বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিকল

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অয়ন ভৌমিক (০ পয়েন্ট)

X বিলের পাশ দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে ইউসুফ । পরনে লুঙ্গি ও শার্ট। কত রাত হয়েছে ঠিক বল যাচ্ছে না। শীতকালে সন্ধ্যার পরেই গ্রামের সবাই খেয়েদেয়ে শুয়ে শুয়ে পড়ে। চারিদিকে অন্ধকার। আকাশের ক্ষয়িষ্ণু চাঁদের আলােয় যেন অন্ধকারটাকেই ভালােভাবে দেখা যাচ্ছে। এমন সময় একটা আওয়াজ পেল ইউসুফ, মনে হল যেন অনেক দূর থেকে আসছে। একজন মানুষ পায়ে শিকল পরে হাঁটলে যেমন শব্দ হয়, ঠিক তেমন শব্দ। কিছুটা ভয় পায় ইউসুফ। তাড়াতাড়ি হেঁটে যেতে থাকে সে। শব্দটা ধীরে ধীরে পেছন থেকে কাছে আসছে। শব্দটা একেবারে ইউসুফের পিছনে আসার সাথে সাথে সে থমকে পেছনে ফিরে তাকায়। না, কেউ নেই। হয়তাে মনের ভুল, ভাবে ইউসুফ। হঠাৎ কি মনে করে নিচের দিকে তাকায় সে। অবাক হয় ইউসুফ। একটা শেকল। শেকলের এক প্রান্ত বিলের দিকে চলে গেছে। অন্য প্রান্ত তার জুতার সাথে আটকে আছে । এর কারনেই নিশ্চয়ই শব্দ হচ্ছিল। কিন্তু এর আগে যে মনে হচ্ছিল শব্দটা অনেক দূর থেকে আসছে। ধুর! এরও নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। এসব ভাবতে ভাবতে ইউসুফ উবু হবে বসে। শেকলটা জুতা থেকে খুলতে গিয়ে অবাক হয়ে যায় সে। শে-শেকলটা স্বর্নের তৈরি! হ্যা, কোন ভুল নেই। ইউসুফ একটা গহনার দোকানের কর্মচারী সোনা চিনতে সে কখনাে ভুলে করবে না। বেশ লম্বা শিকলটা, মনে হচ্ছে ভারীও। এটা যদি কোন ভাবে নেয়া যায়, তাহলে সব অভাব কেটে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। লোভে ইউসুফ এতটাই অন্ধ হয়ে গেল যে শিকলটা এখানে এল কিভাবে, এই প্রশ্নটা ইউসুফের মাথায়ই এলনা। তাড়াতাড়ি শেকলটা ধরে পানি থেকে টেনে তুলতে থাকে সে। শেকলটা বেশ লম্বা। প্রথম দিকে খুশি হলেও পরে ইউসুফ ভয় পেতে থাকে। একপাশে ছোটখাটো একটা স্তূপ হয়ে গেছে শেকলের। টানতে টানতে শেষটায় শেকলটা কোথায় যেন আটকে যায়। ধ্বক করে ওঠে ইউসুফের বুক। শেকলটার মাথা আংটার মত কোথাও আটকে গেল নাতাে! টানাটানি করতে গিয়ে অন্যমনস্কভাবে পানিতে নেমে গেল ইউসুফ। হঠাৎ শেকলটা তার হাতে পেঁচিয়ে গেল। পানি থেকে কেউ যেন শেকলটার অপর প্রান্ত ধরে হ্যাচকা টান দিল। তাল সামলাতে পারল না ইউসুফ। পানিতে পড়ে গেল সে। পানিতে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে শেকলটা একটা জীবন্ত প্রানীর মত তাকে পেঁচিয়ে ফেলে টেনে পানির নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ধস্তাধস্তি করার সময় ইউসুফ দেখল পানির নিচে বেশ বড় একটা সিন্দুক। সেটা থেকে অদ্ভুত একটা আলাে বের হচ্ছে। শেকলটা তাকে টেনে সিন্দুকের ভেতর নিয়ে যায়। সাথে সাথে সিন্দুকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। সিন্দুকের ভেতর অনেকগুলাে মোহর স্তূপ করে রাখা। স্তূপের উপর অনেকগুলো কালো পাথরের মূর্তি। মূর্তির লোকগুলো বিকলাঙ্গ এবং তাদের মুখ থ্যাঁতলানাে। নিষ্ঠুরভাবে হাসছে মূর্তিগুলো। ইউসুফ ভয়ে ভয়ে দেখল মূর্তিগুলোর হাসি ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। পরদিন সকালে ইউসুফের লাশ পাওয়া গেল বিলের পানিতে। স্বাভাবিকভাবেই তাকে দাফন করা হল। সাঁতার জানত না ইউসুফ। তাই তার মৃত্যু অস্বাভাবিক ছিল না, কেবল একজন গোরখুঁড়ে লক্ষ্য করল, ইউসুফের হাতের কবজিতে একটা শিকলের দাগ। কিছুক্ষণ সে এটা নিয়ে চিন্টা করল। তারপর অন্য কাজের ফাকে এই ব্যাপারটা বেমালুম ভুলে গেল। যদি সন্দেহবশত সে বিলের পানি সেঁচত তাহলে দেখতে পেত পানির নিচের সেই সিন্দুকটির মধ্যে এখন আছে আরেকটি কালো পাথরের মূর্তি। সেটিও বিকলাঙ্গ ও মুখ থ্যাতলানো। কিন্তু বুঝতে কোন সমস্যা হয় না, সেটি ইউসুফের মূর্তি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শিকল
→ মৃত্যু শিকল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now