বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সর্পদৃষ্টি-০৮

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমি সব চিন্তাবাদ দিয়ে নিজের মনের ভেতর ঢুকে গেলাম। কাজ হল এবারে। শরীরের প্রতিটা কোষে ঘরের প্রতিটা বস্তুকণার কম্পন অনুভব করছি আমি। আমি হাত ইশারা করতেই মুগুরটা রুখের হাত থেকে ছুটে গিয়ে তার নিকটবর্তী এক সৈন্যের মাথা ছাতু করে দিল। মৃত সৈন্যের কুড়ালটা হাত ইশারা করতেই উড়ে চলে এল আমার হাতে। তাবুর ভেতর জ্বলতে থাকা প্রতিটা মশাল প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরিত হল। ভেড়ার লোম পোড়ার গন্ধ পেলাম আমি। তাবুতে আগুন ধরে গেছে। সর্দার আরাখ বের করে আমার সামনে দাড়ালেন। রুখ আর বাকি তিনজনের সাথে আমার চারদিকে ঘুরতে শুরু করলেন। তাবুর দেওয়ালে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রথম আঘাতটা এল রুখের কাছ থেকে। আরাখটা আমার গলা লক্ষ্য করে চালাল সে। কুঠার উচিয়ে কোণমতে ঠেকালাম। সর্দারের কোমরে একটা খঞ্জর দেখেছিলাম। সেটার দিকে একবার তাকাতেই সেটা খাপ থেকে ছিটকে এসে গেথে গেল রুখকে সাহায্য করতে আসতে থাকা সৈনিকের মাথায়। সর্দার আর রুখ চমকে উঠলেন। সুযোগটা কাজে লাগালাম। ধাক্কা দিয়ে রুখকে সরিয়ে দিয়ে ঝাপিয়ে পড়লাম সৈনিকের আরাখটার ওপর। তুলে নিলাম ওটা। বাইরে মেয়েপুরুষ চিৎকার করে পরিবেশ গরম করে ফেলেছে। রুখ আরাখ বাগিয়ে তেড়ে এল। একটু নিচু হয়ে একবার আরাখের বাকানো ফলাটা ওর পেটে বরশির মত গেথে টান দিলাম। মুহুর্তে দু টুকরো হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। দ্বিখন্ডিত শরীরের অঙ্গগুলো তখনো দাপাচ্ছে। হঠাৎ টের পেলাম। আমার মন এখন শান্ত হয়ে গেছে। হাত আবার বাতাসে দোলালাম। তাবুর দড়িগুলো আপনাতেই খুলে এসে আমার ওপর আক্রোমনোদ্যত সর্দারের পা বেধে ফেলে উলটো ঝুলিয়ে দিল তাকে। অন্য দুই সৈন্যেরও একই অবস্থা হল। তিনজনের ওজন অনেক বেশী। প্রচন্ড চাপ পড়ছে মাথায়। আরাখ দিয়ে একে একে তিনজনেরই মাথা ধড় থেকে আলাদা করে ফেললাম। তাবুর প্রবেশদ্বারে জ্বলতে থাকা আগুনের ওপর দিয়ে হেটে বের হয়ে এলাম। এক হাতে ইয়াতুজের কাটা মাথা। আরেক হাতে রক্তে ভেজা আরাখ। সামনে যাযাবরদের প্রায় দশহাজার বর্বর সৈন্য। সবার হাতেই খাপখোলা আরাখ, যুদ্ধকুঠার বা তীর ধনুক। প্রতিটা অস্ত্রের লক্ষ্য আমি। ভিড়ের মাঝে গৌরীকে হাটুগেড়ে বসে থাকতে দেখলাম। ওর ঘাড়ে কুঠার ছুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে যাযাবর সেনাপতি। প্রচন্ড ক্রোধ টের পেলাম ভেতরে। এত সাহস কই পেল ওরা? এই বরফের ওপর ওদের সবার লাশ নেকড়ের খাবার হবে। বরফের প্রতিটা অণুর কম্পন টের পাচ্ছি