বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্মৃতির পাতাগুলো

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্প:- স্মৃতির পাতাগুলো . লিখা:- Salman Ahmed (অদৃশ্য বালক) . মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। এই ব্যাথাটা যেন শুভ্রকে একদিন শেষ করে দিবে। চিন চিন এই মাথা ব্যাথাটা শুভ্রের চিরচেনা। আগে প্রতিনিয়ত হলেও এখন মাঝে মধ্যে হয়। ফ্রীজ থেকে একটা টিপলের বোতল নিয়ে শুভ্র বাইরে বের হলো। উদ্দেশ্য সেই পুকুর পাড়টা। শুভ্র অবশ্য পুকুর পাড়ে প্রায়শই যায়, বেশ কয়েকদিন থেকে যাওয়া হয়নি হয়ত, তাই আজকে যাচ্ছে। শুধু মাত্র যখন মাথায় চিন চিন ব্যাথা আর অর্পির কথা মনে পড়ে তখন শুভ্র পুকুর পাড়ে না যেয়ে পারে না। হাতে টিপলের বোতলটা নিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করে যাচ্ছে সেই পুকুর পাড়ে। . পুকুর পাড়ে এসে পৌঁছতেই গাড়ি থেকে নেমে টিপলের বোতলটার ছিপ খুলে নে। মাথার ব্যাথাটা কিছুটা কমেছে। শভ্রের কাছে এই চিন চিন ব্যাথাটার ঔষধ হলো এই জায়গা। এখানে আসলেই যেন ব্যাথাটা কমতে থাকে। কোন সাড়া শব্দ নেই। জায়গাটা যেন নিরব, নিস্তব্ধ। গাছের শুকনো পাতার মর্মর শব্দটা শুনা যাচ্ছে শুধু। একটু হেটে পুকুরের ঘাটের দিকে এগোয় শুভ্র। পাঁকার ঘাট টার এমন অবস্থা হয়েছে যে, রং উঠে বিবর্ণ হয়ে গেছে। দেখে মনে হয় যেন জরাজীর্ণ, নিষ্প্রাণ। কার্নিশে কিছুটা শেওলা ধরেছে। ঘাটের এক পাশে বসে শুভ্র একটা অস্পষ্ট লেখার উপর হাত বুলায়। লিখাটা পুরো বুঝা যাচ্ছে না। শেওলা দ্বারা আবৃত হয়ে গেছে লিখাটা।শেওলা দ্বারা লিখাটা এমন ভাবে ভরেছে এমনিতে দেখলে বুঝার উপায় নেই এখানে কি লেখা। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে এখানে লেখা, "শুভ্র+অর্পি"। হাতটা লিখাটার উপর রাখতেই শুভ্রের চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগল। চোখের সামনের সবকিছুই যেন অস্পষ্ট, অবাঞ্চিত। অস্পষ্ট চোখে ভাসতে লাগল অর্পির সাথে কাঠানো সময়গুলো। কষ্টের বাতাসে উল্টে যেতে থাকে স্মৃতির পাতাগুলো। . আজ থেকে ৪ বছর আগে,,,,, . -- শুভ্র, কাল তো আসছিস? (তুর্য/শুভ্রের বন্ধু) -- কোথায় আসব? (শুভ্র) -- আরে কালকে ভাইয়ার বিয়ে, ঐ দিন তোকে... -- ও মনে পড়ছে। -- না আসলে কিন্তু.... -- আসব ভাই আসব। -- মনে থাকে যেন? -- হুম থাকবে। -- বিয়ে পরশু, তুই কাল আসবি। -- হুম। . কথা হচ্ছিল শুভ্র আর তুর্যের মাঝে।খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল তাদের। দুই জন যেন একে অপরের পরিপূরক । দুজন একসাথে অনার্স ৩য় বর্সের ফাইনাল দিয়েছে ক'দিন হলো। আগামী পরশু তুর্যের বড় ভাইয়ার বিয়ে। সেটা তুর্য অনেক আগে থেকেই বলে রেখেছিল শুভ্রকে। কিন্তু শুভ্রের সেটা মনে নেই। সবাই বলে শুভ্র যতটা বোকা ঠিক ততটাই চঞ্চল তুর্য। অবশ্য এসকল অনুষ্টানে যেতে বেশ ভালো লাগে শুভ্রের ।তাই পরের দিন শুভ্র তুর্যের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। . বাড়িতে পৌছে যাই হলুদ সন্ধ্যার আগেই।বেশ ভালো লাগছিল শুভ্রের, তবে অচেনা পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। হলুদের অনুষ্টানের সময় একটা মেয়ের দিকে নজর পড়তেই চোখ থমকে যায় শুভ্রের। অদ্ভুত মায়াবী একটা মেয়ে। একটা লাল রঙের ড্রেস পড়ে আছে মেয়েটা। এই রং টা শুভ্রের অপছন্দের হলেও আজকে যেন নতুন করে দেখছে এই রংটাকে। হতবাক হয়ে অপলক দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে কতক্ষন তাকিয়ে ছিল তা শুভ্রের অজানা।