বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সম্পর্ক-২

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X "কিরে মনটা খারাপ নাকি কিছু বলছিস না যে? " আকস্মিক এমন প্রশ্নে বিভ্রান্ত হয়ে কোন ক্রমে উত্তর দিলাম " না এমনিই......"। " কোথাও বসবি?" উত্তরের অপেক্ষা না করে আবার প্রশ্ন করে বসলো। পিছন ফিরে তাকালাম। ছোট একটা রেস্টুরেন্ট দেখতে পেয়ে কোনক্রমে সেদিকে ইশারা করেই হাটা শুরু করলাম। সেদিন ওর প্রতিটা প্রশ্নে আমি এতটাই হতবম্ব হয়ে গেলাম যেন কোন রকমে উত্তর দিতে পারলেই বোধহয় হাফ ছেড়ে বাচি। জীবনে এমন বিভ্রান্তিকর অবস্থায় কতবার পরতে হয়েছে তা মাথায় আসছে না। কিন্তু হলফ করে বলতে পারি এতটা বিভ্রান্তিকর অবস্থায় এর আগে কখনো পরতে হয়নি। যাই হোক, হাটতে হাটতে রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকে বামপাশের কোন একটা ফাকা জায়গায় সাম্মিকে বসিয়ে চলে গেলাম ওয়াসরুমে। চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে নিজেকে কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করলাম। হঠাৎ ছোট একটা আয়নার দিকে দৃষ্টি যেতেই তার সামনে এসে দাড়ালাম। সাধারনত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা পরিপাটি করার ছেলে আমি নই। কিন্তু আজ ওয়াসরুমের দেয়ালে ঝুলানো ছোট একটা আয়নার সামনে নিজের সেই অপছন্দের কাজটাই কেমন স্বাচ্ছন্দ্যে করতে লাগলাম ভাবতেই অবাক লাগে। ওয়েটারের কাছ থেকে ধার নেওয়া ছোট এক টুকরা কাগজ দিয়ে নিজের মুখ মুছতে মুছতে সাম্মির সামনের চেয়ারটাতে বসলাম। ততক্ষনে অর্ডারের কাজটা ও নিজেই সেরে ফেলেছে। কি অর্ডার করেছে সেটা বলার প্রয়োজন পরে না কিন্তু আমি যেটা আন্দাজ করতে পেরেছি তা হলো ওর প্রিয় খাবারের তালিকাটা আর আগের মত নেই। খেতে খেতে বাসার সকলের খোজ খবর নিলাম। অনেক্ষন গল্পও করলাম। হ্যা এবার কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। আমাকে কিছু না বলেই নিজে উঠে গিয়ে বিলটা পরিশোধ করে আবার আগের জায়গায় বসে পরলো। বেশকিছু সময় বসে থাকার পর আবার একসাথে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলাম। হাটতে হাটতে একটা লোকাল বাসস্টপের সমানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করার পর একটা ছোট বাস এসে দাড়াতেই তরিগরি করে উঠে ওঠে পরলাম। আমি যদিও যেতে রাজি ছিলাম না। কিন্তু শেষমেশ ওর আবদারটা অগ্রাহ্য করতে না পেরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে বাধ্য হলাম। ভাগ্য সহায় ছিল সেদিন আর জ্যামে পরতে হয়নি। তাই খুব দ্রুতই পৌছে গেলাম। বাসস্টপ থেকে সমান্য ইকটু ভিতরে গেলেই ওদের বাসা। তাই আর রিক্সা নিলাম না। ও যদিও রিক্সায় যেত চেয়েছিল কিন্তু আমার অনুরোধে শেষমেশ হেটে যেতেই রাজি হলো। কথা বলতে বলতে কখন যে বাসায় পৌছে গেছি বলতে পারবো না। কলিংবেল চেপে কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই ওপার থেকে এক ভদ্র মহিলা এসে দরজা খুলে দিলেন। না, ভদ্র মহিলাটি আর কেউ নন আমার আপন খালা। আমাকে দেখে এতটাই হা করে তাকিয়ে ছিল যেন পূর্নিমার চাঁদ এইমাত্র হাতে পেয়েছেন। এরকম হওয়াটা অবশ্য নতুন কিছু নয় আমি আগে থেকেই এসবে অভ্যস্ত ছিলাম। কারন ছোটবেলা থেকেই আমি তার অত্যন্ত আদরের পাত্র ছিলাম যে। আমার সাথে কথা বলবেন কি? তার চেয়ে দ্বিগুণ ব্যস্ত হয়ে গেলেন আমাকে কি করবেন, কি খাওয়াবেন তা নিয়ে। আমি যদিও একবার বাধা দিয়েছিলাম কিন্তু তাতে যে কেন লাভ হবে না আগে থেকেই জানতাম। সবার সাথে কিছুক্ষণ আলাপচারীতার পর শোবার রুমে গিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় ছড়িয়ে দিলাম। কতক্ষন ঘুমিয়েছি জানি না। যখন উঠলাম ততক্ষনে অবশ্য ৫.