বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাতের লিখা তো হাতের লিখা না, যেনো পরিষ্কার সাদা পাতায় তেলাপোকার দৌড়াদৌড়ি। হোয়াইট এসের বাংলা হাতের লিখা যে কতোটা ভালো তা আমরা দুজনেই বুঝতে পারলাম এই একটা লাইন দেখেই। নাবা বললো,
-- ও ইংরেজি সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করছে, তাই ইংরেজি হাতের লিখা সুন্দর, আর বাংলা লেখা খারাপ, পরতেই পারি না। এইজন্যই বাংলা লিখে না শয়তান টা।
যাইহোক নাবা পড়তে শুরু করলো,
"প্রিয়তমা চা খুব ভালো বানায়।"
নাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-- এই গাধা তো তরে ভালো করে দেখেই নাই। চা আর চায়ের কাপ ছাড়া ও কোনোদিন অন্য কিছুই দেখে নাই, এই যে এটা তার প্রমাণ। ওরে চা আর চায়ের কাপের সাথে বিয়ে দেওয়া দরকার।ওর হাতের লিখা মিলানোর দরকার নাই, ঐ চিঠি ও লিখে নাই।
নাবা সৃজন ভাইয়ার কাগজটা একপাশে রেখে মিঃ লম্বুর কাগজ খুললো,
কাগজে গোটা গোটা ইংরেজি অক্ষরে বাংলিশ লিখা,
নাবা একবার কাগজটা বিড়বিড় করে পড়ে আমার হাতে দিয়ে দিলো। আমি কাগজটা খুলে জোরে জোরে পড়লাম,
" নাবা!
ডাল ভাজা চাবা"
এরপর কিছুক্ষণ নিরবতা চললো রুমের মধ্যে। তারপর আমি আর হাসি আটকে রাখতে পারলাম না, এর বেশি হাসি চেঁপে রাখলে মরে যাবো তো। আমি যতোই হাসি, নাবা ততই রেগে যায়।
বহু কষ্টে হাসি থামানোর পর দুজনে মিলে আবার রহস্য সমাধান করতে লেগে পরলাম। হোয়াইট এস আর গনেশ চিরকুট লিখে নি। তাহলে একমাত্র বাকি থাকে মিঃ লম্বু। সে বাংলিশ লিখেছে, তার বাংলা লিখাও আমরা দেখি নি। তাই পুরো রহস্যটা মিঃ লম্বুর উপর।
হঠাৎ করেই নাবা বলে উঠলো,
-- ঐ, প্রিয়ম ভাইয়া হইলে কোনো কথায় নাই। তুই চোখ বন্ধ করে তার প্রিয়তমা হতে পারিস।
নাবার কথাটা শুনার পর আমার হাসিটা হারিয়ে গেলো।আমি ধীর গলায় বললাম,
-- নাহ্,এসবের দরকার নাই। এসব চিঠির রহস্য সমাধান বাদ দে। কয়দিন পর তোর পরীক্ষা না, পড়তে বস। আমিও পড়তে বসি।
আমি বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম, নাবা আমার পাশে শুয়ে বললো,
-- মানে কি! সব সমাধান করা শেষ তো। তাহলে এখন কি!
