বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শহীদি ঈদ
========
সারা বাংলাদেশ আজ যেখানে যালিম শাসকের কারাগার ও রিমাণ্ড
নির্যাতনের ক্যাম্পে পরিনত, যেখানে দ্বীন ইসলাম পরাধীন,
ইসলাম বিরোধী শক্তির দাপটে মুসলিম জনপদ পদদলিত, অমানুষিক
নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে এবং ঘর বাড়ী থেকে উচ্ছেদ হয়ে
অনেকেই দুঃসহ জীবন যাপন করছে, প্রতিদিন গুম খুন ও হত্যায়
সন্তান হারাচ্ছে তার পিতাকে, স্ত্রী হারাচ্ছে তার প্রিয়তম
স্বামীকে, মা হারাচ্ছে তার সন্তানকে, প্রহসনের বিচারের ফাঁসির
মঞ্চ এবং ক্রস ফায়ার নামক বধ্যভুমিতে আলেম ওলামা এবং ঈমানদার
সৎ নেতারা হচ্ছেন শহীদ সেখানে কি করে আজ প্রান খুলে
ঈদের আনন্দ উৎসব করা সম্ভব? এই তো কুরবানীর ঈদের
আগে কি নিষ্ঠুর ভাবে প্রানপ্রিয় ছেলেকে কেড়ে নিয়ে গুম
করে দিয়ে স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগে বিনা অপরাধে ফাঁসি
দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ উল্লাস করলো।
বর্তমান বাংলাদেশের এমন ধর্মহীন দুষিত ও ভয়াবহ নারকীয়
পরিবেশে পরাধীন দ্বীন ইসলাম এবং মযলুম জনগনের মুক্তির
উপায় সম্পর্কে যখন ভাবছিলাম তখন হঠাৎ করে আজ থেকে
৭০-৮০ বছর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা
“শহীদি ঈদ” কবিতাটি পেয়ে গেলাম। আল্লাহু আকবার। কবিতাটির
প্রতিটি লাইন যেন জান ও মাল দিয়ে দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী
করার সংগ্রামে উজ্জীবিত কুরআন মজিদের আয়াতগুলির ব্যাখ্যা।
কুরআনের অনেক তফসীর পড়েছি শুনেছি, কিন্তু কবিতার
আকারে এমন জীবন্ত ও কালজয়ী তাফসীর কখনো দেখি
নাই, ৭০-৮০ বছর আগে লেখা ঐ কবিতাটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে
যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
মক্কী জীবনে আমাদের বিশ্বনেতা মহানবী (স) ও তাঁর
সাহাবীরা (রা) দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার সংগ্রামে ইসলাম
বিরোধী শক্তির যুলুম নির্যাতন ভোগ করে নিজেদেরকে
কুরবানী করেছিলেন যার নাম “শহীদি ঈদ”। আর এ কথাটাই
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম “শহীদি ঈদ” কবিতায় ফুটিয়ে
তুলেছেন। কুরআনের সূরা বাকারাহ ২১৪, সূরা আনকাবুত ২-৩, সূরা
আল ইমরান ১৪২, সূরা তওবা ১৬, সূরা মুহম্মদ ৩১ আয়াত সহ অনেক
গুলি আয়াতে জান ও মাল দিয়ে দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার
সংগ্রাম যারা করবে না তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়েছে তা তিনি
কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেনঃ
শুধু আপনারে বাঁচায় যে,
মুসলিম নহে, ভন্ড সে!
ইসলাম বলে-বাঁচ সবাই!
দাও কোরবানী জান ও মাল,
বেহেশত তোমার কর হালাল।
স্বার্থপরের বেহেশত নাই।
যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাদেরকে কবিতায় কসাইর সাথে
তুলনা করা হয়েছে এবং আমাদের মত সুবিধাবাদীরা যতই ঈদের
আনন্দ করি আল্লাহর কাছে সেটা কোন ঈদের আনন্দ নয়,
আল্লাহর কাছে প্রকৃত ঈদের আনন্দ পাচ্ছে শহীদরা যারা মৃত
নয়, বরং জীবিত যা কুরআনে সূরা বাকরাহ ১৫৪ ও সূরা আল ইমরান ১৬৯
আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটাই তাঁর কবিতায় ফুটে
উঠেছেঃ
কশাইয়ের আবার কোরবানী!-
আমাদের নয়, তাদের ঈদ,
বীর-সুত যারা হ’ল শহীদ,
অমর যাদের বীরবাণী।
কুরআনে সূরা আনফল ২৮ ও সূরা তাহরীম ৬ আয়াতে সন্তানদের
জন্য দুনিয়াবী ভোগবিলাস ও ধন সম্পদ কামনা মানেই সন্তানকে
জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়া এটাও কত নিখুঁতভাবে কবিতায়
ফুটিয়ে তুলেছেনঃ
সন্তানে দিলে নরক-নার!
মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখ।
বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে
জান্নাত্ পানে আছ্ চেয়ে
ভাবিছ সেরাত হবেই পার।
দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার সংগ্রাম না করে যারা শুধু নামায এবং
জিকির করে সহজে জান্নাতে যেতে চায় তাদের সম্পর্কে
লিখেছেনঃ
নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং,
ইয়া উয়া প’রে সেজেছ সং,
ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম!
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কর জড়,
ত্যাগের বেলাতে জড়সড়!
তোর নামাজের কি আছে দাম?
দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার সংগ্রাম না করে যারা লোক
দেখানো কুরবানীর নামে পশু জবাই করে এবং হাদীসে
বর্নীত সেই সব ইসলাম বিকৃতিকারী সুবিধাবাদী শ্রেনীর
লোকদের চেহারা সুরত মুসলমানের মত দেখা গেলেও
তাদেরকে আমাদের নবী (স) সুপারিশ করবেন না এবং দূর দূর
করে তাড়িয়ে দেবেন তাও এ কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেনঃ
ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,
আপনারে আর দিসনে লাজ,-
গরু ঘুষ দিয়ে চাস্ সওয়াব?
যদিই রে তুই গরুর সাথ
পার হয়ে যাস পুলসেরাত,
কি দিবি মোহাম্মদে(দ জওয়াব?
শুধাবেন যবে-ওরে কাফের,
কি করেছ তুমি ইসলামের?
ইসলামে দিয়ে জাহান্নম
আপনি এসেছ বেহেশত ’পর-
পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর!
দেখাসনে মুখ, লাগে শরম!
আজ ফিলিস্তিন, ভারতের কাশ্মীর, বার্মার আরাকান, ইরাক, সিরিয়া,
আফগনিস্তান, বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন জনপথে
মুসলমানদেরকে যেভাবে যুলুম নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে, ঘর
বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধংস করে দিয়ে পথের ফকির বানানো
হচ্ছে এবং যে পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পঙ্গু ও শহীদ
হয়ে গিয়েছে সেসব পরিবারের কি করে ঈদের আনন্দ
আসতে পারে? রাসুলুল্লাহ (স) এবং তাঁর সাহাবারা (রা) ঈদের আনন্দ
উৎসব করেছিলেন মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করে
পরাধীন ইসলামকে মুক্ত ও বিজয়ী করার পর। তাই সত্যিকার
ঈদের আনন্দ উৎসব পালন করা সম্ভব হবে ঐ দিন যেদিন ইসলাম
বিরোধী যালিম শাসকের পতন হয়ে যেদিন আজাদ (স্বাধীন) ও
মুক্ত হওয়া যাবে এবং পরাধীন দ্বীন ইসলাম যুলুম মুক্ত হবে।
আজাদ-মুক্ত হবি যখন
জুলম-মুক্ত হবে রে দ্বীন।-
কোরবানীর আজ এই যে খুন
শিখা হয়ে যেন জালে আগুন,
জালিমের যেন রাখে না চিন্!!
ইসলাম বিরোধী যালিম শাসকের অধীনে দাস ইসলাম অর্থাৎ
পরাধীন ইসলামের এই দুর্দিনে ইসলামকে বিজয়ী করার
সংগ্রামে প্রত্যেক মা যেন বিবি হাজেরার মত নিজ সন্তানকে
কুরবানী দেয়ার মনবল নিয়ে এগিয়ে চলে কুরবানীর এ চেতনা
এ কবিতায় ফুটে উঠেছেঃ
নিজেদের দাও কোরবানী।
বেঁচে যাবে তুমি, বাঁচিবে দ্বীন,
দাস ইসলাম হবে স্বাধীন।
আজ বাস্তবে দেখি শহীদি ঈদের কাফেলায় জামাত শিবিরের
নেতা কর্মীরাই এগিয়ে আছে। দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার
সংগ্রামে নিজেদেরকে এবং নিজেদের সন্তানদেরকে
কুরবানী দিয়ে শহীদি ঈদ পালন করে চলছেন। আল্লাহ যেন
তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করেন এবং তাদের কুরবানীর
বিনিময়ে ইসলাম বিরোধী যালিম শাসকদেরকে পরাভুত ও নির্মূল
করে পরাধীন দ্বীন ইসলাম এবং মযলুম জনগনের মুক্তি ও
স্বাধীনতা দান করেন।
নীচে সম্পূর্ন কবিতাটি উল্লেখ করলামঃ
শহীদি ঈদ
========
- কাজী নজরুল ইসলাম
১
শহীদের ঈদ এসেছে আজ
শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ,
আল্লাহর রাহে চাহে সে ভিখ্।
জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে
আল্লার রাহে তাহারে দে,
চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।
২
চাহি না ক’ গাভী দুম্বা উট,
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানী, চাই না দান।
রাখিতে ইজ্জত্ ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি? কে আছ মুসলমান?
