বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সোহানা-সেলিম ও আত্নার প্রেম।

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সোহানা-সেলিম ও আত্নার প্রেম। . লেখিকা- আদ্রিতা রহমান ------------------------------ ---------- আজ আমার আপুর বিয়ে। আমার নিজের আপুর না। ফুফাত বোন। আমি খুব ছোট। তাই আমি আপুর সাথে আপুর শ্বশুর বাড়ি গেলাম। আজব বাড়িটা! বাইরে থেকে দেখলে-ই সবাই ভুতের বাড়ি বলে এক নামে চিহ্নিত করবে। দূর থেকে বাড়িটা দেখে-ই আমার শরিরটা জ্বীম-জ্বীম করছে। বুকের হার্ডবিট যেন বেরেই যাচ্ছে ক্রমস, যতই বাড়িটির কাছে যাচ্ছি। ততই যেন মৃত্যুকে আহ্বান করছি! কিন্তু কি আর করবো? একা একা-ই ভয়টা মনের মধ্যে চেপে রেখেছি! আর শুধু আল্লাহ আল্লাহ করছি। যাই হোক। অবশেষে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। এবারতো ষ্টক করার পালা! কারণ, বাহির থেকে যতটা না ভয়ের ভিতরে তার থেকে ও অধিক ভয়ের। আমি এবার চোখ দুটো বন্ধ করে রাখছি খুলবো না। খুললে-ই বিপদ। মাইক্রো এসে দুয়ারে থামলো। ভাইয়া, মানে আপুর বর নামতে বলল। তাই চোখ খুললাম। বাড়ির ভেতরটা আরো ভয়ানক। চারদিকে ইটের দেয়াল দেয়া। এক একটা ইট যেন এক একটা ভুত। চারদিকটা ঘোর অন্ধকার। মনে হচ্ছে রাত তো ভাল কথা দিনেও এ বাড়িতে পাঁ রাখতে গা ছম-ছম করে। আমি কোন দিকে না তাকিয়ে গাড়ি থেকে নেমে-ই ঘরে ঢুকে গেলাম। আমি আপুর রুমে, মানে যে রুমটা সাঁজানো ছিল তার মধ্যে এসে আপুর পাশে ই শুয়ে পড়লাম। রাত ১২টার সময় আমায় যখন ডাকছিল আপুর শ্বাশুরি,তখন আমি চমকে উঠলাম! মনে হচ্ছিল আমায় যেন বাইরে দেয়ালের ইট গুলো ভুত হয়ে আমায় ডাকছিল। আমি খুব ভীতু টাইপ একটা মেয়ে। তারপর আপুর শ্বাশুরি আমায় কোলে করে নিয়ে তার কাছে শুইয়ে দিল। আমার মায়ের মত কোলের মধ্যে নিয়ে শুয়ে পড়ল। আমার আর কোন ভয় করেনি। আমি যেন আমার মায়ের কোলে-ই শুয়েছিলাম। মায়ের কোলের মত এত মমতা, এত ভালবাসা, এত মধুর, আর কোথায় পাওয়া যায়না... . পরদিন সকালে আমি দেখি ঘরটা এক কোণে আর বিশাল উঠান। উঠানের দুই কোণে অনেক গাছ । আর উঠানের মাঝ খানটায় রয়েছে বাড়ীর বাইরে যাওয়ার রাস্তা।বাড়ির ভেতর থেকে ১৫ পাঁ হাটলে-ই ভযঙ্কর দেয়ালের গেট। আর সেই গেটে বড় বড় অক্ষরে লিখা চৌধুরি বাড়ি। আর সেই গেট থেকে বের হওয়ার পর আরো ৩০ পাঁ হাটলে-ই মসজিদ। এই বাড়িটায় শুধু একটা-ই ঘর। আর বাড়ির বাইরের চারদিকটা শুধু বাগান। গাছ আর গাছ। আর এমন করে সেই বাগানের মধ্যে ঝুপরি করা। ওখানে ভুতে যদি ১০টা মানুষ মেরে রাখে, কেউ ই বলতে পারবেনা। বাগানের