বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি পঠ

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X দোলার এডমিশন এক্সাম হয়ে গেল।প্রশ্ন অনেক সোজা হয়েছিল।শুধু শুধুই এত পড়াশুনা করেছে সে।আর তার থেকেও বেশি টেনশনে আকাশ ছিল।পরীক্ষার আগে প্রতিটা রাতই জেগেছে দোলার সাথে।চা করে খাইয়েছে।নিজের অজান্তেই আকাশকে অনেক বেশি ভাল লেগে যাচ্ছে।আজকাল কেন যেন অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছা করে আকাশকে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কিছুই বলা হয়ে ওঠে না।আকাশ কাজ করছে আর দোলা একমনে আকাশকে আড়চোখে দেখছে।ভাল লাগছে কেন যেন দেখতে।আকাশ বোধহয় ব্যাপারটা খেয়াল করল।হঠাত বলে উঠল, -কি ব্যাপার কখন থেকে দেখছি আমাকে দেখছেন আড়চোখে।কিছু বলবেন? দোলা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।সে বলল, -না আসলে গত কিছুদিন এই সময়টা পড়াশুনা করে কেটেছে।এখন কোন কাজ পাচ্ছি না করার মত।সময়ও কাটছেনা -তাই আমাকে দেখে সময় কাটাচ্ছেন? হেসে ফেলল আকাশ।দোলার কেন যেন মন খারাপ লাগছে।আকাশের সাথে কথা বলা উচিত।দ্বিধা কাটিয়ে আকাশের পাশে গিয়ে বসল। -আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। -হুম বলুন -আচ্ছা আমাদের কি সারাজীবন এভাবেই চলবে? আকাশ একটু অবাক হল।দোলার সাথে সম্পর্কটা নিয়ে সবটাই ভেবে রেখেছে সে কিন্তু দোলাকে কখনও বলা হয়নি।দোলা আজ এই প্রশ্ন কেন করছে এটা বুঝতে পারছে না সে।সে বলল, -আপনার কিছু কথা জানা উচিত।কখনও বলা হয়নি আপনাকে।আপনি আমাকে যেমন দেখছেন আমি আগে মোটেও এ্ররকম ছিলাম না।খুব খারাপ একটা মানুষ ছিলাম।অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছি।কখনও কারও জন্য এতটুকু মায়া কাজ করেনি।একজন ছিল অন্য আর দশটা মেয়ের থেকে স্পেশাল।তার সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থায়ও আমি অন্য মেয়েদের নিয়ে খেলা করেছি।তমা অন্ধের মত বিশ্বাস করত আমাকে।কখনও কোন কিছুতে অভিযোগ করেনি।আমিও দিনের পর দিন ওর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছি।তবে একটা সময় ও সব জানতে পারল। আমাকে কল দিয়েছিল।বলেছিল সত্যিটা বলতে।সেদিন আমার অনেক অপরাধবোধ কাজ করেছিল।আমি স্বীকার করেছিলাম সব।ও এটা মেনে নিতে পারেনি।আমি কিছুতেই বুঝাতে পারছিলাম না কতটা ভালবাসি ওকে।মাঝপথেই ফোনটা কেটে দিল।অনেক অনুরোধ করেছিলাম একবার দেখা করার জন্য,রাজী হয়নি। অবশ্য দেখা হয়েছিল পরে একবার।ওর মৃতদেহটা দেখেছিলাম।সেদিনের পর থেকে প্রত্যেকটা রাতে মনে একরাশি অপরাধবোধ নিয়ে ঘুমাতে হয় আমার।ওর কথা মনে পড়লে আজও চোখ ভিজে আসে।তখন থেকে মা উঠে পড়ে লাগলেন বিয়ে করানোর জন্য। আমার বিয়েতে মত ছিল না। শুনতে শুনতে দোলার বুকটা ভারী হয়ে আসছিল।শেষের কথাটা শুনে আকাশকে মাঝপথে থামিয়ে দিল সে, -মত ছিল না তাহলে যেদিন দেখতে গিয়েছিলেন আমার অমত থাকা সত্ত্বেও এনগেজমেন্ট কেন করেছিলেন তাড়াহুড়া করে? -বলছি।আপনাকে দেখে তমার কথা খুব মনে পড়ছিল সেদিন।