বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সম্পর্ক-১

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X "আমি একদিন এই দেশের একজন বিশাল ব্যক্তিত্ব হব। আমার চারপাশে থাকবে নানান রকমের লোক। সবাই আমাকে স্যার স্যার বলে ডাকবে। তারপর একটা সুন্দরি বড়লোকের মেয়ে বিয়ে করে দেশ বিদেশ ঘুড়বো। তখন তোরা শুধু দেখবি আর আমার পিছে পিছে ঘুড়ে বেড়াবি।" কোন এক সন্ধায় এমনই এক অদ্ভুত বক্তব্য ছিল বন্দুদের উদ্দেশ্যে। না বক্তব্য ঠিক নয় সোজা বাংলায় যাকে 'চাপাবাজি' বলাটাই উত্তম হবে। চাপাবাজি হোক আর মহৎ বানীই হোক এরকম কিছু ছোট খাট আশা সবাই বুকের মধ্যে লালন করে আসেন। আমিও তার ব্যাতিক্রম ছিলাম না। কতটা পূরন হয়েছে তা সময়ই বলে দিবে। আমি আপাতত পৌছে গেছি অন্য জগতে। 'এস এস সি' শেষ করে মাত্রই 'এইচ এস সি'তে ভর্তি হয়েছি। কেমন যেন এক নতুন উদ্দামে চলতে লাগলাম। কেন যেন মনে হতে লাগলো আমি এখন অনেক শিক্ষিত, অনেক জানি। সে কারনেই কিনা ছোট ছোট আশাগুলো আরো গভীরভাবে মনের বিশাল জায়গা দখল করে নিল। ক্ষুদ্র তরঙ্গগুলো যেমন জোয়ারের আহবানে সাড়া দিয়ে নিজেকে চারদিকে উজাড় করে দেয়। তেমনি এই ছোট আশাগুলো আমাকে এতটাই সাহস যোগাতে শুরু করে যে, মনে হয়েছিল সব কিছুই আমার। এটা আমার রাজ্য। 'পাব না' আর 'পারবো না' এগুলো যে কোন শব্দ সেই সম্মানটুকু একবারের মতও এরা আমার কাছে পেয়েছে বলে মনে হয়না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দেখ, সেই শব্দগুলোই কিনা আজ আমার অন্তরের মধ্যে এতটাই জায়গা দখল করে নিয়েছে যে একবারের মত ইচ্ছা হলেও দূরে সরিয়ে দিতে পারি না। ওরা যে আমার বড় আপন। এভাবেই পাঁচ দিনের ক্রিকেট ম্যাচের মত হেলায় খেলায় কখন যে আবার এইচ এস সি পরিক্ষা এসে গেছে নিজেও টের পাইনি। পরিক্ষা শুরু হলো। বেশ ভাল ভাবে শেষও করলাম। তবুও কেন যেন নিজেকে সন্তুষ্ট করতে পারলাম না। মনে হয়েছিল আরো ভাল করতে পারতাম। খুব বেশি নাহলেও মোটামুটি একটা রেজাল্টতো হবেই সেই আশা নিয়েই নিজের গ্রাম ছেড়ে চলে এলাম ঢাকায়। উদ্দেশ্য "বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং"। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কয়েক দিন বিশ্রাম নিতে লাগলাম। অতঃপর ক্লাস শুরু হলো। টানা দুই ঘন্টা ক্লাস। আমিতো রীতিমতো বোর হয়ে গেলাম। জীবনে এই প্রথম টানা দুইঘন্টা ক্লাস করছি। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়াল যে মাঝে মধ্যে মাথাখানা ঠান্ডা বরপের মত স্থির হয়ে যেত। ক্লাশ করবো কি কখন যে এখান থেকে বের হয়ে নিজেকে মুক্ত করবো সেই চিন্তাই সারাক্ষন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত। অবশেষে কোনরকমে ক্লাসটা শেষ করেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হতাম। তারপর গোসল, খাওয়া-দাওয়া আর সামান্য বিশ্রাম নিয়ে আবার ক্লাসের সীটগুলো নিয়ে বসে পরতাম। পড়তে পড়তে কখনো রাত ১১.০০ টা কখনো বা ১২.০০ টা বেজে যেত। তারপর কোনরকমে রাতের খাবার খেয়েই ঘুম ।