মধ্যে কিছুটা হাঁটলে ই একটা ঝুপড়ি। এমন করে অনেক ঝুপড়ি রয়েছে। তাই দিনের বেলায় একা হাটতেও মানুষ আতকে উঠবে। আমি আপুর ননদের মেয়েকে নিয়ে অনেক ঘুরে আসলাম বাড়ির বাইরে থেকে। আমি ভয় পাচ্ছিলাম তারপরও ঘুরতে খুব ভাল লাগছিল। যতদেখি বাগান আর মসজিদ ততই দেখতে ভাল লাগে আর কৌতুহল সৃষ্টি হয়। ভয়ও করে। তবে যতটা না ভয় করে তার চেয়ে বেশি মজা লাগে। মসজিদের পাশে শান বাধানো ঘাট। মসজিদটাও দেখতে সেই রকম। বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমরা এখানে তাফসির করতে আসে প্রতি বছর। আপুর ভাগ্নির নাম প্রভা। প্রভা আন্টিকে আমি বললাম আন্টি টয়লেট করবো। সে আমাকে নিয়ে গেল বাড়ির মধ্যে। আপুদের ঘর থেকে ১০পাঁ হাঁটার পর আন্টি আমায় দেখিয়ে দিল। আমি ভাবলাম, এটা জানি কাদের ঘর। আমি বললাম, আন্টি আমি তো টয়লেট করবো! উনি বললেন এটাই টয়লেট। এটা ও সেই দেয়ালের ইটগুলোর মত ভয়ানক! আমি কোন কথা না বলে ঢুকলাম। ঢুকে দেখি বাইরে থেকে যেমন ঘর দেখা যায় ভেতরটাও তাই । কিন্তু, চারদিকে ইট গাথা আর উপরে ছাদ নেই। এবার আমি সামনের দিকে দৃষ্টি দিতেই দেখি একটু দূরে-ই পাচঁটা সিড়িঁ গোল করে দেয়া আছে। আর সেই সিড়িঁর উপরে আরো একটা ঘর। আমি ভয়ে ভয়ে সিড়িঁ বেয়ে উপরে উঠে দেখি এটা-ই টয়লেট। দুপাশে দুটো। কিন্তু একটারও দরজা নেই। শুধু গেটের মত। আমি ভিতরে ঢুকতে ই মনে হল আমি যেন একটা গুহার মধ্যে প্রবেশ করলাম। ভয়ে আর আতঙ্কে আমি ষ্টক করার মত অবস্থা ! আমার বুকটা ধক্-ধক্ করছে। আমি কোন মতে আমার কাজ শেষ করে বাইরে এসে দেখি আন্টি নেই। আমি চিৎকার করে ডাকলাম। আমার মনে হল কে যেন আমায় পেছন থেকে ডাকছে। আর আমি ভয়ে চিৎকার করে ডাকতে থাকলাম। দৌড়ে এসে ঘরের ভেতর ঢুকলাম। দেখি, সবেমাত্র সবাই উঠতে শুরু করেছে। আর চাকর, চাকরানিরাও উঠে গেছে। তারা চা- নাস্তা তৈরি করছে। আমি প্রভাকে ডেকে এনে বললাম,আমায় একা কেন রেখে এসেছেন? আমার খুব ভয় করছে। মনে হল মৃত্যু আমায় ডাকছিল। ধুর বোকা! ওটা তোমার মনের ভুল। হ্যা, আগে ছিল কিন্তু, এখন আর নেই। আমি বললাম, তাই নাকি বলুন তো? আগ্রহ নিয়ে বললাম। আমি কিছু যানিনা। সব নানিমা জানে। আর উনি-ই তো তার নায়িকা। আর নানাভাই ছিল নায়ক। আমি ভাবলাম আন্টি আমায় এ কথাটা দুষ্টমি করে বলছে। আমি বললাম, কেন দুষ্টমি করছেন? সত্যি বলছি। আন্টি আমার চেয়ে ১০-১৫ বছরের বড় হবে। আমার বয়স তখন ছিল ৭ বছর। বিকেলে আমি আপুর শাশুড়িকে বললাম, খালামুনি আমায় একটা গল্প বলুন না। খালামুনি বলল, কিসের গল্প বলবো? আমিতো গল্প যানিনা। আমি বললাম, ভুতের গল্প