বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শুয়োরঞ্জনার চায়ে বিষ ছিলো না

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fazle Rabbi (০ পয়েন্ট)

X টিউশনি শেষ করে সবেমাত্র বের হলাম। সকাল থেকেই মন-মেজাজ বিগড়ে আছে কোনো এক কারনে। কারনটা কি এই মূহুর্তে মনে করতে পারছি না। মনে করতে ইচ্ছেও করছে না। হাতে কোনো জরুরি কাজ নেই তবে কিছু একটা জরুরি কাজ ছিল সেটাও এখন মনে করতে পারছি না। ইদানিং আমার হয়েছে মন ভোলা রোগ। সবকিছুই ভুলে যাই।এই মূহুর্তে আমার একটাই কাজ গলির মোড়ে গিয়ে কোনো একটা সিগারেটের দোকান থেকে সিগারেট কিনে ধরানো। আমার জরুরি কাজটা মনে করার চেষ্টা করতে করতে আমি গলির মোড়ের দিকে রওনা হলাম। হাঁটতে খারাপ লাগছে না। আবহাওয়াটাও অদ্ভুত রকম শীতল, মনে হয় কাছে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা প্রিয় মানুষটার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে একসাথে বৃষ্টি চা খাওয়ার। ইচ্ছাটাকে প্রবাহিত হতে না দিয়ে গলির মোড়ে এসে আমি সিগারেট ধরালাম।সিগারেট টানতে টানতে আরো একবার জরুরি কাজটা মনে করার বৃথা চেষ্টা করলাম, কোনো লাভ হলো না। পেটে খানিকটা ক্ষুধা অনুভব হওয়ার আমি একটা পাইনাপেল বিস্কুট কিনলাম। চা দিয়ে মানুষ বিস্কিট খায় কিন্তু আমি সিগারেট দিয়ে বিস্কিট খেলাম। তখনি ঘটলো ভয়ানক কান্ড আমার জরুরি কাজটার কথা মনে পড়েছে। জরুরি কাজটা হলো আমাকে শুয়োরঞ্জনার বাসায় যেতে হবে। কাল তার সাথে আমার এমনি কথা হয়েছে। আমি মন ভোলা রোগী হওয়ায় ভুলে গিয়েছিলাম। সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে আমি উঠে পড়লাম, উদ্দেশ্য শুয়োরঞ্জনাদের বাসা।পথিমধ্যে অনেক ঘটনা ঘটেছে যা স্কিপ করলাম। সন্ধ্যা হবে হবে ঠিক ঐ সময়ে আমি শুয়োরঞ্জনার দরজার কড়া নাড়লাম। শুয়োরঞ্জনা দরজা খুলেই আমাকে বললো বাবা বাড়িতেই আছে, নামায শেষ করে তোমার সাথে কথা বলবে। তখনি আমি খানিকটা কেঁপে উঠলাম। ঘটনা তাহলে এই শুয়োরঞ্জনার বাবার সাথে আজ আমার মিটিং। আজ কিবার সেটা মনে করার চেষ্টা করলাম এবং মনেও পড়লো আজ মঙ্গলবার। কপালে শনি নেই এই ভেবে খানিকটা স্বস্থিবোধ করলাম। শুয়োরঞ্জনা আমাকে চায়ের অফার করলো আমি সাদরে গ্রহন করলাম। চায়ের সাথে বিস্কিটও এলো। মিল্ক বিস্কিট দিয়ে চা খাচ্ছি আর কি ভেবে যেনো পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছি। চা-বিস্কিট শেষ করে অস্বস্তি বোধ করলাম। শরীরের অবস্থা ভালো না মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবো যাবো অবস্থা। ইতিমধ্যে সবকিছু দুইটা দেখতে শুরু করেছি।ঘটনা বুঝতে দেরি হলো না শুয়োরঞ্জনা আমাকে মারার জন্য চায়ের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে। এইসব ভাবতে ভাবতে আমি জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতাল এর বেডে। ঘটনা মনে করার চেষ্টা করলাম খুব সহজেই মনে পড়লো শুয়োরঞ্জনা চায়ের সাথে.......এতটুকু ভেবেই আমি আঁটকে গেলাম। তখনি প্রথম থেকে সব কিছু মনে পড়লো টিউশনি শেষ করে আমি সিগারেট দিয়ে পাইনাপেল বিস্কিট খেয়েছিলাম আর শুয়োরঞ্জনাদের বাসায় চা দিয়ে মিল্ক বিস্কিট। এই পাইনাপেল বিস্কিট আর মিল্ক বিস্কিটই আমার জীবন নাশের কারন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি খামোখা বেচারিকে ভুল বুঝেছিলাম। দুংখিত শুয়োরঞ্জনা, তোমার চায়ে বিষ ছিলো না। ????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শুয়োরঞ্জনার চায়ে বিষ ছিলো না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now