বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ বৃষ্টির দিনে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Nishat Rumana (guest) (০ পয়েন্ট)

X Cover শেষ বৃষ্টির দিনে।❤️‍???? NISHAT RUMANA Table of contents - পুরোনো বই, নতুন চোখ। - চোখে যাকে দেখি, শব্দে তাকে খুঁজি। - ছোঁয়া, না ছুঁয়ে। - না বলা শব্দেরা। - লেখা ভালোবাসা। - সম্পর্কের সামনে দাড়ানো দেয়াল - ভুল সময়, ভুল ব্যাখ্যা - পাঁচ বছর পর, সেই শেষ বৃষ্টির দিনে - চুপচাপ ভালোবাসি। - পুরোনো বই, নতুন চোখ। ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ১: পুরোনো বই, নতুন চোখ ঢাকার ধানমণ্ডির এক কোণে ছোট্ট এক পুরোনো বইয়ের দোকান, নাম— “স্মৃতি পাতা”। বাইরে সেদিন অঝোর বৃষ্টি। রাস্তার পাশে জমে থাকা পানিতে আকাশের প্রতিচ্ছবি দুলছে। দোকানের সামনে ঝুলছে একটা অর্ধভেজা, নীল রঙা ঘণ্টা—যেটা বাতাসে কাঁপছে কিন্তু বাজে না। দোকানের ভেতরে বসে আছে জেফার আলি খান, বয়স ১৮। পরনে ছিমছাম সাদা কুর্তি, মাথায় একটা পাতলা শাল জড়ানো, চোখদুটো তন্দ্রাচ্ছন্ন কিন্তু তীক্ষ্ণ—যেন প্রতিটা শব্দ গিলে নিচ্ছে। সে বসে আছে জীবনানন্দের কবিতার বই হাতে। এমনভাবে পাতায় আঙুল রেখেছে যেন শব্দগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ, দোকানের ঘণ্টাটা বাজে। চোখ তুলে তাকায় জেফার। দরজার ফ্রেমে দাঁড়িয়ে এক তরুণ—চুল এলোমেলো, গায়ে সাদা শার্ট, প্যান্টের নিচ থেকে গলগল করে পানি পড়ছে। ভিজে গেছে, কিন্তু মুখে একরাশ প্রশান্তি। যেন এভাবে বৃষ্টিতে ভিজে ঢুকতেই চেয়েছিল। — “দুঃখিত,” ছেলেটা হাসে, “ভিজে ফেললাম আপনার দোকানটা।” দোকানদার ভ্রু কুঁচকে তাকালেও কিছু বলে না। জেফার তার কবিতার বইয়ের পেছন থেকে চোখ নামায় না, কিন্তু মন চলে যায় সেই কণ্ঠের দিকে। কিছুক্ষণ পর ছেলেটি তাকের দিকে তাকিয়ে বলে— — “তুমি কি জীবনানন্দ পড়ছো?” জেফার একটু চমকে তাকায়। — “হ্যাঁ। আপনি?” — “জীবনানন্দ আমার প্রথম প্রেম,” ছেলেটা হাসে, “তবে দ্বিতীয় প্রেমটা এখনো খুঁজে চলেছি।” জেফার চুপ করে থাকে। কিছু বলে না। শুধু চোখ নামিয়ে আবার পাতা উল্টায়। ছেলেটি এগিয়ে এসে বলে, — “আমি ইশান। ইশান জাজিব চৌধুরী।” জেফার উত্তর দেয় না। শুধু চোখ তুলে এক ঝলক তাকায়, তারপর বলে— — “জেফার। শুধু জেফার বললেই চলে।” বাইরে বৃষ্টি ততক্ষণে একটু থেমেছে। কিন্তু দুজনের মাঝখানে একটা অদৃশ্য ভেজা প্রাচীর তৈরি হয়ে গেছে—যেটা না ধাক্কা দিয়ে, না ছুঁয়ে—মনের গভীরে পানি জমিয়ে ফেলে। এই ছিল প্রথম দেখা। --- ✨ পরবর্তী অধ্যায় (অধ্যায় ২): ইশানের দৃষ্টিতে জেফার – তাদের প্রথম কথোপকথন, এবং ইশানের মনের ভেতরে গড়ে ওঠা একটা নরম অনুভূতির শুরু। - চোখে যাকে দেখি, শব্দে তাকে খুঁজি। ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ২: চোখে যাকে দেখি, শব্দে যাকে খুঁজি বৃষ্টি আমি আগেও দেখেছি, তবে আজকের মতো করে কোনোদিন না। আমি, ইশান জাজিব চৌধুরী, ২৪ বছর বয়স। সিলেটের ছোট্ট শহর থেকে ঢাকায় এসেছি এক মাস হলো—বাবার ব্যবসার কিছু দায়িত্ব কাঁধে। কিন্তু কাঁধের ওজনের চেয়েও মন যেন বেশি ভারী। আজকের মতো দিন, যেখানে চারপাশ থমকে আছে, বৃষ্টি থামে না—আমি ছাতা নিই না। হেঁটে হেঁটে পৌঁছে যাই ধানমণ্ডির একটা অজানা গলি দিয়ে, যেখানে পুরোনো বইয়ের ঘ্রাণ এখনো বেঁচে আছে। "স্মৃতি পাতা"—দোকানটার নাম। ঢুকেই আমি থমকে গেলাম। সে বসে ছিলো কাঠের চেয়ারটায়, কবিতার বই হাতে। তার চোখ… সে চোখে আমি একবারেই হারিয়ে গেলাম। তার নাম জেফার। শুধু নাম না—তাকে মনে হলো একটা কবিতা, যার প্রতিটি লাইন আবিষ্কার করতে হলে নিজের সমস্ত সময় দিয়ে দিতে হবে। আমি প্রশ্ন করেছিলাম— “তুমি কি জীবনানন্দ পড়ছো?” সে শুধু তাকিয়েছিলো আমার দিকে। তাকে দেখে মনে হয়েছিল, আমি যেন কোথাও আগে দেখেছি তাকে। কিন্তু আসলে, আমরা সবাই এমন কাউকে খুঁজি—যাকে দেখে মনে হয়, “তুমি আমার একান্ত কেউ ছিলে, কোনো এক জন্মে”। তার স্বর ছিলো শান্ত নদীর মতো—চলার মাঝেও স্থিরতা। জেফার — এই নামটা আমার মনের গায়ে লেগে থাকলো, অনেকটা প্রথম বৃষ্টির গন্ধের মতো। আর আমি নিশ্চিত ছিলাম, আজকের এই দেখা কোনো সাধারণ পরিচয় না। এটা ছিলো একটা গল্পের সূচনা। আর আমি, স্বেচ্ছায়, এই গল্পে হারিয়ে যেতে চাই। --- ???? অধ্যায় ৩ এর সূত্রপাত : ইশান বারবার সেই বইয়ের দোকানে ফিরে আসে জেফারের চোখে ইশান কেমন লাগে? ধীরে ধীরে দুইজনের মাঝে বাড়ে নীরব বন্ধুত্ব বৃষ্টির দিনে প্রথম স্পর্শ — ছোঁয়া না ছুঁয়ে। - ছোঁয়া, না ছুঁয়ে। ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৩: ছোঁয়া, না ছুঁয়ে জেফার কখনো ভাবেনি কেউ তার নীরবতা বুঝবে। তার ভেতরের গল্পগুলো কেবল কাগজের পাতায় কিংবা কবিতার লাইনে বেঁচে থাকে—মানুষের কথোপকথনে নয়। কিন্তু ইশান ছিল আলাদা। সে প্রতিদিন সেই দোকানে আসে। কখনো কবিতার বই হাতে, কখনো পুরোনো উপন্যাস। কিন্তু আসল কারণটা বই না— কারণটা ছিলো জেফার। একদিন, দোকানে মাত্র দুজন ছিলো—জেফার আর ইশান। বাইরে তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু মেঘে আকাশ এখনো ভারী। ইশান ধীরে ধীরে কাছে এসে দাঁড়ায়, যেন অনুমতির অপেক্ষায়। সে নিচু স্বরে বলে, — “তুমি যখন পড়ো, তোমার ঠোঁটের কোনে একটা ভাঁজ পড়ে... জানো?” জেফার কিছুক্ষণ চুপ থেকে বই বন্ধ করে। তার কণ্ঠ নরম, কিন্তু ভেতরে জোয়ার বইছে। — “তুমি আমার ঠোঁটের দিকে তাকাও?” ইশান একটু হেসে চোখ নামায়। — “না... আমি আসলে তোমার মুখে সেই শব্দ খুঁজি, যেগুলো