বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শেষ জীবনের গল্প – (পর্ব ০৪)
✍️✍️নাফিজ আহমেদ
তালহা সাহেব একজন ব্যস্ত মানুষ। ঢাকার একটি বড় প্রতিষ্ঠানে, উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিনের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। আজ দুপুরে অফিসের কক্ষে একা বসে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তাঁর মোবাইলে একটি কল এলো—স্ক্রিনে ভেসে উঠলো “নাফিজ কাকা” নামটি। বহুদিন পর এই নাম্বার থেকে ফোন এসেছে!
তালহা খানিকটা বিস্ময়ের সঙ্গেই ফোনটি ধরলেন।
— “হ্যালো, তালহা বলছো?”
— “জী কাকা, আপনি? কেমন আছেন? বাসার সবাই কেমন আছেন?”
— “বাবারে, একসাথে এত প্রশ্ন করলে আমি কোনটার উত্তর দেব?”
— “তুমি খুব ব্যস্ত মনে হচ্ছে!”
তালহা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
— “আসলে কাকা, কিছু অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এজন্য ফোন ধরতে দেরি হলো। আপনি কিছু বলবেন?”
— “হ্যাঁ, খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলার ছিল। তুমি একটু ফ্রি হও, তারপর বলব।”
— “আচ্ছা কাকা, আমি আপনাকে এক ঘণ্টা পর ফোন করছি।”
— “ঠিক আছে বাবা, আমি অপেক্ষায় রইলাম।”
এতক্ষণ পাশে বসে থাকা ইমন সাহেব পুরো কথোপকথন শুনছিলেন। ছেলের কণ্ঠ শুনে তাঁর মনটা অজান্তেই ব্যাকুল হয়ে উঠল। নিজেই ভাবতে লাগলেন— "আমার ছোট্ট তালহা আজ কত বড় হয়ে গেছে! ঢাকায় ব্যাংকের ম্যানেজার, নিজের বাড়ি-গাড়ি আছে। নিশ্চয়ই সুখেই আছে। কিন্তু আমার কথা কি ওর মনে পড়ে? না পড়লেই বা দোষ কি, তখন তো সে খুব ছোট ছিল, কিছুই বোঝার বয়স ছিল না।"
নাফিজকে প্রশ্ন করলেন,
— “তালহা এখনো ফোন দেয়নি?”
— “না, তবে দেবে হয়তো এখনই। এক ঘণ্টা তো প্রায় হয়ে গেছে।”
ঠিক তখনই তালহার নাম্বার থেকে ফোন এলো। আমি রিসিভ করলাম।
— “আসসালামু আলাইকুম কাকা।”
— “ওয়ালাইকুমুস সালাম বাবা। আলহামদুলিল্লাহ আমরা সবাই ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
— “ভালো আছি কাকা। তখন কল দিয়েছিলেন, একটু ব্যস্ত ছিলাম। এখন সময় আছে, বলুন কী বলবেন।”
— “তোমার বাবার কথা মনে আছে তোমার?”
প্রশ্নটা শুনে তালহা খানিকটা হতচকিত হয়ে গেল।
— “বাবাকে তো আমি চোখে দেখিনি কাকা। শুধু একটি ছবিতেই তাঁর মুখ দেখেছি।”
আমি একটু চুপ থেকে বললাম,
— “গতকাল বিকেলে মকলেছের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ কে যেন এসে পাশে বসল। তাকিয়ে দেখি—তোমার বাবা! আমি হতবাক হয়ে গেছি। কিছুক্ষণ আমরা গল্প করলাম, তারপর তাঁকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এলাম।"
— “তুমি তো জানো, তোমাদের বাড়িটা এখন প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। ভূতের বাড়ি বললেও কম বলা হয়। কেউ থাকে না সেখানে। বছরে একবার তুমি আসো, তাও একদিন থেকে চলে যাও।"
বাবার নাম শুনে তালহার হৃদয় কেঁপে উঠল।
— “কাকা, আব্বুকে একটু ফোন দিন। আমি কথা বলতে চাই।”
ইমন সাহেব ফোন হাতে নিয়ে কাঁপা কণ্ঠে কিছু বলবেন,ওমনে আদরের ছেলে বলে উঠল
— “আসসালামু আলাইকুম আব্বু। কেমন আছেন আপনি ? আমাদের ছেড়ে কোথায় চলে গিয়েছিলেন?”
ওপাশ থেকে কান্নাভেজা কণ্ঠে ভেসে এলো,
— “বাবা... তুই আমার সেই ছোট তালহা! তোর মুখ দেখার জন্য আমার মন কতদিন ধরেই কাঁদছে। তুই চলে আয় বাবা, সব খুলে বলব তোকে।”
— “আপনি চিন্তা করবেন না আব্বু, আমি আজই রাতের বাসে রওনা দিচ্ছি। পরিবার নিয়েই যাচ্ছি।”
আমি তালহাকে শান্তনা দিয়ে বললাম,
— “চিন্তা করিস না বাবা। তোর বাবা আমার কাছেই আছে। তুমি ধীরে সুস্থে আসিস।”
— “আচ্ছা কাকা, আপনাকে ধন্যবাদ। তাহলে রাখছি।”
ফোন রাখার পর আমি ইমনকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম,
— “ধুর পাগল, এভাবে কাঁদিস না। তোর ছেলে তো আসছে! কত বড় হয়ে গেছে রে তোর তালহা! ত্রিশ বছর পর তোদের দেখা হবে।”
ইমন চোখ মুছে বললেন,
— “আল্লাহ্র কাছে লাখো শুকরিয়া যে মৃত্যুর আগেই আবার একবার ছেলের মুখটা দেখতে পাব। এই ত্রিশটা বছর কীভাবে কেটেছে, তা একমাত্র সেই মানুষ জানে, যে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে।”
— “তালহা এলে ওকে নিয়ে সরাসরি ইমার বাসায় যাব। আগে থেকে বললে ও নিজেকে সামলাতে পারবে না।”
— “ঠিক আছে, আমিও যাব। এখন চল, দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিই। অনেক কান্নাকাটি হলো—এবার একটু আনন্দের প্রস্তুতি নেই।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now