বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সময়টা ২৬ নভেম্বর ২০১৬ গ্রাম থেকে চাকরির ইন্টারভিউ উপলক্ষে রওনা হলাম ঢাকার উদ্দেশ্য।বিকেলে বৃষ্টি হয়েছে। রাত ৮ টা বেজে ২৫ মিনিট মিরপুর -১৪ শহিদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের সামনে। চলছিলো রিকশার খোজ। আমার শেষ গন্তব্য ধামাল কোট পেরিয়ে। সাধারনত সেখানে রিকশা করে ৪০ টাকা ভাড়া নেয়। কিন্তু সেদিনকে ৬০ টাকা তেউ কাজ হচ্ছে না। বুকে সাহশ নিয়ে ব্যগটা কাধে নিয়ে হাটা শুরু করলাম। ধামালকোটে ঢুকতেই কর্দমাক্ত বিরক্তিকর রাস্তা। হাটতে হাটতে বুঝতে পারলাম কেন রিকশা গুলা আসার জন্য রাজি হয়নি। গ্রামের ছেলে কাদা পানি ব্যপারনা। হেটেই ৪০ টাকার পথ পাড়ি দিলাম। ধামাল কোট পেরিয়ে চক চকে ক্যান্টনমেন্ট এরিয়া এবার একটু ঢাকাকে শহর শহর লাগছে। খেয়ে শুয়ে পড়লাম আর নানাকে আমার ৪০ টাকার রাস্তা পাড়ি দেওয়া বীর গাথা গল্প খানি শুনালাম। সকালে ইন্টারভিউ শেষ করে বাসায় এসে গোসল করে রওনা দিলাম এবার গন্তব্য বাড্ডা। মামার বাসায় যাবো। কিন্তু আমি বাড্ডা চিনি না মামার সাথে কথা হলো সে আমাকে জাহাঙ্গীর গেট থেকে নিয়ে যাবে। বাসা থেকে বের হয়ে একটা ক্যান্টিনে ঢুকলাম ৬০ টাকা দিয়ে একটা স্যান্ডুইচ নিলাম। কামোড় দিয়ে দেখি বেগুন ভর্তা। আফছোচ ঢাকা আমারে এভাবে ঠকালো......?? Then আমি যথা রীতি জাহাঙ্গীর গেটে অপেক্ষা রত। পাশেই আদমজি কলেজ। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে পাশে দাড়ালো। হয়ত বাসের জন্য অপেক্ষা রত। কয়েকটা বাস চলে গেলো কিন্তু সে ঠাই দাড়িয়ে রইলো তখনও তার মুখ খানা দেখি নাই । এবার দেখার ইচ্ছে হলো। ঝট পট তাকালাম কিন্তু ভালো ভাবে দেখার সুযোগ হলো না । মনে মনে ইশ শব্দ করলাম। কিছু সময় বাদে আবার চেষ্টা করলাম। এবার তো আমি হতবম্ভ, তাকাতেই চোখে চোখ পড়লো। বাংলা সিনেমাই রাজ্জাক কবরির যেমন হয় আরকি। চোখটা ফিরিয়ে মুখটা রুমাল দিয়ে মুছে। দুজনে ৩০ মিনিট দাড়িয়ে থকলাম ভাইব্রেশন মুডে। মামা আসলো মেয়েটাউ চলে গেল।
আমি মহাখালী , গুলশান হয়ে রওনা হলাম বাড্ডার উদ্দেশ্য। গুলশান লেকের ধারে বসে কিছুক্ষণ মেয়েটার কথা ভাবছিলাম। হয়ত তাকে কিছু বলা যেত কিন্তু বলা হলো না আফছোচ। সারা দিন মামার বাসায় থেকে রওনা হলাম বিকেলে। বাড্ডা পেরিয়ে শুলশান ঢুকতেই ভিষন জ্যাম সন্ধা পেরিয়ে রাত হয়ে গেলো। বাসে তেমন মানুষ নাই ফাকা ফাকা আমি একা বসে কানে হেডফোন পরে আনমনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি। কিছু সময় বাদে একটা হিজরা এসে আমার কাছে টাকা চাইলো, আমি তার