তুমি আওড়াও না।” একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। তারপর হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে। দোকানের দরজার ঘণ্টা বাজে না, হাওয়ায় দরজা হালকা খুলে যায়। বৃষ্টির বাতাস এক ঝটকায় ভেতরে ঢোকে, আর জেফারের হাত থেকে পড়ে যায় তার প্রিয় কবিতার বইটা। ইশান তাড়াতাড়ি বইটা কুড়িয়ে এনে তার হাতে দেয়। হাত ছুঁয়ে যায়... খুব ক্ষণিকের জন্য। তবে সেই ছোঁয়া ছিলো এমন, যেন কোনো শব্দ ছাড়া কেউ বলল— “আমি আছি।” --- ???? অধ্যায় ৪: জেফার ভেতরে অনুভব করতে থাকে এক অন্যরকম টান ইশানের অতীত নিয়ে আস্তে আস্তে কিছু ইঙ্গিত মেলে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার মাঝের দোলাচল এবং প্রথমবার, জেফার চায় ইশান তার মনের কথা বোঝুক - না বলা শব্দেরা। ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৪: না বলা শব্দেরা জেফার কখনো নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলেনি। সে সবসময় চুপচাপ, তার মুখে না থাকে অভিমান, না থাকে অভিযোগ। কিন্তু ইশান আসার পর থেকে, মনে হয় যেন ভেতরের সব বন্ধ দরজাগুলো ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে। সে নিজের অজান্তেই এখন দিন গোনে—ইশান আসবে কি না। আর ইশান? সে যেন প্রতিটি দিনই নতুন কোনো অজুহাতে সেই বইয়ের দোকানে ফিরে আসে। সে কোনোদিন বলে না "ভালো লাগো", কোনোদিন বলে না "তোমাকে দেখতে ভালো লাগে"। তবু জেফার বুঝে ফেলে—কারণ কিছু অনুভূতির ভাষা হয় না, চোখে লেখা থাকে। একদিন, বইয়ের তাকের পাশে দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। জেফার ধীরে ধীরে বলে উঠল, — “তোমার হাতের আঙুলে কালি কেন?” ইশান একটু চমকে হেসে বলল, — “আমি লিখি মাঝেমাঝে। ভাবি, কেউ যদি একদিন আমার লেখা পড়ে... বুঝে ফেলে, এটা ওর জন্যই ছিল।” জেফার তাকিয়ে থাকে। তার ঠোঁটে হালকা একটা হাসি। — “তাহলে এখন থেকে আমি তোমার লেখা পড়ব। হয়তো আমি খুঁজে পাব আমার নাম।” কথাটা বলেই সে চোখ নামিয়ে ফেলে। একটা অদ্ভুত নীরবতা নামে। ইশান ধীরে ধীরে বলে, — “তুমি কি আমার জন্য অপেক্ষা করো, জেফার?” এই প্রথমবার, মেয়েটি চুপ করে থাকে না। সে চোখ তুলে বলে, — “না। আমি কারো জন্য অপেক্ষা করতাম না... কিন্তু তুমি আসার পর মনে হয়, কেউ যেন আমায় চোখে রাখছে। এটা কেমন অনুভূতি জানো?” — “কেমন?” জেফার ফিসফিস করে বলে, — “যেন আমার নাম কেউ মনে রাখে। ভুলে যায় না।” বাইরে বৃষ্টি পড়ে না, তবু মনে হয় বৃষ্টির গন্ধে ভরে আছে চারপাশ। অভিমান, না বলা কথা, আর বুকের ভিতর জমে থাকা সমস্ত শব্দ—ধীরে ধীরে একটা অনুভবের দিকে এগিয়ে যায়। তাদের মাঝে প্রেম নামটা তখনো উচ্চারিত হয়নি, তবে দুইজনে জানে—এই নীরবতা, এই চোখ, এই