বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক......
অফিসের জন্য রেডি হচ্ছিলাম তখনি ছোট ভাই জয় রুমে আসলো। জয়কে দেখে বললাম,গুড মর্নিং।
জয়: হুম গুড মর্নিং ভাইয়া। ব্রেকফাস্ট করেছো তুমি??????
আমি: না,এই তো রেডি হয়ে করবো।
জয়: ওহহহ।
এরপর জয় চুপ করে থাকলো কিছুক্ষণ। ততক্ষণে আমি অফিসের জন্য রেডি হয়ে গেছি। জয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওহহ এখনো বসে আছে। তাই আমি বললাম,কি রে কিছু বলবি??? নাহলে চল ব্রেকফাস্ট করতে যাওয়া যাক।
জয়: হ্যা মানে ভাইয়া কথা ছিল কিছু।
আমি: তা এতো দ্বিধা করছিস কেন বলতো??? যা বলার নির্ভয়ে বলে ফেল আমি কি তোকে খেয়ে ফেলবো নাকি!
জয়: তেমন কিছু না ভাইয়া। আসলে আমার কিছু টাকা দরকার ছিল।
জয়ের কথা শুনে আমি হেসে ফেললাম। জয় কোনদিন আমার কাছে টাকা চাওয়া নিয়ে এতো দ্বিধা করে না। কিন্তু আজ করছে কেনো??? ঠিক তখনি মনে পড়ে গেলো জয় তো কিছু দিন আগেই আমার কাছে টাকা নিয়েছে তাই হয়তো একটু দ্বিধা করছে। দ্বিধা বললে ভূল হবে একটু ভয় করছে আর কি। কেননা জয় জানে আমি ওওর বিষয়ে কতোটা সেনসিটিভ। তাই মাঝেমধ্যে জয়ের বিষয়ে কঠোর হয়ে যাই। হবোই না কেন???? একমাত্র ভাই আমার এমনকি বলতে গেলে বন্ধু। তাই জয়কে নিয়ে খুব চিন্তায় থাকি। যদি খারাপ পথে চলে যায় এই ভয়ে। আসলে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে টাকার প্রতি মায়া ঠিক না। তাই মাঝেমধ্যে কঠোর হয়ে জেরা করি। অনেক চেষ্টা করি জয়কে টাকা না দেয়ার কিন্তু নিজের কাছে পেরে উঠতে পারিনা। যদি টাকা চাওয়ার পিছনে যথার্থ কারন থাকে তবেই জয়কে টাকা দেই।
জয় চুপ করে আছে দেখে বললাম,আগে যে টাকা দিলাম তা কি করছিস????
জয়: ভাইয়া আসলে এক স্পেশাল জনের বার্থ ডে তো তাই একটু সারপ্রাইজ প্লান করেছি।
আমি: স্পেশাল ওয়ান! বাহ বাহ তা কে শুনি???
জয়: হুম সময় হলে বুঝতে পারবে।
আমি: ওহহ তা টাকা কখন লাগবে????
জয়: তুমি অফিস থেকে ফিরে এসে দিলেও চলবে।
আমি: আচ্ছা চল ব্রেকফাস্ট করতে।
ব্রেকফাস্ট করে অফিস চলে গেলাম। অফিস তেমন কাজ ছিল না বলে রাতে চটজলদি বাসা ফিরে আসলাম। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে জয়ের রুমে গেলাম। রুমে গিয়ে দেখি জয় অনেক গিফট প্যাকিং করছে। তা দেখে আমি বললাম,কি করছিস জয়?????
জয়: আরে ভাইয়া আসো। দেখতে পাচ্ছো না কি করছি।
আমি: হুম তো দেখতে পাচ্ছি। তা এতো গিফট কার জন্য।
জয়: ওই যে বললাম না স্পেশাল একজন।
আমি: একটু অবাক হয়ে- বলিস কি! একজনকে এতো গিফট দিবি????
জয়: আরে না। এগুলো সারপ্রাইজের অংশ। বললাম তো পড়ে সব বুঝতে পারবে।
আমি: হুম ঠিক আছে। তা এতটা উদার তুই কোনদিন হইলি বলতো। এতো বেশ টাকার ব্যাপার। নিশ্চয় টাকা অনেকদিন ধরে জমা করেছিস। তা আমার ভাই এতো পরিবর্তনের কারন সেই স্পেশাল একজনটা কে তা দেখার কৌতূহল কিন্তু বেড়েই চলেছে।
জয়: স্পেশাল মানুষের জন্য সব করা যায়। জানো ভাইয়া এতোটাকা জমিয়েও শেষ মুহূর্তে এসে টাকা শর্ট পড়ে গেলো। তাই তোমার কাছে টাকা চাইতে বাধ্য হলাম।
আমি: আহা এমন করে বলছিস কেন। এই নে তোর টাকা।
জয়: খুশি হয়ে- ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমি: ভ্রু কুঁচকে - কি বললি???