আপনিও একটা ছেলের জন্য নিজেকে কস্ট দিচ্ছিলেন।আপনার হাতের ক্ষতগুলো দেখেছিলাম সেদিন।সিভি দেখেছিলাম আগেই।মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকে অনেক ভাল রেজাল্ট করেছিলেন।ডি ইউ তে চান্সও হয়েছিল আপনার।কেন এতদূর এগিয়ে গিয়েও পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিলেন আপনার সাথে কথা বলে বুঝতে অসুবিধে হয়নি আমার।খারাপ লেগেছিল খুব।আপনাকে অন্ধকার থেকে টেনে তুলার ভূত চেপেছিল তখন।চাইনি ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাওকে বিয়ে করে নিজের জীবনটা নস্ট করুন। তাই বিয়েটা করলাম। -আপনার সাথে বিয়েটাও তো আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই হয়েছিল। -হুম কিন্তু বিয়ের পর আমি আপনার উপর কখনও কোন জোর জবরদস্তি করিনি।কিছু চাপিয়ে দেইনি। আপনাকে সাহায্যই করতে চেয়েছি সবসময়।নিজের পায়ে দাড়ানোর পর এই অর্থহীন সম্পর্ক রাখারও কোন দরকার নেই আপনার।তখন যা ইচ্ছা করতে পারেন।কারও উপর নির্ভর না করেই চলতে পারবেন।বুঝতে পেরেছেন ম্যাডাম? দোলার কস্ট হচ্ছে খুব।চোখ ভেঙ্গে কান্না আসছে।তবুও দাঁতে দাঁত চেপে কোনমতে কান্না আটকে মাথা নিচু করে বলল, -বুঝতে পেরেছি এখন সব। বলতে গিয়ে গলাটা ভেঙ্গে আসছিল।আকাশ মনে হয় বুঝতে পারল, -কি হয়েছে? কাঁদছেন আপনি? এই কথা শুনে দোলা আর কান্না আটকে রাখতে পারল না।দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল।আকাশের খুব খারাপ লাগছে।কি করবে বুঝতে পারছে না।মেয়েটা সহজে কাঁদে না।অথচ আসার পর থেকে আজ নিয়ে দুবার কাঁদিয়ে ফেলেছে।সে আস্তে করে দোলার কাঁধে হাত রেখে বলল, -প্লিজ কাঁদবেন না। আমার খারাপ লাগছে। দোলা কোনমতে কান্না থামিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব অসহায়ভাবে বলল, -আপনি কি কখনও আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবেন? এই প্রশ্নটা শুনে আকাশ একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।দোলা খুব আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে উত্তরের জন্য। খুব মায়া লাগছে।কিন্তু এই নিয়ে মিথ্যা বলতে পারবেনা সে।তমাকে এখনও আগের মতই মনে পড়ে।কখনও ভুলতে পারবে কিনা তাও জানে না।সে মাথা নিচু করে রইল।উত্তর দিতে পারল না।দোলা যা বুঝার বুঝে গেল,সাথে কস্টটাও দ্বিগুন বেড়ে গেল।কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, -আমার খুব ঘুম পেয়েছে।আমি আজ মায়ের সাথে শোব। বলেই বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল দোলা। - - মা ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন।হঠাত দরজায় আওয়াজ পেয়ে জেগে গেলেন।দরজা খুলে দেখেন দোলা বালিশ নিয়ে দাড়িয়ে।উনি কিছু জিগ্যেস করার আগেই দোলা মুখ নিচু করে অসহায়ের মত বলল, -মা আমি কি আজ আপনার সাথে ঘুমাতে পারি? -অবশ্যই পারো।ভেতরে এসো। দোলার চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কান্না করেছে।