স্পর্শ... সবকিছুই এক অপ্রকাশ্য ভালোবাসা। --- ???? অধ্যায় ৫: ইশান একদিন জেফারের হাতে রেখে যায় তার নিজের লেখা একটা কবিতা জেফার সেটা পড়ে কাঁদে, কিন্তু লুকিয়ে প্রথমবার “ভালোবাসা” শব্দটি আসে, তবে মুখে নয়, হৃদয়ের ছায়ায় গল্প এক মোড় নেয়... যখন তাদের পরিবার দুজনকে নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে - লেখা ভালোবাসা। তবে এবার সেই অধ্যায়… যেখানে ভালোবাসা প্রকাশ পায় অক্ষরে, কিন্তু কণ্ঠে নয়। ভালোবাসা লেখা হয় কাগজে, তবু বলা হয় না কারো সামনে। --- ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৫: লেখা ভালোবাসা সেদিন দোকানে আসেনি ইশান। জেফার চুপ করে ছিল। তার মন খারাপ ছিল না ঠিক, কিন্তু একটা অজানা শুন্যতা তাকে সারাদিন পেছন থেকে টেনে ধরছিল। হঠাৎ দোকানদার একটি ছোট খাম এগিয়ে দেয় তার দিকে। — “আজ সকালে এক ছেলেটা দিয়ে গেছে। বলল তোমাকে দিও।” খামটা হাতে নিয়ে সে একটু অবাক। ধীরে ধীরে খাম খুলে দেখে—ভেতরে একটা ভাঁজ করা কাগজ, হাতে লেখা। সাদা কাগজে কালো কালি। অক্ষরগুলো খুব চেনা, ঠিক যেমন ইশানের চোখ। --- "তোমার জন্য কিছু শব্দ…" (ইশানের লেখা কবিতা) > তুমি জানো না, কীভাবে প্রতিটি দুপুর তোমার নীরবতায় রঙ হারায়। কীভাবে আমি তোমার চোখে হারিয়ে নিজেকে খুঁজে ফিরি, বারবার। তোমার নাম— উচ্চারণ করিনি, কারণ শব্দ পবিত্র নয় সবসময়। আমি চেয়েছি, তুমি আমার নিরবতার নাম হয়ে যাও। যদি কখনো আমার ছুঁয়ে ফেলা পাতাগুলো পড়ো, জানবে, সব কবিতা তোমার জন্যই লেখা। শুধু ‘তোমাকে ভালোবাসি’ না বলে। --- জেফার কবিতাটি পড়তে পড়তে চোখের কোনা ভিজে আসে। কিন্তু সে সেটা মুছে ফেলে চুপচাপ। দোকানে কেউ টের পায় না— সে কতটা গভীরভাবে কাঁদছে। সে জানে, ইশান এখনো কিছু বলেনি মুখে, তবু তার হৃদয় কবিতার শব্দ হয়ে তাকে ছুঁয়ে গেছে। তবে সেইদিন সন্ধ্যায়, তার মা কিয়ারা খান প্রথমবার জিজ্ঞেস করলেন, — “তুমি কাকে নিয়ে এতো ভাব? - সম্পর্কের সামনে দাড়ানো দেয়াল ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৬: সম্পর্কের সামনে দাঁড়ানো দেয়াল কিয়ারা খান চুপচাপ ছিলেন না। সেই দিন সন্ধ্যায় জেফারের ঘরে ঢুকে একেবারে সোজা প্রশ্ন করলেন— — “তুমি কি কাউকে ভালোবাসো, জেফার?” ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। জেফার কিছু বলে না। শুধু তার চোখের ভাষায় কিছু একটা দোল খায়। কিয়ারা কণ্ঠ কঠোর করে বলে ওঠেন, — “ তুমি জানো তোমার বাবা কেমন। এখনো সময় আছে এমন কোনো অনুভূতির জন্ম মনে দিও না যার পরিনতি তুমি সয্য করতে পারবে না। সে হয়তো তোমার মনের মতো, কিন্তু সমাজ কি এসব মেনে নেয়? তোমার বয়সটা এখনো অনেক কম এইসব বোঝার জন্য তাই সময় নাও, ভাবো আর নিজেকে