বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" তোমার বা কাঁধের উপর দুইটা তিল আছে, একটা বড়, আরেকটা ছোট।"
আমার গলা শুকিয়ে গেলো, একজন অচেনা লোক কি করে জানলো আমার কাঁধে তিল আছে, । সত্যিই আমার বা কাঁধের উপর দুইটা তিল আছে। এই একটা লাইন পরার পর আমি রুমে একশ ছাপ্পান্ন বার পায়চারি করলাম, আয়না দিয়ে বারবার তিল গুলো দেখার চেষ্টা করলাম, একটা বড় একটা ছোট বটে, আমি এর আগেও অনেকবার দেখেছিলাম। আরো বার দশেক পায়চারি করার পরও মাথায় কিছু আসলো না। শুধু ভাবছি আমি নিজের অজান্তেই কোনো ভুল করি নি তো। নাহ্ হতেই পারে না। লোকটা কে তা জানার জন্য আমাকে পুরো চিঠিটা পড়তে হবে।
হাতের মুঠোতে রাখা চিঠিটা আবার খুলে পড়তে লাগলাম,
" তোমার বা কাঁধের উপর দুটো তিল আছে, একটা বড় একটা ছোট। ঐ তিল দুটো দেখতে আমার ভালো। তবে তোমার চিবুকের নিচে থাকা তিলটা আমার আরো বেশি ভালো লাগে।
তুমি প্রিয়তমা,
জানো তুমি!
আমি প্রিয় তুমি তমা
তাইতো তোমায় প্রিয়তমা বলেই ডাকি..
ইতি,
প্রিয়তমার প্রিয়তম"
পুরো চিঠি পড়ে আমি যতটুকু বুঝতে পারলাম, লোকটা আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু সে কিভাবে জানলো আমার কাঁধে তিল আছে, এটাই ভাবাচ্ছে আমাকে, আমার কাঁধের তিলগুলো তো এমন আছে যেখানে কেউ দেখতে পাবে না।তাহলে ঐ লোকটা জানলো কিভাবে?
নাবা বিছানায় বসে বসে আমাকে দেখছিলো, সে বললো,
-- কি লিখা আছে চিঠিতে, যে তুমি এতো চিন্তা করছো।
আমি নাবার হাতে চিরকুঠটা ধরিয়ে দিলাম, ও পড়া শেষ করে বললো,
-- দেখো, আমি কিন্তু জানতাম তোমার কাঁধে তিল আছে, কিন্তু আমি চিঠি লিখি নি, তাই আমাকে সন্দেহর তালিকায় রেখো না।
আমি কিছু না বলে ওর পাশে বসে বললাম,
-- আরে তুই না। কে লিখলো এটা! আমার তাকে খুঁজে বের করতে হবে। ভাবতো কে হতে পারে!
নাবা কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
-- গনেশ! ও তো তোমাকে পছন্দ করতো, জানালা দিয়ে কথা বলতো তোমার সাথে, কোচিং থেকে নিয়ে আসতো।
-- হতে পারে, কিন্তু ও কি ভাবে জানবে আমার কাঁধে তিল আছে!
-- ওহ, তাও তো কথা।
নাবা খামটা হাতে নিয়ে বললো,
--"প্রিয়তমার প্রিয়তম চিঠিটা তার প্রিয়তমাকে পাঠিয়েছে।" আচ্ছা প্রিয়তমা নামে তো তোমাকে ভাইয়া ডাকে! ভাইয়া লিখে নি তো তোমাকে!
আমি কিছুক্ষণ নাবার দিকে হা করে তাকিয়ে তাকার পর আবার ধপ করে বসে বললাম,
-- হ্যা, তা ডাকে কিন্তু white ass এটা লিখতেই পারে না। সেটা কি করে জানবে যে আমার কাঁধে..
আমার পুরো কথাটা শেষ করতে না দিয়ে নাবা বললো,
-- আরে সে জানতেই পারে, তোমার ঐ জামাটার গলা তো ইয়া বড়ো, হাত দিয়ে পড়ে যায়। ঐ জামাটা তো তুমি একদিন পড়েছিলে, ঐদিন তো আমার চোখে পড়েছিলো তিলগুলো, ঐদিন বাসায় সৃজন ভাইয়া ছিলো তো, ওর চোখেও পড়তে পারে!
--- না জেনে কাউকে, দোষ দেওয়া ঠিক না। আর কোনো প্রমাণ আছে তোর কাছে!
-- আরে নেই তো জোগাড় করে নিবো। সৃজন ভাইয়ার বাংলা হাতের লেখা মিলালেই তো হলো! ও বাসা থেকে চলে গেলে তুমি আমি দুজনে মিলে ওর রুম সার্চ করবো কেমন?
সারারাত আমি আর নাবা শুয়ে শুয়ে প্ল্যান করলাম, আমাদের সন্দেহের তালিকায় গনেশ, আর সৃজন মুখ্য ছিলো। যাই হোক আমি সকাল সকাল জানালা থেকে জুতা আর ঝাড়ু খুলে ফেললাম, তারপর গনেশ কখন জানালা খুলবে সেই আশায় বসে রইলাম, প্রায় আধা ঘন্টা পর গনেশ জানালা খুললো, আমাদের জানালার দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো ঝাড়ু আর জুতা নেই। কৌতুহল বসত আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-- কি খবর!
