বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শপিং

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X শপিং করে ফিরছিলাম। সাথে আমার বন্ধু শিহাব। অনেক শপিং করলাম। হঠাৎ একটা মোবাইল দেখে চোখ আটকে গেল। আমি মোবাইলটি দেখতে লাগলাম। শিহাব দেখি আরেকটি মোবাইলে গেম খেলা শুরু কইরা দিছে। আমি মোবাইলের ফাংশন দেখতে লাগলাম। হঠাৎ শিহাব আমার হাত ধরে টানতে লাগল। বিরক্তি নিয়ে তাকালাম..... . - কিরে প্রবলেম কি তোর??? টানতেছিস কেন??? (আমি) - এমনি চল তাড়াতাড়ি। (শিহাব) - দাড়া মোবাইলটা দেখে নেই। - আরে মোবাইল পড়েও দেখতে পারবি । এখানে থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না। - কেন রে??? কি করছস??? - কিছু না। চল। - আচ্ছা চল। . . শিহাব দেখি খুব দ্রুত হাটছে। আমিও হাটা লাগালাম। হঠাৎ পিছন থেকে ডাক..... . - ঐ দাড়ান। (মেয়ে) . দাড়ালাম। পিছনে ফিরলাম। মেয়েটি দেখলাম এগিয়ে আসছে। পরনে সেই মোবাইল শো-রুমের ড্রেস। এদিকে শিহাব টানছে আমাকে। . - দোস্ত চল তাড়াতাড়ি।(শিহাব) - আরে দাড়া না। কত্ত কিউট মেয়েটা ডাকতাছে। (আমি) - আরে মাইয়ার গুষ্টি কিলাই। আগে নিজের জান বাচা। - কেন রে??? কি করছস তুই??? - দোস্ত আমি না ঐ মোবাইটা হাত থেকে ফেলে ডিসপ্লে ভেঙে ফেলছি। - ও.... কি??? আরে ফইন্নি এখনো দাড়াইয়া রইছস কেন??? দে দৌড়। . . দুই বন্ধু চোখ বন্ধ করে দৌড়তে শুরু করলাম। শপিংমলের পার্কিং থেকে বাইকটা নিয়েই দে টান। একেবারে ১০০ কিঃমিঃ/ঘন্টা।নিরাপদ দুরত্বে এসে বাইক থামালাম। লাগালাম ঝাড়ি শিহাবকে.... . - ঐ লুলা নাকি তুই???(আমি) - না দোস্ত। দেখ আমার সব ঠিক আছে।(শিহাব) - তাইলে ঐ মোবাইল ফালাইছস কেমনে??? - পড়ে গেছে দোস্ত। - তোরে তো..... - দোস্ত খালি বাসায় পৌছায়া দে। জীবনে কোন শো -রুমে মোবাইলে হাত দিমু না কথা দিতাছি। - তোরে নিয়া আর জীবনে শপিং যামু না। - আচ্ছা এখন বাসায় চল। . . বাসায় গেলাম। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। এভাবে আরও কেটে গেল এক সপ্তাহ। প্রায় ঘটনাটা ভুলেই গেছিলাম। একদিন হঠাৎ আমি আর শিহাব ভার্সিটি থেকে ফিরছিলাম। এমন সময় এক কিউট মেয়ে এসে আমাদের সামনে দাড়াইল। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে পারলে দুজনকেই চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে।কোমরে হাত দিয়ে জল্লাদের মত চোখ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। শিহাব তো দেখি ভয়ে আমার পিছনে চলে গেছে। . - আপনি কে???(আমি) - আমি কে??? আপনার বন্ধুকে জিগান। (মেয়েটি) - কিরে কে ওনি??? (শিহাবকে বললাম) - এটাই ওনি।(শিহাব) - এটা টা আবার কে??? - ঐ যে শো-রুম। - কি??? - হ্যা। (মেয়েটি) - তা আপনি এখানে কেন??? (আমি) - আপনাদের পূজা করতে। - সরি। আসলে আশেপাশে কোন মন্দির নেই। - আপনাদের তো পুলিশে দেয়া উচিত। - আমার চৌদ্দ গুষ্ঠির কেউ কোন অপরাধ করে নাই। - আপনারা করছেন। জানেন স্যার আমাকে কত বকেছেন??? - এই স্যারটা আবার কে??? - ঐ শো-রুমের মালিক। - এক কাজজ করুন আপনিও স্যারকে মনে মনে বকে দিন। শোধবোধ হয়ে গেল। - মজা পাইছেন??? স্যারের বকা খেয়ে আমি দুইদিন খাইনি। - ও তাই??? আমাদের আপনাকে খাওয়াতে হবে তাইত??? - কেন?? আমার বাসায় খাবারের অভাব যে আপনাদের কাছ থেকে খাব??? - তো কেন??? - মোবাইলের দাম দিন। - এই দেখুন না পকেটে মাত্র দুই টাকা আছে। এটা নিন বাকিগুলা আস্তে আস্তে দিয়ে দিব। ধরুন প্রতিমাসে দুইটাকা কিস্তিতে। - এতকিছু বুঝি না। টাকা লাগবে ব্যস। - বললাম তো দিয়ে দিব। - না এখন লাগবে। - আরে দূররররর্..... কি ঘ্যানরঘ্যানর শুরু করছেন। টাকা লাগবে টাকা