০০ টা বেজে গেছে। দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে বেরুতে না বেরুতেই খালা এসে শোবার রুমে হাজির। হাতে পেয়ালা ভর্তি নুডল্স। মনে মেন বললাম আজ বোধহয় আর রেহাই নেই। বাধ্য হয়ে পেয়ালাটা হাতে নিয়ে খাওয়া শেষ করলাম। ততক্ষনে খালা অবশ্য বাড়ির সকলের খোজ খবর নিয়ে ফেলেছেন। ঘুম থেক উঠে নিজেকে তখন একটু ফ্রেশ মনে হচ্ছিল। একটা পরিচিত সুরে গুন গুন করতে করতে ছোট সিঁড়ি গুলোকে বেয়ে উপরে উঠছি ঠিক এমন সময় বাইরের দিকের একটা লম্বা ডালে কিছু পেয়ারা ঝুলতে দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। আধাপাকা একটা পেয়ারা ছিড়ে নিয়ে খেতে খেতে ছাদে চলে গেলাম। দেখি সাম্মি আর শ্রেয়া ফুলগাছে পানি দিচ্ছে। " দু'বোনে বেশ সুন্দর একটা বাগানও তৈরি করেছিস দেখছি" এই বলে যেই একটা ফুলের উপর হাত রাখলাম দুজনে এমনভাবে চেচিয়ে উঠলো যেন দুটি মা পাখির সামনে তাদের ছোট বাচ্চাগুলোকে কোন শিকারি চুরি করে নিচ্ছে। হাত দিয়ে ইশারা করে আশ্বস্ত করলাম "না আমি তাদের ফুল ছিড়ছি না"। মাথাটাকে সামান্য নিচু করে হলুদ রংয়ের একটা ফুলের গন্ধ নেয়ার চেষ্টা করলাম। একটা অজানা গন্ধ নাকে এসে মনের মধ্যে কি যে এক প্রশান্তির আভাস ছড়িয়ে দিল বলে বুঝাবার সাধ্য আমার নেই। ভাবলাম এটাই বোধহয় ওর খেলা। মানষের মন মানুষে বুঝতে না পারলেও এই ক্ষুদ্র বস্তুটা যে ঠিকই বুঝে। তা না হলে অন্যের বিষন্ন মনকে জাগিয়ে তোলা আর নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে দুটি মনে ভালবাসা সৃষ্টি করার কাজ ফুলের চেয়ে ভাল আর কে করতে পারে? আর আমরা নিজের মনের ভালবাসা অন্যের কাছে জাহির করার জন্য একটা ফুলের জীবনকে অকালে কেড়ে নিতে কুন্ঠিত তো হইনা বরং বেশ আনন্দই পাই । থাক সেসব কথায় আর নাই গেলাম। ছাদের উপর একা একা হটছি। ফুল সেবিকারা হয়তো অনেক আগেই চলে গেছে বুঝতে পারি নি। মাঝখানটাতে ছাতার মত দেখতে বেশ বড় একটা ছাউনি, তার নিচে কিছু ছোট ছোট চেয়ার। সেখানকার কোন একটা চেয়ারে বসে বিষন্ন মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবছি। এমন সময় পিছন থেকে হঠাৎ সাম্মি এসে মাথায় হাত রেখে বললো " কিরে এখনও বসে আছিস? " ওর হাতের স্পর্শে একটা অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করলাম। মুখ খুলে বলেই পেললাম " তোর হাতটা সারা জীবনের জন্য আমার মাথার উপর রেখে দেনা "। কোন রকম প্রতিক্রিয়া পেলাম না। আস্তে গিয়ে আমার সামনের চেয়ারটাতে বসে পরলো। তারপর অকপটে বিগত তিন বছরের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো একে একে বর্ননা করতে লাগলো। আমি শুধু নিরব হয়ে শুনছিলাম। সেদিনের প্রতিটি কথা অজোড় ধারায় নামা বৃষ্টির রিমিঝিমি বাধ্যের মত আমার কানের কাছে বাজতে লাগলো। সেই বাধ্য আজও ভোলার নয়। শুনেছি নারীরা নাকি তাদের বক্তব্য শোনার জন্য একজন ভাল শ্রোতা খোজে। আগে কখনো বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু আজ বিশ্বাস করছি। শত সুখের মাঝেও ওরা যে কতটা অসহায় জীবন যাপন করে সেটা ওদের কথা না শুনলে বুঝতে পারবেন না। " কিরে তোরা কি শুধু কথাই বলবি, খাবারটাতো খেয়ে নে" পাশে ফিরে তাকাতেই দেখি খালা দাড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যে শ্রেয়াকে দুই দুই বার পাঠিয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ নিজেই চলে এসেছেন। এবার আর আমাদের না নিয়ে যচ্ছেন না। নিচে গিয়ে একবার ঘড়ির দিকে তাকালাম দেখি ৯টা ৩০ বাজে। কিছুটা অবাক দৃষ্টি নিয়ে সাম্মীর দিকে তাকাতেই দেখি ও নিজেও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সম্পর্ক-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now