বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্নিগ্ধা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অতিপ্রাকৃত গল্পঃ "স্নিগ্ধা" লিখেছেন : পুলহ ---------------- আমি একটা ছোটখাট ফেসবুক গ্রুপ চালাই। গ্রুপটার নাম "ভৌতিক হলেও সত্য"। অন্যান্য গ্রুপের সাথে এই গ্রুপের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে, আর সেটা হলো তার বিভিন্ন পোস্টের বিশ্বাসযোগ্যতায়। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বিষয়টা পরিষ্কার হবে। ছোটবেলায় আমরা যত ভুতের গল্প শুনেছি, তার বেশিরভাগেরই কোন প্রমাণ নেই। যিনি ভুতের গল্প বলছেন, তিনি গল্প শুরু করার আগে বলে নিতেন- এ কাহিনীটা তিনি অমুকের কাছ থেকে শুনেছেন, অমুক আবার শুনেছে তমুকের কাছ থেকে.... এভাবে চলতে থাকতো। কিন্তু আমার ফেসবুক পেইজে যে গল্পগুলোকে পাবলিশ করা হয়, তার প্রতিটিই বক্তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা ! 'অমুক-তমুকে'র কাছ থেকে শোনা কোন গল্প আমি পাব্লিশ করি না। এটুকু শুনে আপনারা দাবী করতে পারেন- 'মানুষটি যে সত্য বলছে, তারই বা গ্যারান্টি কি?' হ্যা, এক্ষেত্রে অবশ্য আমি আটকে যাবো- সেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই ! তবে যে ঘটনাটার কথা বলার জন্য এতো দীর্ঘ একটা সূচনা ফাঁদলাম, সেটা যে সত্য- এ ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত থাকতে পারেন। কারণ এবারের ঘটনাটার সাক্ষী আমি নিজে ! আর তাই তো এতো আয়োজন করে লিখতে বসা। ঘটনাটার শুরু গত মাসে। অনলাইন একটা পত্রিকায় খবর বের হলো- গত কয়েকদিন যাবত নাকি শহরের বিভিন্ন গোরস্থানে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটছে। কে বা কারা সদ্য দাফন করা বিভিন্ন লাশ রাতে এসে কবর থেকে তুলে রাখছে.... খবরটা আগডুম বাগডুম কোন এক অনলাইন পত্রিকায় দেখে কিছুটা কৌতূহলী হলেও খুব একটা পাত্তা দেই নি। কারণ এরা নিজেদের কাটতি বাড়াতে হেনো কোন কুখবর নেই, যা ছাপতে পারে না! তাই তো এসব অনলাইন পেপারে দেখবেন কয়েকদিন পর পরই খবর বের হয় যে- আর দশ/ বারোদিনের মাঝেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথবা অমুক এলাকায় কোন এক মানুষ পালটে গেছে সাপে। সুতরাং এসব হাস্যকর খবরে বিশ্বাস করলে তো এতোদিনে সত্যি সত্যি বেশ কয়েকবার পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা ! যাই হোক- যেমনটা বলছিলাম, প্রথমে খবরটা খুব একটা পাত্তা না দিলেও কয়েকদিন বাদেই যখন নামকরা পত্রিকাগুলোও এ খবরটা ছাপতে আরম্ভ করলো, তখন আর আগ্রহী না হয়ে পারলাম না। আফটার অল- বিষয়টা যখন আমার গ্রুপে যাওয়ার মতই রসালো একটা বিষয়! কাহিনী হলো- ঘটনাটা প্রথমদিকে ছিলো ছাড়া ছাড়া, এবং সংখ্যায় অনেক কম। আজ এই কবরস্থানে মাত্র একটা কবর খুড়ে লাশ বের করা হলো তো দুই দিন পর শহরের অপর প্রান্তের আরেক গোরস্থানে। তবে বিভৎস লাগলো যে ব্যাপারটা- সেটা হলো- লাশগুলো শুধু বের করেই কেউ ক্ষান্ত হচ্ছে না; সেগুলোর পচতে