আমি। মনের ওপর আরেকটু চাপ বাড়ালাম। বরফের কণাগুলো দ্রুত আলাদা হয়ে যেতে লাগলো। হঠাৎই যেন ওদের পায়ের তলার বরফ জ্যান্ত হয়ে উঠল। আমার আর গৌরীর পায়ের নিচের বরফ ছাড়া পুরো এলাকার বরফ গলে যেতে শুরু করল। প্রায় হাটু পানিতে ডুবে গেল ওরা। পেছানোর চেষ্টা করছে। কোন লাভ হল না। কতদুর পেছাবে? প্রায় গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে যাবার পরও আমি থামলাম না। ওদের পা জমে গেছে নিচে। নিচের পানি আবার জমাট বাধছে। প্রায় বিশ হাজার নারী ও শিশু সহ দশহাজার সৈন্য ডুবে গেল খুব অল্প সময়ের ব্যাবধানে। ওরা সাতার জানেনা। এদিকে পানি আবার ঠান্ডা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার জমাট বেধে বরফে পরিণত হল সব পানি। পুরো যাযাবর গোত্রটা এমনভাবে গায়েব হয়ে গেল যেন সেগুলো কোনদিন ছিলও না। রয়ে গেল কেবল ওদের ঘোড়াগুলো। গৌরীকে দুহাতে কোলে তুলে নিলাম। এবং বুঝলাম কি ভূলটা করেছি। পায়ের নিচে স্বচ্ছ বরফের ওপাশে বেশ কিছু হাত তখনো থাবা দিচ্ছে। একটা হাত দেখে বুঝলাম যে এটা একটা শিশু। সাত আট হবে বয়স। আমি হাত রাখলাম বরফের ওপর। খুব ইচ্ছে করল ওদের প্রাণভিক্ষা দেই। ইচ্ছেটাকে গলা টিপে মারলাম। ঘোড়াগুলো দূরে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটাই দেখল। আমি ঘোড়াগুলোর দিকে এগিয়ে গেলাম। যাযাবরদের ঘোড়া প্রচন্ড শক্তিশালী হয়। এগুলো লোকালয়ে নিয়ে ভাল দামে বিক্রি করা যাবে। প্রায় পাচ হাজার ঘোড়ার বিশাল বহর। দূরে একপাল নেকড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো সম্ভবত ঘোড়াগুলোকে খাওয়ার তাক করছে। আমি আছি বলে সাহস পাচ্ছে না। আমি ধমকের গলায় বললাম, এই এগুলোকে পাহারা দিয়ে আমার পেছনে আয়। মংজনকে নেকড়ের হাত থেকে যেদিন বাচাতে গিয়েছিলাম সেদিনই টের পেয়েছিলাম। নেকড়েরা আমার কথা শোনে, বুঝতে পারে এবং মেনে চলে। প্রায় দশবারোটা নেকড়ে ঘোড়াগুলোকে ঘিরে ধরল। আমি গৌরীকে নিয়ে একটা ঘোড়ায় উঠে বসলাম। পেছনে দশ বারোটা নেকড়ে হাজার হাজার ঘোড়ার পালকে পাহারা দিয়ে আমাদের পিছুপিছু আসতে শুরু করলো। গৌরী বাচ্চাদের মত গুটিসুটি হয়ে আছে আমার কোলের কাছে। সে আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে চিন্তিত গলায় বলল, তুই বদলে যাচ্ছিস। তোকে যত দ্রুত সম্ভব এজরাকে নিয়ে যেতে হবে। আমি কিছু না বলে হাসলাম। তারপর একটু ঝুকে পড়ে চুমু খেলাম ওর কপালে। ৭ গুলশানের অভিজাত এলাকায় লিলিথস ডেন নামের এই রুফটপ ক্লাব। আসলে এটা লিলিথের উপাসনালয়। লিলিন নামের এক তরুণী চালায় ক্লাবটা। আমি রহমান সাহেবকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলাম। ভেতরে