বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শুরুতেই. শেষ::

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X শুরুতেই. শেষ:: . . -পকেটে হাত দিয়ে দেখি ১০ টাকা আছে।এখন যদি বাসে করে যায় তাহলে রাতে খাওয়া হবে না। আজ ২৯ তারিখ।১ তারিখ না হলে টিউশুনির বেতন পাবো না।কপাল খারাপ হলে যা হয় এই মাস আবার ৩১ দিনে।সামনের দুই দিন যে কিভাবে যাবে সেটাই ভেবে কুল পাচ্ছি না।মাসের প্রথম থেকেই খুব হিসাব করে খরচ করি কিন্তু মাসের শেষে এসে এই ঝামেলা হবেই।যাকগে এত ভেবে লাভ নেই যা হবার হবে।এখন হেটেই যায়।এখন রাত ৮:২৫। হেটে যেতে দেড় ঘন্টা মতো লাগবে। প্রায় দশটা।.... আজ শুক্রবার। তাই রাস্তা মোটামুটি ফাকাই বলা যায়।মাঝে সাঝে হটাত হটাত করে গাড়ি যাচ্ছে শো শো করে।.... একটু জিরিয়ে নেই। অনেকক্ষন ধরে হাটছি।রেললাইনের উপর বসে আছি।আকাশের দিকে মুখ করে। ভাবছি আমার জীবনটা এমন কেন? যেটাই আকড়ে ধরে বাচতে চাই সেটাই তুমি নিয়ে নাও।আমার প্রতি এত নিষ্ঠুর কেন তুমি? -আপনি ও কি আমার মতো সুইসাইড করতে আসছেন নাকি? . আচমকা করো কথায় আমার ধ্যান ভাঙলো।এর মধ্যে যে কোন এক মানবী যে আমার পাশে আসন গ্রহন করেছে সেটা আমার দৃষ্টিকে আকর্ষন করতে পারেনি। অন্ধকারে মুখটা ঠিক মতো বুঝতে পারলাম না। -কিছু বললেন? -বললাম যে আপনিও কি সুইসাইড করতে এসেছেন? . মেয়েটার কথায় আশ্চর্য হওয়া উচিত ছিল।কিন্তু হয়নি।কি একটা কথা ছিল যেন পেটে আসছে কিন্তু মুখে আসছে না।আচ্ছা পরে মনে আসলে বলবো। -আমি আবার কখন সুইসাইড করতে আসলাম? -তাহলে এত রাতে এখানে বসে আছেন কেন? আর যেভাবে বসে ছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন।ট্রেন যদি আপনার উপর দিয়ে চলে ও যায় তাহলেও তো আপনার ধ্যান ভাঙ্গতো বলে মনে হয় না। -সুইসাইড করার মতো অতো সাহস এখনো হয়ে ওঠেনি।আর এখানে বসে আছি কারন একটানা ৫ কিলোমিটার হেটে এসেছি তাই একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলাম। -ওহ তাই বলেন।আমি ভাবলাস আপনি হয়তো সুইসাইড করতে আসছেন। -তা আপনি সুইসাইড করবেন কেন? রিলেশন ব্রেকআপ? নাকি বয়ফ্রেন্ড চিট করেছে? কোনটা? আই থিঙ্ক দুটোই। মেয়েটা আবার আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো।কিছুক্ষন এভাবে থাকলো তারপর বললো -আপনি জানলেন কিভাবে? -এটা কমন ব্যাপার। যায় হোক আপনি কি ১০০% শিউর সুইসাইড করবেন? -হ্যা ১০০%।আরে না হলে এখানে আসলাম কেন। -ওকে। এই লাইন দিয়ে ঠিক ১০ টাই ট্রেন যায়। আর সাত্র তিন মিনিট বাকি আছে ১০ টা বাজতে।লাইনের মাঝাসাঝি শুয়ে পড়ুন।এমন ভাবে যেন মাথা আর পা লাইনের পাতের বাইরের দিকে থাকে।এভাবে করলে ১০০% আপনি মারা যাবেন। . এবার মেয়েটা এমন ভাবে আমার দিকে তাকালো যেন ভুত দেখছে। -আরে তাড়াতাড়ি করুন ট্রেন এলো বলে।আর ভয় পাবার কোন কারন নেই আমি পাশেই দাড়িয়ে থাকবো।ট্রেন চলে যাবার পর আপনি মরেছেন কি না তা নিশ্চিত হয়ে দেন আমি যাবো। . সেয়েটা কি যেন ভাবলো। তারপর বললো -নাহ আমি লাইনের মাঝে দাড়িয়ে থাকবো। . ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। -ওকে ঠিক আছে।ওই যে ট্রেন আসছে।আমি এইযে পাশেই আছি।আপনি রেডি হয়ে নিন মরার জন্য।বিদায়। . আমি ট্রেন লাইন থেকে সরে দাড়ালাম।মেয়েটা লাইনের মাঝে দুহাত প্রসারিত করে দাড়িয়ে আছে।পাখিরা যেমন ওড়ার সময় ডানা ঝাপটায় তেমনি মেয়েটাও তার দুই হাত প্রসারিত করে আছে।... ট্রেন মেয়েটার অরেক কাছে চলে আসলো হটাতই মেয়েটা কি মনে করে লাইন থেকে নেমে এসে আমার সামনে এসে দাড়ালো। বিকট শব্দ করে ট্রেনটা যেতে লাগলো।আর সেই সাথে বিরক্তিকর হর্ন তো আছেই।কানে তালা লেগে যাবার মতো অবস্থা।মেয়েটা কিছু বলতে চাচ্ছিলো।