শুরু করা মাংস খুবলে খুবলে খুলে নিচ্ছে কেউ। সঙ্গত কারণেই মৃতের আত্মীয়-স্বজনের কাছে বিষয়টা খুব খারাপ লাগার কথা । আর হলোও তাই। এক পর্যায়ে তো অনেক এলাকায় লাশ দাফন করার পর মৃতের আত্মীয়-স্বজনেরা পালা করে পাহারাও দিতে শুরু করলো। আশ্চর্যজনক রিপোর্টটা এলো তখনি; শত পাহারা দিয়েও নাকি লাশগুলোর এমন করুণ পরিণতি ঠেকানো যাচ্ছে না। কোন এক বিচিত্র উপায়ে সকল পাহারা, সকল নজরদারি এড়িয়ে কে বা কারা তাদের কার্যসিদ্ধি করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত যা হয়, এবারেও তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেলো না। চায়ের দোকানে কি বেকার যুবকদের আড্ডায়, বাজারে কি অনলাইনে- এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা ভৌতিক কাহিনী ডালপালা মেলতে শুরু করলো। কেউ বললো- এটা লাশেদেরই কাজ, পৃথিবী ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না তারা কেউই। তাই নিজেরাই বেরিয়ে আসছে কবর থেকে। কেউবা বললো- সে নিজে নাকি এমন এক কবর-পাহারার গ্রুপে ছিলো, একদিন পাহারারত অবস্থায় গভীর রাতে তারা নাকি অসংখ্য ছায়াকে আসতে দেখে, আর তাদের ফিসফাস শব্দ শুনতে পায়। এরপর নাকি আর তাদের কিছু মনে নেই। জ্ঞান যখন ফিরেছে ততক্ষণে ক্ষতি যা হবার, সেটা হয়ে গেছে.... ইত্যাদি। আমি নিজেও একটু খোজ লাগানোর চেষ্টা করলাম, তথ্য যেটা পেলাম সেটাও বিস্ময়করই বলতে হবে। অসংখ্য ছায়া, তাদের ফিসফাস টাইপ বিষয়গুলো সত্য না হলেও বেশিরভাগ কবর-পাহারাদার গ্রুপের অভিজ্ঞতাই অনেকটা মিলে গেলো। বিষয়টা এরকম- রাতের কোন এক প্রহরে গ্রুপের সবাই চেতনা হারায়, যখন জ্ঞান ফিরে আসে- ততক্ষণে নাকি ক্ষতবিক্ষত লাশটা কবর থেকে বেরিয়ে এসেছে। দিন দিন বিষয়টা মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিচিত্র নয় খুব তাড়াতাড়িই হয়তো নগর-মেয়র তথা প্রশাসন থেকে আমরা এ বিষয়ে কোন বক্তব্য পাবো। ভাবলাম- তার আগেই যদি রহস্যের কিছুটা উদ্ধার করতে পারি- মন্দ কি ! কিন্তু কিভাবে কি করবো সেটা ভেবে কোন কূল-কিনারা পাই না। একটা কবর পাহারা গ্রুপের সাথে গিয়ে থাকবো কি কবরস্থানে? তাতেই বা লাভ কি হবে ! নতুন কোন তথ্য তো আর পাচ্ছি না ! এসব চিন্তা করতে করতেই হঠাত মাথায় একটা সম্ভাবনার কথা উকি দিয়ে যায় আমার। আচ্ছা- মানুষ না হয় পাহারা দিতে গিয়ে চেতনা হারাচ্ছে, কোন যন্ত্রও কি হারাবে? কথার কথা- কোন একটা মোবাইল গিয়ে লুকিয়ে যদি গোরস্থানে রেখে আসি, সেটাও কি বন্ধ হয়ে যাবে কোন কিছু ধারণ করার আগে ? আশ্চর্য- এ সহজ জিনিসটা মৃতের আত্মীয়-স্বজনদের মাথায় এলো না কেন? নাকি দুঃখ শোকে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারায়? সেটাই হবে হয়তো- তা না হলে.... আমার সে প্ল্যানটা কাজ করেছিলো ! প্রায় এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাকে ভিডিওটা ধারণ করতে। পরে ওটাকেই আমি আমার গ্রুপে আপলোড করে দেই। বলা বাহুল্য- ভাইরাল হয়েছিলো ভিডিওটা। ভিডিওতে