বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রায় ১০ মিনিট ধরে আমি আর রুপা পার্কের এক্টা ব্রেঞ্চে বসে আছি। রুপা বেঞ্চের এক মাথায় বসে আছে আর আমি অন্যমাথায়। মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা।
.
এই বয়সে মানুষের ভুড়ি বাড়তে শুরু করে, তাও আবার আমার ডায়াবেটিস আছে কিছুটা।তাই প্রতিদিন সকাল ঘুম থেকে উঠে এই পার্কটায় এসে কয়েক রাউন্ড হাঁটাহাঁটি করি।আমার বয়সি এবং কিছু যুবকও অনেকেই এখানে ভোর বেলা দেখতে পাই। তবে আজ নতুন একজনকে চোখে পড়লো। তাকে দেখা মাত্রই আমি একমূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাই। বুকের মাঝে কেমন এক্টা জানি করতে থাকে। সে এখন আমার সামনে দাড়িয়ে।হয়তো সেও আমাকে চিনতে পেরেছে,না হলে এভাবে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতো না।
.
কেই বা জানতো ৩০ বছর পর রুপা আর আমার আবার এখানে এভাবে দেখা হবে। রুপা আমার সামনে দাড়িয়ে, আমি তাকে চোখের ইশারায় পাশের ঐ বেঞ্চটায় বসতে বললাম। ও বসার পর আমি কিছুটা দুরত্ব নিয়ে বসি।কারন এখন আর আগের মতো করে হাতে হাত রেখে পাশাপাশি বসার কোন অধিকার নেই।
.
আমি রুপার দিকে তাকিয়ে আছি, রুপাও আমার দিকে। রুপার চুল অনেকটা পেঁকে গেছে। কিন্তু এতো বছর পরে দেখার পরও রুপাকে আমার কাছে আগের মতো ভার্সিটিতে পড়ুয়া সুন্দর রমণীর মতোই লাগছে।
.
তারপর রুপা মুখ খুললো,
-কেমন আছো রিফাত।
-বেশ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো।
-আমিও ভালো আছি। তুমি বুড়ো হয়ে গেছো।
-তোমার চুলও পেঁকে গেছে। তুমিও তো বুড়ি হয়ে গেছো।
আমার কথা শুনে রুপা হাসতে থাকে। আমি একদৃষ্টিতে রুপার হাসি দেখতে থাকি।
তারপর, আমি বলি,
-তা তুমি এই এলাকায়।
- হ্যা। নিলয় এর বাবা সরকারি চাকরি করে তো তাই, বাসা চেঞ্জ করতে হয়। গত সপ্তাহে এখানে এক্টা বাসাতে আমরা উঠেছি। আর আজ সকালে এক্টু হাটতে বের হলাম।
~রুপার মুখে নিলয় শব্দটা শুনে বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠে। ভার্সিটির কম্পাসে বসে একদিন আমি রুপাকে বলেছিলাম,আমাদের ছেলে হলে তার নাম রাখবো "নিলয়"।
.
আমি তখন রুপাকে বলি,
-তা তোমার স্বামী আর সন্তান কোথায়।
-ওরা বাসাতেই। তা তোমার ছেলে মেয়ে কয়টা।
-এক ছেলে আর এক মেয়ে। আমার ছেলের নামও তোমার ছেলের মতো।
আমার কথা শুনে রুপা চুপ হয়ে যায়।
~কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা।
-সেদিন রাতে ফোন দেয়ার পর, তোমার আর কোন খুঁজ পাইনি। অনেক খুঁজেছি তোমাকে। হৃট করে এভাবে কোথায় চলে গিয়েছিলে।
রুপার কথায় বুঝাযাচ্ছে তার ভিতরে আজও হাজার অভিমান লুকিয়ে আছে কিন্তু এখন সেটা আমার ভিতরে কাজ করেনা। ৩০বছর আগে রুপা যখন আমাকে তার বিয়ের আগের রাতে ফোন দিয়ে বলে "রিফাত প্লিজ আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো"। আমি তখন চুপ করে রুপার কথা শুনেছিলাম।কিছুই করতে পারিনি,কারণ তখন আমার ফ্যামেলি, বেকারত্ব,মধ্যবিত্ত এসব দিয়ে হাতপা বাধা ছিলো। সেদিন রাতেই ঠিক করে নিয়েছি এ শহরে থাকবো না।রুপার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাবো। সেদিন রাতে রুপাকে ছেড়ে,মায়ার শহরটাকে ছেড়ে,যে শহরে পরে আছে রুপার আর আমার ভালোবাসার অনেক স্বৃতি, সেদিন সেখান থেকে চলে এসেছিলাম। কিন্তু পৃথিবীটা গোল এটা হয়তো আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
-শহর ছেড়ে এখানে চলে এসেছি।
রুপা অল্প কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।
-এখনো মিস করো আমাকে।
-এই বুড়ো বয়সে এসব আবেগ অনুভুতি কি আগের মতো কাজ করে।তবুও মাঝে মধ্যে তোমার কথা মনে পড়লে ভালো লাগে।
-আচ্ছা চলো না আমার বাসায় এক কাপ চা খেয়ে যাবে।
-না আজ আর সম্ভব না। অন্যদিন যাবো।
-আচ্ছা। তোমার নাম্বারটা দাও।
-০১৭৯৫..........
-আমি ফোন দিবো কিন্তু।
-ঠিক আছে।
-তাহলে আজ উঠি, নিলয়ের বাবা চিন্তা করবে নয়তো।
-ঠিক আছে, ভালো থেকো।
-তুমিও ভালো থেকো।
.
আমি অল্প কিছু সময় রুপার চলে যাওয়া দেখে বাসার দিকে রওয়ানা দিতে থাকি। এন মধ্যে রুপা একবার পিছন ফিরে আমাকে দেখছিলো। আমি ঐসব তোয়াক্কা না করে হাটতে থাকি। আমি বুঝতে পারছি রুপা এখনো আমাকে চায়। কিন্তু আমি আর মায়া বাড়াতে চাইনা। তাই হাটতে হাটতে ডিসিশন নিলাম এখান থেকেও চলে যাবো, নয়তো রুপার সাথে প্রতিদিন দেখা হবে আর ধীরেধীরে মায়া বাড়তে থাকবে। কিন্তু সেটা আর আমি হতে দিতে পারি না। তাই ফোন থেকে সিমটা খুলে রাস্তায় ফেলে দিয়ে এক্টা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হাটতে থাকলাম আমার নতুন গন্তব্যে.....
.
লিখাঃ তারেক আজিজ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now