বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Shudhu tmai cheyesi____part-02

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ২য় পর্ব ---***--- সেই যে রাজু অবনীদের বাসা থেকে চলে এসেছে,এই পর্যন্ত টানা চার বছর অবনীদের বাসার দিকে পা মাড়ায়নি সে। কেন যাবে সে ওখানে? যার জন্য সে যেত,সেইই তো আর তার দিকে ফিরে চায়নি। যাইহোক, রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে,রাজু তার রুমে গিয়ে ল্যাপটপ চালাচ্ছিলো। :-রাজু? রাজুর আম্মু তার রুমে ডুকতে ডুকতে কথাটা বললো। :-হুমম,বলো। ল্যাপটপ বন্ধ করে,সোজা হয়ে বসতে বসতে বললো,রাজু। :-কালকে অবনী আমাদের বাসায় আসবে। :-কোন অবনী? :-অবনী।তোর মামাতো বোন। :-ওহহ।তা ও আসলে আমার কি? :-তোর কি মানে?কালকে তুই গিয়ে ওকে স্টেশন থেকে নিয়ে আসবি। :-আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। :-কেন? :-কালকে আমাকে শহরে চলে যেতে হবে? :-কালকেই? :-হুমম। :-কেন? :-কেন আবার?আমাকে অফিসে জয়েন করতে হবে না? :-তা তো হবেই।কিন্তু তুই যে বললি,তুই অফিস থেকে পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে এসেছিস।আর সবে তো মাত্র চারদিন হলো :-হুমম,তা এসেছিলাম।কিন্তু,, :-অবনী আসছে শুনে তোর মত পাল্টে গিয়েছে,তাই তো? :-আম্মু,তুমি কি যে বলো না?ওর কাছে আমার কি?ও আসতেছে,যেহেতু কিছুদিন বেড়িয়ে যাবে। :-রাজু,তুই আমাকে কিছু বলতে হবে না।আমি তো আর কাঁছা মাছ খাই না,আমিও তো কিছু বুঝি।নাকি? :-আম্মু,তুমি কি বলতে চাইছো,বলতো? :-আমি বলতে চাইছি,তুই ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত,বাড়িতে থাকবি। :-তারপর? :-তারপর আর কি?অবনী আসলে ওর সাথে মেলামেশা করে বুঝে দেখ,ওর মাঝে কি আদৌ পরিবর্তন আসছে কি না? :-তারপর? :-ও যদি তোকে ভালো বেসেই থাকে,তাহলে তো তুই বুঝেই যাবি। :-তারপর? :-ও যদি রাজি থাকে,তাহলে আমি আর তোর আব্বু, তোর মামা-মামীর সাথে তোর আর অবনীর ব্যাপারে কথা বলে বিয়ে ঠিক করবো। :-হুহহ,আম্মু তোমার আদৌ কি মনে হয়?অবনী আমাকে ভালোবাসে? :-হুমম।তাই মনে হয়।তা না হলে,অবনী অনেক আগেই অন্য কাউকে বিয়ে করে ফেল তো।এতদিন পর্যন্ত এভাবে পড়ে থাকতো না। :-তোমার কথায় যুক্তি আছে।কিন্তু আম্মু ও তো বলেছিলো,ও নাকি আবির,না না আকাশ নামে একজনকে ভালোবাসে।তাহলে? :-কবে বলেছিলো? :-আমি যে শেষবারের মতো ওদের বাসায় গিয়েছিলাম।তখনই বলেছিলো। :-তাই নাকি? :-হুমম। :-কিন্তু তুই তো কখনো আমায় ওই কথাটা বলিস নাই। :-কি করে তোমায় আমি বলতাম।তখন তো আমার বলার মন-মানসিকতা ছিলো না। :-ওহহ।আচ্ছা,আমি কি বলি,তুই কালকে অবনীকে স্টেশন থেকে বাসায় নিয়ে আসবি।তারপর আমি নাহয় ওর সাথে সব কথা-বার্তা বলে বাকিটা বুঝে নিবো। :-আচ্চা আম্মু,তুমি যেটা চাইবে,সেটাই হবে। :-হুমম,তাহলে আর কি?এখন তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়। :-আচ্ছা। অতঃপর রাজুর আম্মু রুম থেকে বাহির হয়ে গেলো। রাজুও আর কিছু না ভেবে শুয়ে পড়লো। শুয়ে শুয়ে অবনীর কথা ভাবতে লাগলো। "কে জানে?অবনী এখন দেখতে কেমন হয়েছে?অবনী আদৌ তাকে ভালোবাসে কি না?" এভাবে বিভিন্ন ধরনের চিন্তা ভাবনা করার মাধ্যমে রাজু কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো,তা সে টেরই পেলো না। বেশ কিছুসময় হলো,অবনী বাস থেকে স্টেশনে নেমে একটা বেঞ্চে বসে রাজুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্ত রাজুর কোন পাত্তাই দেখতে পাচ্ছে না। তাই মোবাইলটা বাহির করে রাজুর আম্মুর নাম্বারে ফোন দিলো। রিং হওয়ার কিছুসময় পর রিসিব হলো। :-হ্যালো,ফুফু? :-হুমম,বল,,, :-তোমার ছেলের তো কোন পাত্তাই নাই।