দিকে তাকাতেই সে আর কিছু বললো না চলে গেলো। হয়ত আমার দুশ্চিন্তা গ্রস্থ মুখ খানা দেখে সেউ Confused। বাসটা আস্তে আস্তে যাচ্ছিলো মহাখালি আর জাহাঙ্গীর গেটের মাঝা মাঝি এসে রাস্তায় চোখ পরতেই ল্যাম্প পোস্টের মিটি মিটি আলোতে সেই মেয়ে দাড়িয়ে আছে দেখা মাত্র বাস থেকে নেমে পড়লাম। থামতে থামতে ততক্ষণে বাসটা অনেক দূর পেরিয়ে গেছে । বৃষ্টি হচ্ছে আমি কিছু না বুঝে খোজা শুরু করলাম কিন্তু পেলাম না। কিছু সময় পরে নিজেকে প্রশ্ন করলাম বৃষ্টির মধ্য তো কেউ রাস্তায় দাড়িয়ে থাকবেনা। তবে আমি কি এতটাই বোকা...? মনে মনে হাশি পাচ্ছিলো। ভিজতে ভিজতে এসে জাহাঙ্গীর গেট চেকপোস্টে এসে বসলাম ভীষন বৃষ্টি কোন বাস নেই। আমার গন্তব্য গ্যারেশন বাসস্টপ দূরুত্ব প্রাই ২.৫ কি: মি: । রাত তখন ৮:১০ অনেকটা জগিং স্টাইলে দৌড় শুরু করলাম যে কোন সময় আবার বৃষ্টি আসতে পারে। এমন ভাবতেই বাস্তার অপজিটে সেই মেয়েটা, পার হব এটলিস্ট নামটা তো জেনে আসবো। দুপাশে গাড়ি দেখতে দেখতে পারহতেই একটা বাস আসলো সে আবার নেই উধাউ। বাসায় ফিরে এলাম রাতে শুয়ে শুয়ে নানাকে আমার ২.৫ কি: মি: হেটে পাড়ি দেওয়ার বীরগাথা কাহিনী শোনালাম। মেয়েটার কথা মনে পড়ছে এতবার দেখা হলো নামটা জানতে পারলাম না। পরদিন বিকেলে ঘুরতে বেরহলাম। গন্তব্য নীর্ঝর এলাকা। নির্ঝর ব্রিজের ওপর থেকে তৃবেণী হোটেলের ছবি তুলছিলাম, ক্যামেরার স্ক্রিনে আবার সেই মেয়েটি। নানাকে বললাম ভালো করে এলাকাটা ঘুরে দেখি। বলে পুরো এলাকা খুজলাম পেলামনা তখন মনে হলো। আমি মেয়েটিকে দেখার পরে হোটেলের গেটে একটা গাড়ি দাড়িয়ে ছিলো সেটা এখন আর নেই । চলে গেলাম নারায়ণগঞ্জ। সেখান থেকে সাভাড় যাবো ফেরার পথে ইডেন মহিলা কলেজের সামনে মেয়েটিকে দেখলাম কিন্তু বাসথেকে নামতে পারলাম না । বাসটা নিউ মার্কেট গিয়ে জ্যামে পড়লো। বসে বসে ভাবছিলাম ইশ যদি ইডেন কলেজের সামনে জ্যামটা লাগতো । তার পরের দিন বাড়ি ফেরার জন্য বাসে উঠলাম বার বার কেন যেন মন তাকেই খুজছিলো কিন্তু পাচ্ছিলো না। বাসটা রানিং হলো আমি ছিটে বসে ঘুমিয়ে পড়লাম। কোন এক হোটেলে গিয়ে থেমে, বাসের ম্যানেজার আমাকে ডাকদিলো। আমি উঠে চোখ মুছতে মুছতে হোটেলে প্রবেশ করলাম। সামনে তাকাতেই সেই মেয়েটি হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে কিছু বলার আগেই সে আবার উধাউ হয়ে গেলো। কাগজটা পড়ে তার পর ভাবতে ভাবতেই বাড়ি পৈছে গেলাম। আমার গল্পটাউ শেষ হলো।...............................................
( কাগজে কি লেখা ছিলো অন্য দিন বলবো)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now