৩
ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,
আপনারে আর দিসনে লাজ,-
গরু ঘুষ দিয়ে চাস্ সওয়াব?
যদিই রে তুই গরুর সাথ
পার হয়ে যাস পুলসেরাত,
কি দিবি মোহাম্মদে(দ জওয়াব?
৪
শুধাবেন যবে-ওরে কাফের,
কি করেছ তুমি ইসলামের?
ইসলামে দিয়ে জাহান্নম
আপনি এসেছ বেহেশত ’পর-
পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর!
দেখাসনে মুখ, লাগে শরম!
৫
গরুরে করিলে সেরাত পার,
সন্তানে দিলে নরক-নার!
মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখ।
কোরবানী দিলি গরু-ছাগল,
তাদেরই জীবন হ’ল সফল
পেয়েছে তাহারা বেহেশতলোক!
৬
শুধু আপনারে বাঁচায় যে,
মুসলিম নহে, ভন্ড সে!
ইসলাম বলে-বাঁচ সবাই!
দাও কোরবানী জান ও মাল,
বেহেশত তোমার কর হালাল।
স্বার্থপরের বেহেশত নাই।
৭
ইসলামে তুমি দিয়ে কবর
মুসলিম ব’লে কর ফখর!
মোনাফেক তুমি সেরা বে-দ্বীন!
ইসলামে যারা করে জবেহ্,
তুমি তাহাদেরি হও তাবে।
তুমি জুতো-বওয়া তারি অধীন।
৮
নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং,
ইয়া উয়া প’রে সেজেছ সং,
ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম!
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কর জড়,
ত্যাগের বেলাতে জড়সড়!
তোর নামাজের কি আছে দাম?
৯
খেয়ে খেয়ে গোশত রুটি তো খুব
হয়েছ খোদার খাসী বেকুব,
নিজেদের দাও কোরবানী।
বেঁচে যাবে তুমি, বাঁচিবে দ্বীন,
দাস ইসলাম হবে স্বাধীন,
গাহিছে কামাল এই গানই!
১০
বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে
জান্নাত্ পানে আছ্ চেয়ে
ভাবিছ সেরাত হবেই পার।
কেননা, দিয়েছ সাত জনের
তরে এক গরু! আর কি, ঢের!
সাতটি টাকায় গোনাহ্ কাবার!
১১
জান না কি তুমি, রে বেঈমান!
আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান
দেখিছেন তোর সব কিছু?
জাব্বা-জোব্বা দিয়ে ধোঁকা
দিবি আল্লারে, ওরে বোকা!
কেয়ামতে হবে মাথা নীচু!
১২
ডুবে ইসলাম, আসে আঁধার
ইব্রাহিমের মত আবার
কোরবানী দাও প্রিয় বিভব!
“জবীহুল্লাহ্” ছেলেরা হোক,
যাক সব কিছু; সত্য রোক!
মা হাজেরা হোক মায়েরা সব।
১৩
খা’বে দেখেছিলেন ইব্রাহিম-
“দাও কোরবানী মহামহিম!”
তোরা যে দেখিস্ দিবালোকে
কি যে দুর্গতি ইসলামের!
পরীক্ষা নেন খোদা তোদের
হাববের সাথে বাজি রেখে!
১৪
যত দিন তোরা নিজেরা মেষ,
ভীরু দুর্বল, অধীন দেশ,-
আল্লার রাহে ততটা দিন
দিও না ক’ পশু কোরবানী,
বিফল হবে রে সবখানি!
(তুই) পশু চেয়ে যে রে অধম হীন!
১৫
মনের পশুরে কর জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
কশাইয়ের আবার কোরবানী!-
আমাদের নয়, তাদের ঈদ,
বীর-সুত যারা হ’ল শহীদ,
অমর যাদের বীরবাণী।
১৬
পশু কোরবানী দিস্ তখন
আজাদ-মুক্ত হবি যখন
জুলম-মুক্ত হবে রে দ্বীন।-
কোরবানীর আজ এই যে খুন
শিখা হয়ে যেন জালে আগুন,
জালিমের যেন রাখে না চিন্!!
আমিন্ রাব্বিল্ আলামিন!
আমিন রাব্বিল্ আলামিন!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now