্রাবণী মিষ্টি পছন্দ করে না। আইসক্রিম খুব পছন্দ করে। তাই ওর জন্য আলাদা করে আইসক্রিম আনলো সে। মিষ্টির প্যাকেট গুলো ছোট বোনের হাতে দিয়ে আরিয়ান আইসক্রিমের প্যাকেট টা নিয়ে তার রুমে গেলো। পর দিন সকালে সে দেখে মা শ্রাবণীকে বলছে,
~তোমার জামাইয়ের তো প্রমোশন হয়ছে। এখন থেকে তোমরা জামাই বউ মিলে দরজা বন্ধ করে রসগোল্লা সন্দেশ খাবে আমরা তো এইগুলো চোখেও দেখতে পাবো না।
শ্রাবণী কিছু না বলে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে চুপ করে রইলো। ও ভেবেছিলো সে ওর হয়ে কিছু একটা বলবে কিন্তু আরিয়ান কিছু বলতে পারে নি কারণ গর্ভধারিণী মা বলে কথা...
প্রচন্ড মাথা ব্যথার জন্য শ্রাবণী সারারাত ঘুমাতে পারে নি। শেষ রাতের দিকে একটু ঘুমিয়ে ছিলো। কিন্তু সকাল ৭ টার সময় আরিয়ানের মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শ্রাবণীকে ডাকতে লাগলো। শ্রাবণী ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে মাকে বললো,
-কি হয়েছে মা?
মা চিৎকার করে বলতে লাগলো,
~বাপের বাড়ি থেকে কি ৮ -১০ টা কাজের মেয়ে নিয়ে এসেছো যে ওরা কাজ করবে আর তুমি নাক ডেকে বেলা পর্যন্ত ঘুমাবে। একটু পর আমার ছেলে অফিসে যাবে আমার মেয়ে ভার্সিটি যাবে আর তুমি এখন পর্যন্ত রান্না ঘরেই যাও নি।
শ্রাবণী কিছু না বলে মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো। আর আরিয়ান মার সব কথা শুনার পরেও না শোনার অভিনয় করে চুপ করে শুয়ে রইল কারণ গর্ভধারিণী মা বলে কথা। মাকে কিছুই বলা যাবে না...
পারিবারিক একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে আরিয়ান সবাইকে শপিং করার জন্য টাকা দিল শুধু শ্রাবণী বাদে। সবাই শপিং করলো আর সে শ্রাবণীর জন্য নিজে পছন্দ করে একটা শাড়ি কিনে আনল। যখন শ্রাবণীকে শাড়িটা দিবে তখন আরিয়ানের বোন শাড়িটা দেখে পছন্দ করে ফেলে আর শাড়িটা নিয়ে নেয়। শ্রাবণী আরিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো কিন্তু সে কিছুই বলে নি কারণ তার নিজের বোন বলে কথা...
সেদিন দেখে আরিয়ানের বোন শ্রাবণীকে বলছে,
ভাইয়ার যদি আগে প্রমোশনটা হতো তাহলে কখনোই তোমাদের মত নিম্নমানের পরিবারে আমার ভাইয়াকে বিয়ে করাতাম না। কথাটা শুনে শ্রাবণী চুপচাপ চলে গেলো আর সে বোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটু হাসল। নিজের আপন বোন বলে কথা..
খাবার টেবিলে বসে আরিয়ানের বাবা চিৎকার করে বলতে লাগলো,
~এই তরকারী কে রান্না করছে?
শ্রাবণী কিছুটা ভয় ভয় চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
-বাবা, আমি রান্না করেছি।
বাবা তখন বললো,
~ এইসব কি তরকারী রান্না করেছো খাবার মুখে দেওয়া যায় না। তোমার মা কি তোমায় রান্না বান্না কিছুই শিখাই নি?
শ্রাবণী চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো আর আরিয়ান একমনে খাবার খেতে লাগল। জন্মদাতা পিতা বলে কথা....
বাথরুম থেকে এসে শ্রাবণী অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,
-তুমি জামা কাপড় সব ব্যাগের ভিতর রাখছো কেন?