বোঝাও। “ সেই রাতে জেফার চুপ করে কাঁদে। কথা বলে না। কারো সামনে মাথা নত করে না। তবে তার হৃদয়ের ভেতর যেন কেউ বলে— “তুমি নিজেকে বোঝাতে পারো, কিন্তু ভালোবাসাকে থামাতে পারো না।” --- পরদিন, ইশান আসে সেই চেনা দোকানে। তবে তার মুখে চিন্তার ছায়া। সে জানে, কিছু একটা বদলেছে। জেফারের মুখে সাদা নিরবতা, আর চোখে এক গভীর ক্লান্তি। — “তোমার মা জানে,” জেফার ফিসফিস করে। ইশান এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে। তারপর বলে, — “তোমার পরিবার তোমার পৃথিবী, জেফার। আমি যদি তাদের চোখে ভুল হই, তাহলে...?” জেফার মুখ তুলে বলে, — “তুমি ভুল নও। তুমি শুধু সময়ের আগে এসেছো। এটাই তোমার একমাত্র অপরাধ।” তাদের মাঝখানে এক দীর্ঘ নীরবতা নেমে আসে। ইশান সেইদিন তার হাতটা ছুঁতে যায়। কিন্তু জেফার এক চুল পিছিয়ে আসে। সে বলে, — “আমি ভয় পাই… যদি এই ভালোবাসা একদিন আমাদের শেষ করে দেয়?” ইশান নরম গলায় উত্তর দেয়, — “ভালোবাসা কখনো শেষ করে না, জেফার। শুধু পরিণতি হয়তো দেরিতে আসে।” --- সেই রাতে প্রথমবার, দুজন আলাদা হয়ে যায় — কোনো ঝগড়া ছাড়া, কিন্তু ভেতরের যুদ্ধ নিয়ে। এটা ছিল প্রথম ফাঁটল। যার শব্দ শোনা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়— ঠিক শেষ বৃষ্টির মতো। --- ???? অধ্যায় ৭: ইশানের পরিবারও সম্পর্ক জানে, এবং চাপ বাড়াতে থাকে ইশান ও জেফার একবার শেষবার দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয় বৃষ্টি নামে সেদিন — এবং তারা একে অপরকে বিদায় জানায়, কিন্তু অসম্পূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে সেই বিদায়ের দিনে ইশান বলে যায় একটি প্রতিশ্রুতি… - “তুমি যদি একদিন আমাকে ডাকো… আমি ফিরে আসবো, শেষ বৃষ্টির দিনে।” - ভুল সময়, ভুল ব্যাখ্যা ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৭: ভুল সময়, ভুল ব্যাখ্যা কয়েকদিন ইশান আর জেফারের দেখা হয়নি। জেফার ভাবছিল, হয়তো তাদের সম্পর্ককে একটু সময় দিলে সব ঠিক হবে। কিন্তু সময় সবসময় সঠিক দিক ধরে চলে না। সেই সন্ধ্যাটা ছিল থেমে থাকা এক বিষাদের দিন। বৃষ্টি পড়ছিল না, কিন্তু বাতাসে জমে থাকা ভেজা গন্ধ বলে দিচ্ছিল—কিছু আসন্ন। আরিশা, ইশানের ছোট বোন, হঠাৎ একদিন জেফারের মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠায়। ছবি জুড়ে কিছু স্ক্রিনশট— ইশান আর এক অচেনা মেয়ের সঙ্গে কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি, তার নিচে লেখা— “তুমি কি জানো, কার সঙ্গে সময় কাটায় সে?” জেফার তখন বোঝেনি, এটা কি সত্যি, না কোনো ভুল বোঝাবুঝি। কিন্তু বিশ্বাসের ভেতর এক চিড় ধরেছিল। সে ইশানকে কিছু না বলেই দূরে সরে যায়। --- অন্যদিকে, ইশান বুঝতেই পারেনি