বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই যে হ্যালো!
-- জি, আমাকে বলছেন?
- এখানে তো আর কাউকে দেখছি না!
-- কি বলবেন! বলেন..
- প্রতিদিন আমার পিছে এমন ঘুর ঘুর করেন
কেন!
-- আপনাকে ভাল লাগে তাই।
- বাহ কি সহজ ভাবে বলে দিলেন 'ভাল
লাগে তাই!'
-- জি আপনাকে ভাললাগা থেকে
ভালবাসা তৈরি হইছে তো তাই খুব সহজ
ভাবেই বলে দিলাম। কোথায় যেন
পড়েছিলাম প্রেমিকদের খুব সাহসী হতে
হয়..
- স্টুপিড। এর পর থেকে আমার পিছু নিবেন
না..
-- ওকে। সামনে এসেই দাড়াব..
- আপনার ত বড্ড সাহস বেড়ে গেছে!
-- আগেই বলেছিলাম প্রেমিকদের সাহসী
হতে হয়..
- আপনাকে এখন আমার মাস্তানদের মত মনে
হচ্ছে..
-- মাস্তান হলে কবেই আপনাকে তুলে
নিয়ে যেতাম!
- উহু বুঝেছি। আপনাকে এইভাবে বললে
কাজ হবে না। আমার বাবা যে এই
থানার এসআই জানেন? আমি ইচ্ছা করলেই
আপনাকে পুলিশে দিতে পারি..
-- হাহা পুলিশে দিলে আরো ভাল.. শ্বশুর
সাহেবের সাথে বিয়ের পাক্কা কথা
বলে আসব..
- অহ তাই না? আচ্ছা সাহস থাকলে আপনার
নাম্বারটা দিন!
-- 019******59
..
বন্ধুদের সাথে এলাকার এক গলিতে আড্ডা
দিচ্ছিলাম.. হঠাত্ করে কিছু পুলিশ
আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করে..
"বিজয় ছেলেটা কে! তোমরা তাকে
দেখেছ?"
- খুজে আনেন দেখিয়ে দেই..
.
বলেই হাসতে শুরু করলাম। কিন্তু পুলিশ
ব্যাটারা পকেট থেকে মোবাইল বের
করেই আমাকে কল দিল। বেজে ওঠার
সাথে সাথে আমাকে ধরে ফেলল এবং বলল
.. স্যার এর অর্ডার আছে .. নইলে আজ তোকে
গুলি করে মারতাম..
- গুলিতে বুলেট আছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে
..
.
বলেই দাত কেলালাম। সবগুলো পুলিশ
আমাদের দিকে ড্রাগনদের মত চেয়ে
আছে..
.
থানার ভেতরে একটা রুমে নিয়ে
যাওয়া হলো.. এবং আমাকে সোফায়
বসিয়ে দেওয়া হলো.. বিপরীত পাশেই
বসা ছিল রোদেলার বাবা। আগে
থেকেই চিনতাম এই ঘুষ খোর শ্বশুর কে..
- তোমার নাম কি?
-- সিগারেট..
- সিগারেট! আজকাল বাবা মা
ছেলেমেয়েদের কি সব নাম রাখে!
-- স্যার আমার নাম ফারাবি । সিগারেটের
ধুয়া একদম খারাপ লাগে। আগুনটা একটু
নিভালে ভাল হয়..
- তুমি আমাকে আইন শিখাও?
-- না স্যার। আমি জাস্ট আমার কষ্ট হচ্ছে
সেটা বললাম..
- বুঝেছি। তা তুমি কি করছ?
-- আপনাকে সিগারেট টানতে দেখছি..
- চুপ বেয়াদব। আমি জিজ্ঞেস করেছি যে
ব্যাক্তিগত লাইফে কি করছ?
-- স্টুডেন্ট..
- তুমি স্টুডেন্ট?
-- হ্যা স্যার। আবার কিছু স্টুডেন্ট পড়াই।
তাই এক কথায় উওর দিয়েছি.. স্টুডেন্ট..
- তুমি এত কথা পেচাও কেন?
-- আপনি প্রশ্ন করছেন বলে স্যার..
- চুপ বেয়াদব..
-- স্যার মেবি আমার নামটা ভুলে
গেছেন। তাই বেয়াদব বলছেন। আমার
নাম ফারাবি
- তুমি থামবে? নাকি লকআপে ঢুকাব?