-- এখন কি মানে! আমরা শুধু জানতে চাইছিলাম যে চিঠিটা কে লিখসে, এখন আর জানার দরকার নাই। যতটুকু জানার দরকার তা তো জেনেই গেছি।
নাবা আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টি ছুড়ে বললো,
-- তোর যা ইচ্ছা কর।
কথাটা বলেই রুম থেকে চলে গেলো। আমি নাবার চলে যাওয়াটা দেখলাম কিছুক্ষণ তারপর বইয়ের দিকে নজর দিলাম।
এরপর থেকে সব স্বাভাবিক, আগের মতোই হোয়াইট এসের জন্য চা কফি বানানো, মিঃ লম্বুর কাছে ঘন্টা খানেক পড়া।মিঃ লম্বু অযথা আমাকে ক্ষেপাতে চাইলেও ক্ষেপে যেতাম না।
একদিন দুপুরে খেতে বসেছি, আমি, নাবা, হোয়াইট এস, লম্বুও বসেছে। লম্বুর মা নাকি কোথায় চলে গেছে আসতে বিকেল হবে, তাই দুপুরের খাবার এখানে খাবে। এটা আমার জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর একটা মুহূর্ত। আমার সামনের চেয়ারে সৃজন ভাইয়া, তার পাশের চেয়ারে নাবা, আর আমার পাশের চেয়ারে মিঃ লম্বু। আমার পাশে মিঃ লম্বু বসেছে বিষয়টা আমি কিছুতেই নিতে পারছি না। কোনোমতে তাড়াতাড়ি খেয়েদেয়ে উঠে পড়তে চাইছিলাম, তাই মাথা নিচু করে একের একের পর এক লোকমা মুখে দিয়েই যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো কেউ আমার পায়ের উপর পা রেখেছে, খাওয়া আপনা আপনিই থেমে গেলো, মাথা তুলে সামনের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম এটা নাবার পা। নাবার দিকে ইশারা কর বললাম কি হয়েছে। ও আমাকে ইশারা করে বুঝালো আমার পাশে মিঃ লম্বু বসেছে, ওর দিকে তাকাতে। আমার রাগ উঠে গেলো, নাবা পা সরিয়ে দিয়ে আবার খাওয়াতে মনোযোগ দিলাম। কিছুক্ষন পর আবার আমার পায়ের সাথে পা লাগলো, নাবা পা রেখেছে ভেবেই ওর পায়ে জোরে একটা লাথি দিয়ে বসলাম। কিন্তু ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো হোয়াইট এস।
আমি একবার সৃজন ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আরেক নাবার দিকে তাকালাম, নাবা মাথা নাড়িয়ে না করলো ওটা ওর পা ছিলো না।
আমি সৃজন ভাইয়ার দিকে তাকাতেই বললো,
-- কি এটা প্রিয়তমা! টেবিলের নিচে ফুটবল প্র্যাকটিস করছিলে নাকি!
ফুপি নাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
-- শুধু প্রিয়তমা একলা না, আমাদের নাবাও আছে ওর সাথে। ঐদিন দুজনে মিলে আমার পায়েও লাথি দিয়েছে।
সৃজন ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-- তাই নাকি! তাহলে দুজনকে ফুটবল একাডেমি তে ভর্তি করে দিলেই হয়।
আমি কোনোমতে খাওয়া শেষ করে হাত ধুতে গেলাম। মারাত্মক লজ্জায় পড়ে গেছি। সৃজন ভাইয়া এসে বললো,
-- আমি আগে চলে যাই!
আমি সরে গিয়ে সৃজন ভাইয়াকে জায়গা করে দিলাম। সৃজন ভাইয়া হাত ধুয়ে টাওয়াল না পেয়ে আমার ওড়নাতেই হাত মুছে চলে গেলো। আমি নাবা দিকে তাকিয়েছিলাম আমার ওড়নায় হাত মুছাতে ভড়কে গেছি বটে। ঠিক তখনি মনে হলো, সৃজন ভাইয়া কোনো কিছু না ভেবেই কাজ করে বসে। তাই আমি হাত ধুয়ে চলে আসছিলাম, ঠিক ঐ সময় মিঃ লম্বু এসে বললো,
-- এই জামাটা তুমি পরো না, মিস বুচি ।
আমি ঐ জায়গায় দাড়িয়ে পরলাম, প্রিয়মের দিকে তাকাতেই বললো,
-- দুটো তিল!! আমি দেখলে সমস্যা নেই, কিন্তু!!
আমি ওড়না টেনে ঠিক করে বললাম,
-- মানে!
