বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★সমর্পণ★
→
পর্ব-১
→
লেখায়- Poth Poriborton
→
ঘটনাটি এরকম আমি ৪ বছর আগে ভীষন অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম সিএমএইচে ভর্তি হই।
আমার বেডের পাশেই আরেক টি শীর্ন দেহি মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
তাকে তার অসুখ এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন-----
ভাই আমার অসুখ এখনও পর্যন্ত কোন ডাক্তার ধরতে পারেন নাই।
আমার কি হয়েছে একমাত্র আমিই জানি কিন্তু বলিনা, বলে লাভ নেই কারন উন্নত প্রযুক্তিগত যুগে কেউ বিশ্বাস করবে না, পাগল ভাববে আমায়।
-বলুন ভাই আমি ভাবব না,(আমি বললাম)।
-আজ থেকে বছর ৩ আগের কথা,
ভাই আমি আগে অনেক সুদর্শন ছিলাম এলাকাজুড়ে প্রায় অনেক মেয়েই আমার সাথে সম্পর্ক করতে চাইত,
কিন্তু আমি পাত্তা দিতাম না।
আগে আমি অনেক উশৃঙ্খল জীবন যাপন করতাম। পরে আমি তাবলীগ জামাত এর সংস্পর্শে ভালো হয়ে যাই, নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করি, একদিন মাগরিব এর নামাজের জন্য মসজিদের দিকে রওনা দেই, আমাদের বাড়ি থেকে মসজিদে যেতে ৬-৭ মিনিটের পথ,
পথটি একটু নির্জন, পথের মাঝে পাশে একটি অনেক পুরনো পরিত্যাক্ত কুয়া আছে।
কুয়াটির পাশ দিয়ে যেতেই একটি বিড়ালের ডাক শুনতে পাই, ডাকটা কিছুটা বিপদে পড়া মেয়ে মানুষের কান্নার মত। কৌতুহল এড়াতে না পেরে সাথে নেয়া চার ব্যাটারির টর্চলাইট টা জ্বালিয়ে কুয়ার নিচে উঁকি দিলাম, লাইটের আলো পড়তেই দেখলাম এক জোড়া জ্বলজ্বল করা চোখ। ভাল করে খেয়াল করতেই দেখি, ছোট একটি নীল রঙের বাচ্চা বেড়াল নিচে বড় একটি পাথরের সাথে শেকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। আমার দিকে করুণাময়ী সাহায্যের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।
আমি ভাবলাম নিশ্চয়ই কোন দুষ্টুদলের কাজ, অনেক মায়া হলো, সহ্য হলোনা আমার ওটার দুর অবস্থা দেখে, নেমে পড়লাম কুয়াতে অনেক কষ্টেসৃষ্টে, শিকল ভেঙে উদ্ধার করলাম অসহায় প্রানি টাকে।
তারপর ওটা কে মাটিতে নামিয়ে দিলাম, বড় অদ্ভুত রং এই বাচ্চা বেড়াল টার।
যাইহোক নামাজে দেরি হয়ে যাচ্ছে,তাই দ্রুত হাটা দিলাম মসজিদের দিকে।
বেড়াল টাও আমার পিছন পিছন ছুটে আসছে।
আমি ওটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু গেলো না ওটা।
ম্যাঁও ম্যাঁও শব্দ করে আমার পায়ে পায়ে ঘুরতে লাগল।
কি যন্ত্রণা! ধুর!