জয়: উফফস সরি আর কখনো ধন্যবাদ বলবো না।
আমি: হুম মনে রাখবি আপনজন কে কখনো ধন্যবাদ বলবি না। ধন্যবাদ বললে সম্পর্কে কেমন জানি ফর্মালিটি কাজ করে। যা অন্ততপক্ষে আমার কাছে অসহনীয়।
জয়: আচ্ছা ভাইয়া মনে রাখবো।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে নিজের রুমে চলে আসলান। রাতে খাওয়া করে একটু জলদি ঘুমিয়ে গেলাম।
বেশ ক্ষানিক পর রুমে চিল্লানি শুনতে পেলাম। শেষমেষ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। ঘুম ঘুম চোখ খুলে দেখি জয় ফুল নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি শোয়া থেকে উঠে গেলাম। ঠিক তখনি আবার জয় বলল,হ্যাপি বার্থ ডে ভাইয়া!
আমি যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আজ কতো তারিখ তা দেখার জন্য ফোন চেক করে দেখলাম। ঠিকি তো আজ আমার জন্মদিন। তারমানে জয় এতো কিছু আমার জন্য আয়োজন করেছে। ঠিক তখনি জয় আমার দিকে ফুল এগিয়ে দিলো।
আমি: আবেগপ্রবণ হয়ে- হুম খুব সুন্দর ফুলগুলো।
জয়: আগামীকাল কিন্তু অফিস ছুটি নিতে হবে। সারাদিন আমাকে সময় দিবে কিন্তু।
আমি: আচ্ছা ঠিক আছে বাবা। অনেক রাত এখন। চল আমার সাথে ঘুমাবি।
জয় কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে গেলো। সত্যি ছেলে টা যে এতো ঘুম কাতুরে ভাবার মত নয়। আর একদিকে আমার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নিজেকে সত্যি খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। সত্যি আপনজনের ভালবাসা গুলো অন্যরকম হয়। যা দুনিয়াতে থেকে স্বর্গীয় সুখানুভূতি সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
দুই......
পরেরদিন খুব সকালে উঠে গেলাম। জয়কে দেখি এখনো ঘুমিয়ে গেছে। খুব নিষ্পাপ লাগছিল জয়কে। ওকে আর না জাগিয়ে আমি ফ্রেশ হতে গেলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি জয়ও জেগে গেছে। একসাথে আব্বা আম্মা জয় আমি সবাই ব্রেকফাস্ট করলাম অনেকদিন পর। সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকি তাই একসঙ্গে খাওয়া করা খুব কম হয়।
ব্রেকফাস্ট শেষ হতে না হতে জয় জেদ ধরে বসলো এখনি বাইরে আমার সাথে ঘুরতে যাবে। অনেক নিষেধ করলাম একটু পর যাই। কিন্তু জয় ওর কথামত বাইরে যাবেই। জয়ের জেদের সাথে আর না পেরে বাইরে যাওয়ার জন্য রেডি হলাম। আব্বা আম্মাকে সালাম করে বাইক নিয়ে বের হয়ে গেলাম জয়ের সাথে।
বাসা থেকে বের হয়ে বাইক যখন স্টার্ট দিবো তখনি জয় বলল,ভাইয়া ভাইয়া একটু থামো।
জয়: কেন রে??? এতক্ষণ তো জালিয়ে মারলি যে ঘুরতে যাবি। আর এখন আবার কি হলো হু।
জয়: না মানে ভাইয়া গিফট গুলো এক জায়গাতে পাঠাতে হবে। জামিল কাক্কু(কাজের লোক) কে এড্রেস দিবো উনি না হয় পাঠিয়ে দিবে।
আমি: হুম তা এত্তো গুলো গিফটা কোথায় পাঠাবি বলতো???
জয়: হিহিহিহি তা তো বলা যাবে না। সারপ্রাইজ সবই সারপ্রাইজ।
আমি: আচ্ছা দেখবো কি তোর সারপ্রাইজ। এখন যা করার তাড়াতাড়ি কর।
জয় আমার কথা শুনে প্রায় দৌড়ে বাসায় গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর জয় বের হয়ে আসলো। তখন আমি বললাম,কোথায় যাবি বলতো????
জয়: আমাদের মিলনস্থল পুকুরপাড়ে চল।
আমি: আচ্ছা উঠে পড় বাইকে। আর এই নে হেলমেট পড়।
জয়: কিন্তু ভাইয়া বাইক তো তুমি চালাবে। তাই তুমি হেলমেট না পড়ে আমাকে দিচ্ছো কেন?????
আমি: ওই এতো কথা বলিস কেন??? যা বলছি তাই কর।
জয়: কিন্তু ট্রাফিকপুলিশ?????
আমি: তা আমি ম্যানেজ করে নিবো।
জয় আর কিছু না বলে হেলমেট পড়ে নিলো। বাইকে বসার আগে বলল, ভাইয়া শুনছো?????
আমি: হুম কিছু বলবি।
জয়: না মানে বাইক যদি আমি......