বলুন। খালামুনি বলতে শুরু করল ; এই বাড়িটি আমার শ্বশুর যখন কিনছে তখন, তোমার খালুর বয়স ১২ কি ১৩ বছর। তখনকার দিনে এটা জমিদার বাড়ি বলেই সবাই চিনতো। গেইটের বাইরে যে ঘরের মত ভিটার মত দেখছ, সেটাই ছিল তোমার খালুর নাচ ঘর। মানে নর্তকিদের ওখানে নাচাত। আমি বললাম, কোথায়? ওখানে তো কোন ভিটা নেই আছে শুধু মসজিদ তাও গেইট থেকে অনেক দূর। খালামনি বলল,তুমি হয়ত খেয়াল করনি। আমার শ্বশুর সারাদিন মানুষের বিচার নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আর তার বিচার শালা ছিল পুরাতন বাড়িতে। ওটা এই বাড়ি থেকে ১৫ মিনিটের পথ। আমার শ্বশুর সাড়াদিন ব্যস্ত থাকার কারণে তার ছেলেদের দিকে কোন রকম খেয়াল করতে পারেনি। আর তাই তাদের পড়াশুনা হয়নি। তারা সারাদিন নাঁচ ঘরে পরে থাকতো। একদিন একটি মেয়েকে ঢাকা থেকে স্বঃসম্মানে নিয়ে আসে। জানা যায় মেয়েটির বাবা নেই আর মা অসুস্থ ছিল। তাই মেয়েটি নাচ করতো। আজ তার সেই মা ও নেই। মেয়েটি খুব কান্না কাটি করছিল। ভাইয়ার খুব মায়া হল। আর তাই ভাইয়া তাকে নিয়ে এলো। মেয়েটি দেখতে ও খুব সুন্দর। মেয়েটিকে এনে ঐ নাচ ঘরে উঠাল। ওখানে-ই রইল। তোমার খালু খুব খুশি হল। কারণ সে খুব ভাল নাচ করতে পারে। তাই ঘর থেকে খাবার-দাবার এনে মেয়েটিকে দিত। তাই খেয়ে-ই তার দিন কাটতো। একদিন আমি এসেছিলাম ঐ মেয়ের নাচ দেখতে, কারণ, মেয়েটি এত ভাল নাচ করে যে লোকে তার এতো প্রশংসা করতো যে, বলা বাহুল্য। তাই না এসে আর পারলাম-ই না। আমি আর আমার এক বান্ধবী এসেছিলাম। নাচ দেখার পর বললাম প্রশংসা করার-ই মত। আমরা নাচ দেখে দুজন কথা বলছি আর বাড়ীর দিকে হাঁটছি। কিন্তু আমার মনে হল কে যেন আমাদের ফলো করছে। আমি পিছন দিকে তাকাতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু আমার বান্দবী হেনা আমায় পিছনে তাকাতে ই দিল না। আমরা বাড়ি পৌঁছে দেখলাম, জমীদার সাহেবের ছোট ছেলে আমাদের পিছন পিছন আমাদের বাড়ি পর্যন্ত আসল। তাকে দেখে আমার বাড়ির লোকেরা অবাক! সবাই সালাম দেয় বসার জন্য চেয়ার দিল। আর উনি বলল, এই মেয়েটি কে? আমার বাবা তার সামনে এসে হাত জোর করে অপরাধীর মত বলল, কেন, কি হয়েছে হুজুর? আমার মেয়ে কি আপনার সাথে কোন বেয়াদবী করেছে? তাহলে বলুন আমায়। তিনি হেসে দিলেন, আর বললেন, না। কিছু করেনি। আমি এমনি জিজ্ঞাসা করলাম। তারপর আমার বাবা আমায় ডেকে বলল, সোয়ানা এ দিকে আয় মা। উনি আমাদের জমিদার হুজুরের ছোট ছেলে (সেলিম) । তার নাম। আমি আসলাম। বাবা বলল, সালাম দে, আমি সালাম দিলাম। তোমার নাম কি? উনি আমায় জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, সোহানা