বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সরল মেয়ে তমা- (৩য় পর্ব)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X দুলাভাইয়ের অত্যাচার থেকে মুক্ত করে আমার আব্বু আমাকে ঢাকায় ফুপির বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে ফেললো। আমার ব্যাগ নিয়ে আব্বু সামনে সামনে যাচ্ছে, আমি তার পিছু পিছু হাঁটছি। সামনে গিয়েই হয়তো রিকশা নিবে, বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে উঠতে হবে,তারপর সোজা ঢাকা। নেত্রকোণা থেকে বিদায়, আবার কবে আসবো কে জানে! এখনি সবাইকে যেভাবে মিস করতে শুরু করেছি, কদিন ঢাকায় থাকতে পারবো তাও জানি না, সব চেয়ে বেশি মিসস। কিছুদূর দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে আব্বুর সাথে সাথে হাঁটা শুরু করলাম। অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ আছি, কাল ঐ ঘটনার পর থেকেই চুপচাপ হয়ে আছি, নিজের সাথে হওয়া অন্যায়টা কিছুতেই মানতে পারছিলাম না। আব্বু এতো তাড়াতাড়ি হাঁটছে যে আমি তার সাথে দৌড়েও পারছি না। তাই আব্বুকে বললাম, -- আব্বু, আস্তে হাটো। আমি এত তাড়াতাড়ি হাটতে পারি না। -- তাড়াতাড়ি না হাঁটলে তো বাস ফেইল করে ফেলবো মা। -- আচ্ছা আব্বু আমি চলে গেলে তোমার খারাপ লাগবে না! আমার প্রশ্ন শুনে আব্বু আমার দিকে তাকালো, পান খেয়ে ঠোঁট লাল করে ফেলেছে, একটা পান শেষ হওয়ার আগেই আরেকটা পান মুখে দিয়ে রাখে, সব সময় একগাল উঁচু করে রাখে পান দিয়ে, আজও তার ব্যতিক্রম নয়। আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বললো, -- ফুপুর বাসায় যাচ্ছো, ভালো করে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবে। তোমাকে ঐখানে পাঠানোই হচ্ছে যাতে তুমি ভালো রেজাল্ট করতে পারো। বুঝেছো? আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম -- ঠিক আছে। মনে মনে হাসলাম, আব্বু আমাকে এটা বুঝাতে চেয়েছে যে কালকের ঘটনার জন্য আমাকে ঢাকা পাঠানো হচ্ছে না, আমাকে ঢাকা অন্য কারণে পাঠানো হচ্ছে। দিনের বেশির ভাগটায় কাটলো বাসে৷ বিকেলে যখন ফুপির বাসায় পৌঁছালাম, তখন ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে,আর মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। আমার ফুপাতো বোন নাবা আমাকে রুমে নিয়ে গেলো। আমি বাসায় ঢুকার পর থেকেই নাবা বিরতিহীন কথা বলেই যাচ্ছে।যেনো একটা রেডিও বা টেলিভিশন, এমনই বটে আমাকে পুরো বাসার খবর পাশের বাসার খবর সব জানিয়ে দিচ্ছে, যেমনঃ বনু, জানো আমার রুমের জানালা আর পাশের বাসার জানালা মুখোমুখি। ঐ জানালার সামনে সবসময় একটা নাদুসনুদুস মোটাসোটা গুলুমুলু টাইপের একটা ভাই থাকে।তোমাদের সাথে এইচএসসি দিবে। সে হাঁটলে তার পেটের মাংস থপথপ করে কাঁপে। ধপাস ধপাস করে হাঁটার শব্দ হয়। ওকে আমি "হাতি মেরি সাথি" বলে ক্ষেপায়। কিছুক্ষণ কি জেনো ভাবলো,তারপর আবার বললো, সৃজন ভাইয়াকে জানো আমি কি বলি, white ass! মানে সাদা গাধা। হাহাহা, বলো তো কেনো বলি! আরে ও দেখেতে সুন্দর তো তাই। আমি হেসে হিজাবের পিন খুলতে লাগলাম,সাথে ওর কথাগুলোও শুনছিলাম। সৃজন ভাইয়ার কথা শুনতেই হাসিটা মিলিয়ে গেলো। আমার তো মনেই ছিলো না ফুপির একটা ছেলেও আছে। আসলে ঐ ঘটনাটায় মাথায় ঘুরঘুর করছে। নাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, --- নাবু, সৃজন ভাইয়া কি বাসায়?? --- আরে না। ও তো ওর এক বন্ধুর বাসায়। বাসায় থাকলে দৌড়ে এসে মামাকে সালাম করতো। মামাকে দেখাতো সে ভদ্র ছেলে। -- দেখানোর কি আছে, সে তো যথেষ্ট ভদ্রই। -- এ্যাহ্, কচু জানো, আমি যতক্ষণ বাসায় থাকি ততক্ষণেই আমাকে চা/কফি বানাতে বলে, না বানালেই মার। আমি আগেরবার যখন ঢাকায় এসেছিলাম তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। তখনকার সৃজন ভাইয়ার আচার আচরণ মনে করার চেষ্টা করলাম, তাকে দেখতে কেমন ছিলো তা মনে করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুই মনে পড়লো না। আমিও আর মনে করার চেষ্টা না করে গোসল করতে গেলাম। গোসলের পর ফুপি, আব্বু নাবার সাথে অনেকক্ষণ আড্ডা দিলাম, খাওয়া দাওয়া করলাম। সন্ধ্যার আমি বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু সব চেষ্টায় বিফলে গেলো। নাবা এসেই বকবক করতে লাগলো। আমি নাবাকে থামানোর জন্য বললাম, -- এই নাবা, তুই জানি কোন ক্লাসে পড়িস! -- এসএসসি দিবো এবার, আর কতোবার বলবো তোকে! আমরা এই অল্প সময়েই তুমি থেকে তুই তে এসে পড়েছি, আসলে আমি বেশিক্ষণ আপনি তুমি করতে পারি না। "নাবা! নাবা!