আমি: তুই চালাবি তাইতো। না শহরে যে ভিড় হয় তোকে আমি মোটেই বাইক চালাতে দিবো না। শহর পেরিয়ে নাহয় খোলামেলা রাস্তায় বাইক তোকে চালাতে দিবো।
জয়: মন খারাপ করে- হুম।
আমি: ওই ঢং করবি না বলে দিলাম। যা এখন আর তোকে বাইক চালাতে দিবো না কোথাও।
জয় আর কিছু না বলে মন খারাপ করে বাইকে বসে পড়লো। বাইক স্টার্ট দিয়ে চললাম গন্তব্যের দিকে। শহর পেরিয়ে লুকিং গ্লাসে জয়কে দেখলাম এখনো মন খারাপ করে বসে আছে। কেনো জানি নিজেকে খুব অপরাধী মনে হতে লাগলো। না কিছু একটা করতে হবে। ঠিক তখনি বললাম: জয় চোখে না কি যেন পড়লো রে।
জয়: উদ্বিগ্ন হয়ে- কি বল ভাইয়া! বাইক সাইড করে থামাও আমি দেখছি।
বাইক সাইড করে থামালাম। জয় আমার চোখে ফু দিয়ে দিচ্ছিল। যদিও আমার চোখে কিছু পড়েনি তবুউ ভালবাসার এ অনুভূতি খারাপ লাগছিল না।
'জয় শুনছিস???? আমি জয়কে বললাম।
জয়: হুম ভাইয়া বল।
আমি: বলছি যে আমার চোখ একটু জ্বালা করছে তাই বাইক নাহয় তুই চালা।
জয়: খুশি হয়ে- কি সত্যি!
আমি: হুম কিন্তু বাইকের স্পিড যেন ৪০এর উপরে না যায়। আর হেলমেট এক মুহূর্তের জন্য খুলবি না।
জয়: আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি কেন যে আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা করো বুঝি না।
আমি: তোকে এতো বুঝতে হবে না। নে বাইক স্টার্ট দে।
জয় খুশি খুশি বাইক স্টার্ট দিলো। আমিও বাইকের পিছনে বসে পড়লাম । বেশ সময় পর পুকুরপাড়ে পৌঁছে গেলাম। আজ কতদিন পর পুকুরপাড় আসলাম মনে নেই তবে বেশ সময় হবে। জায়গা টা এখনো আগের মতো মনোমুগ্ধকর দেখতে। বাইক সাইড করে থামিয়ে ঘাসের উপর বসে পড়লাম।
ততক্ষণে জয় তার ননস্টপ রেডিও চালু করে দিয়েছি। আমি কিছুনা বলে চুপচাপ করে জয়ের কথা শুনছিলাম। জয় যে এতো কথা মনের ভিতর পুষে রেখেছে তা আমার ধারনার বাইরে ছিল। জয় হঠ্যাৎ কথা থামিয়ে বলল,ভাইয়া ঝালমুড়ি খাবে।
আমি : হুম খাওয়া যায়। এই নে টাকা।
জয়: না ভাইয়া টাকা লাগবে না। আজকের ট্রিট আমার পক্ষ থেকে।
আমি : তা কেমন করে হয়। বার্থ ডে আমার আর ট্রিট দিবি তুই! এ কেমন কথা। আর তুই আর চাকরি করিস না যে এভাবে নিজের টাকা খরচ করবি।
জয়: অতো ফর্মালিটি আমি বুঝি না। তুমিই তো আমাকে শিখিয়েছো আপনজনদের মাঝে ফর্মালিটি জিনিসটা থাকতে নেই। আর টাকা গুলো তো তোমারি দেয়া।
আমি আর কিছু বললাম না। এই ছেলের সাথে কথা দিয়ে আমি পারবো না। তাই চুপচাপ জয়ের কথামতো কাজ করে যাচ্ছিলাম। অনেক আড্ডা দিলাম দুজনে। দুপুরবেলা শেষদিকে জয়ের কথামতো পুকুরপাড় থেকে চলে আসলাম। জয় আবার আমাকে শহরের একটি হোটেলে নিয়ে গেলো।
হোটেলে প্রবেশ করা মাত্র অপু, তুলনা,ইশরাত,জাহান আরো অনেককে দেখতে পেলাম। আমি যে অনাথাশ্রমের দেখাশুনা করি এরা সেখানে থাকে। আজকে এদের নিয়ে ঘুরতে যাবো ভেবে রেখেছিলাম। তার আগে জয় এমন কিছু করবে ভাবতে পারিনি। বাচ্চা গুলো আমাকে দেখামাত্র দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। একের পর এক সবাই আমাকে উইশ করছিল। নিজেকে খুব খুশিখুশি লাগছিল। ঠিক তখনি জয় বলল, সারপ্রাইজ কেমন লাগলো ভাইয়া ???
আমি: হুম কি বলবো বুঝতে পারছি না। কিন্তু তোর সারপ্রাইজে সত্যি আমি সারপ্রাইজড।
জয় আর কিছুনা বলে আমার হাত ধরে হোটেলের একপাশে টেবিলে বসে পড়লো,আমিও বসে পড়লাম। আর বাচ্চাগুলো আমাদের আশেপাশে টেবিলে বসলো।
জয় সব বাচ্চাদের জন্য খাবার অর্ডার করলো। বাচ্চারা মন ভরে খাবার খাচ্ছিল। সচারচর বাচ্চারা এমন খাবার খেতে পারে না। তাদের এমন তৃপ্তিকর মুখগুলো দেখে মন ভরে গেলো।
ঠিক তখনি জয় নিজেকে কেন জানি লুকানোর চেষ্টা করছিল। তা দেখে আমি বললাম, কি রে কি হয়েছে???