মসজিদের কাছা কাছি পৌছে গেলাম, হঠাৎ ওটা থেমে গেলো আর আসলো না।
আমিও মসজিদে ঢুকে একেবারে এশার নামাজ পরে তালিম নিয়ে রাত ১১ টার দিকে বের হলাম, আমাদের এই দিকে তখনো কারেন্ট আসে নি, লাইট জ্বালিয়ে রওনা দিলাম। সেদিন ছিল পূর্নিমার রাত, চাঁদের আলোয় রাস্তার পাশে বিলের পানি ঝকঝক করছিল। লাইট টা বন্ধ করে দিলাম তাই, অপরূপ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম বাড়ির দিকে। বড় কড়ই গাছের নিচে পরিত্যক্ত কুয়া টির কাছা কাছি যেতেই,নাকে তীব্রভাবে বকুল ফুলের ঘ্রাণ লাগল , কিন্তু আমার জানা মতে আশেপাশে ২ মাইল এর মধ্যে কোন বকুল ফুল গাছ নেই।
নজর গেলো কুয়ার দিকে, যা দেখলাম তাতে চমকে উঠলাম।
একটা মেয়ে কুয়োর উপর বসে আছে।
এত রাতে এই নির্জন জায়গায় মেয়ে মানুষ আসলো কোথা থেকে???এত রাতে এই অজপাড়া গায়ে কেউ একা বের হয়না, আমাদের এইদিক টা ভূত পেত্নির খুব উপদ্রব।
কেউ একা বের হলেই হলো,
এক দিন কাউকে বিলের পানিতে চুবায়, আরেক দিন কাউকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়,কারও গালে বা পিঠে পাওয়া যায় পাঁচ আঙুলের লাল দাগ, এরকম হর হামেশাই হচ্ছে।
আমার একটু ভয় ডর কম তারপর ও দোয়া পড়ে শরীর বন্ধ করে ভয়ে ভয়ে দুরুদুরু বুকে, কাছে গেলাম ব্যাপার টা ভাল করে দেখবার জন্য। অতীব সুন্দরী একটা মেয়ে, পাতলা সিল্কএর নীল রঙের শাড়ি পড়নে, কাজল দেয়া টানাচোখ মুখেএ মিষ্টি হাসি,পা পর্যন্ত ছড়ানো দীঘল কালো চুল, শরীর থেকে হাল্কা নীলচে রঙ এর আলোর আভা বের হচ্ছে। আমার বুকের ভীতর প্রত্যেকটা হৃদস্পন্দন অনুভব করছি আমি।
মুখ ঘুরিয়ে আমার দিকে মেয়েটি মায়াবী দৃষ্টি নিয়ে তাকালো। একটা হৃদস্পন্দন যেনো মিস করলাম আমি। মাতাল লাগলো নিজেকে, এত সুন্দর মেয়ে আমি আমার জীবনেও দেখিনি।
অনেক কষ্টে সামলালাম নিজেকে।
কিন্তু এই মেয়েকে আগে এই অত্র এলাকায় কোথাও দেখিনি, বয়স কখনো ১৮-১৯ আবার কখনো ২৪-২৬ মনে হচ্ছে মেয়েটার।
একবার ভাবলাম চলে যাই বিপদে পরতে পারি, কিন্তু কৌতুহল নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে জিজ্ঞেস করে বসলাম---
→
-এই যে কে আপনি, কোথায় থাকেন আর যাবেনই বা কোথায়?এত রাতে এখানে কি করছেন???জানেন না জায়গাটা ভালো নয়???বিপদের সঙ্কা আছে এখানে???
-আমার নাম ভাবনা, আমি বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছি, কোথায় যাবো জানিনা।(অভিমানী কন্ঠে)
- বাহ!! খুব সুন্দর নাম ত, কেন রাগ করেছেন?
-আমাকে আমার পরিবার বিয়ে দিতে চাচ্ছে একজনের সাথে, কিন্তু আমার তাকে পছন্দ না তাই সবার সামনেই বেরিয়ে এসেছি, ২ দিন আগে।
-তা আপনার পরিবার আপনাকে আটকায়নি?
-না তারা সবাই আমাকে ভয় পায়, আমার উপর কেও জোর খাটাতে পারে না।
-তা এই দুই দিন কোথায় ছিলেন,
-কেনো এই কুয়োর মধ্যেই।
-মানে? (চোখ যেনো আমার কপালে উঠলো)
→
চলবে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now