এক চ্যাংড়া ছোকড়া ডিজেগিরি করছে। মাঝে ডান্স ফ্লোরে বেশ কিছু তরুণ তরুণীকে নাচানাচি করতে দেখলাম। আমাকে ভেতরে ঢুকতে না দিতে চাওয়ায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে মেরে ভর্তা করে দিয়ে এসেছি। লিলিনের এতক্ষণে এটা জেনে যাবার কথা। কিন্তু কোন প্রতিরোধ এখনো আসছে না বলে একটু অবাকই লাগলো। রহমান সাহেব আমার পাশেই দাঁড়ানো। বেচারা পৌঢ় মানুষ তাকে দোষও দিতে পারছি না। তার বাহু ধরে টেনে বারের সামনে গেলাম। বললাম, আমার জন্য বিয়ার। আর আমার বন্ধুর জন্য কোল্ড ড্রিংকস। বারটেন্ডার বিয়ার আনতে যেতেই রহমান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললাম, যাই দিক আপনাকে আপনি খাবেন না। এটা জাস্ট শো অফ। রহমান সাহেব বোকার মত মাথা নাড়লেন। বিয়ারের মগে চুমুক দিতেই কাধে দশাসই একটা হাত পড়ল। আমি পেছনে তাকিয়ে চিনতে পারলাম। ফারিব। একটা জীবন্মৃত। লিলিথস ডেনের বাউন্সার। চোখ সানগ্লাসে ঢাকা আর আলো আধারিতে গায়ের রক্তহীন ফ্যাকাশে চামড়া দেখার উপায় নেই। আমি আমার কাধে রাখা হাতটার কড়ে আঙুলটা মুহুর্তে মুচড়ে ভেঙে ফেললাম। হাত বাড়াতেই বার থেকে একটা ভদকার বোতল ছুটে হাতে চলে এল। ধা করে বসিয়ে দিলাম লোকটার মাথায়। গায়ের দামী কোট ভদকা পড়ে ভিজে গেল। বারটেন্ডার আতংকিত চোখে তাকিয়ে আছে। সে আমার চোখ চেনে। জানে আমি কে! জীবনমৃতদের মারার একমাত্র অস্ত্র আগুন। ফারিবের কোটের ল্যাপেল ধরে মাথাটা সর্বশক্তিতে ঠুকে দিলাম কাউন্টারের ওপর। ডান হাতে মাথাটা কাউন্টারে চেপে ধরে বা হাতে একবার তুড়ি দিতেই দপ করে আগুন জ্বলে উঠল আমার বা হাতের তালুতে। আগুন দেখে চমকে উঠল ফারিব। ছোটার চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। আমি আগুন জ্বলতে থাকা বা হাতটা ওর মুখের কাছে এনে বললাম, বাছাধন কাবাব হতে না চাইলে বল তো লিলিন কোথায়? ফারিব আমাকে ওপর তলায় নিয়ে একটা দরজা দেখিয়ে দিল। আমি ওকে কাধের ওপর তুলে দরজা বরাবর ছুড়ে মারলাম। কার্ডবোর্ডের দরজা ভেঙে ভেতরে ছিটকে পড়লো সে। ভেতরে ঢুকে বুঝলাম এটা বাথরুম। লিলিনকেও দেখলাম। রহমান সাহেব হতভম্ব গলায় বললেন, এদের মধ্যে লিলিন কে? ভেতরে ছয়টা মেয়ে। ছয়জনই হুবহু একরকম দেখতে। পাচজন বাইরে। এখানে এতক্ষণ অর্জি চলছিল। সাথে চারটা ছেলেকেও দেখা যাচ্ছে। সবাই জন্মদিনের পোশাকে। আমি রহমান সাহেবকে বললাম, সাবধান খেলা এখন শুরু হবে। একটা ছেলে হাইকমোডের ওপর বসা ওর কোলে একজন। ফ্লোরে পাচজন। দুজন ছেলে আর তিনজন মেয়ে। শাওয়ারের নিচে দুজন। একটা মেয়ে একলা বাথটাবে বসা। হঠাৎ পানি থেকে ভুস করে মাথা তুলল আরেকটা ছেলে। ছয়টা মেয়েই একসাথে বলে উঠল। আমিই লিলিন। এটা ওর