-- আপনি মুরব্বি। আপনার ইচ্ছে..
- আচ্ছা তুমি নাকি একটা মেয়েকে
ডিস্টার্ব করো?
-- কে বলছে স্যার এমন মিথ্যে কথা? আমি
একটা মেয়ের সাথে প্রেম করি।
ডিস্টার্ব করি না.. ঐ মেয়েটা বেশি
কিউট। তাই হয়ত লোকজন ঈর্শা করে।
এজন্যই আপনাকে মিথ্যে কথা বলছে..
- সাটআপ। তুমি যাকে ডিস্টার্ব করো ও
আমার মেয়ে। রোদেলাই আমাকে
বলেছে যে তুমি ওকে প্রতিদিন
ডিস্টার্ব করো..
-- অহ এই কথা! স্যার হইছে কী! ও আমাকে
প্রতিদিন বলত যে আমার আব্বুর সাথে কথা
বলো প্লিজ.. কিন্তু আপনি পুলিশ তাই ভয়
লাগত। এজন্যই ও এরকম প্লান করেছে..
- তুমি কিন্তু বেশি বকছ! তোমাকে
লকআপে দিব..
-- আমি জানি স্যার। আপনি এটা করবেন
না। কারন আপনি অনেক ভাল একজন পুলিশ..
- কে বলছে তোমায়?
-- রোদেলা বলেছে স্যার..
- অহ.. বুঝেছি। আচ্ছা যাইহোক তোমাকে
এখন লকআপে দিবই..
-- আমার অপরাধ স্যার?
- তুমি আমার মেয়েকে ভুলিয়ে ভালিয়ে
পটিয়েছ!
-- স্যার। আপনিও তো রিলেশন করে
বিয়ে করেছিলেন। তখন কি কেউ
আপনাকে জেলে দিয়েছিল?
[ব্যাপারটা আগে থেকেই জানা ছিল।
তাই মেরে দিলাম..]
- খুক খুখ খুখ..
-- কাশবেন না স্যার। পানি আছে খেয়ে
নিন..
- তোমাকে সেটা বলতে হবে না। তুমি
এখন যাও..
-- যাব কি করে স্যার? ভাড়ার টাকা যে
নাই..
- এই নাও এখানে একশ টাকা আছে। এবার
কাটো..
-- স্যার আর একটা কথা!
- কি?
-- আপনাকে দেখতে আংকেল এর মত লাগে।
স্যার দের মত না..
-
-- আংকেল আসসালামু আলাইকুম..
..
সালাম দিয়ে কেটে পড়লাম। রাতে
বাসায় ফিরে আরামে ঘুম দিলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠতে লেইট হয়ে
গেছে। তাই আজ রোদেলাকে দেখতে
যাওয়া হয় নাই..
..
একটু পর মোবাইলে আননোন নাম্বার
থেকে ফোন আসল.. মেয়েলি কন্ঠে..
- কি বিজয় সাহেব! পুলিশের পেদানি
খেয়ে ভয় পেয়েছেন নাকি! আজ যে
দেখলাম না? হুম!
-- উহু। শ্বশুর কখনো জামাই কে পেদায়
নাকি?
- শ্বশুর না ছাই। ভয়ে তো গদর পদর। তা
কোথায় কোথায় মেরেছে.. কেমন
খেলেন?
-- শ্বশুর খুব ভাল। অনেক ভাল আপ্যায়ন
করেছে। এবং যৌতুক হিসেবে একশত
টাকাও দিয়েছে..
- বুঝছি আপনার অনেক সাহস আছে। তাইত এত
সহজে বাবাকে পটিয়ে ফেলেছেন..
-- শুধু কি বাবা কেই! বাবার মেয়েকে
পটাই নাই?
- একটুও না। আমার বর হবে হ্যান্ডসাম
কিউট। বাট আপনার ভেতরে এসবের কিচ্ছু
নাই..
-- আচ্ছা রাখি তাহলে.. আজ থেকে স্মার্ট
হওয়ার চেষ্টা করব..
- এই একদম রাখবেন না। ভিক্টোরিয়া
পার্কে দশ মিনিটে ভেতরে চলে
আসবেন। না হয় লকআপে ঢুকাব..
-- ব্যাপার না। ঘুষের পরিমান টা
বাড়িয়ে দিব..
এরকম আরো গল্প পড়তে ফেইসবুকে "জয়ী" নামে পেজ সার্চ করে বের করুন, তারপর লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now