শুভ্র যেন সপ্তাশ্চর্যের কিছু একটা দেখছে। মনে মনে বলেই ফেলল, কি মায়াবী সৃষ্টি কর্তার সনিপুন এ সৃষ্টি। ঠিক সেই সময়েই মেয়েটা শুভ্রের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। মায়া জালে আবদ্ধ করে নিয়েছিল শুভ্রকে। . হলুদের দিনসহ বিয়ের দিনও মেয়েটার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল শুভ্র, কিন্তু পারে নি।তবে আড়চোখে বার বার মেয়েটির দিকে তাকিয়েছিল। অনেকটা লাজুক আর বোকা চরিত্রের অধিকারী ছিল শুভ্র। তুর্যের কাছ থেকে কোনমতে মেয়েটার নাম জানতে পারে। নাম "অর্পি"। অনার্স ২য় বর্সে। তুর্যদের বাড়ি থেকে আসার দিন মেয়েটার নাম্বার নিয়ে আসে তুর্যের কাছ থেকে। . ওখান থেকে আসার পর প্রত্যেকটা মুহূর্তে যেন অর্পি চলে আসে শুভ্রের ভাবনায়। কি মায়াবী মেয়েটা? কি মায়াবী তার হাঁসি? কি অপরূপা? এই রাত্রেই অর্পিকে কল করতে চায় শুভ্র। কিন্তু লাজুকতা তাকে ঘিরে ধরে ছিল, তাই পারে নি।কিন্তু পরের দিন সকল লাজুকতা ভেঙে কল করে অর্পিকে,,,,, . -- হ্যালো (শুভ্র) -- হ্যালো, কে? (অর্পি) -- আমি শুভ্র। -- ও, কেমন আছেন? -- জ্বি ভালো। -- নাম্বার কই পেলেন? -- তুর্যের কাছ থেকে। -- কি???????? -- হুম। . ব্যাস এতটুকুই কথা ছিল প্রথম দিন।কলটা কেটে যায় তারপর। আস্তে আস্তে তাদের কথা বাড়তে থাকল। আসলে প্রথম দিনই শুভ্রের মনেও কিছুটা জায়গা করে নিয়েছিল অর্পি। ভালোবেসে ফেলেছিল শুভ্রকে। কিন্তু কেউ কাউকে বলে নি। বন্ধুর মতো কথা বলত একে অপরের সাথে। তবে তাদের দুজনের চাওয়াটা ছিল বন্ধুেত্বর চাইতে বেশি কিছু। . অনেক চাপা কষ্ট সহ্য করে একদিন কথাটা বলেই দেয় শুভ্র। যেহেতু অর্পি ও শুভ্রকে ভালোবাসত তাই রাজিও হয়ে যায় অর্পি। শুরু হয় তাদের জীবনের নতুন এক অধ্যায়। তাদের দুজনকে দেখলেই মনে হতো যেন, সৃষ্টিকর্তার সনিপুন ভারসাম্যের প্রতিক তারা। দুজনের মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন যেন সৃষ্টিকর্তা নিজেই। মাঝে দেখা করত তারা একটা পুকুর পাড়ে। পুকুরের ঘাটে অর্পির কোলে মাথা রেখে ঘুমাতো শুভ্র। তাদের প্রত্যেকটা শ্বাস প্রশাস যেন পুকুরের ঘাট শুনতে পেত। নিস্তব্ধ, নির্জন পুকুর ঘাট ছিল তাদের ভালোবাসার পরিপূর্ণতা প্রদান কারী। একদিন অর্পির সাথে দেখা করতে এসে শুভ্র ঘাটের একপাশে খোদাই করে লিখে ছিল "শুভ্র+অর্পি"। আর বলেছিল, এইটা আমাদের ভালোবাসার স্মৃতি হয়ে থাকবে।দুজন যখন মাঝে মধ্যে এখানে আসব তখন এইটা আমাদের অতীতের স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেবে। . কয়েকবছর পর শুভ্রের মাস্টার্স শেষ হয়। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইলে কথা বলা, মাঝে মধ্যে দেখা করা।সবকিছুই যেন স্বাভাবিক, ঠিকঠাক মতো, ধীর স্থিরেই চলছিল। এর মাঝে শুভ্রও একটা চাকরী পেয়ে যায় মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে। বেশ ভালো বেতনে। চাকরি পাওয়ার ক'দিন পরেই শুভ্রের বাবা মা শুভ্রকে বিয়ের কথা বলে। শুভ্র হ্যা বলে আর সাথে, অর্পির কথাটিও বলে। যদিও অর্পিরা শুভ্রদের চাইতে উচ্চ লেভেলের ছিল তবুও অর্পির মা বাবা ব্যাপারটা মেনে নেয়। মূলত, মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করেই। . সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। বিয়ের কথাবার্তাও ঠিক। শুধু কয়েকটা প্রহর কাটলেই উপস্থিত সেই দিন। বিয়ের আগে একদিন দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয় দুজনে। সেই পুকুর ঘাটেই দেখা করে।