জয়: একটা মেয়ে আমাদের দিকে আসছে তাই না????
আমি: হুম তো???
জয়: ওই বদ মেয়ের সাথে ভার্সিটি তে একটু মজা করেছি বলে আমাকে গোয়েন্দার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার নাকি পা ভেঙ্গে ছাড়বে! তুমি এখানে থাকো আমি আসছি।
জয় জলদি সেখান থেকে পালিয়ে গেলো। তা দেখে মেয়েটা দ্রুত হেটে আমার টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে পড়ল। খুব হাপাচ্ছিল মেয়েটা। আমি মেয়েটার দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলাম। মেয়েটা ঢকঢক পুরো পানি সব খেয়ে নিলো। একটু দম নিয়ে বলল,কোথায় গেলো হারামী পোলাটা হুম???? আজ আমি ওর ঠ্যাঙ ভেঙে ছাড়বো। কতদিন পালাবে আমার কাছ থেকে আমিও দেখে নিবো।
মেয়েটা এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে উঠে হাটা শুরু করলো। একটু গিয়ে আবার ফিরে এসে আমাকে বলল,আপনাকে দেখে তো খুব ভালো মনে হচ্ছে। ওই বদ পোলা আপনার যে হোক না কেন ওকে বলে দিবেন আমি ওকে ছাড়ছি না।
মেয়েটা কথাগুলো বলে হনহন করে হেটে হোটেল থেকে চলে গেলো। ঠিক তখনি জয় আমার কাছে এসে হাজির। জয়কে আর কিছু বললাম না। ততক্ষণে বাচ্চাদের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। খাওয়া শেষ হওয়া মাত্র জয় সবার হাতে গিফট দিয়ে দিলো। আমি আবার কেক কাটা পছন্দ করি না। তাই জয় হয়তো সেজন্য তার আয়োজন করেনি।
হোটেল থেকে বেরিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে অনেক জায়গা ঘুরলাম। ঘুরাঘুরি হয়ে গেলে বাচ্চাদের অনাথাশ্রমে রেখে আসলাম। তারপর বাসা ফিরে গেলাম।
জীবনের এমনকিছু মুহূর্ত আসে যা কখনো ভূলে যাওয়ার মত হয় না। মনের এক কোনায় সেই মুহূর্তের স্মৃতিগুলো বেচে থাকার প্রেরণা জোগায়।
এই দিনটাও সেরকম ।
তিন......
সময় সময়ের মত চলে চাচ্ছিল। এর মাঝে
সেদিনের হোটেলের মেয়েটাকে এখন প্রায়দিন বাসায় দেখতাম। মহল্লা তেও প্রায়শই লক্ষ্য করতাম মেয়েটাকে। মেয়েটা দেখতে খুব মিষ্টি। কিন্তু মুখে একটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব আছে। যা মেয়েটাকে আরো সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে।
জয়কে মেয়েটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি মেয়েটার নাম তানহা। জয়ের সাথে পড়ে আর ওর বাসাটাও নাকি আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে। জয়ের সাথে প্রথমে তানহার ঝগড়াটে সম্পর্ক হলেও এখন নাকি তারা খুব ভালো বন্ধু। তানহার সাথে তেমন একটা কথা হতো না। তবে যখনি তানহার সাথে চোখাচোখি হতো ঠিক তখনি তানহা লজ্জা মাখা হাসি উপহারস্বরুপ দিতো মনে হয় ।
কিছুদিন পর........
অফিসের কাজে এক জায়গায় যেতে হয়েছে আজ। কিন্তু এখানে এসে ফেসে গেছি। কোন রিক্সা নেই এখানে। রিক্সা খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত শরীরে যখন হাপিয়ে গেছি। এমন আবহাওয়াতেও ঘেমে গিয়ে শেষ আমি। ঠিক তখনি তানহা রিক্সা নিয়ে হাজির। আমাকে দেখে বলল,অভ্র ভাইয়া আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো????