সে সেই কথার উত্তর না দিয়ে শুধু বলল,
-- তুমি তৈরি হয়ে আসো আমি নিচে যাচ্ছি..
আরিয়ান বাবা মাকে সালাম করে বলল,
--তোমরা আমার জন্য দোয়া করো..
তার মা হাসতে হাসতে বললো,
- তোর কি আবার প্রমোশন হয়েছে?
সে মার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
-- না মা প্রমোশন হয় নি তবে তোমাদের ছেলে কিছুটা বুঝতে শিখেছে। আমি ছোট একটা বাসা ভাড়া নিয়েছি আজ থেকে আমি শ্রাবণীকে নিয়ে ঐ ভাড়া বাসাতেই থাকবো।
আরিয়ানের মা রেগে গিয়ে বললো,
- শেষ পর্যন্ত তুইও অন্য ছেলেদের মত বউয়ের গোলাম হয়ে গেলি?
সে মাকে বলল,
-- না মা বউয়ের গোলাম হই নি। শুধু বউকে তার প্রাপ্য সম্মানটা দিচ্ছি। একটা বার চিন্তা করে দেখো তুমি শ্রাবণীর সাথে যা যা করেছো তোমার মেয়ের সাথে যদি সেই একই কাজ গুলো তার শ্বাশুড়ি করে তাহলে তোমার কেমন লাগবে?
সে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
-- আচ্ছা বাবা, আজ আমার ছোট বোন যদি রান্না করতো আর সেই রান্না যদি খারাপ হতো তাহলে কি তুমি আমার ছোট বোনকে এইভাবে বকাঝকা করতে পারতে যেভাবে শ্রাবণীকে বকেছো? বাবা সব রান্না সবদিন সমান হয় না। একটু ভুল হতেই পারে তাই বলে ওকে বকাঝকা না করে একটু ভালো করে বুঝিয়েও তো বলতে পারতে..
ছোট বোনকে বলল,
-- দেখ বোন, তুইও কোন একদিন অন্য বাড়ির
বউ হবি। তখন যদি তোর স্বামীর দেওয়া উপহারটা কেউ কেড়ে নেয় তখন বুঝবি কতটা কষ্ট হয়। তুই এখন ভার্সিটিতে পড়িস তোর বুঝা উচিৎ কাউকে ছোট করে কেউ কখনো বড় হয় না...
ছেলে বিয়ের পর মা বাবা থেকে আলাদা হয়ে পরে শুধু বউয়ের দোষে না মাঝে মাঝে বাবা মারও দোষ থাকে। কিছু বাবা মা কখনো মানতেই চাই না ছেলের বউও মেয়ের মত। তোমরা আমার বাবা মা তোমাদের উপর অবিচার করতে পারি না কিন্তু আমার স্ত্রী তো আমার অর্ধাঙ্গিনী আমার শরীরের অর্ধেক অংশ তার প্রতি কি করে অবিচার করি? একটা মেয়ে তখনি সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়ে যখন দেখে তার প্রতি অবিচার হচ্ছে অথচ তার স্বামী চুপ করে আছে।
যে মেয়েটা সবাইকে ছেড়ে একটা অচেনা অজানা মানুষকে বিশ্বাস করে এসেছে তাকে কি করে অসম্মান করি...
আমি চেষ্টা করবো সন্তান হয়ে তোমাদের প্রতি আমার কর্তব্য পালন করতে সেই সাথে চেষ্টা করবো আমার স্ত্রীকে তার প্রাপ্য সম্মানটা দিতে...
পিছনে ফিরে আরিয়ান দেখে শ্রাবণী দরজায় দাঁড়িয়ে অনবরত কান্না করছে। সে শ্রাবণীর চোখের জলটা মুছে ওর কানে কানে বলল,
-- আরে পাগলি কাঁদে না। মাঝে মাঝে কাছে আসার জন্য হলেও একটু দূরে যেতে হয়। আমি কোথাও বাসা ভাড়া নেই নি। অনেকদিন ধরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হয় না এই সুযোগে শ্বশুরবাড়িও যাওয়া হলো আর বাবা মার শিক্ষাটাও হলো....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now