বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শহরের বুকে শীতের সকাল
— নাফিজ আহমেদ
ভোর ৫:৪০। নিকষ কালো আধার তখনও চারিদিকে বিরাজমান। ট্রাস্ট মসজিদের উচ্চ মিনার থেকে ভেসে আসছে মুয়াজ্জিনের সুললিত কণ্ঠে উচ্চারিত— “আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম” (নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম)। আমি তখনও শয্যা ত্যাগ করিনি। এই কঠিন শীতে আরামের বিছানা ছেড়ে ঠান্ডা পানির কাছে কে-ই বা যেতে চাই!
কিন্তু তাই ভাবলে কি চলে? আমি তো রহমানের বান্দা। আমার মালিক তো আমাকে সৃষ্টি করেছেন কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই। তাই বিছানা থেকে উঠে সরাসরি চলে গেলাম ওয়াশরুমে। পবিত্রতা অর্জন করে শীতের কাপড় ঠিকঠাক করে শরীরে জড়িয়ে ডাকতে শুরু করলাম মেসের সকল ছাত্রকে।
৫০১, ৫০২, ৫০৩—এভাবে একে একে সবার রুমে ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে রওনা হলাম মসজিদের দিকে। এ শহরে মসজিদের অভাব নেই। আক্ষরিক অর্থেই এ শহরকে মসজিদের শহর বলা যায়। দুইশো মিটারের ভেতর তিনটি মসজিদ অবস্থিত। তবে আমি আমার নিকটবর্তী ট্রাস্ট মসজিদেই নামাজের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলাম।
অনেক মুসল্লি আগেই চলে এসেছেন। জামাতের মাত্র চার মিনিট বাকি। কী আর করা—সুন্নাত নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। যথাযথভাবে নামাজ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই মুয়াজ্জিন সাহেব ইকামত শুরু করলেন। আমাদের এখানে ফজরের নামাজ প্রায় বিশ মিনিটব্যাপী হয়। নামাজের ভেতর এক অসাধারণ তৃপ্তি অনুভব করি।
নামাজ শেষে শহরের রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। এখানে গ্রামের মতো তেপান্তরের মাঠ নেই। শিশির মিশ্রিত শুভ্র ঘাসও চোখে পড়ে না। মাটি দেখতেও যেন অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। নিরব নিস্তব্ধতা এখানে নেই বললেই চলে। গাড়ির চলাচল আর কলকারখানার শব্দে নিরবতা আপনাআপনি পালিয়ে যায়।
অনেকটা পথ হাঁটার পর পৌঁছালাম নগরের ছোট্ট বাজারে। ছোট্ট বললেও ভুল হবে—বাজারটি যথেষ্ট বড়। ততক্ষণে অনেক দোকান খুলে গেছে। আর একটু পরেই বাজার পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। শহরের এই একটি সুবিধা—এখানে রাত-দিনের কোনো ভেদ নেই। যখন যা ইচ্ছা, তাই পাওয়া যায়। অধিকাংশ দোকানপাট প্রায় সবসময়ই খোলা থাকে।
কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক হাঁটাহাঁটির পর আবার ফিরছি আপন নীড়ে—একটি অস্থায়ী বাসস্থান। নির্দিষ্ট সময় শেষে আপনা থেকেই এই গৃহ ছেড়ে চলে যেতে হবে। রুমে রুমে আসতে আসতে ততক্ষণে প্রায় ৭টা বেজে গেছে।
অনেক শিশু ছুটে চলেছে তাদের বিদ্যালয়ের দিকে। আহা! কত খুশি তারা। জীবন নিয়ে এখনো কোনো চিন্তা তৈরি হয়নি। নিষ্পাপ মুখগুলো দেখতে বড়ই ভালো লাগে। সকলে একসঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করতে করতে পথ চলছে। কারও সঙ্গে তাদের অভিভাবকরাও আছেন। অবুঝ শিশুগুলো আম্মু-আব্বুর কাছে নানা প্রশ্ন করছে। সেই প্রশ্নে আম্মু-আব্বুর ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠছে তৃপ্তির হাসি। এই মুহূর্তে তাদের মতো সুখী পরিবার হয়তো আর দু’টি নেই।
আমি রাস্তার এক কোণে দাঁড়িয়ে এই সবকিছু অবলোকন করছি। পাখিরা যেমন খাদ্যের সন্ধানে দূর আকাশে উড়াল দেয়, খাদ্য সংগ্রহ করে আবার ফিরে আসে আপন নীড়ে—ঠিক তেমনি এ শহরের কত মানুষ রিজিকের সন্ধানে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে। কেউ রিকশা চালাচ্ছে, কেউ গার্মেন্টসে যাচ্ছে, কেউ বা হকারি করছে। একেকজন একেকভাবে রিজিকের সন্ধান করছে।
অনেকক্ষণ বাইরে থাকার পর ফিরলাম রুমে—৫০৭ নম্বর রুমে। আমাদের রুমে আমরা পাঁচজন থাকি। তারা ইতিমধ্যে নামাজ শেষে পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে। কেউ কেউ এখনো কুরআন তেলাওয়াত করছে। আজ আমি একটু দেরিতে ফিরলাম। আমিও আর দেরি না করে হালকা নাশতা করে পড়তে বসে গেলাম। সামনে আবার ক্লাসে যেতে হবে।
কিছুক্ষণ পর খাবার শেষ করে রওনা হলাম ক্লাসের দিকে। দেরি হলেই শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই কঠোর—গ্রাম তো এমন নয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now