বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শীতের শহরে
লেখক: নাফিজ আহমেদ
কাকের ডানায় ভর করে নিজের অজান্তেই কখন যেন আগমন ঘটাল শীত। প্রথম প্রথম একটু একটু ঠান্ডা অনুভব করলেও পরবর্তী সময়ে বোধগম্য হলো—প্রকৃতি তার সবটুকু দিয়ে শীত ঢেলে দিয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে বিধায় বাসায় গিয়েছিলাম। গ্রামের এক কোণে, কপতাক্ষ নদের পাশেই অবস্থিত আমার সুখনীড়; যেখানে কাটিয়েছি আমার জীবনের সোনালি কিছু মুহূর্ত। আমাদের দেশে শহরের তুলনায় গ্রামেই একটু বেশি শীত পড়ে। আমিও শীত থেকে বাঁচতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। চাদর, সোয়েটার, মাফলারসহ অন্যান্য শীতের কাপড়—সবটুকু দিয়েই বেষ্টিত করে রাখি নিজ শরীর।
প্রতিদিন সকালে ফজরের আজান শ্রবণের মাধ্যমে ভাঙত আমার ঘুম। কখনো কখনো আম্মু এসেও ডেকে দিত নামাজের জন্য, সঙ্গে মোবাইলে অ্যালার্ম দিতে ভুল করতাম না। আর যাই হোক, নামাজ মিস করা যাবে না। লেপ-কম্বলের সুখরাজ্য থেকে উঠতে কিছুতেই ইচ্ছা করত না; কিন্তু কী আর করা—মালিকের প্রিয় বান্দাদের সারিতে থাকতে হলে তো অবশ্যই প্রবৃত্তিকে বিসর্জন দিতেই হবে। গরম স্থান ত্যাগ করে রওনা হতাম মসজিদের দিকে। সবুজে আচ্ছাদিত গ্রামের মেঠোপথ, শিশিরভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে এক কদম দুই কদম করে অবশেষে পৌঁছাতাম মসজিদে। পবিত্রতা অর্জন করে দাঁড়িয়ে যেতাম রবের সামনে।
নামাজ শেষ করে কিছুক্ষণ তাসবিহ-তাহলিল করে বাইর হই মসজিদ থেকে। হৃদয়ের অতলে এক প্রশান্তির বারিধারা প্রবাহিত হয়। মনে হয় যেন শয়তানের বিরুদ্ধে এক কঠিন যুদ্ধে জয় লাভ করলাম। হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই তেপান্তরের মাঠে। কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি—সম্মুখে সবই সাদা। আমি যেন এক সাদা পৃথিবীর বাসিন্দা। সামনের কোনো কিছুই অবলোকন করা যাচ্ছে না। নিস্তব্ধ পরিবেশ আর মাঝে মাঝে শীতমিশ্রিত বাতাস যেন ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে কৃষকেরা আমার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে তাদের জমির দিকে। দেখতে দেখতে সকলে যেন কুয়াশায় ঘেরা সাদা বেষ্টনীতে হারিয়ে যাচ্ছে।
গাছিরা আসছে গাছ কাটতে। কেউ কেউ বড় বড় খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই অতিবাহিত হতে থাকে ছুটির দিনগুলো। সারাদিন গ্রাম, প্রকৃতি, গ্রামের মানুষ—এসব নিয়েই কাটিয়ে দিতাম আমার মুহূর্তগুলো। দেখতে দেখতে শীতের ছুটি শেষ হলো। আবার ফিরতে হলো শহরের বুকে। বাসায় আম্মু শীতের কাপড় নেওয়ার জন্য খুবই জোরাজোরি করছিল। আমি পূর্ব অভিজ্ঞতার জেরে বলছিলাম—এত কাপড় নিয়ে কী হবে? শহরে কি শীত পড়ে নাকি! এজন্য বাসা থেকে শীতের তেমন কোনো কাপড়, লেপ-কম্বল কিছুই নিয়ে আসিনি।
শহরে এসে পূর্বের সব অভিজ্ঞতা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো। গ্রামের ন্যায় এখানেও প্রকৃতি তার সমস্তটুকু দিয়ে শীত বর্ষণ করছে। কুয়াশার কথা তো বাদই দিলাম—সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আমি যেন চলে এসেছি এক শীতের শহরে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now