ব্যাস আমার কাজ শেষ। এভাবেই চলতে পারতো। কিন্তু হঠাৎ করে যে কখন সবকিছু হাওয়ায় মিলিয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না। আকস্মিক একটা গুঞ্জন উঠলো আমি নাকি বেশ পরিবর্তন হয়ে গেছি। এ নিয়ে সকলে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করলেও আমার এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা নেই। কিন্তু অবস্থা এমন হলো যে আর সহ্য করতে পারছিলাম না। মাঝে মধ্যে রেগেও যেতাম তবুও কাউকে কোন উত্তর দেওয়ার সামর্থ আমার ছিল না। কারন উত্তরটা যে আমারও অজানা। একটা সময় নিজে নিজেই ভাবতে লাগলাম সত্তিই কি আমি আমি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছি। কেনইবা হঠাৎ এতটা বদলে গেলাম? হ্যা সেই উত্তরটা আমি পেয়েছি। আসছি সে কথায়। " নিবির, এই নিবির " কোন একটা মেয়ের গলা আমার কানে এসে পৌছালো। ছোট একটা লোকাল বাস থেক নেমে দাড়াতেই এমন একটা অচেনা কন্ঠ শুনে এক মূহুর্তের জন্য নিজের নামটাই মিলাতে পারলাম না। রাস্তার জ্যামের মধ্যে বাসের শক্ত সীটের উপড় একটু ঘুমিয়ে পরেছিলাম সেই নেশাটা বোধহয় এখনো কাটেনি। দ্রুত ফিরে তাকাতেই বুঝতে পারলাম হ্যা আমাকেই ডাকছে। কাছে আসতেই প্রশ্ন করলো কিরে চিনতে পেরেছিস? হ্যা এবার চিনতে পেরেছি। চমকে উঠে বললাম " আরে সাম্মি তুই!" "কেন চমকে গেলি নাকি" কিছুটা অভিমানের স্বরেই জিগ্বাস করলো। " আসলে তোকে এখানে দেখবো ভাবতেও পারি নি" "হ্যা তা ভাববি কেন। ঢাকায় এসেছিস এতো দিন হলো একবার আমাদের বাসায় গিয়ে দেখা করারও প্রয়োজন মনে করলি না। " "নারে পাগল, এই আজ যাব কাল যাব করেই আরকি....." " থাক আর বায়না দিতে হবে না" এ বলেই ফুটপাথ ধরে হাটা শুরু করলো। আমিও ওর সঙ্গে সঙ্গে চললাম। সাম্মি আমার খালাতো বোন। খালুর চাকরীর কারনে ছোট বেলা থেকে ঢাকায়ই থাকে। মাঝে মধ্যে ছুটি পেলে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে যেত। কিন্তু কয়েক বছর যাবত তাও যায় না। সর্বশেষ তিন বছর আগে দেখা হয়েছিল। তখন ও ক্লাশ টেন এ পড়ে। বয়স আমার চেয়ে সমান্য কম হলেও ছোট বেলা থেকেই ভাল বন্দু আমরা। যখনই খালা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসতো কিছুটা লম্বা সময় নিয়েই বেড়াত। তাই আমাদের সম্পর্কটা আরো গভীর হয়ে উঠেছিল। সত্যি বলছি, আগে যতবার ওকে দেখেছি কখনো ওর প্রতি আমার বাড়তি কিছু মনে হয়নি। কিন্তু আজ কেন যেন ইকটু অন্যরকম লাগছে ওকে। দৃষ্টিদোষেই হোক আর অন্য কারনেই হোক ওর চেহারাখানাকে আজ আমার কাছে জ্বলন্ত প্রতিমার মত মনে হল। কিছুতেই ওর দিক থেকে নয়ন ফিরাতে পারছিলাম না। মনে আছে একবার কি যেন কথার প্রসঙ্গে বড় বোন দুষ্টামি করে বলেছিল " ওকেই তোর বউ বানিয়ে দিব" তখন আমিই হেয় করে বলেছিলাম " ওর মত কুৎসি মেয়ে আমার বউ হবে কোন দুঃখে?" সেই কথাটাই যে আজ আবার জাগ্রত হয়ে মনের ভিতর বার বার নিজেকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য রীতিমত আন্দোলন শুরু করে দিবে ভাবতেও পারি নি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সম্পর্ক-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now