হুজুর। খুব-ই কোমল আর নরম স্বরে নামটা বললাম। বলে চলে গেলাম। উনি ও চলে গেলেন। আমি সারা রাত ভাবলাম তিনি কেন এলেন? আর এলেন-ই যখন তখন কেন কিছু বলেন নি। আচ্ছা, আমরা যে তাদের নাচ ঘরে গেলাম সেটা কি বলতে এল? না, না। তাহলে তো বলতো আমাদের। নাকি কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিল তার। জমিদারের ছেলে কিছু ই বোঝা যায়না। আমি আর কোনদিন ভুল করে ও নাচ ঘর তো ভাল কথা ঐ বাড়িতে ও যাবনা। এদিকে উনি ভাবছেন, এই মেয়েটি আমাদের এলাকাতে-ই থাকে আর আমি কোনদিন তাকে দেখি নি। আমি ভাবলাম আমার নাচ ঘরের সিপার মত সুন্দরি আর হয়না। কিন্তু এ-যে দেখছি তার চেয়ে ও অধিক সুন্দরী। মনে হচ্ছে যেন ডানা কাটা নীল পরি। এত সুন্দর মানুষ থাকে। বিধাতা এত রুপ কাউকে দেয়? হুম। এ মেয়েটি হচ্ছে বিধাতার অকৃতিম সৃষ্টি। যেন হাজার বছর সাধনা করে বিধাতা তাকে তৈরি করেছে শুধু আমার জন্য। হুম। সোহানা তুমি আর কারো নও তুমি আমার। শুধু-ই আমার। তুমি আর কারো হতে পারো না। ওই কুঁড়ে ঘরে তোমায় মানায় না। তুমি থাকবে আমার প্রাসাদে। রাণীর বেশে। সেলিম এসব ভেবে সারা রাত একটু ও ঘুমায়নি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ই চলে গেল সোহানার বাড়ীতে। সোহানা আর সোহানার বান্ধবি মিলে ওদের উঠোনের পাশে একটি আম গাছ ছিল। সেই আম কুঁড়াচ্ছিল। সোহানা ওর বান্ধবীকে বলল, যানিস হেনা ঐ জমিদারের ছোট ছেলে কি যেন তার নাম... ! ও মনে পড়েছে। সেলিম। ওকে না আমার সুবিধার মনে হচ্ছিল না। হেনা অবাক হয়ে বলল, কেন কেন? আরে দেখলিনা কাল বাড়িতে গিয়ে বাবাকে দিয়ে আমায় ডেকে এনে কেমন সামনে বসাল। আর আমার দিকে কেমন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। যেন আলাদিনের প্রদ্বীপ দেখছে। আর কখনও দেখেনি। হেনা, নারে তুই যা ভাবছিস তা নাও হতে পারে। সোহানা- না, কোন ভুল নয় ওর আসলে-ই খারাপ উদ্দেশ্য ছিল। আরে বুঝিসনা যেমন জমিদারের ছেলেরা হয়। তার বাইরে কেমন হবে। খারাপ ই হবে। ভাল আর নয়। এই বলে আমি আমগুলো নিয়ে যেইনা উঠে দাঁড়ালাম। আর দেখি উনি একটু দূরে দাঁড়িয়ে হাসছে। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। হেনাকে বললাম, হেনা ও........ দি......