কথাটি বলে রিক্সা থেকে নেমে গেলো । আমি কোনোমতে বললাম,আসলে অনেকক্ষণে ধরে অপেক্ষা করছি কিন্তু কোনো রিক্সা পাচ্ছি না।
তানহা: বলেন কি??? আচ্ছা ঠিক আছে আসেন রিক্সায় উঠেন। আমার সাথে নাহয় গেলেন।
আমি কোনো কিছু না ভেবেই রিক্সায় উঠে গেলাম। শরীর যখন খারাপ লাগছে তখন আর ভণিতা করে চলে না।
বাসায় এসে সত্যি সত্যি অসুস্থ হয়ে গেলাম। জয় আমাকে এভাবে দেখলে হয়তো চিন্তায় পাগল হয়ে যেতো। কিন্তু জয় বাসায় নেই।
নানার বাড়ি বেড়াতে গেছে।
সন্ধ্যাবেলা আমাকে অবাক করে তানহা আমাকে দেখতে আসলো। মেয়েটা কেমন করে জানলো আমি অসুস্থ। কিন্তু মেয়েটা আমাকে এভাবে দেখে কেমন জানি ব্যবহার করতে লাগলো। যেনো তার কাছের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। সত্যি আমি যেন এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম। না জানি আব্বা আম্মা কি ভাবছে। এই মেয়েটার এমন আচরণে সবাই অবাক হবে তাই স্বাভাবিক।
আজ তিনদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছি। অফিস যাওয়া হয়নি এ কদিন। এমনকি বাইরে আলো বাতাস পর্যন্ত শরীর স্পর্শ করেনি। বিকেল বেলা বিছানা বসে এক উপন্যাসের বই পড়ছি। আর আম্মার দেয়া কড়া রং চায়ে চুমুক দিচ্ছি।
এমন সময় তানহা রুমে এসে হাজির। রুমে আসা মাত্র আমার কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কি না তা দেখলো। তখনি আমি বললাম,জ্বর নেই এখন তাই তো।
তানহা: হুম নেই বলতে গেলে। এখন অনেকটা বেটার লাগছে আপনাকে।
আমি: আমিও তো বলেছিলাম।
তানহা: হুম হয়েছে। চলেন রেডি হয়ে নেন বাইরে থেকে আমার সাথে নাহয় একটু ঘুরে আসবেন।
তানহার কথায় কেনো জানি মনে মনে খুবি খুশি হলাম। কিন্তু এভাবে তো আর সরাসরি হ্যা বলা যায় না। তাই একটু নাটক করে মানা করছিলাম। কিন্তু মনের ভিতর এক ভয় কাজ করছিল যদি তানহা ওর মত পাল্টে ফেলে। তখনি তানহা রুম থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ পর আম্মাকে নিয়ে হাজির হলো। আম্মা যখন বাইরে ঘুরে আসতে বলল তখন আর নিষেধ করতে পারিনি।
বাইরে গিয়ে রিক্সা নিবো কিন্তু তানহা নিতে দিলো না। তানহা নাকি হেটে যা ঘুরার ঘুরবে। তানহার সাথে পাশাপাশি হাটতে পারার অনুভূতি টা প্রকাশ করার মত না। অনেক টা পথ হাটার পর তানহাকে লক্ষ্য করলাম হাপিয়ে গেছে। তখনি তানহাকে বললাম, চল একটু জিরিয়ে নেই।
তানহা: আচ্ছা চলুন।
একটু এগিয়ে লক্ষ্য করলাম পাশে একটা আমগাছ তলায় অনেকে বসে আছে। তানহাকেও নিয়ে ওখানে বসলাম। আমগাছ তলায় বসা মাত্র তানহা আমাকে বলল,আজকে আমাকে কেমন লাগছে?????
আমি: বরাবরের মত ভালো।
তানহা: হুম ঠিক মত দেখুন তো আমাকে কি বরাবরের মত দেখতে লাগছে নাকি আজ ভিন্ন।
আমি তানহার আপাদমস্তক দেখে নিলাম। সত্যি তো আজ তানহাকে আজ ভিন্ন লাগছে। তানহা ব্লাক কালারের শাড়ি পড়েছে,হাতে রংবেরঙের চুড়ি,কপালে ছোট্ট একটা টিপ সব মিলিয়ে তানহাকে খুব মিষ্টি লাগছিল। তানহা বাসায় আসা থেকে এখন পর্যন্ত তেমন ভাবে খেয়ালি করিনি। আসলে এক ঘোরের মধ্যে ছিলাম তাই হয়তো।
"কি বললেন না তো কেমন লাগছে আমায়???? তানহার কথায় বাস্তবে ফিরলাম। কোনো মতে আমি বললাম, খুবি মিষ্টি লাগছে।
আমার কথা শুনে তানহা মুচকি হেসে বলল,চলেন যাওয়া যাক।
তানহার সাথে আবার হাটা শুরু করলাম। ভালোই কাটছিল সময়। অসুস্থ থাকার কারনে যে একঘেয়েমিতার মাঝে ছিলাম তা অন্ততপক্ষে দূর হয়েছে। কিছুসময় হাটার পর তানহা ফুচকার স্টল দেখে জেদ করলো ফুচকা খাবে। তানহা ঠিক বাচ্চাদের মত করছিল। আমি দেরি না করে তানহাকে ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে গেলাম। আর একটু দেরি করলে না জানি এ মেয়ে আবার কি করে বসবে।
তানহার ফুচকা খাওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি খুবি অবাক হলাম। যেখানে আমার এক প্লেট শেষ হয়নি সেখানে ওর চার-পাচ প্লেট শেষ। সত্যি মেয়েরা ফুচকার মধ্যে কি যে অমৃত পায় তা কোনো মহানুভব এ ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
"আমাকে আপনার কেমন লাগে??? " তানহার এমন প্রশ্নে ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরলাম। তানহা ঠিক কি বুঝাতে চাচ্ছে বুঝলাম না। সিউর হওয়ার জন্য আবার বললাম,ঠিক বুঝলাম না?????
তানহা: না মানে আপনি আমাকে কোন নজরে দেখেন??????