ঐদিন যেন তাদের মাঝে নতুন এক উন্মাদনা। দুজনেই চিরচেনা অথচ ঐদিন একে অপরকে কেমন অচেনা অচেনা লাগছে। যত দিন এই ঘাটে এসেছে শুভ্র ঠিক ততদিনই অর্পির কোলে মাথা রেখে ঘুমাতো শুভ্র। সারাক্ষন তাকিয়ে থাকত সেই মায়াবী মুখটার দিকে। ঐদিন ঠিক তেমনটাই হলো। অর্পির কোলে মাথা রেখে শুয়েছিল শুভ্র। কে জানত এটাই অর্পির পাশে শুভ্রের শেষ ঘুমানো।শুভ্র সেই লেখাটা দেখছে আর বলছে, . -- দেখ, লেখাগুলোর ওপর শেওলা পড়ে যাচ্ছে (শুভ্র) -- হুম। (অর্পি) -- বিয়ের পর বাচ্ছাদের নিয়ে এখানে আসব। -- তাই? -- হুম, কেন আসবে না তুমি? -- তুমি নিয়ে আসলে অবশ্যই আসব। -- হুম। -- এবার উঠি। -- হুম। . দুজনে চলে যেতে লাগল। কে জানত এটাই তাদের একসাথে শেষ আসা ছিল। শুভ্রের একটা কাজ থাকায় অর্পিকে একটা গাড়িতে তুলে দিয়ে শুভ্র চলে আসে। তবে বেশি দূর যেতে পারে নি শুভ্র। অর্পির নাম্বার থেকে কল আসে। অচেনা কারো কন্ঠে তরাঙ্গারে ভেসে আসে এই কথাটি , "আপনি ওনার যেই হোন না কেন, তাড়াতাড়ি হসপিটালে আসুন, ওনি এক্সিডেন্ট করেছেন।তাড়াতাড়ি শুভ্র হসপিটালের উদ্দেশ্যে যায়। কিন্তু ততক্ষনে অর্পির দেহ থেকে প্রাণটা আলাদা হয় গিয়েছিল। অর্পি নেই কথাটা শুনার পর শুভ্রের বুকটা হু হু করে উঠে। জোরে চিৎকার করে ডাকতে থাকে অর্পিকে। ততক্ষনে অর্পি পাড়ি জমায় সহস্র তারার দেশে। শুভ্রের আর্তনাদ কোন বাজে আসে নি। সুখ শব্দটা নিমিষেই শেষ হয়ে যায় শুভ্রের জীবন থেকে। একটা জীবন চলে যাবার সাথে দুমড়ে যায় আরেকটি জীবন। চরম বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে যায় আরেকটি মৃত্যু। . হঠাৎ কারো ডাকে বাস্তবে ফিরে শুভ্র। হাতটা এখনও লিখাটার উপর। খেয়াল করে দেখল পাশে তুর্য বসে আছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। টিপলের বোতলটা যেমন হাতে ছিল তেমনি রয়ে গেছে। . -- কখন আসলি এখানে? (শুভ্র) -- এইত একটু আগে। (তুর্য) -- কি করে জানলি আমি এখানে। -- আমি জানি আজকে অর্পির মৃত্যুবার্ষীকি,আর এই দিনে তুই এখানেই থাকিস। -- ওহ্ -- আর কতদিন এভাবে? -- যতদিন বাঁচব ততদিন। -- ভাই নিজের চেহারার কি অবস্থা একবার দেখছিস। -- কি হবে এই চেহারা দিয়ে? -- চুল,দাড়িগুলো সাদা বর্ণ ধারন করতে চলছে। -- করুক না। -- এভাবে জীবন চলে না। -- জীবন থাকলে তো চলবে। -- বাড়ি যাবি না? -- না। -- কেন? -- আজকের রাত্রে আকাশের অজস্র তারা মাঝে খুজে বেড়াব অর্পিকে। জানিস ও না প্রায় দিনই আমার সাথে কথা বলে।কত কথা, ফুরায় না, অনবরত চলে আমাদের কথাবার্তা। . বলেই কান্না করে দে শুভ্র। এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না তুর্য। এই কষ্টটা যেন শুভ্রের না, তুর্যেরও। এ কষ্টের কান্না যে দেখবে সেই কাঁদবে, নিরবে, নিশ্চুপে। স্মৃতির পাতাগুলো ভূলতে পারে না শুভ্র। বার বার মনে পড়ে। মনে অর্পির সাথে কাটানো প্রত্যেকটা ছোট, বড় মুহূর্তগুলো। নিরবে কেদে কেদে কেটে যায় শুভ্রের দিনগুলো। হয়ত বাকি য'টা দিন বাঁচবে সেই দিনগুলোই এভাবে পার করে দিবে সে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্মৃতির পাতাগুলো
→ স্মৃতির পাতাগুলো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now