গোরস্থানের আলোয় আবছাভাবে দেখা যায় একজন হালকা পাতলা যুবক আর তার চেয়ে দিগুণ লম্বা কোন একটা কিছুকে টার্গেট কবরের দিকে এগিয়ে যেতে। কবর-পাহারায় যে তিনজন ছিলো, তারা ততক্ষণে অচেতন। ছেলেটা যে মানুষ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু আগাগোড়া কালো কাপড়ে ঢাকা জিনিসটা যে কি, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই তখনো। জিনিসটার গা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে শিকল জাতীয় কিছুতে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো- সে শিকলটা যেনো আবার জীবন্ত। এক পর্যায়ে নুপূরের মত শব্দ তুলে প্রায় ১৪/১৫ ফুট লম্বা সে জিনিসটা খালি হাতে কবর খুড়তে শুরু করে.... বীভৎস অংশটা শুরু হলো এরপর। নিমিষে লাশটাকে বের করে এনে কালো জিনিসটা চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে উবু হয়, তারপর জন্তুর মত মাংস খাওয়া শুরু করে। পুরো ব্যাপারটা শেষ হতে সময় নেয় বারো মিনিটের মত। ভিডিওতে খুব স্পষ্টভাবে কিছু বোঝা যায় না, তারপরো মনে হলো- এ গোটা সময়ে ঝাকড়া চুলের সে ছেলেটি জন্তুটার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো। নীরবে দর্শক হয়ে তার কর্মকান্ড লক্ষ্য করে গেছে শুধু। ভৌতিক বিষয়টার শেষ হলো কিভাবে- এখন সে গল্পটাই বলে আমি নিজেও শেষ করছি। আমার ফেসবুক গ্রুপ থেকে ভিডিওটা আপলোড করার পর অপরিচিত এক আইডি থেকে আমার কাছে একটা মেসেজ আসে। পাঠকের সুবিধার জন্য আমি হুবহু সেই মেসেজটাই আপনাদের জন্য তুলে দিচ্ছি- "নাম বললে আপনি আমাকে চিনবেন না, তবে চেহারায় চিনলেও চিনতে পারেন ! আমিই সে ছেলেটি যার ভিডিও আপনি আপ্লোড করে দিয়েছেন। যেহেতু আপনার গ্রুপ থেকেই আমার ভিডিওটা ছড়িয়েছে, তাই মনে হলো- আপনার সাথেই পুরো বিষয়টা আসলে শেয়ার করা যায়; আর সে চেষ্টাটাই করেছি এখানে... বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একটা মেয়ের সাথে আমার খুব ভাব ছিলো। নাম ছিলো তার স্নিগ্ধা। নামের মতই এক অপার্থিব স্নিগ্ধতায় ঘিরে থাকতো স্নিগ্ধার চেহারা, কথাবার্তা কিংবা চলাফেরা, সবসময়। ফোর্থ ইয়ারের শেষের দিকে এসে আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারটা দু'জনের ফ্যামিলিতেই জানাজানি হয়। মেনেও নেয় সবাই। ঠিক হয়- পড়ালেখা শেষ করা মাত্র আমরা বিয়ে করবো.... ভাবছেন- কোন এক পিশাচ শক্তির মৃতদেহ খাওয়ার সাথে আমার এ ব্যক্তিগত ঘটনার সম্পর্ক কি? আছে, সম্পর্ক আছে ! বিশ্ববিদ্যালয় ২য় বর্ষ থেকেই স্নিগ্ধাকে উত্যক্ত করতো তাদের এলাকার কিছু ছেলেপিলে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা মেয়ে জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে হয়তো এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়, তাই এ বিষয়টাও হয়তো গা সহা হয়ে গেছে আমাদের সমাজের কাছে। বিশেষত উত্যক্তকারী ছেলেগুলো যদি হয় প্রভাবশালী, ধনী কারো সন্তান- তবে তো প্রতিবাদ করাটা আরো কঠিন। স্নিগ্ধার পরিবার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু কিছুতেই কিছু না হওয়ায় তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এটা আমরা যখন ফোর্থ ইয়ারে ছিলাম- তখনকার ঘটনা। