বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শয়তানের পূজারী
লেখক: রোমান আহমেদ
____অন্তিম_পর্ব____
--------------------
কড়িটা আমাদের আগে
আগে যাচ্ছে।আমি আর
হিমন পেছন পেছন যাচ্ছি।
কড়িটা আস্তে আস্তে জঙলে
ঢুকলো।আমরাও জঙলে
ঢুকলাম।সামনে একটা
গর্তের মধ্যে কড়িটা ঢুকে
গেল।
--এখন কি করবো?
--আমরাও ভেতরে গিয়ে
দেখি।হয়তো এটাই সেই
শয়তানের পূজারীর
আস্তানায় যাওয়ার রাস্তা।
একটু এগিয়েই বুঝলাম
এখানে সিড়ি দেওয়া।সিড়ি
দিয়ে নিচের দিকে প্রবেশ
করলাম।ভেতরে গিয়ে
অবাক হয়ে গেলাম কারণ
নিচের দিকে সুন্দর করে
রাস্তা বানানো।রাস্তাটা
পুরোটাই অন্ধকার,জায়গায়
জায়গায় লণ্ঠনে আগুন
লাগানো।চারদিকে
শুধু কংকাল পড়ে আছে।
দুএকটা মাথায় খুলিও
পড়ে আছে।আর চারপাশে
অনেক হাড়গোড় পড়ে
আছে।এসবের মধ্যেও
আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সেই
কড়ির পেছন পেছন।
--ভাই চারদিকে এতো
হাড়গোড় পড়ে আছে।
আমার কিন্তু ভয় ভয়
করছে।
--যদি ভয় পাস তবে তুই
চলে যা।
--তুই কি করে ভাবলি
তোকে এরকম একটা
জায়গায় একা ফেলে
যাব।মরতে হলেও
একসাথে মরবো।
--হইছেরে ভাই এতো
ইমোশনাল হতে হবে না।
আমি জানি আমার জন্য
তুই জিবন দিতেও প্রস্তুত।
আস্তে আস্তে আবছা অন্ধকার
এর রাস্তা শেষ হলো।আমাদের
সামনে একটা রাজপ্রসাদের
মতো বাড়ি দেখা যাচ্ছে।
আর বাড়ি সহ ওই রাজ
প্রসাদের আশে পাশে আলোকিত
হয়ে আছ।আমাদের
কড়িটা আর এগুচ্ছেনা।
মুহূর্তেই কড়িটা অদৃশ্য
হয়ে গেল।আমি আর
হিমন ভয়ে ভয়ে প্রাসাদের
ভেতরে প্রবেশ করলাম।
নাহ্ কোনো পাহারাদার
নেই দেখে ভেতরের দিকে
চললাম।প্রাসাদের ভেতরে
উত্তর দিকে কেমন একটা
গন্ধ আসছে।হিমন ওই
দিকে এগিয়ে গিয়ে চিৎকার
দিয়ে উঠলো।আমি গিয়ে
তাড়াতাড়ি তার মুখ চেপে
ধরলাম।
--ঐ চিৎকার করিস না।
আমরা ধরা পড়ে যাবো।
হয়তো শয়তানের পূজারী
লোকটা অনেক বিপদজনক।
কি দেখছস এমন চিৎকার
করলি যে ?
--ঐ দিকে চেয়ে দেখ।
এবার আমিও দেখতে
পেলাম।ওই জায়গায়
তিনচারটা লাশ পড়ে
আছে কিন্তু লাশগুলার
মাথা নেই।মাথাহীন
লাশগুলো অনেক ভয়ংকর
দেখাচ্ছিলো।কিন্তু
ভয় পেলে তো আর চলবেনা।
ভেতরের দিকে চললাম।
একটা ঘরের সামনে
দুইজন প্রহরিকে দেখা
গেল।চাহনী খুব শীতল।
আস্তে আস্তে একটা প্রহরি
একটা আমাদের দিকে
আসতে লাগলো।আমি
ঝরের গতিতে পকেট
থেকে ছোড়াটা নিয়ে
পায়ের মধ্যে ঢিল দিলাম।
সেটা গিয়ে তার পায়ে
লাগলো।কিন্তু পা থেকে
একফোটা রক্ত বেরূলো না।
আর এমনভাবে এগিয়ে
আসতে লাগলো যেন কিছুই
হয়নি।মুহুর্তেই অনেক গুলো
লোক এসে গেল।আমাদের
একটা ঘরে বন্দি করে রাখলো।
একটু পরে ঘরে একজন প্রবেশ করলো
বয়স সত্তর আশির মতো হবে।
তার হাতে একটা দণ্ড।
বুঝলাম এটাই ওদের সর্দার।
--আমাদের ছেড়ে দে।আর
নীলা কোথায়?