নাবা পাশেই বিছানায় বসে দেয়ালে পিঠ ঠেস দিয়ে পড়ছিলো, ও আমার কানে বিড়বিড় করে বললো,
-- কিসের খবর জিগায় রে বেটা! মনে হয় ঐ চিঠি টা লিখছে, চিঠি পড়ার পর তোর কি খবর তাই জানতে চাচ্ছে। উত্তর দে ভালো, যদি ও একটু চিন্তায় পড়ে তাহলে ঐ লিখসে,
নাবার কথা মতো আমি পুন্যকে বললাম,
-- ভালোই। তোমার কি খবর?
পুন্য কি যেনো ভাবলো তারপর বললো,
--ভালোই।
-- কি ভাবছো?
নাবা বললো,
- ঐ লিখসে, ঐ লিখসে, দাড়া ওর হাতের লেখা দেখি।
কথাটা বলে নাবা জানালার সামনে এসে বললো,
-- পুন্য ভাইয়া আমি একটা গেইম খেলছি, সেই গেইমে তোমাকেও অংশ নিতে হবে
পুন্য বললো
--কি গেইম!
-- তোমাকে কয়েকটা সাবজেক্ট দেওয়া হবে, তুমি সেই সাবজেক্টগুলোর উপর পাঁচটা করে বাক্য লিখবা বাংলায়৷
-- ওহ, এই গেইমের প্রথম সাবজেক্ট হলো, তমা আপু। ওর সম্পর্কে একটা বাক্য লিখে আমাকে এখুনি দাও।
আমি নাবার হাত চিমটি দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললাম,
-- এই, তুই আমার নাম বললি কেন?
নাবা হাত ঢলতে ঢলতে বললো,
-- আরে, তোর কথা না বললে গেইমে অংশ নিতো না। তোর নাম বলাতে ও ফটাফট কয়েকশো লাইন লিখে নিবে।
নাবার কথায় ঠিক। পুন্যকে একটা বাক্য লিখতে বলা হয়েছিলো,সে দুইটা বাক্য লিখলো, পাতা দেওয়ার সময় মাথা চুলকে বললো,
-- দুইটা লিখলাম
নাবা পাতাটা নিয়ে পড়তে লাগলো,
-১.তমা তুমি দেখতে অনেক সুন্দর।
২.আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
লাইন দুইটা পড়ার পর নাবা আবার জানালায় জুতা আর ঝাড়ু বেঁধে দিলো। তবে এটা শিউর গনেশ ঐ চিরকুট টা লিখে নি।
হুটহাট ফুপি রুমে এসে দাড়ালো, আমরা তখনো গনেশের লিখা আর চিঠির লিখা মিলাতে ব্যস্ত। ফুপি বললো,
-- নাকের ডগায় পরীক্ষা ঘুরঘুর করছে তোদের। আর তোরা কি করছিস এগুলো!
নাবা মাথা তুলে বললো,
-- ঐ তো ট্রান্সলেশন করছিলাম।
ফুপি কিছু না বলে চলে গেলো। আমরা দুজনেই আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ পড়তে বসলাম। এইবারের মতো বেঁচে গেলেও পরের বার ফুপির হাত থেকে আর বাঁচবো না।
দুপুরের দিকে সৃজন ভাইয়া বেরিয়ে যেতেই আমি আর নাবা ওর ঘরে ঢুকলাম। নাবা বললো,
-- সৃজন ভাইয়ার সাথে কখনোই প্রেম করবা না। ও তোমাকে শুধু চা বানাতে বলবে, চা বানাতে বানাতে জীবন তেজপাতা করে দিবে।
সৃজন ভাইয়ার রুম সার্চ করে তেমন কিছু পেলাম না। আর বাংলা লিখা আছে এমব খাতা!! একদমই নেই, এ যেনো এই যুগে এসে ডাইনোসর খোঁজার মতো কাজ। যাও একটা ডায়েরি পেয়েছিলাম, তাতেও যে গোটা কয়েক অক্ষর লিখা ঐগুলো বাংলা কথায়, কিন্তু লিখা, এইযুগে যাকে সহজ ভাষায় বাংলিশ বলে। ডায়েরিতেও যে কেউ ইংরেজীতে বাংলা লিখে তা আমি জানতাম না।
বিকালে মিঃ লম্বুর কাছে পড়তে গেলাম। সৃজন ভাইয়া বসে ল্যাপটপে গান শুনছে। নাবা ওর হাতে একটা খাতা আর একটা কলম দিয়ে বললো, গেইম খেলবো।
সৃজন ভাইয়া হেডফোন খুলে বললো,
-- কি গেইম!
-- তোমাকে একটা সাবজেক্ট দেওয়া হবে, সেই সাবজেক্ট সম্পর্কে একটা বাক্য লিখতে হবে।
সৃজন ভাইয়া অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খাতা কলম নিয়ে বললো
-- বল,
-- তমা আপুর সম্পর্কে একটা বাক্য লিখো! বাংলায় লিখতে হবে!
সৃজন ভাইয়া বেশ অবাক হয়ে বললো,
-- ওর সম্পর্কে! তাও বাংলায়! আমার বাংলা হাতের লিখা ভালো না।
-- তাতে কি! রুলস ইজ রুলস
তারপর খাতা নিয়ে প্রায় দশ মিনিট বসে থেকে
খাতায় একটা লাইন লিখে বললো,
-- এবার তাহলে প্রিয়ম! লিখবে
আমরা কিছু বলতে পারলাম না, অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মিঃ লম্বুকে খেলায় নিতে হলো। ওদের দুজনের লিখা গুলো বইয়ের ভাজে রেখে দিলাম।
মিঃ লম্বুর কাছ থেকে এসে সৃজন ভাইয়ার কাগজটা খুললাম, ওর বাংলা হাতের লিখা দেখে আমরা দুজনেই অবাক!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now