উনি বললেন, -ঝগড়া হয়েছে আকাশের সাথে? দোলা মাকে বসিয়ে উনার কোলে মাথা রেখে মুখ গুঁজে কাঁদতে ্লাগল। -মা উনার সাথে যদি কোনদিন আমার সম্পর্ক ভেঙ্গেও যায় প্লিজ আপনার থেকে আমাকে কখনও দূরে সরাবেন না। মা বুঝলেন বড় ঝগড়া হয়েছে।উনি দোলার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, - এভাবে কেঁদো না মা।সব ঠিক হয়ে যাবে। - - সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর আকাশ দেখে দোলা তার পাশে নেই।তারপর খেয়াল হল দোলা মায়ের সাথে শুতে গিয়েছিল।চোখ কচলাতে কচলাতেই বাইরে এসে দেখে মা সোফায় বসে আছে।মা বললেন, -কিরে আজ এত দেরী হল যে উঠতে? -রাতে ঘুমাতে লেট হয়ে গিয়েছিল।আচ্ছা মা উনি কোথায়?এখনও ঘুমাচ্ছেন?কাল রাতে একটু ঝগড়া হয়েছিল।কান্না করেছিলেন অনেক। -দোলা ওর বাবার বাসায় গেছে।বাসার সবাইকে মনে পড়ছিল খুব।বলেছিলাম তোকে নিয়ে যেতে কিন্তু কিছুতেই রাজী হল না।একটু একা থাকতে চায় বলল। আকাশের মায়ের উপর রাগ হল একটু। -আমাকে একবার ডাকতে পারলে না?আজব! -ডাকতে চেয়েছিলাম।বৌমা না করেছে।যাই হোক খাবার রেডি করছি।খেয়ে নে। -এখন খাব না।উনার বাসায় যেতে হবে।অনেক কস্ট পেয়েছেন উনি। এই কথা শুনে মা আটকালেন। -বউমা কে একটু সময় দে।ও একা থাকতে চেয়েছে।এখন গেলে ওখানে ওর বাবা মায়ের সামনে সিন ক্রিয়েট হবে। আকাশ মায়ের কথাটা বুঝল।দোলার অনেক রাগ।এখন গেলে ঝামেলা হতে পারে।একটু অপেক্ষা করা উচিত তার।তাছাড়া দোলারও পরিবারের সাথে একা একটু সময় কাটানো উচিত।এইসব সাত পাঁচ ভেবে ডিসিশন চেঞ্জ করল আকাশ। - - আজ অফিস নেই।দুপুরে শুয়ে ছিল বিছানায় আকাশ।ভাল লাগছে না।হঠাত মনে হল দোলাকে একটা কল দেওয়া উচিত।ফোনটা হাতে নিয়ে কল করতে গিয়ে কয়েকবার কেটে দিল।কল দিয়ে কি বলবে?যদি গতরাতের প্রশ্নটা আবার করে কি উত্তর দেবে সে?এসব ভেবে ফোনটা রেখে দিল।আরোও কিছুক্ষন শুয়ে থাকার পর অস্থির লাগতে শুরু করল।নাহ ভাল লাগছে না কিছুই।সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে কল দিয়েই ফেলল।নাম্বারটা বন্ধ দেখাচ্ছে।এভাবে আর বসে থাকা সম্ভব না।উঠে দ্রুত তৈরি হয়ে বের হয়ে গেল।মা পিছন থেকে ডাকলেন।আকাশ এত তাড়াহুড়ায় বের হল যে সেই ডাক আর কানে গেল না। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাস্তি
→ কোরআনের আলোকে নবী (সা.) ও ধর্ম অবমাননাকারীর শাস্তি।
→ ধর্ষণ রুখতে বিয়ে সহজ করুন, ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করুন : আজহারী
→ মৃত সাগর (Dead Sea)-আল্লাহ প্রদত্ত একটি শাস্তি
→ নাসিরউদ্দিন হোজ্জার গল্প - অর্ধেক ভাগ শাস্তি
→ ব্যভিচারের শাস্তি(একটি ঘটনার মাধ্যমে)
→ দ্বীনের পথে বাধা দানে শাস্তি
→ মিথ্যাবাদীর শাস্তি
→ আল্লাহর আদেশ না মানার কারণে ভয়াবহ শাস্তি
→ প্রতারকের শাস্তি
→ পাপের শাস্তি
→ শাস্তি
→ পাপী ব্যক্তি তার পাপের শাস্তি পাবে
→ বুদ্ধির জোরে শাস্তি মওকুফ
→ জামায়াত সহকারে নামায আদায়ে অবহেলার শাস্তি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now