কে তাকা। হেনা তাকিয়ে ও, ও 'থ' দিয়ে গেল। আর উনি এসেই বলল, কি আমার নামে অপবাদ দিচ্ছ, তোমরা দুজন। আমি যদি তোমাদের বাবা মায়ের কাছে বলে দিই তোমাদের কি হবে তা একবার ভেবে দেখেছ? আমরা দুজন দৌরে এসে ওনার পা ধরলাম। বললাম দয়া করে বলবেন না। তাহলে আমি যা বলব তাই করবে তো? হেনা- হ্যা করবো হুজুর। সোহানা- না করবো না। কি করবেন? বিচার করবেন শালিশ করবেন? শেলিম - না। কিছু ই না। শুধু তোমার বাবার কাছে গিয়ে বলব সেদিন তোমরা দুজন কাল আমাদের বাড়ি গেছ। শুধু তাই নয় আমাদের নাচ ঘরে ঢুকে নাচ দেখছ। আর কাল আমি তোমাদের বাড়িতে গিয়েছি তাই আজ তুমি আমায় যা নয় তাই বলছো। সোহানা- এমন মিথ্যে কথা আপনি বলতে পারবেন? আপনার মুখে আটকাবে না। আটকাবে তো, আটকাবে যদি তুমি আমার কথা শুন। তবে-ই তো আটকাবে । শুনবে? সোহানা -খুব সরল ভাবে বলল,আগে কখন ও বলেছেন মিথ্যে কথা? না। তবে, এবার বলব। মিথ্যে কথা বললে পাপ হয়। আর যেনে শুনে পাপ করলে আরো বড় পাপ হবে। সেলিম- আমি তো সেই পাপ করতে চাইনা। তোমরা-ই তো আমায় দিয়ে করাচ্ছো। সোহানা বিপাকে পরে গেল। কি বলছেন? আমরা কেন করাব। আপনি নিজে ই তো করতে চাইছেন। আমরা না করছি আপনি তাই শুনছেন-ই না। সেলিম-ধুর, আমি ও যানি কেমন। আনি তোমাদের সাথে এখানে কথা সময় নষ্ট না করে। তোমাদের মা বাবার কাছে গিয়ে বললে-ই হবে। এতক্ষণে মনে হয় ওরা সবাই জেগে গেছে। আমি কিন্তু চললাম। কিছু হলে আমি দায়ী নই। তোমরা দায়ী হবে। আমি যাচ্ছি কিন্তু। বলেই সেলিম পাঁ বাড়ালো সামনের দিকে। হেনা- কিছু কর। না হয় আমরা ফেসে যাব। তোর বাবা, আর আমার মা শুনলে তো আমাদের কারো রক্ষা থাকবে না। সোহানা- এইযে শুনুন... সেলিম পিছনে ফিরে তাকাল। সেলিম- কি আমায় ডাকছেন? শোহানা- মুখে বিরক্তি কর ভাব এনে মনে মনে বলল, আমাকে ডাকছেন,হুম, মনে হচ্ছে যেন ভাজা মাছটি উলটে খেতে যানেনা। এবার শুনিয়ে বলল, হ্যা। আপনাকে ই ডাকছি। কারণ এখানে তো আর কেউ নেই যে তাদের ডাকব। তাই আপনাকে ই ডাকছি হুজুর। বলেন আপনার আর্জি। আমরা শোনে ধন্য হই। সেলিম- মনে,মনে বলল টোক গিলছে। তারপর বলল, না বেশি কিছুনা। সামান্য একটা কথা। সোহানা- এমন অভিনয় না করে সোজা ভাবে বলুন। সেলিম- আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার এই মায়াবি চোখ, নজর কারা ঠোট। কথা বলার ধরণ আমায় পাগল করে দিয়েছে। বিশ্বাস কর যেই আমি নাচ ছাড়া এক মুহুর্ত কাটাইনি। সেই আমি নাচ ঘরের দিকে তাকাইনি পর্যন্ত। যখন থেকে তোমার ঐ নিষ্পাপ মুখ-খানী দেখেছি, তখন থেকেই আমি নিজেকে সকল পাপ থেকে মুক্ত করে নিয়েছি। তুমি আমায় ফিরিয়ে দিওনা সোহানা। আমি তোমার দুটি পায়ে পরি। এই বলে শেলিম সোহানার পায়ে হাত দিতে চাইলে সোহানা হাত সরিয়ে নিয়ে বলে... সোহানা-না হুজুর তা হয়না। আপনারা রাজা আর আমরা প্রজা। সেলিম- সোহানাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে। নিজে-ই বলল,তুমি যদি আজ আমায় ফিরিয়ে