এবার পুরোপুরিভাবে সিউর হলান তানহা ঠিক কি বুঝাতে চাচ্ছে। সত্যি বলতে তানহার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে মেয়েটার জন্য এক অন্যরকম অনুভূতির মুখোমুখি হয়ে পড়ি । আমি জানি এ মেয়েটা এতদিনে আমার মনে ছোট্ট একটা জায়গায় নিজের নামে দখল করে নিয়েছে। তানহার মনেও যে ঠিক এরকম অনুভূতি কাজ করে এ কয়েকদিনে তা বুঝে গেছি। ঠিক তখনি মাথায় শয়তানি চেপে বসলো। তাই তানহাকে বললাম,তুমি জয়ের সমবয়সী তাই জয় আমার কাছে যেরকম তুমিও তাই।
না জানি তানহা কি বুঝলো। কিন্তু আমার কথা শোনামাত্র মুখে যেনো অমাবস্যা নেমে আসলো। তখনি তানহা আমাকে বলল,আমি বাসা যাবো।
তানহাকে নিয়ে এখন রিক্সায় বসে বাসা যাচ্ছি। মেয়েটা গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আড়চোখে তানহাকে দেখে খুব হাসি পাচ্ছিল। আবার খারাপও লাগছিল। কিন্তু তানহা যে আমার প্রতি দুর্বল একটু হলেও হয়েছে তা এখন স্পষ্ট ।
কোনো মহানুভব ঠিকি বলেছিলেন, নারী রেগে গেলেই তার আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে। তা তানহাকে আড়চোখে দেখে হারে হারে টের পাচ্ছিলাম।
চার.......
কিছুদিন পর....
জয় বাসায় ফিরে এসেছে। তানহা আমাদের বাসায় আসলেও আমার সাথে কথা বলছে। আবার চোখাচোখি হলেও ভেংচি মেরে চলে যায় আমার সামনে থেকে। সময়গুলো ভালোই কাটছিল।
আবার সেই ভবঘুরে জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। কাউকে সময় দেয়া হয় না। সকাল সকাল অফিস যাই আবার রাত করে ফিরে আসি। অফিসের কাজ করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আবার পরেরদিন সেই অফিস। এভাবে কাটছিল দিন। সত্যি চাকরি মানে অন্যের আদেশে চাকরের মত কাজ করা। প্রাইভেট জবগুলোতে এভাবে খাটিয়ে মারে। কিন্তু উপায়ও নেই। বাংলাদেশের মত দেশে যখন চাকরি সোনার হরিণ তখন এতটুকু কষ্ট হজম করতে হয়।
ছুটির দিনগুলো তে তানহার সাথে দেখা হয়। মেয়েটা হয়তো ভেবেছিল আমি ওর রাগ ভাঙ্গাবো কিন্তু তা আর হলো কই। তানহা প্রায়শই সেজেগুজে আমার কাছাকাছি ঘুরঘুর করতো হয়তো কথা বলার জন্য কিন্তু তা হয়ে উঠতো না। অফিস থেকে ফিরে রুম দেখতাম অনেকটা গোছালো। আমার বুঝতে কষ্ট হতো এগুলো কার কাজ।
আজো রোজদিনের মত অফিস থেকে রাত করে বাসায় আসলাম। খাওয়া করে শুয়ে পড়লাম কিন্তু ঘুম আসছিল না। হঠ্যাৎ করেই তানহার কথা খুব মনে পড়ছিল। মেয়েটার সাথে বেশ সময় হলো কথা হয় না। মন কেমন জানি আনচান করছিল।
"ভাইয়া চল না ছাদে গিয়ে একটু আড্ডা দেই। কতদিন তোমার সাথে ঠিকমতো কথা হয় না। জয়ের কথায় বাস্তবে ফিরলাম। জয়তো ঠিকি বলেছে,কতদিন ওর সাথে মনখুলে কথা হয় না। না জানি লেখাপড়া কেমন চলছে,কোন সমস্যায় পড়েছে কিনা তাও জানি না। ভাবছি তানহাকে নিয়ে মনে যে অনুভূতি কাজ করছে তা জয় কে বলবো। এই প্রথম মনে হয় জয়ের কাছে মনের কোনো কথা গোপন রেখেছি। না তা আজ বলে দিবো। কোনোকিছু আর না ভেবে জয়ের সাথে ছাদে গেলাম।
ছাদে যাওয়ার পর মনে হল এই হীম শীত আবহাওয়ায় চা হলে আড্ডা জমে যাবে। তাই জয়কে জিজ্ঞেস করলাম চা চলবে কিনা????