কিন্তু বলার সুযোগ না দিয়েই আমি বলতে শুরু করলাম -জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখবেন "Life is beautiful" . মেয়েটাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ওখান থেকে হাটা শুরু করলাম।আমার একটা ফ্রেন্ড একবার বলেছিল -কথায় কথা বাড়ে আর ভোজনে বাড়ে পেট। আমার পেট ইতিমধ্যেই ডাকাডাকি শুরু করে দিছিলো।পিছন থেকে মেয়েটা কি যেন বলে যাচ্ছে কিন্তু আমি আমার মতো চলতে থাকলাম। . সকালে বের হবার সময় এক ফ্রেন্ডের কাছ থেকে ৪০ টাকা ধার করে বের হলাম।সকালে কিছুই খেলাম না।ক্লাস শেষ করে ফ্রেন্ডদের সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম।দুপুরে ২০ টাকা দিয়ে কিছু ভোজনের সাধ্যমে পেট মহাশয়কে একটু ঠান্ডা করলাম।টিউশুনি শেষ করতে করতে ৮ টা বেজে গেল। আজও হেটে যাবো।কালকের জন্য ১০ টা বাচিয়ে রাখতে হবে। আজও ট্রেন লাইনে এসে কিছুক্ষন বসলাম।সারাদিনের ব্যস্ততায় মেয়েটার কথা মনেই ছিল না।এখন মনে পড়তো না যদি না এখন মেয়েটা আমার সামনে থাকতো।মেয়েটার মনে এখন অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।মেয়েটা এখন অনেক কিছুই বলবে কিন্তু কোন কিছু বলতে না দিয়ে আমি শুরু করলাম -আমি জানতাম আপনি সুইসাইড করতে পারবেন না।কারন সুইসাইড করার জন্য অনেক সাহসের দরকার হয়।যার ঘটতি ছিল আপনার মধ্যে।তাছাড়া এর জন্য উপযুক্ত বিষয়ের দরকার পড়ে।যা আপনার কাছে ছিল না।আর সর্বোপরি আপনার বিবেকের কাছে আপনার আবেগ পরাজিত হয়েছিল যার জন্য এখনও আপনি এই পৃথিবীর মাঝে রয়েছেন এবং আমার সামনে আছেন। . মেয়েটা আড়চোখে আমার দিকে তাকালো।কিছুক্ষন কি যেন ভাবলো।তারপর বললো -সবই ঠিক আছে কিন্তু আপনি একবারও আমাকে আটকালেন না কেন? -লাভ ক্ষতির অংক করেছেন কখনও? -হ্যা কেন? -এটা অনেকটা লাভ ক্ষতি অংকের মতো।ধরুন আপনি মারা গেলেন।তো আজ সকালে সকল টিভি চ্যানেল, বেতার, পত্রিকা তেই এই খবর প্রকাশ হতো।তারা একটা মসলাদার টপিস পেতো।পৃথিবী থেকে ১ জন মানুষ কমতো।আরো অনেক লাভ আছে।আর ক্ষতিটা, আপনার মা বাবা সন্তান হারা হতো।একটা অপূরণিও ক্ষতি।এই লাভ ক্ষতি যা সবই আপনাকে ঘিরে। তাহলে আমি কেন সেখানে বাধা হবো বলুন? মেয়েটি অনেকক্ষন চুপ করে থাকলো।তারপর বললো -ঠিকই বলেছেন।অনেকটা বস্তববাদি আপনি।ছোটবেলা থেকে যা চেয়েছি পেয়েছি।কখনও কোন আঘাত আমার বাবা মা পেতে দেয়নি।তাই এই প্রথম আঘাতটা আমি সহযে সহ্য করতে পারিনি।কিন্তু কাল যখন ট্রেন লাইনের মাঝে দাড়িয়ে চোখটা বন্ধ করলাম তখন আব্বু আম্মুর মুখটা আসি দেখতে পেলাম।তাদের ভালবাসার বাধনটা আমি ছিন্ন করতে পারিনি। -আপনার মাঝে এই উপলদ্ধি টার প্রয়োজন ছিল।দেরিতে হলেও আপনি সেটা অর্জন করেছেন। -মেবি অর নট।আমার সাথে কি একটু কফি খাবার সময় হবে? -হ্যা। কেন নয়। -ওকে।কাল সকালে ঠিক ৯ টাই এখান থেকে আপনাকে পিক করবো আমি। -ওকে।ঠিক আছে। আজ তাহলে বিদায়।। . কিছু কিছু সময় আবেগের কাছে বিবেক হেরে যায়।কিন্তু কেউ কেউ আবার পুনরায় আবেগকে হারিয়ে দিতে পারে।আমার অদৃষ্ট এমনভাবে পরিবর্তিত হবে তা কখনই ভাবিনি।... যাবার মুহূর্তে মেয়েটার ঠোটের কোণে এক চিলতে হাসি দেখেছি আমি।যে হাসিটা আমার হৃদয় ভেদ করে আমার আবেগকে আবার পুনজন্ম দিয়েছে।... কিন্তু আমি যে বিবেককে হারতে দিতে পরি না।সব সময় মনের কথা শুনতে নেই।হয়তো মেয়েটাকে না দেখার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে। কিন্তু এই ক্ষুদ্র সময়ের ব্যবধানে আমার হৃদয়ের অ্যালবামে মেয়েটার হাসি মনের রংতুলি দিয়ে আকা হয়ে গেছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শুরুতেই. শেষ::

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now