দাও তবে আমি পৃথিবীর সব জ্বালিয়ে দেব। তোমার আমার মাঝের সব ক'টি দেয়াল ভেঙে জ্বালিয়ে দিয়ে তারপর সে আগুনে নিজে ও পুড়ে ছাই হয়ে যাব। কথাটি পুরো শেষ না করতে ই সোহানা হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলো। বলল, আপনি আমায় এত ভালবাসুন? সেলিম- আর আপনি নয় তুমি। সোহানা- এবার আমি যাই। চারদিকে সূর্য্যি মামা তার আপন আলোয় রৌদের মাধ্যমে পৃথিবীকে আলোকিত করছে। সবাই এখন ক্ষেত -খামারে কাজ করতে নেমে যাবে। আমি এখন যাই। শেলিম- আবার কখন দেখা হবে? আজ আর নয়। যদি কালকে দেখা করতে হয়। তবে এসো কালরাতে, যখন রাতটা থাকবে জোৎস্নাময়। কইবো কথা দুজন মিলে দিনগুলো কাটবে আনমনে, থাকবো দুজন হয়ে দুজনার জীবন হবে সুখময়। আমাদের ভালবাসা নয় কোন মিছে আশা তাইতো এই কাছে আসা মিষ্টি করে হাসা আজ শুধু এই মনে হয়। যদি তুমি কাছে আস শুধু আমায় ভালবাস আর কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা, আমি আর নইকো একা সব কিছু ই লাগে মধুময়। সেলিম এখন আর নাচ ঘরে যায়না। তাই সিপার খুব মন খারাপ। সিপা সেলিমের পিছনে একজন লোক ভাড়া করছে। সেলিম কখন-কোথায় যায়, কি করে, কার সাথে মিশে। সারাদিনের সব খবর তার চাই। লোকটি সব খবর এনে দেয় তাকে। সিপাহী এ খবর পেয়ে সাপের মত ফুলতে থাকে। সিপাহী সেলিমকে খুব ভালবাসে। তাই এ কথাশুনে জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সিপাহী সেলিমের মায়ের কাছে দাশির বেশে গিয়ে সব বলে দিল। সেলিমের মা প্রথমে বিশ্বাস করলো না। তারপরে একদিন নিজে ই দাশিকে নিয়ে গিয়ে দেখল, সেলিম সোহানার খোপায় ফুল গুজে দিল। শোহানা বলল,আমার খুব ভয় করছে যদি বাবা মা না মেনে নেন। সেলিম বলে কেন নিবে না। আমার বাবা মা খুব ভাল। ন্যায়, নিষ্ঠাবান এবং আদর্শবান। তারা মেনে নিবেন। না মানলে আমায় হারাবেন। এ কথা শুনে সেলিমের মা ভয় পেল। আর তাই সেলিমের বাবাকে বলে, সসেলিমকে বিয়ে করাবে না? হ্যা। করাবো তো। মেয়ে দেখ। পরদিন সোহানার বাবাকে সেলিমের মা এখান থেকে অনেক দূরে চলে যেতে বলল, আরো বলল, এই বাড়িটা আমার খুব দরকার। এ দিকে সেলিমের বিয়ে ঠিক হল এক বড় লোকের মেয়ের সাথে। খুব ভোর বেলা উঠে সোহানার বাবা সোহানাকে রেডি হতে বলল, সোহানা ও রেডি হল। কিন্তু সেলিমের জন্য কেমন জানি মন করতে লাগলো। রিক্সা ও আসলো। ওরা সবার কাছে বিদায় নিয়ে রিক্সায় উঠল। রিক্সা ও চলতে লাগলো। হটাৎ করে রিক্সা থেমে গেল। কারণ, শেলিম এসে রিক্সার সামনে দাঁড়াল। আর সোহানাকে বলল, আমায় না বলে কোথায় যাচ্ছো? সোহানা- আমি চলে যাচ্ছি তোমায় কে বলল,?