জয়: ওয়াও ভাইয়া আড্ডাতে চা তাও আবার তোমার হাতের! চলবে মানে দৌড়বে।
আমি: আচ্ছা একটু অপেক্ষা কর আমি চা নিয়ে আসছি।
বেশ খানিক পর চা নিয়ে আসলাম ছাদে। জয় আর আমি দুজনে পাশাপাশি বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম। দুজনে চুপচাপ করে আছি। আমি কিছু বলতে যাবো জয় নিজে তার আগে বলল, ভাইয়া তোমাকে কিছু বলার ছিল।
আমি: অবাক হয়ে- হুম কি বলিস! আমারো তোকে কিছু বলার আছে।
জয়: হুম তাহলে তুমি আগে বল।
আমি: না তোর কথা আমার কাছে বেশি ইম্পরট্যান্ট। তাই তুই আগে বল।
জয়: ভাইয়া আই থিংক আই ফল ইন লাভ। আমি একজনকে ভালবেসে ফেলেছি।
আমি: হাহাহা এতে আর নতুন কি! এ নিয়ে কত নাম্বার শুনি।
জয়: ভাইয়া আমি সিরিয়াস।
আমি: হুম তবে মনে রাখিস এটা এমন একটা ফাদ যদি মন না বলে তাহলে পা ফেলতে নেই। এতো জলদি না করে আর একটু ভেবে দেখ তোর ফিলিংসগুলো কি সত্যি ট্রু।
জয়: আচ্ছা আচ্ছা ভাইয়া।
আমি: তা মেয়েটা কে শুনি???
জয়: হু তুমি তাকে চিনো তানহা সে।
.
জয়ের কথা শুনে হালকা ধাক্কা খেলাম। কিন্তু তাৎক্ষনিক নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোল করে জয়কে বললাম, ওহহ গ্রেট। তা প্রপোজ করবি কোনদিন????
জয়: হুম দেখা যাক। আর তুমি কি বলতে চাও শুনি।
জয়কে এখন তো তানহার কথা বলা যাবে না। জয় খুব কষ্ট পেতে পারে। জয়কে মিথ্যা কোনো কথা বলতে হবে। তাই আমি জয়ের দিকে একটু হেসে বললাম,আমার প্রমোশন হয়েছে।
জয়: ওয়াও গ্রেট।
জয়ের সাথে টুকটাক কথা বলে একটুপর রুমে শুয়ে পড়লাম। না জয়কে এ সম্পর্কে কোনোকিছু আচ্ করতে দেওয়া যাবে। জয় আমার কাছে এমন একজন যার জন্য সবকিছু করতে পারি সবকিছু। জয়ের ওর ভালবাসা পাওয়ার জন্য যা করার সব করবো আমি।
কিছুদিন পর......
আগে তানহার সাথে ব্যস্ততার জন্য অবহেলা করেছি এখন নিজ থেকে করছি। এদিকে জয় তানহাকে নাকি প্রপোজ করেছিল। তানহা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি ওওহ অন্য কাউকে ভালবাসে। আমি জানি সে কে।
কিন্তু এদিকে জয় একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। খাওয়া দাওয়া, ভার্সিটি যাওয়া সব বন্ধ করে দিছে। জয়ের এ অবস্থার জন্য পরোক্ষভাবে হলেও আমি দায়ী। আমার কিছুনা কিছু করতে হবে।
.
বেশ কয়েকদিন ধরে তানহাকে ইগনোর করার মাত্রা একেবারে বাড়িয়ে দিয়েছি। আমার বিশ্বাস তানহার মনে যদি আমাকে নিয়ে ঘৃণা তৈরি করতে পারি তাহলে নিশ্চয় তানহা জেদের বশে জয়ের প্রপোজাল গ্রহন করবে। এর থেকে বেশি কিছু চাই না।
পাচঁ.......
আজ প্রায় দুমাস হলো বাসা ছেড়ে রংপুরে এসে রয়েছি।
তানহার কাছে ঘৃণিত হতে কতো কিছু না করেছি কিন্তু কাজে দেয়নি। তাই আমি বড় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়ে যাই। যেকোনো মানুষ ভালবাসার মানুষের অবহেলা সহ্য করে নিতে পারে কিন্তু প্রতারণা নয়। আর আমি সেখানেই হাত দিয়েছি।
.
আমার কলিগ তৌশি বরাবরি আমার অনেক কাছের ছিল। যখন তৌশিকে আমার প্লান সম্পর্কে বলি ওওতো এমন কিছু করতেই চাচ্ছিল না। কিন্তু আমি যখন আমাদের বন্ধুত্বের কসম দিলাম তখন আর না করতে পারেনি।
সেদিন শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সবাই বাসায় ছিল। আর প্লান মত তৌশি রাতে আমাদের বাসায় আসে। আমি তৌশিকে যা যা বলেছিলাম ঠিক তা তা তৌশি বাসার সবাইকে জানায়।
আমি নাকি তৌশির সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন করে ছেড়ে দিয়েছি। শুধু তৌশির সাথে নয় আরো অনেক মেয়ের সাথে। সাথে আরো যত খারাপ কথা বলা যায় তৌশি আমার সম্পর্কে বলেছিল। সবাই বিশ্বাস না করলেও আব্বা আমার উপর খুব রেগে যায়। আমার বিশ্বাস ছিলো একথা গুলো তানহা যে করেই হোক জানতে পারবে আর আমি যা চাই তা হবে।
.
আমার বাসা থেকে চলে আসার কোনো প্লান ছিলো না। কিন্তু হঠ্যাৎ কেনো জানি মনে হলো বাসা থেকে চলে আসলে আমার কাজ আরো ইজি হয়ে যাবে। তাই অফিস থেকে রংপুর শাখা অফিসে ট্রান্সফার নিয়ে এখানে আসা।
কিছুদিন পর.....