লাগবে। চুপ করে বাসায় যান। (রাগে বললাম। মেয়ে দেখখি ভয়ে চিপসে গেছে ঝাড়ি খেয়ে) - আপনারা টাক না দিলে পুলিশে কমপ্লেন করব। - যান আগে বাসায় গিয়ে কমপ্লেন খান। - আপনারা টাকা দিবেন??? - হ্যা দিব। বাট এ জন্মে না। - আপনাদের দেখে নিব। - ছবি তুলে দিব??? - দূরররররর....... - হ্যা যান। বাসার রাস্তা মাপেন। . . মেয়েটা চললে গেল। শিহাবকে থাপড়াতে মন চাচ্ছে। হেতির জন্য এত্ত কিউট একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করলাম। না মেয়েটার টাকা দিতেই হবে। . . এক সপ্তাহ পর আবার সেই শপিংমলে গেলাম। সেই শো-রুমের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। মেয়েটা অন্য একজনের সাথে কথা বলছে । আহা কি কিউট। মেয়েটা আমাদের দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। ভেতরে চলে যেতে লাগল। ডাকলাম। . - এই যে মেডাম শুনছেণ???(আমি) - হ্যা বলুন। (বিরক্তি নিয়ে) - শুনোন না। - আমি বয়ড়া না বলতে থাকেন। - মানে মোবাইলের টাকাটা। . মেয়েটা দেখি টাকাটা পেয়ে খুব খুশি হল। হৃদয় জুড়ানো একটা হাসি দিল। আহা আমি আবার ক্রাশ খেলাম। . - সরি আসলে আপনাদের অনেক কিছু বলেছি।(মেয়েটি) - না দোষ তো আমাদেরই(আমি) - না না। এই সামান্য কিছুর জন্য আপনাদের এত্ত কিছু বলেছি। - বাদ দিন। আপনার নামটা জানতে পারি??? - রিয়া। - নামটা আপনার মতই সুন্দর। - পাম দিতে হবে না। - পাম না সত্যি। আচ্ছা আপনার মোবাইল নম্বর টা পেতে পারি???? - কেন??? - না মানে আবার মোবাইল ভাঙলে বিকাশে টাকা দিয়ে দিব। - হি হি...... আচ্ছা নিন। - ধন্যবাদ। রাতে কথা হবে। - কেন??? এখন কি আরেক মোবাইল ভাঙবেন নাকি???? - না এমনি। . . বলে চলে আসলাম। শিহাবকে একটা চুম্মা দিতে মন চাচ্ছে। ও মোবাইলটা না ভাঙলে এই মেয়েটাকে হয়ত পেতাম না। . . একমাস পর........ . আজ প্রথম রিয়ার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছে ওর সাথে। কাল প্রপোজ করেছিলাম মোবাইলে। তাই আজ দেখা করতে বলেছে। খুব চিন্তা হচ্ছে ও যদি না করে। চিন্তিত হয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি ওনি অপেক্ষা করছে। . - এত্ত দেরি হলো কেন???(রিয়া) - না মানে। চিন্তায়। - চিন্তায়???? - হ্যা তোমার উত্তর টা নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। - হা হা..... জ্যামে দেরি হয় শুনেছি। এখন চিন্তায়ও দেরি হয়। - আচ্ছা উত্তরটা বললে না তো। - ভাল করে প্রপোজ না করলে বলব না। . অতঃপর দৌড় দিয়ে গেলাম আইসক্রিম ওয়ালার কাছে। একটা আইসক্রিম নিয়ে এসে রিয়াকে প্রপোজ করলাম। রিয়া আমার হাত থেকে আইসক্রিমটা নিয়ে খেতে শুরু করল। . - এই আমার উত্তরটা তো দেও। (আমি) - দাড়াও খেয়ে নেই পরে বলছি। . . অতঃপর আরকি। যা বুঝার বুঝে গেলাম। বাকিটুকু না হয় না জানাই থাকল। . . - গল্পটা কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে মেলাতে চেষ্টা করবেন না। তাহলে মোবাইলের টাকাটা কিন্তু আপনার পকেট থেকেই দিতে হবে। . . লিখা ~LoNeSoMe PRiYeS


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঈদের শপিং এ একদিন
→ হযরত উমর (রাঃ) এর ঈদ শপিং
→ খলিফা উমরের ঈদ শপিং
→ ঈদের শপিং এ ভালোবাসা শেষ পর্ব
→ ঈদ শপিং এ ভালোবাসা পর্ব২
→ ঈদ শপিং এ ভালোবাসা
→ অর্ধ পৃথিবীর শাসক খলীফা ওমর (রা)’র ঈদ শপিং
→ রম্যঃশপিং
→ ঈদের শপিং
→ অর্ধ পৃথিবীর শাসক খলীফা ওমর (রা)’র ঈদ শপিং।
→ শপিংয়ের তালিকায় যুক্ত করে, নতুন সিম!
→ শেষ রাতের শপিং
→ খলিফা উমরের ঈদ শপিং
→ ইদের শপিং (কাল্পনিক সত্য মিশ্রিত)
→ শপিং বাজেট ২হাজার টাকা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now