--তোমাদের তো ছাড়া যাবেনা।
এবার মেয়েটার সাথে তোমাদের
বলি দেব।
একটু পর লোকটা চলে গেল।
--এইভাবে বন্দী থাকলে তো
কিছুই হবেনা।না পারবো বোনকে
বাচাতে না পারবো আমরা বাচতে।
কিছু একটা করতেই হবে।
--এখন কি করবো?
--ভাবতে হবে।
.রাতে একটা মেয়ে আসলো
আমাদের খাওয়ার জন্য
কিছু ফলমূল নিয়ে।এখানে সবকিছু
অদ্ভুত।মনে হয় এষব
শয়তানের অশুভ শক্তি
দিয়ে করেছে লোকটা।
--খাবার খেয়ে নেন।
একথা বললো মেয়েটি
মেয়েটি বলবোনা কারণ
এটা একটা আত্মা।
হঠাৎ একটা বুদ্ধী
এলো মাথায়।
--আচ্ছা আপনার সাথে
কিছু কথা বলতে চাই।
--কি কথা?
--আপনার নাম কি?
আর আপনার এঅবস্থা
কি করে হলো।
আপনি এসব থেকে
মুক্তি চান না?
--আমার নাম রোজি।
আমি একজন সাংবাদিক
ছিলাম।আমাকে ধরে
এনে বলী দেয়।আর
আমার আত্মাকে ওর
দাসী করে রেখেছে।
আমি এসব থেকে মুক্তি
চাই।কিন্তু মুক্তি পাওয়া
অসম্ভব।
--যদি আপনি আমাদের
সাহায্য করেন।তাহলে
এখানকার সব আত্মাদের
মুক্ত করে দেব।
--কি করতে হবে বলেন।
আমিও মুক্তি চাই।আমরা
এসব কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে
চাই।ওই যাদুকর এর কথা
একটু এদিক ওদিক হলেই
আমাদের অনেক কষ্ট দেয়।
--কালকে রাতে আসবেন।
কাল রাতেই সবকিছু করবো।
আজকে সব কিছু প্রস্তুত করে
রাখি।
।
।
।
আজ রাতে সেই রোজি
খাবার নিয়ে আসলো।
--আজকে আমরা খাবো না।
আপনি দরজাটা খুলে দেন।
আজকেই হবে শয়তান যাদুকরের
শেষ দিন।তাকে ধ্বংস
করে দেব।
রোজি কথা না বাড়িয়ে
দরজা খুলে দিলো।
হিমনকে বললামঃ
--দুইজন দুইদিকে খুজি..
আর সব রুম দেখা হয়ে
গেলে এখানে এসে দারাবি।
...
সবরুম দেখলাম কোথাও
নীলাকে দেখলাম না।
হয়তো হিমনের ওইদিকে
আছে।
আর একটু সামনে একটা
রুম দেখলাম।সেখানে
ভয়ংকর একটা মূর্তির
কাছে দারিয়ে কিছু একটা
বিড়বিড় করে বলছে।
বুঝলাম ওটাই শয়তানের
মূর্তি।আমাদের যে জায়গায়
দেখা করার কথা সেখানে
ফিরে গেলাম।সেখানে
হিমন আর রোজী আগে
থেকেই ছিলো।
--ওই দিকে নীলাকে দেখলাম
বন্দী সাথে আরো কিছু মেয়েও
বন্দী আছে।
--আগে ওই শয়তান যাদুকরকে
ধ্বংস করতে হবে।তাহলে
ওদের উদ্ধার করতে পারবো।
রোজি তোমাকে একটা কাজ
করতে হবে।
--কি কাজ বলেন?
--যেভাবেই হোক ঐ যাদুকরকে
ঐ শয়তানের মুর্তি থেকে দূরে
নিয়ে যাবে।আর ওর দণ্ডটা
ভেঙে দিবে।আমরা এদিকে
মূর্তী ভাঙবো।
.
.
--সর্দার আসুন ঐ ছেলে
দুটো ওই ঘরে নেই।
--চলোতো দেখি।
রোজি সর্দারকে নিয়ে চললো।
আমি আর হিমন শাবল দিয়ে
কয়েকটা আঘাত করতেই
শয়তানের মুর্তি ভেঙে গেল।
আবার ওইদিকে আর্তনাদ
করছে সর্দার।
--রোজি এটা কি করলে
দণ্ডটা ভেঙে ফেললে!
যত মানুষ বলী দিছি সেগুলোর
আত্মা এখন আমাকে মেরে
ফেলবে।
--আমি তো তাই চাই।
একটু পরেই অনেকগুলো
কংকাল , লাশ আর আত্মাগুলো
সর্দারকে আক্রমণ করে মেরে
ফেলল।
আর দাস দাসী হাসি মুখে
জয়ধ্বনি দিতে লাগলো
"জয় রোমানের জয়"
অতঃপর সবাই মিলিয়ে
গেল।আমি আর হিমন
নীলা ও মেয়েগুলোকে
উদ্ধার করে বাড়ির
দিকে চললাম।
------সমাপ্ত------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now