-- অন্য কেউ দেখে যদি আবার চিরকুঠ পাঠায়! তারপর কি করবে!
-- আপনার মতো কেউ অসভ্য না।
আমি কথাটা বলে রুমে এসে কিছুক্ষণ পায়চারি করলাম, হঠাৎ করেই মনে পড়লো এই জামাটাই আমি প্রিয়ম যেদিন প্রথম এসেছিলো ঐদিন পড়েছিলাম, মানে ঐ চিঠিটা প্রিয়মেই লিখেছিলো। হয়তো কোনোভাবে দেখে ফেলেছিলো।
নাবা খেয়ে উঠেই পড়তে বসেছে, ওকে এখন ডিস্টার্ব করা ঠিক না তাই ছাদে চলে গেলাম,
আসার সময় দেখলাম সৃজন ভাইয়া আর লম্বু কি নিয়ে যেনো আলোচনা করছে। ছাদে অনেক বাতাস, আমার হালকা লাল চুলগুলো বাতাসে উড়ছে, রুমে থাকলে বুঝা যায় না যে আমার মাথার চুল লালচে। তবে রৌদ্রে বেরুলেই হালকা রংটা আসে। প্রায় লোকেই ভাবে আমি চুলে কালার করেছি, কিন্তু আমার চুল প্রাকৃতিক ভাবেই এমন, বলতে অনেকটা জন্মগত। আমার আম্মুর চুলও এমন। ছাদের রেলিং ঠেস দিয়ে পাশের বাসার উঠোনে একটা বাচ্চা মেয়ের খেলা দেখছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম, সৃজন ভাইয়া ছাদে এসেছে। আমাকে দেখে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে রইলো। আমার পাশে কেউ থাকলে আমাকে কথা বলতেই হবে।আমি একা একা থাকলেও বকবক করি৷ তো হঠাৎ করেই সৃজন ভাইয়াকে বললাম,
-- একটা কথা জিজ্ঞেস করবো ভাইয়া!
-- বলো!
-- শাবনূরকে তোমার কেমন লাগে?
সৃজন ভাইয়া কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বললো,
-- কি!! মাথা খারাপ নাকি! শাবনূর আসলো কোত্থেকে?
আমিও বোকা বনে গেলাম, সত্যিই আমি কেনো যে সৃজন ভাইয়া এমন প্রশ্ন করলাম আমি নিজেও জানি না। সৃজন ভাইয়া নিজেও বোকা বনে গিয়েছে। আমি সৃজন ভাইয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই হাসতে লাগলাম, আমার হাসি দেখে সৃজন ভাইয়া বললো,
-- এই প্রিয়তমা, হাসো কেন?
আমি একটু গম্ভীর হয়ে বললাম,
-- তোমার চেহারা একজন বাংলা নায়কের বর্তমান চেহারার সাথে মিলে যায়। জানো সে কে!
ওমর সানি!
কথাটা বলে আমি আবার হাসতে লাগলাম। সৃজন ভাইয়া কপাল ভাজ করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, কিন্তু তার আগেই প্রিয়ম ছাঁদে এসে আমাদেরকে একটু দেখে তারপর বললো,
-- যা তোর সমস্যা সমাধান হয়েছে।
সৃজন ভাইয়া প্রিয়মের কাছে গিয়ে বললো,
-- এই মেয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে, আমাকে নাকি ওমর সানির মতো লাগে, আরে ওতো ভিলেনের অভিনয় করে।
সৃজন ভাইয়া চলে গেলো, আমি আরো কিছুক্ষণ হেসে আবার গম্ভীর হয়ে গেলাম। একটু পর প্রিয়ম কাছে এসে আগেই মতোই আমার নাক ধরে বললো,
-- ওর সাথে কি করছিলে, বুচি?
-- প্রেম করছিলাম।
কথাটা বলেই যাচ্ছিলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now