কী হচ্ছে। সে অপেক্ষা করে প্রতিদিন, সেই চেনা দোকানে। কিন্তু জেফার আর আসে না। একদিন অনেক কষ্টে দেখা হয় — চোখে চোখ, অথচ ভেতরে এক অজানা দূরত্ব। — “তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনি?” ইশান জিজ্ঞেস করে। জেফার বলে না কিছু। শুধু চোখ সরিয়ে নেয়। ইশান বুঝে যায়, তাকে দোষ দেওয়া হয়নি মুখে, তবু হৃদয়ে সে অপরাধী হয়ে গেছে। তারা কোনো ঝগড়া করে না। কোনো স্পষ্ট বিদায় নয়। শুধু একদিন, এক বৃষ্টির দিনে, ইশান একটা ছোট্ট চিঠি দিয়ে চলে যায় বিদেশে বাবার কাজে। চিঠিতে লেখা ছিল: > “তোমাকে না বলেই চলে যাচ্ছি, কারণ তুমিও আমাকে না বলেই ছেড়ে দিয়েছো। যদি কোনোদিন আবার ভালোবাসার দিন ফিরে আসে, আমি ফিরে আসবো… ঠিক শেষ বৃষ্টির দিনে।” --- ???? এই ছিল তাদের বিচ্ছেদ। তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। - পাঁচ বছর পর, সেই শেষ বৃষ্টির দিনে ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৮: পাঁচ বছর পর, সেই শেষ বৃষ্টির দিনে ঢাকা, পাঁচ বছর পর। শহরটা বদলে গেছে, কিন্তু কিছু গলি, কিছু জায়গা এখনও আগের মতোই রয়ে গেছে। আর কিছু স্মৃতি—সময় টানলেও পিছু ছাড়ে না। জেফার আলি খান এখন একজন লেখিকা। তার লেখা উপন্যাস শেষ বৃষ্টি দিনে আজই প্রকাশ পাচ্ছে এক ছোট্ট বইমেলায়। শাড়ির আঁচলে নিজের বইটা নিয়ে দাঁড়িয়ে সে ভাবে— এই নামে লেখা উপন্যাস আসলে একরকম আত্মজীবনী। যেখানে প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে আছে এক মানুষ। একটি চোখ, একটি চিঠি, আর একটা অসমাপ্ত “ভালোবাসি”। অনুষ্ঠান শুরু হয়। আলো, ক্যামেরা, মঞ্চ। কিন্তু জেফারের চোখ খুঁজে ফেরে একজনকে। যে হয়তো আসবেই না। তবু মন বলে, "সে আসবে... আজ শেষ বৃষ্টি দিনের মতো একটা দিনে, সে আসবেই।" আর ঠিক তখনই, ভিড়ের মাঝে, সামনের সারির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছেলেকে সে দেখতে পায়। ছাতা নেই। চুল ভিজে গেছে, শার্ট ভিজে গায়ে লেগে আছে। তবু সে দাঁড়িয়ে—চুপচাপ। ইশান। সে বদলায়নি। শুধু চোখে জমেছে কিছু অতীত, আর মনে কিছু না বলা কথা। দুজনের চোখে চোখ পড়তেই চারপাশের শব্দ থেমে যায়। সমস্ত ভিড় এক নিমিষে অস্পষ্ট হয়ে যায়। ইশান ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। সে কিছু বলে না। শুধু জেফারের বইয়ের একটা পৃষ্ঠা উল্টে তার সামনে ধরে। সেই পাতায় লেখা— > “তুমি যদি একদিন আমাকে ডাকো... আমি ফিরে আসবো, শেষ বৃষ্টির দিনে।” জেফার চোখ বুজে ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে বলে— — “আমি তো ডাকিনি, তবুও এলে কেন?” ইশান বলে, — “তোমার প্রতিটা লেখা, প্রতিটা নিরবতা... ডাক ছিল। আমি শুধু একটু দেরি করে