এই নাবা!" আমি এদিক ওদিক তাকালাম। শুয়া থেকে উঠে বসে বললাম, -- যা ফুপি ডাকে তোকে, পড়তে বস। নাবা হেসে গিয়ে জানালা খুললো। তারপর বললো, -- আরে মিনি হাতি টা ডাকে। দাঁড়াও তোমার সাথে কথা বলিয়ে দিচ্ছি। --- মিনি হাতি, ঐ মিনি হাতি। নাবা আস্তে আস্তে ঐ ছেলেটাকে ডাকলো,যাতে ঐ ছেলেটা শুনতে না পায়।আমি আর নাবা দুজনেই হাসলাম। নাবা এবার একটু জোরে বললো, -- পুন্য ভাইয়া,,ডেকেছিলে? আমি নাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, -- ঐ ছেরি, পুন্য আবার ছেলের নাম হয় কেমনে? -- আমি কিভাবে বলবো? আজকাল নাম হলেই চলে, নামটা ছেলেদের না মেয়েদের সেটা দেখার বিষয় না। ঐ বাসার রুমের লাইটটা জ্বলে উঠলো। আমি রুমের দিকে তাকাতেই দেখলাম ইয়া মোটা পুরা গনশা(গনেশ) টাইপের একটা শ্যামলা রঙের ছেলে বিছানায় উঠলো। জানালার পাশে বসে নাবাকে বললো, -- কার সাথে এতো কথা বলিস? আমার রুম থেকে শুনতে পাচ্ছি। -- আমার কাজিনের সাথে। আজকে আসছে, এখানে কয়েকদিন থেকে কোচিং করবে, সামনে এইচএসসি দিবে তো। পুন্য ছেলেটা বললো, -- ও আমার সমসবয়ী, কই ডাক তো একটু পরিচিত হই। নাবা বললো, -- আরে এইখানেই আছে, রুম অন্ধকার তো তাই, দাড়াও লাইট জ্বালিয়ে দিই। নাবা লাইট জ্বালালো। পুন্য হাত নাড়লো, আমিও হাত নাড়লাম। পুন্য বললো, -- তোমার নাম কি! -- তমা -- তো এখন কেনো আসছো! এখন তো শেষ সময়, সবার তো বই শেষ। আর কয়েকদিন পর তো কোচিং বন্ধ দিয়ে দিবে। -- ঐ যতোটুকুই জানতে পারি আর কি। --আচ্ছা পরে কথা হবে। পুন্য চলে গেলো।আমি জানালা লাগিয়ে দিলাম। নাবা উঠে পড়তে বসলো। আমি আব্বুর সাথে কথা বলতে গেলাম। কাল সকালে চলে যাবে আব্বু তখন আমার অনেক কষ্ট হবে। আব্বু মোবাইলে কার সাথে যেনো কথা বলছে তাই আর রুমে না ডুকেই চলে আসছিলাম। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠলো। ফুপি বললো দরজা খুলে দিতে। আমি যেতে যেতে দরজায় দুই তিনটা টোকা ও দিলো। দরজা খুলতেই ২১-২৩বছর বয়সী আনুমানিক ৫ফুট ৭/৮ উচ্চতার ফর্সা দেখতে একটা ছেলে ঢুকলো। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলো। তারপর বললো, --- তুমি প্রিয়তমা না! আমি চোখ বড় বড় করে আমার চারপাশটা ভালো করে দেখলাম। শিউর হলাম, আমাকেই বলছে। আমি বললাম, -- না, আমি প্রিয়তমা নই। কথাটা বলে চলে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ফুপি রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে বললো, --তমা, ও তোর সৃজন ভাইয়া। সৃজন ভাইয়া আমার কাছে এসে বললো, -- এই তুমিই তো প্রিয়তমা। তাহলে না করলে কেনো? -- আমি তো প্রিয়তমা না, শুধু তমা। -- ওওও আচ্ছা, আমি প্রিয়তমা ডাকবো। এখন যাও আমার জন্য এককাপ চা নিয়ে আসো। চা বানাতে পারো তো? আমি ড্যাবড্যাব করে সৃজন ভাইয়ার দিকে চেয়ে রইলাম। আমাকে বলছে চা বানাতে, যাকগে হয়তো মাথায় একটু ছিট আছে। আমি মাথা নেড়ে হ্যা বললাম। সৃজন ভাইয়া বললো, -- তো তুমি আমার রুমে চা টা দিয়ে এসো কেমন। আমি মাথা আবার মাথা নেড়ে হ্যা বলে চলে যাচ্ছিলাম। সৃজন ভাইয়া আবার ডাকলো, -- এই প্রিয়তমা! -- হু, -- আমার রুম তুমি চিনো না তো। ঐ যে মেইন দরজার পাশের টায় আমার রুম। এবার যাও। আমি এখন একদম কনর্ফাম যে ছেলেটার মাথার একটা তার ছিড়া। এমন চা বানায় দিবো যে ওর মাথার তার জোড়া লেগে যাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সরল মেয়ে তমা- (৩য় পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now