আমি দশমিনিটের মত হবে।স্টেশনের বেঞ্চটায় বসে আছি। :-কি বলিস?রাজু তো অনেক আগেই বের হয়ে গেছে।আচ্চা,তুই ওখানে বসে থাক।আমি রাজুকে ফোন দিতেছি। :-আচ্ছা,তাড়াতাড়ি করো। এই বলে ফোনটা রেখে দিলো,অবনী। "হ্যালো,আম্মু?" এমন শব্দ শুনে অবনী বেঞ্চের অপর পাশে তাকালো। দেখে একটি ছেলে অপরদিকে মুখ করে বসে আছে। :-আম্মু,আমিও তো বেঞ্চে বসে আছি।কিন্তু অবনী, :-এই রাজু, এমন শব্দ শুনে ছেলেটি মানে রাজু অবনীর দিকে ঘুরে তাকালো। :-আম্মু,আমি বোধহয় অবনীকে পেয়ে গেছি।এখন রাখি। এই বলে ফোন রেখে দিলো,রাজু। :-তুমি রাজু না? রাজুর সামনে গিয়ে কথাটা বললো,অবনী। :-হুমম,কিন্তু আপনি কে?(ভাব নিয়ে) :-আরে আমি অবনী। :-ওহহ,তুমিই অবনী,তাহলে? :-হুমম। :-তাহলে আর কি?দাড়িয়ে না থেকে চল,বাসার দিকে। :-হুমম,চলো। অতঃপর দুইজন একসাথে রওয়ানা দিলো,বাসার দিকে। কিছুসময় হাটার পর বাসায় পৌঁছে গেলো,রাজু আর অবনী। পথিমধ্য তাদের মাঝে তেমন কোন কথাই হয়নি। যাইহোক,দুপুরের খাবার খেয়ে রাজু তার রুমে গিয়ে শুয়ে রইলো। এর কিছুসময় পর অবনীও রাজুর রুমে প্রবেশ করলো। অবনীর আসার উপস্থিতি টের পেয়ে রাজু বিছানায় সোজা হয়ে উঠে বসলো। :-কি হলো?তুমি আমার রুমে আসছো কেন?(রাজু) :-আমার কি আসতে বারণ আছে নাকি?(অবনী) :-তা নেই।তারপরেও এভাবে কারও রুমে প্রবেশ করা উচিত না।এখন কেন এসেছো,সেটা বলো। :-তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো। :-সেটা পরেও বলতে পারবে।এখন গিয়ে বিশ্রাম নাও। :-আচ্ছা,ঠিক আছে।এবার এটা বলতো তুমি আমাকে এভাবে এড়িয়ে চলতেছো কেন? :-কই?আমি তো তোমায় এড়িয়ে চলতেছি না। :-এড়িয়ে না চললে,তুমি আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলতেছো কেন? :-কিভাবে? :-যেভাবে তুমি আমার সাথে কথা বলো,যেন আমি তোমার অপরিচিত। :-যেমন? :-আগে তুমি আমাকে তুই করে বলতে।আর এখন তুমি করে বলো। :-এরপর? :-আজকে স্টেশনে এমনভাবে তুমি আমার সাথে কথা বলেছো,যেন তুমি আমাকে চিনোই নি? :-এরপর? :-বাসায় আসার পথেও তুমি আমার সাথে তেমন কোন কথাই বলনি।কারণ কি? :-এবার আমি কিছু বলি,তুমিও বড় হয়েছো আমিও হয়েছি।তাই একে অপরকে তুই করে বলাটা শোভা পায় না।তাই আমি তোমাকে তুমি করে বলছি।স্টেশনে তুমি বোরকা পরা ছিলে,তাই আমি তোমায় চিনতে পারি নি। তুমি জার্নি করে ক্লান্ত ছিলে,তাই আসার সময় আমি তোমার সাথে কথা বলিনি। এবার তুমিই বলো,এখানে তোমাকে এড়িয়ে চলার কিছু হয়েছে? :-হুমম।তোমার মাঝে আমি অনেক পরিবর্তনই দেখতে পাইতেছি। :-আমিও তোমার মাঝে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাইতেছি।এখন আমি বিশ্রাম নিবো।তুমি এখন আসতে পারো। এই বলে রাজু শুয়ে পড়লো। অবনীও আর কিছু না বলে রুম থেকে বাহির হয়ে গেলো। সন্ধ্যা নেমে আসতেছে।সুর্যের রক্তিম আলো ছড়িয়ে পড়তেছে,চারিদিকে। এই দৃশ্যটা রাজু ছাদ থেকে উপভোগ করতে লাগলো। এর মাঝে অবনীও ছাদে এসে রাজুর পাশে গিয়ে দাড়ালো। রাজু অবনী আসার উপস্থিতি টের পেয়েও চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Shudhu tmai cheyesi____part-02

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now