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা আর হয় নি ! এলাকা ছেড়ে চলে যাবার আগের দিন, শীতের এক অন্ধকার রাতে স্নিগ্ধাকে তুলে নিয়ে গিয়ে রেপ করে সে পাঁচ যুবক। তারপর অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়.... স্নিগ্ধাকে বাঁচানো যায় নি পরে আর। ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতেই একদিন বাদে তার মৃত্যু হয়। পোস্ট-মর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী- রেপ করার পর ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিলো স্নিগ্ধাকে। সম্ভবত সবটা মিলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে অপরাধীরা। বিচারের জন্য অনেক ঘুরেছে স্নিগ্ধার পরিবার, কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারে নি। টাকার খেলা আর ক্ষমতার কাছে বারবার পরাজিত হতে হয়েছে তাদের। স্নিগ্ধা মারা যাবার পর আমি কয়েকদিন একটা ঘোরের মাঝে ছিলাম, পুরো বিষয়টাই অবিশ্বাস্য লাগছিলো আমার কাছে। প্রাকৃতিক নিয়মেই সময়ের সাথে সাথে আমার হৃদয়ের ক্ষতটা শুকিয়ে আসার কথা, কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম- কমার বদলে সেটা বাড়ছে বরং ! সর্বগ্রাসী এক শুণ্যতা ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে আমায়। তখনই ইন্টারনেটে আমি একটা সাইটের খোজ পাই। সেখান থেকেই জানতে পারি- প্রাচীন মিশরীয় এক কালো যাদুর শাস্ত্র সম্পর্কে। সে সাইটে দাবী করা হয়- খ্রিস্টের জন্মেরও কয়েক হাজার বছর পূর্বে নীলনদ তীরের সভ্যতায় এ কালো যাদুর অস্তিত্ব ছিলো। সে সময় নিজেদের ক্ষমতা খাটানোর জন্য তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে নানা অশুভ শক্তিকে যাদুকরেরা বশ করতেন; সাইটটাতে সেরকমই কিছু পিশাচশক্তিকে বশ করার উপায় দেওয়া ছিলো বিস্তারিত। ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো আকড়ে ধরে, আমারো তখন ছিলো সে দশা। তা না হলে- এ যুগে এমন গাজাখুরি গল্পও কেউ বিশ্বাস করে ! তবে বিশ্বাসের ফল যে কি হলো, তার প্রমাণ তো আপনার কাছেই আছে ! আশা করি- এখন অনেক কিছুই ক্লিয়ার হয়েছে। ভিডিওতে আমার সাথে যে কালো লম্বা মূর্তিটিকে দেখেছেন, সেটা ইতিহাসের গর্ভ থেকে উঠে আসা এক ভয়ংকর পিশাচ । স্নিগ্ধাকে যে পাচজন রেপ করেছিলো, তাদেরকে মেরে ফেলার জন্য আমি তাকে এখানে ডেকে আনি। তবে জীবিত কাউকে আক্রমণ করার আগে পিশাচটাকে পূর্ণ অস্তিত্বে, পূর্ণ ক্ষমতায় আবির্ভূত হতে হয়। বলতে পারেন- পিশাচটার কিছুটা পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিলো। সদ্য কবরস্থ মৃতদেহ তুলে তুলে মাংস খাওয়াটা- সে পূর্ব প্রস্তুতিরই অংশ। গতকাল আমার ডাকা এই পিশাচ- তার পূর্ণ অস্তিত্বে এসেছে। আর আজ যখন এ মেসেজ আপনাকে পাঠাচ্ছি, ততক্ষণে পিশাচটাও বেরিয়ে গেছে তার চূড়ান্ত মিশনে ! হয়তো পাঁচজন যুবকের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন লাশ কালই খবরের শিরোনাম হবে ! কতদিন পর আজ শান্তিতে ঘুমাবো আমি! -- দীপু বি.