বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ছিলাম তোমার বাবার অফিসের পি.এ। আমার সৎ মা আমাকে একটা খারাপ পাড়ায় বিক্রি করে দিচ্ছিল, সেই অবস্থায় আমি খুব বিপদে পড়ে তোমার বাবার কাছে সাহায্য চাই। উনি তোমার দেখাশোনার জন্য গভর্নেস হিসেবে আমাকে নিযুক্ত করেন কিন্তু আমরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করি শুধু সমাজের ভয়ে। এক বাড়িতে থাকবো কোনো পরিচয় ছাড়াই তা হয়না।
রোহিনীর এই প্রথম মনে হলো নিনি নয়, নতুন মা নয়, শুধু মা বলে ডাকা উচিত নিনিকে।
রোহিনী গলাটা জড়িয়ে ধরে মা বলে ডেকে উঠলো নিবেদিতাকে।
নিবেদিতা যেন সর্বস্ব দিয়ে আগলে ধরলো রোহিনীকে।
মায়ের ছোঁয়ায় কোথাও সৎ মায়ের স্পর্শ ছিল না। সেই তেরো বছর আগের এক রাতের কথা মনে পড়ে গেলো রোহিনীর....।
।
জ্বরে রোহিনীর গা পুড়ে যাচ্ছে। চোখ মেলে দেখলো একটা ঠান্ডা হাত ওর কপালে, আর দুটো রক্তিম নির্ঘুম চোখ ওর মুখের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে।
সেদিনও নিনির ছোঁয়াটা ঠিক আজকের মতোই ছিল তারমানে এই তেরো বছরে রোহিনী বদলেছে কিন্তু নিনি বদলায়নি একটুও। তারমানে সত্যিই সৎ মা বলে নির্দিষ্ট কোনো শব্দ হয় না। ভালোবাসা থাকলে মা হয়ে উঠতে দেরি হয়না। আর বন্ধনহীন সম্পর্ক যতই নাড়ি ছেড়া হোক সেটা দূরে যেতেও সময় লাগে না।
Mom and Baby Playing - Valobasa.com
রোহিনীর বাবা রাধাকান্ত সরকার আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন, নিবেদিতার কোলে রোহিনী শুয়ে আছে আর নিবেদিতা ওর চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে। ওকে দেখেও মা মেয়ের কারোর নিজেদের সুখানুভুতি থেকে একটুও সরতে ইচ্ছে করছে না সেটা ওদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রাধাকান্তর সত্যিই মাঝে মাঝে অবাক লাগে নিবেদিতাকে দেখে, সেই যে কথা দিয়েছিলো শুধুই রোহিনীর মা হবার চেষ্টা করবে বাড়ির গৃহিণী নয়, সে কথার মর্যাদা ও রেখেছে।
।
রোহিনী ডেকে উঠলো,বাবা!
আমার একটা অনুরোধ তোমায় রাখতে হবে। আজ থেকে তোমার বেডরুমটা মায়ের হবে, মা আর স্টাডিতে শোবে না।
নিবেদিতা রোহিনীর মুখে হাত চাপা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে। রাধাকান্ত অবাক!!
রোহিনী কোনোদিন ওর সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলেনি, আজ হঠাৎ কি হলো?
রাধাকান্ত বললো, আমি তোমার মাকে বলিনি কোনোদিন আমার ঘরে ঢোকা তার বারণ আছে। সে যেকোনো সময় এই বাড়ির যেকোনো ঘরে যেতেই পারে, তার সে অধিকার আছে।
নিবেদিতা আবার মনে মনে প্রণাম করলো ভগবানের মত মানুষটাকে।মারা যাবার আগে নিশ্চয় স্ত্রীর পরিচয়ে তার বুকে একবার মাথা রাখবেই নিবেদিতা।
।
রোহিনীর পাগলামি মাত্রা ছাড়িয়েছে। নিবেদিতার কোনো কথাই সে শুনছে না আজ, কিছু বারণ করতে গেলেই বলছে তাহলে কিন্তু জলে ভিজে ঠান্ডা লাগবো। রোহিনীর জলে ভিজলেই জ্বর আসে নিবেদিতা তাই ওই ব্যাপারে খুব সাবধানে রেখেছে মেয়েকে।
গতকাল থেকে আর একবারও রোহিনী নিনি বলে ডাকেনি।
কারণে অকারণে মা বলে ডেকে চলেছে। ভালোলাগায় শিউরে উঠেছে নিবেদিতা কিন্তু রোহিনী এখন যেটা শুরু করেছে সেটা তো মানা যায় না!!
Maa R Meyer Bhalobasa
নিবেদিতার সমস্ত শাড়ি, জিনিসপত্র সব এনে বাবার আলমারিতে বাবার জামা কাপড়ের পাশে সাজিয়ে রাখছে।
লজ্জায় মরে যাচ্ছে নিবেদিতা। রাধাকান্ত বাবু মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি মুচকি হাসছেন।
।
রাতে জোর করে নিবেদিতাকে বাবার ঘরে পাঠিয়ে দিলো রোহিনী।
ওর চোখে মুখে যেন বিশ্ব জয়ের হাসি।
নিবেদিতা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকছে। ৪১ বছরের নিবেদিতা যেন নববধূ এতটা সংকোচে সে আর কখনো পড়েনি।
রাধাকান্ত বাবু হাত ধরে নিবেদিতাকে পাশে বসালেন, ধীরে ধীরে বললেন, একটা জীবন চালানোর জন্য স্ত্রীর থেকেও বেশি দরকার হয় একজন বন্ধুর। যে মনের কাছাকাছি থাকবে, যার সাথে সুখ দুঃখের সব কথা প্রাণ খুলে বলা যাবে, কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলোর হয়তো সঠিক নাম নেই কিন্তু সে না হলে সব অকেজো হয়ে যায় নিমেষে, তুমিও ঠিক তেমনই আমার কাছে। নিবেদিতা চলো আমরা বন্ধু হই আজ থেকে।
নিবেদিতা নীরবে নিজের হাতটা রাধাকান্ত বাবুর হাতের উপর আলতো করে দিয়ে নিজের সম্মতি জানালো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now