হেনা সামনে এসে দাড়িঁয়ে বলল, আমি সব বলছি। আর নিয়ে ও এসেছি। সোহানার বাবাকে সেলিম সব খুলে বলে, আর তাই সোহানার বাবা বলে হ্যাঁ, আমাদের চলে যেতে হবে। তোমাদের মিল হবার নয়। সেলিম আর সোহানা বলে,আমরা দুজনে মরে যাব। বলে,দুজনে-ই হাতে দুটি বিষের শিশি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা দেখে সোহানার বাবা সহ্য করতে না পেরে মেনে নিল। সেলিম সোহানাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে যায়। সেলিমের মা মেনে নিতে না চাইলে সেলিম নিজের গায়ে চাবুক মারতে থাকে। কিছুক্ষন পর তার মা সহ্য করতে না পেরে মেনে নিল। সেলিমের মায়ের ঠিক করা পাত্রির সাথে ও আজ-ই বিয়ে ছিল। সেলিমের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে শুনে সেই পাত্রি আত্ন-হত্যা করতে চাইল। সেলিম তাকে বাচিয়ে তার মায়ের কাছে নিয়ে এল। আর বলল,এটা কে চিন মা? এটা আমার নাচ ঘরের নর্তকি। আর তুমি এর সাথে ই আমার বিয়ে ঠিক করেছো। কোন বড়লোক বাড়ির মেয়ে নয়। মা নর্তকির গালে কোষে অনেক গুল থাপ্পর দিল। এক ঘর লোকের মধ্যে সেলিম ও তার মা অনেক আপমান করছে। আর সেই অপমান সহ্য করতে না পেড়ে আত্ন্য- হত্যা করল।এর পর থেকে সোহানা আর সেলিম তাদের পরিবার নিয়ে সুখে - শান্তিতে দিন গুলো কাটাতে লাগলো। ১বছর পর শোহানার কোল আলো করে এল তাদের প্রথম সন্তান। সবাই খুব খুশি । তাই তাদের সন্তানের নাম রাখলো সায়েম। সায়েমকে ঘিরে যেন সবার সব স্বপ্ন। কারণ, সেলিমের বড় ভাইয়ের কোন ছেলে সন্তান নেই তাই সায়েমের দুই মা, দুই বাবা। সায়েম সবেমাত্র হাঁটা শুরু করলো। একদিন সায়েম খেলছে আর সোহানা মাগরিবের নামজ পড়তে গেল। নামাজ শেষ করার পর। কোরআন পড়লো। তাই একটু লেট হল উঠতে। উঠে-ই দেখে সায়েম নেই। ঐ ঘরে গেল তাও নেই। সোহানা ছেলেকে হারিয়ে একেবারে পাগল প্রায়। তবুও সোহানার স্বামী, শ্বশুর,শ্বাশুরি, সবাই মিলে যা নয় তাই বলছে। রাতে সবাই সাইমকে খুজলো পেলনা। সকালে সেলিমের ভাই দেখে, পুকুরের মাটির মধ্যে মাথাঁ পুতে রাখা। আর পা দুটো উপরে দাঁড় করানো। চিৎকার দিয়ে লোকজন ডেকে আনল। এবং নিয়ে দাফন করাল। তারপর, একদিন সেলিম স্বপ্নে দেখল, "যদি তুমি আমার কাছে ফিরে না আসো তবে, তোমার পরিবারের সবাইকে এক, এক করে হারাতে হবে। আর তার জন্য তুমি দায়ী থাকবে ।" সেলিম স্বপ্ন দেখে, না... বলে চিৎকার করে উঠে। সোহানা চিৎকার শুনে জেগে উঠে, বলে কি হয়েছে? সপ্ন দেখছো, বলে পানি দিল সেলিমের হাতে, আর বলল, খেয়ে নাও সব ঠিক হয়ে যাবে। সেলিম পানি টুকু খেল। কিন্তু ভয় গেল না। শুয়ে,শুয়ে ভাবল, সিপাহীর