কয়েকদিন ধরে বাসার কথা খুব মনে পড়ছে। না জানি আম্মাকে ছাড়া ঠিক কেমন আছে। আর জয় মনে হয় আমাকে খোজার জন্য যা যা করার করে ফেলেছে। যদিও আমি তার সকল ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছি।
.
আজ হঠ্যাৎ মেসে এসে জয়কে দেখে যেন আকাশ থেকে পড়লাম। জয় কেমন করে জানলো আমি কোথায় আছি।
এখন বাসে বসে আছি জয়ের সাথে। আম্মা নাকি খুব অসুস্থ। আমাকে দেখার জন্য খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাই আমাকে বাসায় যেতে হচ্ছে।
বাসে দুজনে চুপ করে আছি। আমার কেনো জানি এক কৌতূহল ছিল জয় আমার মেসের ঠিকানা কোথায় পেয়েছে তা জানার। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগে জয় বলল,কেমন আছো ভাইয়া????
আমি: হুম আছি। তোকে একটা কথা বলবো????
জয়: এতোই কি পর হয়ে গেছি যে এখন কিছু বলতে হলে তোমাকে পারমিশন নিতে হবে!
আমি: বেশি বুঝিস কেন। আগে বল আমি যে রংপুরে আছি তা জানলি কেমন করে। আমি তো.....
জয়: কি তোমার সাথে দেখা করার সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছো, এমনকি সিমও তাই তো। কিন্তু ভূলে যাচ্ছো ভাইয়া তুমি আমি তোমার ভাই। তুমি কোথায় কি করো সব আমার জানা ছিল। তাই প্রথমে অনাথাশ্রমে খোজ নিয়ে জানতে পারি কেউ একজন সকল প্রয়োজন হতো তা কুরিয়ার করে পাঠাতো রংপুর থেকে। আর যখন তোমার অফিসে খোজ করে জানতে পারি রংপুরেও তোমাদের একটা শাখা অফিস আছে তখন শিউর হয়ে যাই তুমি রংপুরে আছো। আর রংপুরের অফিসের আশেপাশে খোজ করে আজ তোমার মেসে আমি।
.
জয় যে আমাকে খুঁজতে এতকিছু করতে পারে তা আমার কোনো সন্দেহ নেই। আমি জানি আমি যতোটা জয়কে ভালবাসি ততোটা জয়ও আমাকে ভালবাসে। জয় আবার আমাকে বলল,ভাইয়া এতোটা মহানুভবতা কখনোই ভালো নয়।
আমি: কি বলছিস তুই।
জয়: আমার বিশ্বাস ছিলো আমার ভাইয়া এমন কিছু করতেই পারে না। তৌশি আপু তো আমাকে কিছু বলতেই চাচ্ছিল না। কিন্তু যখন জোরাজুরি করলাম তখন সব বলে দিলো। এগুলো সব তোমার প্লান ছিল।
.
আমি জয়ের কথা শুনে যাচ্ছিলাম। কিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিলাম না আমি। জয় আবার বলল,আর তানহা যখন আমার ফিলিং বুঝার জন্য একমাস সময় দিয়ে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো, বিশ্বাস কর সেই সময়টাতে আমি তানহাকে একটুও মিস করিনি। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও পরে সব ঠিক হয়ে যায়। সময়ের আগে যখন তানহাকে এবিষয়ে বলি তখন ওওওহ অনেক খুশি হয়। আর আমি তানহার ভালোবাসার মানুষের নাম জানতে চাইলে সরাসরি তোমার নাম বলে। কিভাবে তোমাকে ভালবেসে ফেলে,তোমার সাথে কাটানো সময় সবকিছু আমাকে বলে। তখনি আমি বুঝতে পারি তুমি এত নাটক কেনো করেছো। ভাইয়া তুমি আমাকে যতোটা ভালবাস তার থেকে কোনো অংশে কিন্তু আমি তোমাকে কম ভালবাসি না। তাহলে তুমি যদি আমার জন্য এতকিছু করতে পারো আমি কেনো পারবো না। তানহা মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে ভাইয়া। তানহাকে তুমি চলে আসার পর থেকে আমি হাসতে দেখেনি। সত্যি বিশ্বাস কর তানহা যখন এমনভাবে দেখতাম আমার মন বলতো ইশশশ আমি বন্ধু হয়ে ওর জন্য যদি কিছু করতে পারতাম। আজ দেখো তার সুযোগ আমি পেয়েছি। এখন তোমাকে আর তানহা ভাবিকে আমি এক করে ছাড়বো। তানহা ভাবিকে আমার ভাবি বানিয়ে ছাড়বো।
আমি জয়ের কথা শুনে কিছুনা বলে মুচকি হেসে ফেললাম।
সত্যি আমরা বড়রা যে পথে চলবো ছোটরা তাই অনুসরণ করে। আমাদের বড়দের দেওয়া শিক্ষায় তারা মানুষের মত মানুষ হয়। এর জন্য আগে আমাদের ঠিক হতে হয় অন্ততপক্ষে স্নেহময়ী এরকম ভালবাসার সম্পর্ক জন্য!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now