শুনেছি।” বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়ছে। এইবার আর কেউ কিছু বলে না। তারা একে অপরের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকে, যেন একে অপরের ভেতর পুরোনো সব সময় খুঁজে ফেরে। জেফার প্রথমবার হাত বাড়ায়। ইশান তার হাত ধরে। ধরা নয়, যেন সেই পুরোনো কবিতাটা আবার ছুঁয়ে দেখা। --- ???? শেষ লাইন (সম্ভাব্য উপসংহার): > “ভালোবাসা যখন সত্যি হয়, সে থামে না, সে শুধু পথ ভুলে যেতে পারে। আর ঠিক একদিন, শেষ বৃষ্টির দিনে, সে আবার ফিরে আসে।” --- - চুপচাপ ভালোবাসি। ???? শেষ বৃষ্টি দিনে ✒️ অধ্যায় ৯: চুপচাপ ভালোবাসি ইশানের ফিরে আসা কোনো ঢাকঢোলের মতো ছিল না। সে আসেনি নতুন কিছু শুরু করতে, সে এসেছিল অসমাপ্ত কিছু শেষ করতে। জেফার তাকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি, সে জানত—সময় অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে দেয়, আর কিছু প্রশ্নের উত্তর না পাওয়াই হয়তো পরিণতি। সেই রাতে তারা হেঁটেছিল ধানমণ্ডির সেই পুরোনো রাস্তায়, যেখানে প্রথমবার বৃষ্টির মধ্যে তাদের চোখে চোখ পড়েছিল। ইশান বলেছিল, — “আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ঘৃণা করো।” জেফার শান্ত গলায় বলেছিল, — “আমি শুধু ভুল সময়ে তোমার ওপর বিশ্বাস হারিয়েছিলাম। ঘৃণা করলে, তোমার কবিতা আজও পড়তাম না।” তারা দুজনেই জানত, সময় বদলে দেয় মানুষকে, কিন্তু কিছু অনুভব কখনো পুরোনো হয় না। বরং সময় তাকে আরও বেশি সত্যি করে তোলে। --- একদিন, ইশান চুপচাপ তার হাতে একটা ছোট্ট খাম দেয়। ভেতরে এক পাতার চিঠি— > “চুপচাপ ভালোবাসি” আমি এখনো তোমার নামটা শুনলে বুকের ভিতর হালকা কেঁপে উঠি। তোমার হাসি, তুমি হেঁটে যাওয়া, বইয়ের পাতা উল্টানো — আমি এখনো সব মনে রেখেছি। আমি জানি, আমরা খুব সাধারণ মানুষ, আমাদের গল্পটা ছিমছামও নয়। তবু আমি চাই, আমাদের প্রতিদিনের চুপচাপ ভালোবাসা হোক পৃথিবীর সবচেয়ে জোরালো প্রতিজ্ঞা। তুমি যদি পারো, চুপ করে আমার পাশে দাঁড়াও — কোনো শব্দ না বলে, শুধু হাতে হাত রাখো। এতেই আমি জানব — তুমি এখনও ভালোবাসো। চিঠিটা পড়ে জেফার চোখ বন্ধ করে। তারপর চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে ইশানের পাশে দাঁড়ায়। কিছু বলে না। শুধু হাতটা বাড়িয়ে দেয়। ইশান সেই হাত ধরে, ধরা নয়— পৃথিবীর সমস্ত প্রতিশ্রুতি সেই স্পর্শে রেখে দেয়। বাইরে আবার বৃষ্টি নামে। হালকা, টুপটাপ, ঠিক গল্পের প্রথম দিনের মতো। --- ???? সমাপ্তি (শেষ বাক্য): > “ভালোবাসা সবসময় বলে না— সে শুধু ফিরে আসে, ঠিক একদিন… শেষ বৃষ্টির দিনে।” ---


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ বৃষ্টির দিনে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now