বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সোনালী রঙা কার্ড

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X মাথাটা ঝিমঝিম করছে রবিনের। বুকে কেউ পাথর চেপে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে তার। সে কখনো কাঁদে না। আজ তার খুব চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। ঘন্টা খানিক আগের কথাঃ - ড্রয়ার খুলতেই একটি সোনা চকচকে কার্ডের উপর রবিনের চোখ আঁটকে গেল। এই তো সেই বিয়ের কার্ডটি। বড় ভাইয়ার এক বন্ধুর বিয়ের কার্ড। গত বছরে এই বিয়ের মাধ্যমেই মেয়েটির সাথে প্রথম তার দেখা হয়। বিয়ে বাড়ি কিংবা বিয়ে বাড়ির লোকারন্য কোনটাই রবিনের পছন্দ না। যদিও সে সুস্থির গোছের ছেলে নয়। সেবার ডিসেম্বরে সব কাজিনেরা রবিনের বাসায় একত্রিত হয় বলেই তাকে ওই বিয়ে বাড়িতে যেতে হয়েছে। ক্যামেরা হাতে সবার ছবি তুলছিল রবিন। টুকিটাকি ফটোগ্রাফির ঝোঁক ছিল বলেই খুব একটা খারাপ ছবি তোলে না সে। সেই সময় রবিনের চোখে পড়ে লম্বা চুলো লাল শাড়ি পড়া মেয়েটি। আর তা তখনই ঘটে গেল যাকে বলে, লাভ ইন ফার্স্ট সাইথ। মেয়েটির চোখ দুটি অসম্ভব মায়াময়। যেন তার চোখের দিকে তাকালেই সব ক্লান্তি হারিয়ে যায়। তার চোখের মাদকতায় ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। রোদ চশমার কল্যাণে রবিন তাকে প্রায় সারাটি সময় দেখছিলো। লুকিয়ে লুকিয়ে তার কয়েকটি ফটোগ্রাফও তুলেছে। এরপর অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটার সাথে কথা বলার সাহস করে উঠতে পারেনি রবিন। তবে আশেপাশে বলাবলি করে মেয়ের নাম জানতে পারে অর্পিতা। একসময় রবিন মেয়েটিকে হারিয়ে ফেলে। অনেক খুঁজেছিল সেদিন রবিন, হয়তো মেয়েটি ততক্ষণে বিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। অর্পিতার মোবাইল নম্বর, বাসার ঠিকানা এসব জোগাড় করার অনেক চেষ্টা করেছিল রবিন কিন্তু কিছুই সে পায়নি।এরপর অর্পিতার ছবি গুলো দেখে আর তাকে খুঁজে দিন পাড় করবে বলে ঠিক করে রবিন। হঠাৎ করে কলিং বেলের আওয়াজে চিন্তার জগৎ থেকে বের হয়ে এলো রবিন। ড্রয়ার বন্ধ করে উঠে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে এগোলো কে এসেছে দেখার জন্য। সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই একটা হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ অনুভব করলো। ঘ্রাণটা এত পরিচিত লাগছে কেন তার? আগে কোথায় পেয়েছিল সে এই ঘ্রাণ? সেই বিয়ে বাড়িতে নয় তো?? ড্রইংরুমে যেতেই ধাক্কার মত খেল রবিন। রবিনের মায়ের সামনে সোফায় বসে আছে দুইটি মেয়ে, ডান সাইডে বসে থাকা মেয়েটি অর্পিতা। রবিন চিন্তা করতে থাকে, অর্পিতা এখানে কেন? সে কি রবিনকে খুঁজতে এসেছে? সে কি জানে রবিন তাকে কয়েকটি মাস হন্নে হয়ে খুঁজেছে? মেয়েটা কি জেনে গেছে রবিন তাকে কতটা ভালবাসে? মাথা নিচু করে বসে থাকা অর্পিতার হাতে ধরা একটি সোনালি রঙা কার্ড। কার্ডটি সে বাড়িয়ে দিল রবিনের মায়ের দিকে। কিসের কার্ড জানতে চাইলে অর্পিতা জানালো এটা তার নিজেরই বিয়ের কার্ড। হঠাৎ করে রবিনের সব প্রশ্নের উত্তর রবিন পেয়ে গেল। ড্রইংরুমে এগোলোনা সে, ওখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে অর্পিতাকে প্রশ্ন করল, "বেশ তো হারিয়ে ফেলেছিলাম। তোমার ছবি গুলোর মাঝে সুখ খুঁজতাম। সুখ খুঁজতাম তোমাকে খোঁজার মাঝেই। আবারও যখন হারিয়ে যাবে নিজ থেকে দেখা দিতে এলে কেন?" মাথা ব্যথা ক্রোমোস বাড়ছে রবিনের। চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা পানি এসে পড়ল সোনালি রঙা কার্ডটির উপর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সোনালী রঙা কার্ড

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now