দ্রঃ সম্ভবত আমি আর বেশিদিন বাঁচবো না। কারণ যেসব মৃতদেহ আমার কারণে বিকৃত করা হয়েছে, তাদের অভিশাপ নেমে আসার কথা আমার উপর.... এমনই লেখা ছিলো নিয়মে।" ---------------------------- (শেষ কথা) স্বপ্ন দেখছে দীপু। কে ওটা ! স্নিগ্ধা না ! আহ, কতদিন পর দেখা হলো তাদের ! চার বছর/ পাঁচ বছর, নাকি আরো বেশি !! একেবারে পৃথিবীর মতই জোছনা উঠেছে দীপুর স্বপ্নে। রূপালি সে জোছনায় দীপু দেখলো- হাটুজলের এক নদীর পাড়ে বসে আছে স্নিগ্ধা, সাদা শাড়ি গায়ে। ঐ তো, ঐ তো স্নিগ্ধা ঘাড় ঘুরে তাকিয়েছে তার দিকে। কি মমতাময়, কি বিষণ্ণ সে দৃষ্টি! দীপু দৌড়ে স্নিগ্ধার কাছে যেতে চায়.... স্নিগ্ধাও নদীর পাড় থেকে উঠে আসে। তারপর........ তারপর মুখোমুখি হয় তারা দু'জন। দীপুকে দেখে একটু হাসে স্বপ্নলোকের সে মানবী। জোছনার মতই নরম গলায় বলে- "কেমন আছ?" "এতোদিন খুব খারাপ ছিলাম, কিন্তু আজ ভালো আছি খুব! কারণ তোমার খুনীরা সবাই কুৎসিত এক মৃত্যুর দেখা পেয়েছে।" এ কথা শুনে স্নিগ্ধা কিছু বললো না, মাথা নীচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে রইলো শুধু। "কি থেকে কি হয়ে গেলো স্নিগ্ধা ! তুমি কিংবা আমি কি কখনো এমনটা কল্পনাও করেছিলাম ! কত স্বপ্ন, কত সাধ ছিলো আমাদের..."- দীপু তার কথা শেষ করে উঠতে পারে না। গলার কাছে কি একটা যেনো দলা পাকিয়ে আটকে আসে। স্নিগ্ধাও কিছু বলে না। আগের মতই মাথা নীচু করে থাকে। বোঝা যায়- নিরবে চোখের পানি ফেলছে সে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে দীপু কাঁপা গলায় বললো- " মনে আছে, আমরা যে প্ল্যান করেছিলাম- বিয়ের পর একসাথে দু'জন সমুদ্র দেখতে যাবো ! তুমি পছন্দ করতে পাহাড়- আমি জানি ! কিন্তু আমার সমুদ্র পছন্দ জেনে- তুমি কক্সবাজার যেতে চেয়েছিলে...." স্নিগ্ধা মাথা নাড়ালো। তার মনে আছে। "বিশ্বাস কর স্নিগ্ধা। এখন আর আমার সমুদ্র ভালো লাগে না। মনে হয়- কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, কোন দুর্গম পাহাড়ে যদি হারিয়ে যেতে পারতাম...একেবারে চিরদিনের মত ! সমুদ্র দেখার সাধ আর আমার নেই !" কথোপকথনের এ পর্যায়ে এসে স্নিগ্ধা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। দীপু বুঝতে পারে, তার স্বপ্নও শেষ হয়ে আসছে। ছেলেটার প্রবল ইচ্ছে হয়- মাত্র এক হাত দূরেই দাঁড়িয়ে থাকা ক্রন্দনরত স্নিগ্ধাকে বুকে টেনে নিতে। মনে হয়- নিজের হাতে স্নিগ্ধার চোখের জলটুকুকে যদি সে মুছে দিতে পারতো.... কিন্তু তারা দু'জনই যে জানে, স্বপ্নলোকের সে ব্যবধান সামান্য হলেও, বাস্তবে তা যোজন যোজন ! (সমাপ্ত) ------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্নিগ্ধা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now