পুরনো একটা খেলা। আসল লিলিনকে চিনলে পুরষ্কার। নইলে কিছুই পাওয়া যাবে না। এই ক্লাবহাউজ সহ সবই অদৃশ্য হয়ে যাবে মুহুর্তে আমি খুব সাবধানে হেটে বাথটাবের পাশে বসলাম। বাথটাবের ছেলেটা হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে। আমি ঝুকে বাথটাবের মেয়েটার ঠোটে চুমু খেয়ে বললাম, ইয়োর ফেভারিট পজিশন। এত তাড়াতাড়ি তোমাকে ভুলি কি করে প্রিয়তমা? অন্যদের দিকে তাকিয়ে বললাম, ইউ প্লিজ কন্টিনিউ। ওরা আবার যা করছিল তা নতুন উদ্যমে শুরু করলো। শীৎকারের শব্দে ভরে গেল ঘরটা। জঘন্য অবস্থা। আমি সরাসরি কাজের কথায় গেলাম, বেইবি বলতো ইয়াসমিন কোথায়? লিলিন বলল, এজন্য এত ঝামেলা না করলেও পারতে। ফারিব আর মায়াককে না পেটালেও হত। ও এই ক্লাবেই আছে। তিন নম্বর রুমে। আর মিথ্যে বলবা না। এমনিতেও আমাকে মনে করো না অমনিতেও না। ওরা ঠিকই বলতো। -কি বলতো? -কিছু না। যাও। লিলিন ছেলেটাকে টেনে আবার পানির নিচে নিয়ে নিজের উরুসন্ধিতে ছেলেটার মুখ চেপে ধরলো। রহমান সাহেবকে নিয়ে আমি বের হয়ে গেলাম। বামদিকে সারিবদ্ধ অনেকগুলো ঘর। তিন নম্বর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে রহমান সাহেবকে বললাম, আপনি কিছু মনে করবেন না আমি ওর সাথে একটু একা কথা বলতে চাই। রহমান সাহেব মাথা নেড়ে ব্যালকনীর দিকে চলে গেলেন। আমি দরজার নবে মোচর দিতেই সেটা খুলে গেল। ভেতরে ইজি চেয়ারে বসে আছে ইয়াসমিন। দু হাজার বছরে শরীরের গঠন বা চেহারায় একটুও পরিবর্তন আসেনি। একটা ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে জিকিউ ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাচ্ছে। গলায় একটা স্ফটিকের তৈরি কাকের খুলির লকেট। আর মাথায় চুল শুকানোর জন্য উচু করে টাওয়েল বাধা। এছাড়া গায়ে কোন কাপড় নেই। আমার দিকে মুখ ঘোরাল সে। ঠোটে সবসময়ের মতই বিদ্রুপ মাখা হাসি। ওর গালের টোল ও ঠোটের ওপরের তিলটা দেখে আজও একই রকম মুগ্ধ হলাম। মুগ্ধতা বেশীক্ষণ থাকল না। হঠাৎ যেন বাতাস ভেদ করে ছুটে এল কালো চিতার মত দেখতে তিন পেয়ে একটা জানোয়ার। আমাকে ঠেলে নিয়ে দুপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে এক পায়ে ঠেসে ধরল দেওয়ালের সাথে। মাথা প্রচন্ড জোরে ঠুকে গেল আমার। প্রাণীটার চোখ নাক, কান কিছুই নেই। পুরো লেপাপোচা মুখমন্ডল। বিশাল একটা মুখগহবর সেই মুখের ভেতর সাপের মত একটা জিভ আর হাঙরের মত সারিসারি দাত। মাঝারি কম্পাংকের একটা হুংকার ছাড়ল পশুটা আমার দিকে তাকিয়ে। বিকট দুর্গন্ধে বমি চলে এল আমার। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সর্পদৃষ্টি-০৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now