অতৃপ্ত আত্না ঘুরছে এখনও। । হঠাৎ একদিন সেলিমের বড় ভাইকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাল মানুষ বাজারে গেল। অনেকেই বলল, ৮টার সময় বাজার থেকে ফিরে এসেছে। পরদিন সেলিমের বাবা বিচার শালায় গেলে, নাক, মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। আর সাথে, সাথে মারা ও যায়। সেলিম প্রতি রাতে-ই নাচ ঘরে নাচের শব্দ পায় । আজ আর শুয়ে থাকলো না। ভাবল, আমার জন্য যখন এত কিছু তখন আমি ধরা দেব। এই বলেই নাচ ঘরে গেল এবং দেখলো ওর ভাবি নাচছে। ওকে দেখেই গলাটিপে ধরলো আর বলল,তোকে আজ নিয়ে যাব আমার সাথে! সেলিম নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। এরি মধ্যে ফজরের আযান দিল। এবার সেলিমকে ফেলে আত্নাটি চলে গেল। সোহানা নামাজের ওযু করতে উঠে, দেখে সেলিম নেই চিৎকার করে লোক জড়ো করল। তারপর সবাই খোঁজ করে দেখল,সেলিম নাচ ঘরে পরে আছে। সেলিমকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখে, ওর মা ভাবল, সেলিম মারা গেছে এত দুঃখ সইতে না পেরে সেলিমের মা সেদিন মারা যান। অন্য আরেক দিন সোহানা শেলিমকে না পেয়ে নাচ ঘরের দিকে এগিয়ে যায় আর দেখে, পুকুরের মধ্যে ইচ্ছে মত চুবানি দিয়ে সেলিমকে কাপড় পড়িয়ে ভুতের মত করে বসিয়ে রেখেছে! প্রথমে দেখে বোঝেনি যে তার স্বামী । কারণ, তার পুড়ো ঘোমটা টানা ছিল। সোহানা কাছে গিয়ে আস্তে করে ধরলো, আর অমনি পরে গেল! সোহানা চিৎকার দিয়ে সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুলল। সোহানার চিৎকার শুনে সবাই এসে ভিড় করলো। তারপর ডাক্তার আনলো ডাক্তার কিছুই বলতে পারলো না। তাই সোহানা এক হুজুরকে দেখায়। হুজুর এসে তাকে দেখে বলল,ওনার উপরে একটা খারাপ আত্না ভর করেছে। যদি না ছারাই, তবে উনাকে মারতে ও পারে। সোহানা- আপনি ছাড়াতে পারবেন? হুম। পারবো। হুজুর ওই ঘরের চারদিকটা বন্ধ্ করল। প্রতিটি গাঁথা ইটের মধ্যে ই যেন সুরা ইয়াসীন লিপি বদ্ধ করে রেখেছে। নাচ ঘরটি ও ভেঙে ফেলল, সেই থেকে এ মসজিদটা তৈরি করল । আর তখন থেকে ই লোকজন বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে তাফসির করতে আসে আর তাই এখন ওসব কিছুর-ই ভয় নেই। তিনি আমাদের সবাইকে একটি করে ইয়াসীন সুরার তাবীজ দিল। তাই, আর কোন সমস্যা হয়নি। এবং আরো দুই বছর পর সা'দের জন্ম হল। সা'দ হল আমার দুলাভাই।আমি আর ভয় পেলাম না। আমার সব ভয় চলে গেল। . খোদা হাফেজ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সোহানা-সেলিম ও আত্নার প্রেম।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now